নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তুমি কেমন করে গান করো হে গুনী, আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি ।।

ঠাকুরমাহমুদ

sometimes blue sometimes white sometimes black even red, even golden ! yes dear - its me - i am sky ! color your life, than your life will be colorful

ঠাকুরমাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

পড়ালেখার গুরুত্ব

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর তেমন প্রয়োজন নেই। পড়ালেখার চেয়ে রাজনীতি, মিছিল, গুন্ডা রাজনীতি, মব - বেশি জরুরী।

ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়, ছাত্রছাত্রীর পিতা মাতাও চান তাদের সন্তানের আর পড়ালেখার প্রয়োজন নেই। তারা রাজনীতি করুক, গুন্ডামী করুক, মব করুক। এই দায় পরিবারের। কোনোভাবেই সমাজের না। এই দায় সমাজ নেবে না। দিন শেষে এই দায় পরিবারের ঘাড়ে বর্তাবে।

আমি প্রশ্ন করতে চাই, আমি সঠিক জানিনা আমার প্রশ্নের উত্তর কারও জানা আছে কিনা নেই? তারপরও প্রশ্ন করতে চাই - আমাদের দেশে কি শিক্ষিত প্রজন্ম প্রয়োজন, নাকি শুধু রাজনৈতিক কর্মী নামক গুন্ডা পান্ডা প্রয়োজন?






মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পড়ালেখার চেয়ে রাজনীতি, মিছিল, গুন্ডা রাজনীতি, মব - বেশি জরুরী।
......................................................................................................
যদি মব কালচার করে ২/৩ মাসে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করা যায়, তাহলে
লেখা পড়ার প্রয়োজন আছে কি ? এমন একটা অবস্হা বিরাজ করছে বর্তমান
প্রেক্ষাপটে, তাইতো ৬ লক্ষর উপর ফেল করেছে ।
ধীক্কার জানাই এই নোংরা সমাজ এর অরাজকতা, এর থেকে উত্তরন না ঘটলে
আমাদের আগামী প্রজন্ম অসভ্য জাতিতে পরিনত হবে ।

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আগামী প্রজন্ম কতোটা অসভ্য হয়েছে তার নমুনা আশা করি দেখতে পাচ্ছেন। শুধু আগামী প্রজন্ম বলি কেনো? এই প্রজন্মের মাতাপিতাও একই দোষে দুষ্ট। সাতক্ষীরা এমপি, মুরাদ টাকলা সহ শত সহস্র নষ্ট নারী পুরুষ তাই প্রমাণ দিয়েছে।

২| ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৫

মাথা পাগলা বলেছেন: পারিবারিক শিক্ষা তলানিতে ঠেকেছে। ডিভোর্স-পরকীয়া ব্যবসা বেড়েছে। মেয়ে পরীক্ষায় ফেইল করায় তার মা ফেসবুকে এসে বলেছেন, তার মেয়ে টিকটক করে বছরে লাখ টাকা আয় করে। তাই পরীক্ষায় ফেল করাটা তেমন কোনো বড় বিষয় নয়।

২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:০৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:


আপনি গুরুত্বপর্ণ একটি বিষয় বলেছেন। আইম এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখবো। আমাদের দেশে যদি নূন্যতম আদর্শ জাতি / নূন্যতম শিক্ষিত জাতি প্রয়োজন হয় তাহলে ফেসবুক ইউটিউব টিকটক কন্টেন্ট ক্রিয়েট আয় বন্ধ করে দিতে হবে। নয়তো ফেসবুক ইউটিউব কে বাংলাদেশের মানুষ নোংরা অশালীন করে দিবে।

৩| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫১

নিমো বলেছেন: স্বয়ং সরকারই যেখানে কন্টেন্ট নির্ভর ইনফ্লুয়েঞ্জা অর্থনীতি চায়, সেখানে পড়ালেখার আদৌ কোন গুরত্বতো থাকে না।

২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আপনার বিশ্বাস হয় ফেসবুক ইউটিউবে কন্টেন্ট করে দেশের আয় হবে? ফেসবুক ইউটিউবে যারা আছে এরা আগামীকাল ইলিয়াইচ্চ্যা চোরা ও পিনাকী চোরা ওরফে পিংকি চোরার মতো দেশ ছেড়ে চলে যাবে। আপনি লিখে রাখুন - বাংলাদেশের কোনো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বাংলাদেশে টাকা রাখবে না। এরা মাইগ্রেশন করে প্রবাসে চলে যাবে। ১০০/১০০ নিশ্চিত থাকুন।

