নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষের জীবন প্রতিদিন তার বেঁচে থাকার লাইসেন্স নবায়ন করে ।প্রকৃতি এটা নিয়ন্ত্রন করে,যেদিন নবায়ন হবেনা,সেদিন মৃত্যু অনিবার্য ।

স্বপ্নের শঙ্খচিল

আমার মনের মাঝে শঙ্খচিল ডানা মেলে প্রতিদিন,ভুলতে পারিনি সেই অভিমান আবার ফিরে আসা তোমার কাছে !

স্বপ্নের শঙ্খচিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর পাথর শীতল,
চলবে না লড়াই বাতাসের সাথে, যেখানে প্রকৃতি অবিচল।

বুনো ঘাস আর পাতা ফুলের দল ছড়িয়ে পড়ুক চারিধারে,
মাথার ধুলোটা ধুয়ে যাক রোজ শ্রাবণের বৃষ্টিধারে।
অতীতের এক ভারী বোঝা হয়ে ফলকটি শুধু বাঁধে,
মুক্ত মাটি তো শ্বাস নিতে চায়, নতুন রূপের ছাঁদে।

স্মৃতি যদি খোঁজো, খুঁজে নিও তবে মাটির একটি বীজে,
কচি সবুজ পাতায় কিংবা পাখির চঞ্চুমাঝে।
মিশে গেছি আমি নিখিল প্রকৃতিতে, বন্ধনহীন কায়ার,
রাখার তো কোনো দরকার নেই পাথুরে ফলক ছায়ার।

মুখরিত পৃথিবীতে ক্ষুদ্র এ অস্তিত্ব রবেনা আর,
যমুনার চরণে আজি সঁপিলাম নিজ ভার।
কৃতকর্মর জানা অজানা অহমিকা ধুয়ে যাক, গভীর অতলে,
মিশে যাব চিরতরে উত্তাল পদ্মার ভালোবাসার জলে।

(নোট : কবিতাটি প্রিয় ব্লগার ড: এম এ আলীর কবিতা উপলক্ষ্যে আমার ভাবনা )
তাং : ২৩/০৯/২০২৬ ইং । সিডনী, অষ্ট্রেলিয়া ।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩

জুল ভার্ন বলেছেন: আধ্যাত্মিক উপলব্ধির অসাধারণ সুন্দর কাব্যিক উপস্থাপন!

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অত্যন্ত গভীরে গিয়ে অনুধাবনের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা !
...................................................................................
মৃত্যু মানুষের গতি থামিয়ে দেয়,
তবুও আমরা কত পরিকল্পনা করি,
বহুদুর যেতে চাই, মৃত্যু আসবে জেনেও
আকাশের বুকে ঠিকানা খুজিঁ ,
অচেনা মহাকালের বুকে আত্নসর্মপণ করি ।

২| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

৩| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




সুন্দর মম কবিতা অনুভব তারিত আপনার এই কবিতা, নামটি আমার স্মরণে আনার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
আপনার কবিতাটি মূলত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হলেও এর অন্তর্গত সুর মৃত্যুভীতি নয় বরং মুক্তি, আত্মসমর্পণ
এবং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। কবি যেন মৃত্যুকে জীবনের সমাপ্তি হিসেবে না দেখে, অহংকার,
পরিচয় ও পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্তির একটি স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দেখেছেন।

কবিতার শুরুতেই একটি গভীর প্রত্যাখ্যান, পাথর বা গ্রানাইটে খোদাই এখনই করবনা আপনার শেষ শয্যা,যখন সেদিন
আসবে তখন তা বুঝে নিব আমরা , এখন দোয়া করি দীর্ঘ জিবী করুন আপনাকে বিধাতা ।

যাহোক এবার ফিরি কবিতার কথায় -
নাম খোদাই করে রেখো না আমার, এখানে সমাধিফলক, নাম, পরিচয় সবকিছুর প্রতিই এক ধরনের অনাসক্তি প্রকাশ
পেয়েছে। মানুষ মৃত্যুর পরেও নিজের অস্তিত্বকে ধরে রাখতে চায় নামের মধ্যে, স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে, ইতিহাসের পাতায়।
কিন্তু আপনার আকাঙ্ক্ষা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আপনি স্মৃতির স্থাপত্যে অমর হতে চান না; বিলীন হতে চান সৃষ্টির
বৃহত্তর প্রবাহে। দার্শনিক অর্থে এটি অহং-অতিক্রমের আকাঙ্ক্ষা আমি কে বড় করে রাখার পরিবর্তে মহাবিশ্বের অসীম
আমরা-র মধ্যে নিজেকে সমর্পণ করা।

