| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পান্জাবের খিস্ট্রীয়করণ : হালুলুলিয়ার জয়-জয়কার
স্বরুপ দত্তাত্রেয়
পান্জাবের কথা মাথায় আসলে মনোজগতে যে চিত্র ভেসে উঠে,তা হলো বিস্তৃত মাঠ,ফসলে ভরা খেত ও পাগড়ি পরিহিত শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা সিং নামে ও পরিচিত। শিখ সম্প্রদায়ের সাথে গভীর ভাবে জড়িত এই রাজ্যে যেন হঠাৎ করেই পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। পান্জাবের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ হঠাৎই খ্রিস্টান হতে শুরু করেছে।
পান্জাবের 2011 সালের জনগননা অনুযায়ী,রাজ্যের প্রায় 58% জনগনই শিখ ধর্মের অনুসারী। এছাড়াও সনাতন ধর্মের অনুসারী 38%,ইসলামের অনুসারী 2% ও খ্রিস্টধর্মের অনুসারী প্রায় 1.2 শতাংশ।তবে,বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় 15 শতাংশের ও বেশি। আর এতেই র য়েছে আসল চমক,যে সম্প্রদায়ের মানুষ 11 সালের দিকে ছিল দুই শতাংশের ও কম, তাদের সংখ্যা 15 শতাংশের বেশি কীভাবে হতে পারে?
পরিবর্তনের কারন:
2021 সালে করোনার কারনে জনগননা করা সম্ভব হ য় নি। তবে বিশ্বস্ত কিছু মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, পান্জাবের ধর্মীয় জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। যে রাজ্য একসম য় শিখদের রাজ্য বলে পরিচিত ছিল,তা ক্রমশ খ্রিস্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর জন্য অনেক গুলো কারন রয়েছে।সামাজিক,অর্থনৈতিক ও স্বার্থগত
পান্জাবে রয়েছে এক বড় সংখ্যক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যাদের দলিত বলে ও সম্বোধন করা হয়।
এ জনগোষ্ঠীই মূলত ধর্মান্তরনের প্রধান লক্ষ্য।
সসরিয়াকাল থেকে হালুলুলিয়া :
পান্জাতের জাতিগত জরিপ অনুযায়ী রাজ্যের 32 শতাংশ মানুষ দলিত সম্প্রদায় হতে আসে। এই সম্প্রদায়ের আবার বেশিরভাগ লোক শিখ ধর্মের অনুসারী। এক সময় বর্ণপ্রথার হাত হতে বাচঁতে তারা শিখ ধর্ম গ্রহন করে। তবে তাদের উদ্ধার সম্ভব হয় নি। শিখ ধর্মে ও তথাকথিত উচ্চবর্ণের মানুষদের দ্বারা তারা নির্যাতনের শিকার হয়। শিক্ষা,চিৎকিসা সহ সকল ধরনের সুবিধা হতে তারা বন্ঞিত হতে শুরু করে। এমনকি প্রার্থনাস্থল যাকে গুরুদ্বোয়ার বলা হয়,তাতে ও তারা প্রবেশের অনুমতি পায় না। পান্জাবের বেশির ভাগ গ্রামে উচ্চ বর্ণ জাটদের জন্য আলাদা প্রার্থনাস্থল ও দলিতদের জন্য আলাদা। সামাজিক ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়ে দলিত সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ তাই চার্চের দিকে ঝুকঁছে ভালো জীবনের আশায়।

©somewhere in net ltd.