৪| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫

ক্লোন রাফা বলেছেন: লেখা পড়া না করেই যদি মন্ত্রী , প্রধানমন্ত্রী , রাষ্ট্রপতি, ব‍্যাংকের মালিক বা শিল্পপতি হওয়া যায়। তাহলে অনর্থক সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন আছে কি ⁉️
শুধু শুধু মা বাবা’র টাকা’র অপচয়! বরং এরাই হলো আদর্শ সন্তান ;)

২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



বাংলাদেশ হচ্ছে কপালপোড়া দেশ। এই দেশে কখনও শিক্ষিত ট্রেনিংপ্রাপ্ত জনশক্তির মূল্য দেয়নি।



৫| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার পোস্টে উত্থাপিত প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে শুধু শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নয় সমাজে সাফল্যের
সংজ্ঞা, নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিকতা সবকিছুই জড়িয়ে আছে।
আপনার বক্তব্যকে ভিত্তি করে আস্ত একটি পুথক পোস্টই দেয়া যায় , তবে আমি সেদিকে না গিয়ে যা বলার
এখানেই বলে যাব ।

আমি হতাশায় ভোগা মানুষ নই, আমি সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ , হতাশাকে আশায় পরিনত করাই
আমার জীবনের ব্লত, তাই সেই দৃষ্টিকোন থেকেই বলছি শিক্ষার মূল্য যখন প্রশ্নের মুখে,তখন দ্রুত অর্থের
মোহ থেকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের পথে চলার জন্যই আমার কলম চলবে ।

একটি সমাজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় সেই সমাজ তার সন্তানদের সামনে
সাফল্যের কোন সংজ্ঞাটি তুলে ধরছে তা দেখলে। যে সমাজে জ্ঞান, সততা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমকে
সাফল্যের প্রধান সিঁড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সে সমাজ ধীরে ধীরে জ্ঞানভিত্তিক, উৎপাদনশীল ও স্থিতিশীল
রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে যে সমাজে অর্থের উৎস নয়, শুধু অর্থের পরিমাণই সামাজিক মর্যাদার প্রধান
মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে একটি ভয়ংকর মূল্যবোধের অবক্ষয় শুরু হয়।

আজ বাংলাদেশের সমাজে এমন একটি প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের যথেষ্ট কারণ আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা
যাচ্ছে, দীর্ঘদিন পড়াশোনা করে, বিপুল অর্থ ব্যয় করে এবং বছরের পর বছর পরিশ্রম করে অর্জিত শিক্ষাগত
যোগ্যতার তুলনায় রাজনৈতিক প্রভাব, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, কালোবাজারি কিংবা বিভিন্ন
অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বিপুল সম্পদ অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
অবশ্যই এটি বাংলাদেশের সমগ্র সমাজের চিত্র নয়; অসংখ্য সৎ, শিক্ষিত ও পরিশ্রমী মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে
দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হলো] ব্যতিক্রমী কিছু অনৈতিক সাফল্য যখন সামাজিকভাবে দৃশ্যমান
এবং কখনো কখনো পুরস্কৃতও হয়, তখন তার অনুকরণীয় প্রভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

তরুণদের মনে সে সাথে তাদের অভিভাবকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে এত বছর পড়াশোনা করে
কী লাভ? এত টাকা খরচ করে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যদি একটি অনিশ্চিত চাকরি বা সীমিত আয়ের পেছনে ছুটতে
হয়, অথচ অন্য কেউ অল্প সময়ে ক্ষমতা, অর্থ ও পরিচিতি অর্জন করতে পারে, তাহলে আমিই বা কেন সেই
পথ অনুসরণ করব না ?

এই প্রশ্নটিকে শুধু তরুণদের নৈতিক দুর্বলতা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। বরং এটি সমাজের প্রতি একটি গভীর
সতর্কবার্তা।শিক্ষার প্রতি অনাস্থা আসলে শিক্ষার ব্যর্থতা নয়, সামাজিক ও রাস্ট্রিয় দুরাবস্থার একটি সংকেত ।
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে দ্রুত সম্পদ অর্জন করছে বলে শিক্ষার মূল্য
কমে যায় না। বরং এর অর্থ হলো, আমরা জ্ঞান ও নৈতিকতার সঙ্গে সামাজিক সাফল্যের সম্পর্কটি যথেষ্ট শক্তভাবে
প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

শিক্ষা মানুষের হাতে শুধু একটি সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়,
প্রশ্ন করতে শেখায়, সত্য-মিথ্যা বিচার করতে শেখায়, দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে শেখায় এবং নিজের পাশাপাশি
সমাজের কল্যাণের কথাও ভাবতে শেখায়।