চাই না উপাধি, চাই না তারিখ এই উচ্চারণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের সামাজিক পরিচয় মূলত নাম, পদবি, উপাধি
ও সময়ের সঙ্গে বাঁধা। কিন্তু মৃত্যুর কাছে এগুলোর কোনোটিই স্থায়ী নয়। জন্মতারিখ ও মৃত্যুর তারিখের মাঝখানে যে
ক্ষুদ্র ব্যবধানটিকে আমরা ‘জীবন’ বলি, কবিতা সেই ক্ষুদ্রতাকে উপলব্ধি করে বৃহত্তর অস্তিত্বের দিকে তাকাতে শেখায়।

প্রকৃতির কাছে প্রত্যাবর্তন পরের স্তবকে কবিতাটি আরও গভীর হয়ে ওঠে,ঝুনো ঘাস আর পাতা ফুলের দল ছড়িয়ে পড়ুক চারিধারে..., এখানে মৃত্যু যেন শোকের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রকৃতির কাছে প্রত্যাবর্তন। মাথার ধুলো রোজ শ্রাবণের
বৃষ্টিধারে ধুয়ে যাবে অতীতের ভার ফলকটিকে বাঁধবে না মুক্ত মাটি নতুন রূপের সন্ধান করবে।

এখানে একটি অসাধারণ দার্শনিক রূপান্তর ঘটেছে মানুষের দেহ থেকে স্মৃতির বস্তু নয়, বরং নতুন জীবনের সম্ভাবনা
তৈরি হবে। অর্থাৎ মৃত্যু শেষ নয়; রূপান্তর। যে দেহ একদিন নিজেকে ‘আমি’ বলে জানত, তা আবার মাটি, জল,
বাতাস, ঘাস, ফুলের বৃহত্তর চক্রে ফিরে যাবে।

এই ভাবনার সঙ্গে বিশ্বের বহু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গভীর সাদৃশ্য আছে। বাইবেলের dust you are
and to dust you shall return মানুষ মাটি থেকে এসেছে এবং মাটিতেই ফিরে যাবে এই বোধের সঙ্গে কবিতার
মুক্ত মাটি’র আকাঙ্ক্ষার একটি অন্তর্গত আত্মীয়তা রয়েছে। ইসলামী ঐতিহ্যেও মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্ট এবং মাটিতে প্রত্যাবর্তনশীল হিসেবে দেখা হয়। আবার ভারতীয় দর্শনের বহু ধারায় দেহকে পঞ্চভূতের সমন্বয় হিসেবে দেখা হয়েছে
মৃত্যু সেই উপাদানগুলোর মহাজাগতিক উৎসে প্রত্যাবর্তন।

তবে কবিতাটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মমতের পুনরুক্তি নয়। বরং এটি ধর্মতত্ত্বের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায়
মানুষ কি নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবে, নাকি নিজেকে সৃষ্টির হাতে সমর্পণ করবে?

স্মৃতি পাথরে নয়, জীবনের মধ্যে, তৃতীয় স্তবকে কবিতাটি একটি সুন্দর বিকল্প প্রস্তাব করে
স্মৃতি যদি খোঁজো, খুঁজে নাও তবে মাটির একটি বীজে,কচি সবুজ পাতায় কিংবা পাখির চঞ্চুমুখে।
এখানেই কবিতার দর্শন সবচেয়ে কোমল ও গভীর হয়ে ওঠে। আপনি স্মৃতিকে অস্বীকার করেননি;
আপনি শুধু স্মৃতির ঠিকানা বদলে দিয়েছেন।

স্মৃতি পাথরের ফলকে নয় একটি বীজে।
স্মৃতি নামের অক্ষরে নয় একটি কচি পাতায়।
স্মৃতি মূর্তিতে নয় একটি পাখির জীবন্ত অস্তিত্বে।

অর্থাৎ, সত্যিকারের অমরত্ব স্মৃতিস্তম্ভে নয়, জীবনকে অব্যাহত রাখার মধ্যে। মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার স্পর্শে
কোনো প্রাণ, কোনো বৃক্ষ, কোনো ভালোবাসা, কোনো মানবিক কাজ যদি পৃথিবীতে বেঁচে থাকে, তবে সেই
ধারাবাহিকতাই তার স্মৃতি।

এখানে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে অমরত্এর একটি আকর্ষণীয় পুনর্নির্মাণ ঘটে। আপনি ব্যক্তিসত্তার চিরস্থায়িত্ব দাবি করছেন
না; বরং নিজের অস্তিত্বকে সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় বিলিয়ে দিয়ে এক ধরনের অহং-অতিক্রমী অমরত্ব কল্পনা করছেন।

বন্ধনহীন কায়া মুক্তির ধর্মতত্ত্ব, মিশে গেছি আমি নিখিল প্রকৃতিতে, বন্ধনহীন কায়ার...,এই পংক্তিটি কবিতার কেন্দ্রীয়
দার্শনিক চাবিকাঠি। বন্ধনহীন শব্দটির মধ্যে রয়েছে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। জীবন আমাদের অসংখ্য বন্ধনে আবদ্ধ করে নাম,
পরিবার, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, ভয়, এমনকি নিজের শরীরের সঙ্গেও।

