নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থাৎ এটি নিছক আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণে এটি একটি নতুন মাত্রা।
আর এখানেই বাংলাদেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যদি সত্যিই Bangladesh First- অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে মক্কা চুক্তির সম্ভাবনাটিও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে- তবে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায়।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তব্য।
কারণ বাংলাদেশের জন্য তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর অর্থ শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়। এর অর্থ হতে পারে- প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হওয়া। মক্কা চুক্তির কাঠামোতেও এসব সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।

অবশ্যই বাংলাদেশকে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া মানেই অন্য কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া- এমন ধারণাও ঠিক নয়। তিন চুক্তিভুক্ত দেশই বলেছে, এটি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে তৈরি নয়।

তাই বাংলাদেশের প্রশ্নটিও হওয়া উচিত খুব সরল-
এই চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অর্থনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ কতটা শক্তিশালী হবে?
উত্তর যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে শুধু কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র কী ভাববে- সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা হতে পারে না।
বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে নয়।
বাংলাদেশ কারও অধীনও নয়।
আমরা চাই সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।


মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া শেষ পর্যন্ত হবে কি না, সেটি সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যেই পরিষ্কার- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিসর বদলাচ্ছে।
আর যদি সত্যিই নতুন বাংলাদেশ নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়াতে চায়, তাহলে মক্কার দরজায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি করা অযৌক্তিক নয়-
বাংলাদেশ কি এবার শুধু দর্শক থাকবে, নাকি নিজের জাতীয় স্বার্থের হিসাব কষে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের অংশীদার হবে? সিদ্ধান্ত যাই হোক, সেটি যেন হয় বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.