একজন শিক্ষিত মানুষ কেবল কত টাকা উপার্জন করলেন তা দিয়ে তার শিক্ষার সাফল্য বিচার করা যায় না।
তিনি কতটা দক্ষ, কতটা সৃজনশীল, কতটা দায়িত্বশীল, কতটা ন্যায়পরায়ণ এবং নিজের জ্ঞানকে কতটা মানুষের
কল্যাণে কাজে লাগাতে পারলেন সেটিও শিক্ষার সাফল্যের মাপকাঠি।

কিন্তু সমাজ যদি বারবার একজন দুর্নীতিবাজের গাড়ি, বাড়ি ও প্রভাব দেখে মুগ্ধ হয় এবং একজন সৎ শিক্ষক,
গবেষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা বা বিজ্ঞানীর অবদানকে যথাযথ সম্মান না দেয়, তাহলে তরুণ প্রজন্মের
কাছে ভুল বার্তা পৌঁছানো স্বাভাবিক।

দ্রুত অর্থের মোহ কেন এত শক্তিশালী সে বিষযটিও ভেবে দেখা দরকার ।মানুষ স্বভাবতই ফল পেতে চায়। দীর্ঘ
মেয়াদি পরিশ্রমের ফল অনিশ্চিত, কিন্তু অনৈতিক পথে দ্রুত অর্থ ও ক্ষমতা অর্জনের দৃশ্যমান উদাহরণ চোখের
সামনে থাকলে তা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই
প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। মানুষ প্রায়ই অন্যের বাহ্যিক সাফল্য দেখে, কিন্তু সেই সম্পদের বৈধতা, অর্জনের
পদ্ধতি কিংবা অন্তর্নিহিত ঝুঁকি দেখে না। ফলে বড়লোক হওয়া ( অর্থবান বিত্তশালী অর্থে ) কখনো কখনো
সফল হওয়া র সমার্থক হয়ে যায়।

কিন্তু এখানে একটি মৌলিক সত্য ভুলে গেলে চলবে না সম্পদ ও সাফল্য এক জিনিস নয়।অন্যায়ভাবে অর্জিত
সম্পদ একজন মানুষকে ধনী করতে পারে; কিন্তু তাকে সম্মানিত, নিরাপদ, সুখী কিংবা প্রকৃত অর্থে সফল নাও
করতে পারে। অন্যদিকে একজন গবেষক হয়তো কোটি টাকা উপার্জন করেন না, কিন্তু তাঁর আবিষ্কার হাজার
মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। একজন শিক্ষক হয়তো অট্টালিকা নির্মাণ করতে পারেন না, কিন্তু তাঁর
ছাত্রদের মধ্যে কয়েকজন ভবিষ্যতে দেশ ও পৃথিবী বদলে দিতে পারে।

সুতরাং সাফল্যের হিসাব শুধু ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে করলে সমাজ নিজের ভবিষ্যৎকেই ভুলভাবে মূল্যায়ন করবে।
তাহলে শিক্ষাকে কীভাবে আবার আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ করা যায় সে কথাই ভাবতে হবে।

শুধু তরুণদের ভালো করে পড়াশোনা করো বললেই সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে
আনতে হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক মর্যাদা সবগুলোকে একই সঙ্গে
সংস্কার করতে হবে।

প্রথমত সৎ সাফল্যকে দৃশ্যমান করতে হবে। সমাজে আমরা কাদের নায়ক বানাচ্ছি, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে তরুণ নিজের মেধা দিয়ে গবেষণা করছে, নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে, কৃষিতে উদ্ভাবন করছে, সফল শিল্প
প্রতিষ্ঠান গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, চিকিৎসা বা শিক্ষায় অসাধারণ অবদান রাখছে তাদের সাফল্যকে জাতীয়
ভাবে তুলে ধরতে হবে।

আমরা যদি শুধু বিত্তশালী মানুষকে সফলতার প্রতীক বানাই, তাহলে শিশুরাও সম্পদকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য
ভাববে। কিন্তু যদি জ্ঞানী, সৎ, উদ্ভাবনী ও জনকল্যাণমূলক মানুষ সামাজিক মর্যাদার শীর্ষে উঠে আসেন, তাহলে
সাফল্যের সংজ্ঞাও বদলাবে।

দ্বিতীয়ত আমার মতে শিক্ষাকে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে বের করে আনতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার
একটি বড় দুর্বলতা হলো অনেক শিক্ষার্থী শেখার আনন্দের চেয়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর, সার্টিফিকেট এবং চাকরি
পাওয়াকে শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে দেখতে শেখে।

