| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার করা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ১৭ কোটি টাকা বাজেটের অননুমোদিত হিন্দুধর্মীয় কমপ্লেক্স এবং সেখানে নির্মাণাধীন ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তির কাজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্থগিত হওয়ার ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে স্থানীয় বিষয় মনে হলেও, এর সাথে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিকে মেলালে গভীর উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি প্রান্তিক জনপদে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন, পরিবেশ বা ভূমির ছাড়পত্র ছাড়াই এত বড় প্রকল্প তৈরি করা এবং এর আড়ালে অর্থ পাচার, ব্ল্যাকমেইলিং ও আন্তর্জাতিক সংযোগের গুরুতর অভিযোগ কোনো সাধারণ স্থানীয় বিরোধ হতে পারে না। এই সমীকরণটি বুঝতে হলে পলাশবাড়ীর মাঠপর্যায়ের জনসংখ্যা তত্ত্ব লক্ষ্য করা প্রয়োজন, যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কৌশলগত নীতি অনুযায়ী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কম থাকা অঞ্চলে স্থানীয় ঐকমত্য ছাড়া বিশালাকৃতির ধর্মীয় কাঠামো তৈরি করা হলে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাংলাদেশের একটি সংবেদনশীল এলাকা আর এই সংবেদনশীল এলাকা ব্যবহার করেই গড়ে উঠেছে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির কমপ্লেক্স, যেখানে ইতিমধ্যে একটি ২৮ ফুট উঁচু শিব মূর্তি এবং একটি ৫০ থেকে ৫৩ ফুট উঁচু কৃষ্ণ মূর্তি তৈরি করা হয়েছে যা ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন খোদ ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অননুমোদিত স্থাপনায় একজন উচ্চপদস্থ বিদেশী কূটনীতিকের প্রটোকল বহির্ভূত উপস্থিতি এবং একটি বিশেষ দেশের কূটনীতিদের নিয়মিত যাতায়াত কোনো সাধারণ ধর্মীয় সৌজন্য হতে পারে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত এই ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটিকে আঞ্চলিক স্বার্থে কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ারই সুদূরপ্রসারী চেষ্টা।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু নির্মাণাধীন ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তিসহ মোট ১৪৪টি মূর্তির বিশাল নকশা, যার বাজেট প্রায় ১৭ কোটি টাকা যা কোনো ভাবেই গাইবান্ধার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষে জোগান দেওয়া ছিল অসম্ভব। আর এই অর্থের জোগানদাতা ও প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে নাম এসেছে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ধর্মান্তরিত নাম তাওহীদ ইসলাম বাংলাদেশের অপরাধ জগতের একজন অত্যন্ত ধুরন্ধর ও বহুলালোচিত প্রতারকের নাম , যিনি ১৯৯১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান এবং তার তিন ভাই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা। এক সময়ের এসি মেকানিক ও সবজি বিক্রেতা হরিদাস ২০১৪ সাল থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের ছবি পরিবর্তন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার"পরিচয় দিয়ে সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে বড় বড় বদলি বাণিজ্য, তদবির এবং জাল আধা-সরকারি পত্র জালিয়াতির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সরকারি বড় প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় প্যারিস সুইমিংপুল বিনোদন কেন্দ্র ও পার্ক নির্মাণসহ একাধিক ব্যাংকে নামে-বেনামে অবৈধ লেনদেন করেন এবং ২০২২ সালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাবের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে তিনি নতুন বিতর্কের জন্ম দেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এই বিশাল রামমূর্তি ও মন্দির নির্মাণের মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে স্থানীয়দের জমি জোরপূর্বক দখলের ঘটনায়।
এই অননুমোদিত প্রজেক্টটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক হয় এবং বিষয়টিকে সরাসরি মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করে গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়, যার প্রেক্ষিতে অবশেষে আইনগত জটিলতা ও গণ-অসন্তুষ্টির মুখে গত ১১ জুন স্থানীয় প্রশাসন ও মন্দির কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে রাম মূর্তির নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়। এই প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ কেবল সাময়িক স্বস্তি মাত্র এর পেছনে থাকা বৃহৎ ভূরাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভরত কর্ণাদের " রংপুর ব্যবচ্ছেদ ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক প্রকৌশল তত্ত্ব "। যেখানে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক সুরক্ষায় রংপুর বিভাগকে ভারতের বাফার জোন বা মধ্যবর্তী অঞ্চল বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উগ্রপন্থী