নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Swarup Dattatreya blog

Swarup Dattatreya blog › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্রুজ সম্প্রদায়, মধ‍্যপ্রাচ‍্য ও জাতিগত সংঘাত

১৮ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ১০:৫৭

মধ‍্যপ্রাচ‍্যের ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী দ্রুজদের নিয়ে বেশকিছু সম য় ধরে আলোচনা চলছে। ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সশস্ত্রগোষ্ঠী দ্বারা নিপীড়নের শিকার এ গোষ্ঠীটি,আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সিরিয়ায় গত বছর অক্টোবরে আসাদ পরিবারের 50 বছরের শাসনের সমাপ্তির পর অন‍্যান‍্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে,দ্রুজদের উপর ও নির্যাতন বেড়েছে। বিভিন্ন ইসলামিক ও বেদুইন গোষ্ঠীর দ্বারা আক্রমনের শিকার এই ক্ষুদ্রগোষ্ঠীটি নিজেদের অস্তিত্বের সংকটে আছে।

দ্রুজ কারা?

দ্রুজ একেশ্বরবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠী যারা নিজেদের এক তাওহীদবাদী বলে ও অভিহিত করে থাকে। 9ম শতকের দিকে বর্তমান মিশরে এই ধর্মীয় গোষ্ঠীটির পথ চলা শুরু হ য়। হামজা ইবনে আলী ও আল হাকীম ব‍্যাক্তিদ্ব য়কে দ্রুজ মতবাদের প্রবত্তা হিসেবে গন‍্য করা হ য়। মিশরে আদ দারাজী নামক ব‍্যাক্তির নাম থেকেই দ্রুজ নামটি নেওয়া হ য়। আদ দারাজী দ্রুজ ধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 1016 সাল হতে দারাজী মিশরের কায়রো শহরে তার অনুসারীদের নিয়ে দ্রুজ মতবাদ প্রচার শুরু করে।এতে কায়রোতে ব‍্যাপক সংঘর্ষের শুরু হ য়। স্থানীয় আলেম ও শাসক শ্রেণীর সাথে প্রায়শই দ্রুজ সম্প্রদায়ের সংঘাত ঘটে। শাসক শ্রেণী দ্রজদের উপর ধরপাকড় ও নির্যাতন শুরু করে। 1018 সালে আদ দারাজী হত‍্যার শিকার হন এবং দ্রুজ মতবাদের গুরুত্বপূর্ণ ব‍্যাক্তি হিসেবে সামনে আসেন ফাতেমীয় শাসক আল হাকিম। তিনি দ্রুজ ইতিসাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন ব‍্যাক্তি। তার শাসন কালে দ্রুজ মতবাদ প্রসার লাভ করে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা লাভ করতে সম্ভব হ য়। তবে হঠাৎ এক রাতে ভ্রমনে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। ধারনা করা হ য় তার ব ড় বোন সিত্তাল মালিক তাকে হত‍্যা করে। আল হাকিমের মৃত‍্যুর পর তার নাবালিক পুত্র আলী আল জহিরকে খলিফা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হ য়। দ্রুজরা জহিরকে খলিফা হিসেবে মেনে নিলেও ইমাম হিসেবে মানেনি। হামজা নামক এক জনৈক ব‍্যাক্তি দ্রুজদের ইমাম হিসেবে আবির্ভূত হন। খলিফা জহিরের অভিভাভক সিত্তাল এ সম য় দ্রুজদের ধ্বংস করার সংকল্প নেন। তার নির্দেশে দ্রুজদের ব‍্যাপক ধরপাকড় ও হত‍্যা করা হ য়। 1021 সালের দিকে খলিফা জহির দ্রুজদের ধ্বংস করার ঘোষনা দেন।প্রায় 7 বছর দ্রুজদের উপর ব‍্যাপক নির্যাতন করা হ য়। খলিফা দ্রুজ ইমাম হামজাকে নিজের প্রতিদ্বন্দি বলে গন‍্য করতেন। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় 10 হাজার দ্রুজকে হত‍্যা করা হ য়। এন্তিওখে চলে নির্মম হত‍্যাকান্ড। পাচঁ হাজার দ্রুজকে নির্মম ভাবে হত‍্যা করে সৈন‍্যরা। এমন অত‍্যাচারের কারণে দ্রুজ আন্দোলন অনেকটা স্থিমিত হ য়ে যায়। নিজেদেরকে আলাদা করে নেয় তারা। নিজেদের মধ‍্যে বিয়ে ও অন‍্যদের নিজেদের ধর্মে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম চালু করে।