প্রকৃত শিক্ষা হওয়া উচিত জ্ঞান মাথে দক্ষতা , চরিত্র, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা-র সমন্বয়।
বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী দিনের অর্থনীতিতে শুধু মুখস্থ জ্ঞান নয়; প্রযুক্তি, ভাষা, যোগাযোগ, গবেষণা,
উদ্যোক্তা চিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তৃতীয়ত শিক্ষিত বেকার তৈরি করা বন্ধ করতে হবে। একজন তরুণ যদি বছরের পর বছর শিক্ষা গ্রহণের পরও
নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ না পান, তাহলে তার মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।তাই শিক্ষার
সঙ্গে অর্থনীতির বাস্তব চাহিদার সংযোগ তৈরি করতে হবে। কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিল্প শিক্ষা
সহযোগিতা, গবেষণা, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে শুধু চাকরি খোঁজার পরিবর্তে কিছু তরুণ যেন চাকরি সৃষ্টি করতে পারে
সেই সক্ষমতাও শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত।

চতুর্থত দুর্নীতির লাভ কমাতে হবে। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।একদিকে তরুণকে সততার
শিক্ষা দেওয়া হবে, অন্যদিকে সে যদি চোখের সামনে দেখে যে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কেউ সামাজিক
সম্মান, ক্ষমতা ও প্রভাব কিনে ফেলছে তাহলে শিক্ষার নৈতিক বার্তা দুর্বল হয়ে যাবে।তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
করতে হবে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি
এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।শুধু নৈতিকতার বক্তৃতা দিয়ে দুর্নীতি কমানো যায় না; দুর্নীতির
প্রাতিষ্ঠানিক লাভ বন্ধ করতে হয়।

পঞ্চমত পরিবারকে সন্তানের সাফল্যের সংজ্ঞা বদলাতে হবে।অনেক পরিবারেই শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বলা হয়
ভালো করে পড়ো, বড় চাকরি করো, অনেক টাকা উপার্জন করো।এখানে ভালো মানুষ হও কথাটি অনেক সময়
পিছনে পড়ে যায়। অথচ সন্তানের সামনে বলা উচিত জ্ঞানী হও, দক্ষ হও, নিজের পায়ে দাঁড়াও, মানুষের উপকার
করো এবং সৎভাবে সফল হও।কারণ অর্থ উপার্জন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কীভাবে সেই অর্থ উপার্জন করা হলো,
সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ষষ্ঠত উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মর্যাদা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই শিক্ষিত,
কারিগরি শিক্ষা নিলে কম শিক্ষিত এই ধারণাটিও পরিবর্তন করা জরুরি।একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার,
টেকনিশিয়ান, কৃষি-উদ্যোক্তা, সফটওয়্যার ডেভেলপার, মেশিন অপারেটর বা কারিগরি বিশেষজ্ঞ সমাজে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী দক্ষ ও উৎপাদনশীল
করে তোলা শুধু নির্দিষ্ট ধরনের সার্টিফিকেট অর্জন করানো নয়।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি যেখানে করা দরকার সেটি রয়েছে আমাদের নীজের কাছেই । আমরা যদি মুখে বলি
সততা সর্বোত্তম নীতি, কিন্তু বাস্তবে অসৎ ধনীকে সম্মান করি এবং সৎ দরিদ্রকে অবহেলা করি, তাহলে আমাদের
সন্তানরা আমাদের কথার চেয়ে আমাদের আচরণ থেকেই শিক্ষা নেবে।আমরা যদি একজন গবেষকের চেয়ে
একজন প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজকে বেশি সম্মান করি, তাহলে তরুণ গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখবে কেন?
এ কারণেই দেশের ডাক্তার ইঞ্জিয়ারগন নীজ প্রফেশনাল পেশার চেয়ে প্রশাসনিক ক্যাডার জবে আকৃষ্ট হতে
দেখা যায় । আমরা যদি জ্ঞানীর চেয়ে অর্থশালীকে বেশি মূল্য দিই, তাহলে জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা বাড়বে
কীভাবে?