লেখক আর. জগন্নাথনের " দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও সভ্যতার ক্ষত তত্ত্ব "। যা বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য আলাদা হিন্দু আবাসভূমি তৈরি করার প্রস্তাব এবং জয়দীপ মজুমদারের " মাতৃভূমি প্রস্তাব এবং করিডোর সম্প্রসারণ তত্ত্ব " এর আলোকে ব্যাখ্যা করছেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও হরিদাসের ভারতের সাথে স্থায়ী পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, তিনি কোনো আঞ্চলিক শক্তির ছায়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন এবং সতের কোটি টাকা ব্যয়ে একবারে ১৪৪টি মূর্তি বানিয়ে একে ধর্মীয় তীর্থস্হান হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হিন্দু আবাসভূমির দাবির প্রাথমিক লজিস্টিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিপ্রস্তর ছিল, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল রাম মূর্তির উস্কানিমূলক আকার দেখে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিবাদ করলেই ভারতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারকারীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন এর কৃত্রিম আখ্যান তৈরি করত এবং এই তাসটিকে আন্তর্জাতিক ছুতো বানিয়ে ভারত করিডোর সুরক্ষার অজুহাতে রংপুরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মোক্ষম সুযোগ পাবে। যার প্রমান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতার বক্তব্যেও কিছুটা ইঙ্গিত করে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ভূখণ্ড গ্রাস বা প্রভাব বিস্তারের এই কৌশল নতুন কিছু নয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই বিভিন্ন স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে নিজস্ব মানচিত্রে যুক্ত করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ভারতের। যেমন ১৯৪৮ সালের " অপারেশন পোলো" এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামরিক শক্তি খাটিয়ে স্বাধীন হায়দ্রাবাদ রাজ্য দখল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে " অপারেশন বিজয় " এর মাধ্যমে পর্তুগিজদের কাছ থেকে গোয়া দখল করে সামরিক পন্থায় ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে গণভোটের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে একপাশে সরিয়ে রেখে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে বিশেষ মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০) বাতিল করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনকি ১৯৭৫ সালে এক পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে স্বাধীন রাজতন্ত্রের দেশ সিকিমকে ভারতের ২২তম রাজ্যে পরিণত করা হয়। ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতা ও উগ্র ডানপন্থী সামরিক তত্ত্বগুলোকে এক সুতোয় গাঁথলে পলাশবাড়ীর ঘটনার পর্দার আড়ালের প্রচ্ছন্ন আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয় নীলনকশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট পলাশবাড়ীতে যেকোনো ধর্মীয় অস্থিরতা শিলিগুড়ি করিডোরের নিচে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি স্থায়ী চাপ তৈরিকারী বলয় তৈরি করতে পারে, যা দিয়ে বাংলাদেশকে সর্বদা কৌশলগত ব্ল্যাকমেইল করা সম্ভব।
তবে আন্তর্জাতিক আইনগত ভাবে বিশ্লেষণ করলে আমাদের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাকতাও বিবেচনায় নিতে হবে প্রথমত, উগ্র মতবাদগুলো মূলত তাদের নিজস্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তাত্ত্বিক অনুমান মাত্র, যা ভারত সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক পররাষ্ট্রনীতি নয় দ্বিতীয়ত, হরিদাসের জীবনবৃত্তান্ত বলছে তিনি একজন পেশাদার প্রতারক ও অর্থ পাচারকারী, তাই এটি কেবল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নাকি হরিদাসের নিজস্ব অপরাধমূলক আর্থিক প্রকল্প যেখানে তিনি বিদেশী সংস্থাকে বোকা বানিয়েছেন তাও খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে এবং তৃতীয়ত, বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটা নাগরিককে পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দিলেও যেকোনো বৃহৎ কাঠামো তৈরিতে স্থানীয় নির্মাণ আইন ও ভূমির ছাড়পত্র মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, বিদেশি ষড়যন্ত্রের তত্ত্বগুলো বাংলাদেশকে যতই সহজ লক্ষ্যবস্তু ভাবুক না কেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যাতাত্ত্ব বলছে ভিন্ন কথা বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষই হলো ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী জাগ্রত যুবসমাজ যারা অত্যন্ত সচেতন, দেশপ্রেমিক এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন। বর্তমান বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো স্বাধীন ও জাতিসংঘভুক্ত রাষ্ট্রের ভূখণ্ড সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হলেও ভারতের পূর্বের ইতিহাস আমাদের চিন্তিত করে। যদিও যেকোনো দেশের সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা তীব্র আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক পতন এবং দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধের জন্ম দেয়, যা কোনো আগ্রাসী শক্তির জন্যই সহজ হয় না।