বর্তমান অবস্থা :

দ্রুজরা বর্তমানে ছোট একটি গোষ্ঠী হিসেবে টিকে আছে। সিরিয়া ও লেবাননে তাদের বেশি উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাছাড়া ইসরাইল ও জর্ডানে কিছু দ্রুজ আছে। ইহুদিদের সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দশ লক্ষ দ্রুজ র য়েছে বলে ধারনা করা হয়। তাদের মধ‍্যে কিছু পশ্চিমা দেশগুলোতে ও রয়েছে। দ্রুজদের ধর্মীয় গ্রন্থ “রাসাইল আল হিকাম” এর গুরুত্ব দ্রুজ সমাজের সর্বত্র পরিলক্ষিত। তবে বর্তমান সম য়েও এ গোষ্ঠী বিভিন্ন উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে জাতিগতে সংঘাতে ক য়েকশত দ্রুজ নিহত হ য়েছে। বেদুইন গোষ্ঠী,জঙ্গি ও সরকারী বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে দিশেহারা এ জনগোষ্ঠী। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে; হাজার হাজার দ্রুজকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লেবাননে যেতে হ য়েছে নিজেদের প্রাণ বাচানোর জন‍্য। যারা সিরিয়ায় র য়েছে তাদের অবস্থা করুন বলা চলে। ব‍্যাপক অত‍্যাচার ও হত‍্যা শিকার হচ্ছে দ্রুজ সম্প্রদায়ের মানুষরা।
হাজার বছর ধরে টিকে থাকা এই সম্প্রদায় এখন বিলুপ্তের পথে যাচ্ছে।

মধ‍্যপ্রাচ‍্যের জাতিগত সংঘাত:
মধ‍্যপ্রাচ‍্যের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় জাতিগত ও ধর্মীয় সংঘাত এখানে সাধারন একটি ব‍্যাপার। হাজার বছরের ও বেশি সম য় ধরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজেদের মধ‍্যে সংঘাতে লিপ্ত আছে। একবিংশ শতকে এসেও তার কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। মধ‍্যপ্রাচ‍্যের বেশির ভাগ দেশে সুন্নি ও শিয়াদের মধ‍্যে যুদ্ধ চলমান। ইরাক,সিরিয়া ও ইয়েমেনে লম্বা সম য় ধরে সুন্নি ও শিয়াদের সংঘাত চলছে। লেবাননে সংঘাত আবার ত্রিমুখী।সেখানে সুন্নি,শিয়া ও খ্রিস্টানদের দ্বন্দ প্রায় শতবছরের। মধ‍্যপ্রাচ‍্যের বেশিরভাগ দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী দ্বারা খ্রিস্টানদের গন নিধন করা হচ্ছে। অনেক খ্রিস্টান প্রাশ্চাত‍্য দেশগুলোতে পালিয়ে গিয়েছে। ইসরায়েলের সাথে ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের সংঘাত লেগে থাকে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ‍্যে চলমান সংঘাত মাঝেমধ‍্যেই ব‍্যাপক আকার ধারণ করে। ইহুদিদের বিপক্ষে চরম ঘৃণার ও সৃষ্টি হ য়েছে মুসলিম দেশগুলতে। মধ‍্যপ্রাচ‍্যের অন‍্যান‍্য ছোট ধর্মীয় গোষ্ঠী যেমনঃ জরথ্রুস্ট,বাবি,বাহাইদের উপর ও রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিপীড়ন চলমান আছে। মধ‍্যপ্রাচ‍্যে শান্তির জন‍্য জাতিগত সংঘাত থামানো অতীব জরুরী।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.