অতএব আমার মতে শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ফিরিয়ে আনার প্রথম শর্ত হলো সমাজের পুরস্কারব্যবস্থা
পরিবর্তন করা।যে কাজ সমাজের জন্য উপকারী, তাকে মর্যাদা দিতে হবে। যে সম্পদ সৎ ও উৎপাদনশীল পথে
অর্জিত, তাকে সম্মান করতে হবে। আর যে সম্পদ অন্যায়, শোষণ বা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত, তাকে সামাজিক
সাফল্যের প্রতীক বানানো যাবে না।

শেষ কথা রাতারাতি ধনী হওয়ার সমাজ নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমৃদ্ধ হওয়ার সমাজ কায়েম করতে হবে ।
অন্যায় পথে কেউ হয়তো এক বছরে এমন সম্পদের মালিক হতে পারে, যা একজন সৎ মানুষ অর্জন করতে
কয়েক দশক সময় নিতে পারেন কিংবা সারা জীআনেও পারবেন না । কিন্তু একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন
রাতারাতি হয় না।

একটি সেতু নির্মাণ করতে প্রকৌশলী লাগে, একজন রোগীর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক লাগে, নতুন প্রযুক্তি তৈরি
করতে গবেষক লাগে, ভালো নাগরিক তৈরি করতে শিক্ষক লাগে, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তা লাগে
এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে প্রয়োজন শিক্ষিত ও নৈতিক নাগরিক।

অর্থাৎ যে মানুষটিকে আমরা আজ শুধু পড়াশোনা করে কী লাভ? বলে অবহেলা করছি, আগামী দিনের সভ্যতা
হয়তো তারই জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে।তাই আমাদের সন্তানদের বলতে হবে না যে
পড়াশোনা করলেই অনেক টাকা পাবে। বরং বলতে হবে পড়াশোনা করো, কারণ জ্ঞান তোমাকে স্বাধীনভাবে
চিন্তা করতে শেখাবে। দক্ষ হও, কারণ দক্ষতা তোমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। সৎ হও, কারণ
সততা তোমার অর্জনকে মর্যাদা দেবে। আর এমন কিছু করো, যাতে তোমার সাফল্য শুধু তোমার নিজের জীবন
নয় অন্য মানুষের জীবনও একটু ভালো করে।

একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, তার ব্যাংকের রিজার্ভও নয়; তার সবচেয়ে বড় সম্পদ
হলো তার মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, চরিত্র ও সৃজনশীলতা।

সুতরাং শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার লড়াই আসলে শুধু শিক্ষা রক্ষার লড়াই নয়। এটি একটি জাতির
ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে একজন তরুণ এই বিশ্বাস
নিয়ে বড় হবে যে অন্যায় করে দ্রুত ধনী হওয়া জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়; বরং জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা সৃষ্টি,
সৎভাবে উপার্জন, মানুষের কল্যাণ এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজের ও দেশের জন্য মূল্য সৃষ্টি করাই প্রকৃত সাফল্য।

সেদিনই শিক্ষা আবার কেবল পরীক্ষার খাতা , সার্টিফিকেট আর অর্থ উপার্জনের বিষয় থাকবে না; শিক্ষা হয়ে
উঠবে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

অপনার মুল্যবান পোস্টের সুবাধে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:


বাংলাদেশ হচ্ছে কপালপোড়া দেশ। এই দেশে কখনও শিক্ষিত ট্রেনিংপ্রাপ্ত জনশক্তির মূল্য দেয়নি। আপনার দেশে থাকার কথা ছিলো, কোনো না কোনো কারণে প্রবাসে চলে গিয়েছেন, যার মূল্য আপনি ও দেশ দিতে পারেনি। আপনিও ক্ষতিগ্রস্ত দেশও ক্ষতিগ্রস্ত।

৬| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

কামাল১৮ বলেছেন: লেখাপড়া জানা সৎ লোক বেশি প্রয়োজন।

২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



বাংলাদেশে রাজনীতি অনেক হয়েছে। আগামী ৫০ বছরের জন্য রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত। আপনি যদি আজকের বার্মা দেখতে পারতেন, তাহলে মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়তেন।

৭| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৪২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: শিক্ষিত প্রজন্ম চাই

২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



এই কারণে ইহুদি খ্রিস্টান শিক্ষিত।


৮| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

বাংলাদেশে সুযোগ থাকলে পড়াশোনা না করলেও চলে।
ভাইয়ার চেয়ে অনেক অনেক বেশী পড়াশোনা করে অনেকেই বেকার।
কোন কাজ খুজে পাচ্ছে না।

২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:০০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আওয়ামী লীগ ভুল রাজনীতি করেছে। এখন তার দায়ভার বহন করছে দেশ ও দেশর জনগণ।


৯| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: লেখাপড়ার চেয়ে সুন্দর দুনিয়াতে আর কিছু নাই।

২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:০১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



তাই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ।

১০| ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: চাঁদগাজী তো প্রায়ই বলেন, শিক্ষাই সম্পদ।
দরিদ্রদের জন্য শিক্ষাই সম্পদ।

২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



চাঁদগাজী স্কুলতে যেই জমি দান করেছেন তার বর্তমান বাজার মূল্য কম করে হলেও ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি হওয়ার কথা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.