মৃত্যুর মুহূর্তে আপনি সেই সমস্ত পরিচয় থেকে মুক্ত হতে চান।এখানে দর্শনের অনাসক্তি ও অহং-অতিক্রমের সঙ্গে একটি
সংলাপ তৈরি হয়; আবার ইসলামী ধর্মতত্ত্বের সৃস্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ-এর সঙ্গেও এর একটি ভাবগত সম্পর্ক
খুঁজে পাওয়া যায়। পার্থক্য অবশ্যই আছে: কবিতায় সৃষ্টিকর্তার নাম সরাসরি উচ্চারিত হয়নি। কিন্তু প্রকৃতির কাছে নিজেকে সমর্পণের যে অনুভূতি, তা সৃষ্টির বৃহত্তর রহস্যের সামনে মানুষের বিনয়কে প্রকাশ করে।

যমুনা ও পদ্মা: নদী এখানে শুধু নদী নয় শেষ স্তবকে নদীর উপস্থিতি কবিতাটিকে আরও মহত্তর মাত্রা দেয়,
যমুনার চরণে আজ সমর্পণ নিজ ভার। নিজ ভার এই দুটি শব্দ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ শুধু শরীর বহন করে না;
সে বহন করে স্মৃতি, অপরাধবোধ, অনুশোচনা, আকাঙ্ক্ষা, ব্যর্থতা, সম্পর্কের ভার, জীবনের অসম্পূর্ণতা। নদীর কাছে
সেই সমস্ত ভার সমর্পণ করা মানে যেন বলা আর কিছু ধরে রাখতে চাই না।

তারপর মিশে যাব চিরতরে উজল পদ্মার ভালোবাসার জলে।নদী এখানে মৃত্যুর প্রতীক হয়েও ধ্বংসের প্রতীক নয়।
নদী বহন করে, গ্রহণ করে, শুদ্ধ করে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়। নদীতে ব্যক্তিসত্তা বিলীন হয়, কিন্তু জল থেমে থাকে না।
এই প্রবাহের মধ্যে একটি গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ইঙ্গিত আছে সৃষ্টির বৃহত্তর প্রবাহ ব্যক্তিমানুষের সীমিত অস্তিত্বকে অতিক্রম
করে।

যদি ধর্মতত্ত্বকে মানুষের সঙ্গে পরম সত্যের সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা হিসেবে ধরা হয়, তবে এই কবিতার পরম সত্য কোনো
কঠোর সংজ্ঞায়িত সত্তা নয়; বরং প্রকৃতি, মাটি, জল, বৃষ্টি, বীজ, পাখি ও নদীর অন্তহীন পরস্পর-সম্পর্কের মধ্যে অনুভূত
এক মহাসত্তা।

আপনার কবিতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য সম্ভবত এখানেই মৃত্যুর পর নিজের জন্য কিছুই দাবি করেন না, কিন্তু পৃথিবীর
জন্য অনেক কিছু রেখে যেতে চান। আপনি চান না পাথরে আপনার নাম লেখা থাকুক; চান কোনো বীজে স্মৃতিটুকু
অঙ্কুরিত হোক। চান না কোনো তারিখ আপনাকে সংজ্ঞায়িত করুক; চান বৃষ্টির জলে নীজ ধুলো ধুয়ে যাক। চান না
কোনো সমাধি নীজকে আটকে রাখুক; চান নদীর স্রোতে নীজ অস্তিত্ব মুক্ত হয়ে যাক।

তাই কবিতাটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কবিতা নয়; এটি অহং থেকে অনন্তের দিকে যাত্রার কবিতা।এখানে মৃত্যু হলো বিলয়,
কিন্তু সেই বিলয় নিঃশেষতা নয় মাটিতে ফিরে যাওয়া, জলে মিশে যাওয়া, সবুজ পাতায় পুনর্জন্ম নেওয়া, পাখির ডানায়
স্মৃতি হয়ে থাকা। আর ধর্মতাত্ত্বিক গভীরতায় এর মর্মবাণী যেন এমন মানুষের সত্যিকারের মহত্ত্ব তার কত বড় স্মৃতিস্তম্ভ
রেখে গেল তাতে নয়; বরং সে কত সহজে নিজেকে সেই মহাসৃষ্টির কাছে সমর্পণ করতে পারল, যার কাছ থেকেই তার
আগমন।

এই অর্থে কবিতাটি মৃত্যুকে ভয় করার পরিবর্তে আমাদের শেখায় জীবনকে এমনভাবে যাপন করো, যাতে মৃত্যুর পরেও
তোমার নাম নয়, তোমার ভালোবাসা পৃথিবীর কোনো না কোনো জীবন্ত রূপে প্রবাহিত থাকে।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.