নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Swarup Dattatreya blog

Swarup Dattatreya blog › বিস্তারিত পোস্টঃ

বঙ্গদেশের নিজস্ব ধর্ম

০৯ ই জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৪:৪৮



স্বরুপ দত্তাত্রেয়

বঙ্গদেশ ধর্মের জন‍্য উর্বরভূমি। এই উর্বরভূমিতে যেমন বাহির হতে কিছু ধর্ম প্রবেশ করেছে,তেমনি এই ভূমিতে জন্ম নিয়েছে নিজস্ব কিছু ধর্ম। এ প্রবন্ধে বঙ্গদেশের নিজস্ব কিছু ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হলো:

প্রকৃতি উপাসনা :

পৃথিবীর সর্বত্র,প্রায় সব জাতির মধ‍্যেই প্রকৃতি উপাসনার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। আদিম যুগে,মানুষ প্রকৃতিকেই সবকিছু মনে করে,তাঁর আরাধনায় নিজেকে ব‍্যাস্ত রাখতো। মানুষের ধারনা ছিল প্রকৃতিই তার সকল ইচ্ছা পূরণ করবে,প্রকৃতিই আসলে সবকিছু।
এধারণা থেকে বঙ্গভূমির মানুষরাও আলাদা ছিল না। প্রকৃতি উপাসনা এ অন্চলের মানুষের মধ‍্যে ও লক্ষ করা যায়,যা এখন পর্যন্ত ও বিদ‍্যমান রয়েছে। বঙ্গদেশে, হিন্দু সমাজে শীতলা,মনসা সহ বহুদেবীর রুপে প্রকৃতি উপাসনা বিদ‍্যমান।
এছাড়া ও বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় যেমনঃ সাওতাল,মুন্ডা ও ওরাও দের মধ‍্যে ও প্রকৃতি উপাসনা লক্ষ করা যায়।
বঙ্গদেশের ধর্মীয় জগৎতে তাই প্রকৃতি উপাসনার বড়রকমের প্রভাব রয়েছে,যা পরবর্তী সময়ে অন‍্যধর্মের উপর ও প্রভাব ফেলেছে।

লৌকিক হিন্দুধর্ম :

বৈদিক ধর্ম বঙ্গদেশে প্রবেশ করে আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব 1000 বছর আগে। বঙ্গদেশে প্রচলিত প্রকৃতি উপাসনার সাথে মিশ্রণ ঘটে বৈদিক ধর্মের। বৈদিক দেবদেবীরা আশ্রয় নেয়,প্রকৃতি উপাসকদের ঘরে। এই মিশ্রণেরই ফসল পরবর্তী সময়ের লৌকিক হিন্দুধর্ম। লৌকিক হিন্দুধর্মে যেমন বৈদিক আচার লক্ষ করা যায়,তেমন দেখা যায় লৌকিক আচার।

সহজপন্থা :

সহজপন্থার সূচনা ঘটে 7ম কিংবা 8ম শতাব্দীর দিকে।বাংলার 84 সিদ্ধাত্মচার্যরা এ প্রথাকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাদের মতাদর্শের মূল উদ্দেশ্যেই ছিল সহজভাব। আচার সরভর্ষ মতবাদ থেকে বের হয়ে তারা সহজ সাধনায় নিজেদের নিয়োগ করে। অন‍্যান‍্য সাধকদের মতো পুরোপুরি সংসার ত‍্যাগ করেননি তারা। বরং সংসারের সকল ভোগ‍্যপণ‍্য উপভোগের মাধ‍্যমে নিজেদের সাধন জীবন নির্বাহ করেছেন। সহজপন্থায় বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব মতের ও প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।

নাথপন্থা :

নাথপন্থার প্রবর্তক মৎসেন্দ্রণাথ হলেও এর প্রচারক হিসেবে সমাদৃত হন গোরক্ষনাথ। গোরক্ষনাথ এ মতবাদকে চারিদিকে ছড়িয়ে দেন। একসম য় বঙ্গদেশে,বিশেষ করে পূর্ব বঙ্গে নাথপন্থা ব‍্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে এটি এখন হিন্দুধর্মের একটি শাখা হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বাচিঁয়ে রেখেছে।

বাউল :

বাউল মতবাদকে বলা হ য় বঙ্গদেশের নিজস্ব ধর্ম এবং বাউল সাধকদের নিজস্ব সাধক। বাঙ্গালির মনোজগতে বাউলরা সদা দ্বিপ্তীমান। এই মতবাদ জনপ্রিয় হয় তার গানের মাধ‍্যমে। বাউল সম্রাট লালন শাহ, বাউল গানকে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন।


বঙ্গদেশের ধর্মীয় ইতিহাস সম্পদে পরিপূর্ণ।এ জনপদে বিভিন্ন ধর্মের আগমন ঘটেছে, তবে তার মধ‍্যে কিছু ধর্ম বা মতবাদকে এখানকার নিজস্ব বলে ধরা যেতে পারে। তবে এর মানে এই ন য় যে,অন‍্য ধর্ম সমূহ বঙ্গদেশের আপন নয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.