এই জটিল ভূরাজনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংকটকে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করতে রাষ্ট্রকে অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিমুখী কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, যার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আওতায় প্রশাসনকে বিতর্কিত এলাকার সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্প্রীতি সভা আহ্বান করতে হবে, একটি কঠোর আর্থিক তদন্ত শুরু করে মন্দির কমিটিকে ১৭ কোটি টাকার ফান্ডের প্রকৃত উৎসের তথ্য প্রমান জমা দেওয়ার আইনি নোটিশ দিতে হবে এবং মূল হোতা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি নীতির অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্থায়ী স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি গঠন করা দরকার, ভবিষ্যতে দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো বিশালাকৃতির ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণের পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে, যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তহবিল রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা সংস্থার দ্বারা নিয়মিত নিরীক্ষাযোগ্য রাখার আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং সবশেষে, বিদেশী কূটনীতিকদের রাজধানী ঢাকার বাইরে যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধর্মীয় বা সামাজিক পরিদর্শনের ক্ষেত্রে অন্তত এক সপ্তাহ পূর্বে পররাষ্ট্র মতামতকে লিখিতভাবে অবহিত করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এই মূর্তি বিতর্ক কেবল একটি স্থাপনা নির্মাণের আইনি জটিলতা নয়, এটি মূলত আধুনিক ভূরাজনীতির এক জটিল কৌশলগত দাবার চাল, তবে বাস্তব তথ্য, যৌক্তিক বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশের আইনি ও সামাজিক শক্তির সুসমন্বয় এই গভীর আধিপত্যবাদী নীলনকশাকে দক্ষতার সাথে নস্যাৎ করে দিয়েছে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যেমন তার প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তেমনি তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতার ওপর যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আঘাত কঠোর হস্তে দমন করতে সমভাবে সক্ষম এবং যেকোনো বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রখর কৌশলগত সচেতনতা
২|
২০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০১
নতুন বলেছেন: সব কিছুতেই এতো ষড়যন্ত্র খুজলে সমস্যা।, পিনাকির মতন সমস্যা যতদিন আছে ততদিন এমন অনেক তত্ব উনারা নিয়ে আসবে।
উনি নিজে হিন্দু হইয়াও কিছুদিন আগেই ইনকিলাব জিন্দাবাদ, আজাদী জিন্দাবাদ বইলা কাইন্দালাইছিলো।
উনি কানছিলো জামাতকে ক্ষমতায় আনতে ( জামাত ক্ষমতায় আনতে পারলে দেশের পটু মারা সারা)
৩২ নং ভাঙ্গার মদদ দিয়েছিলো। ( যেটাতে আমলীগের জনগনের সহানুভুতি পাইছে)
বর্তমানে উনাদের মতন এজেন্টরা দেশে ঝামেলা বাড়াবে যাতে সরকার বেকায়দায় পরে, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারনার রসদ পায়।
৩|
২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৮
আমি নই বলেছেন: @নতুন: গাইবান্ধা জেলাকে মুসলিম শুন্য করতে চাওয়া, হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশের দাবী করা সহ আন্দোলনের নামে প্রতিদিন যেই পরিমানের আক্রমনাত্বক এবং উস্কানিমুলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে এর পরেও আপনি বলবেন ষড়যন্ত্র তত্ব?
একটা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এত অল্প সময়ে এত বড় বড় মুর্তি হলে সেখানে বাধা যে আসবে এটা বুঝতে আইনস্টাইন হওয়ার দরকার পরেনা। কিন্তু তার পরেও তারা এটা করেছে, অবস্যই শান্তি স্থাপন করার উদ্দেশ্যে নয়। যার প্রমান তারা তাদের বক্তব্যে দিয়ে দিচ্ছে।
আপনি হয়ত জানেন না গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আরো একটা বড় মন্দির আছে যেটাকে স্থানীয়রা দুলাল ঠাকুরের মন্দির বলেই চেনে, সেখানেও অনেক মুর্তি আছে, সবগুলোই আছে মন্দিরের ভেতরে। আজ পর্যন্ত সেই মন্দির নিয়ে কোনো আলোচনা-সমালোচনা হয় নাই। সামান্য আপত্তিও কখনও হয়েছে বলে শুনি নাই। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিমদের মাঝে ধর্মভিত্তিক কোনো বিরোধ নাই, আগেও ছিলনা। কিন্তু সোকল্ড আন্দোলনকারিদের আক্রমনাত্বক এবং উস্কানিমুলক বক্তব্যের কারনে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই বিরক্ত হয়ে গেছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এর কাজ শুরু হয়েছিলো ইউনুস সাহেবের আমলে ; তখন হইচই হলো না কেন ?