নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Founder & Editor-in-Chief: priyobarishal.com | Journalist | Construction & Real Estate Expert

ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা

Founder & Editor-in-Chief: priyobarishal.com | Journalist | Construction & Real Estate Expert

ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরা কাছের মানুষদের এত সস্তা ভাবি কেন?

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৫


মানুষ আসলে কী চায়? খুব কি বেশি কিছু? দিনশেষে একটু শান্তি আর সম্মান। কিন্তু এই সামান্য জিনিসটাই আমরা কাছের মানুষদের কাছ থেকে সবচেয়ে কম পাই।

আমরা ভুলে যাই, পারিবারিক সম্পর্কের খুব সহজ একটা ব্যাকরণ আছে। আপনি আপনার সঙ্গীকে আপনার পরিবারের কাছে ঠিক যতটুকু সম্মানের জায়গায় উপস্থাপন করবেন, অন্যরাও তাকে ঠিক ততটুকুই সম্মান দেবে। নিজের ঘরের আয়নায় আপনি তাকে যেমন দেখাবেন, বাইরের মানুষও তাকে সেভাবেই দেখবে।

একটা গল্প বলি। তুসির কথা ধরা যাক। বিশাল এক পরিবারের মেয়ে সে। সেই বড় পরিবারে তুসির স্বামীই হলো একমাত্র জামাই। সাধারণ হিসেবে তার তো প্রবল আদর আর সম্মান পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সে হলো পরিবারের সবচেয়ে উপেক্ষিত মানুষ।

কেন এমন হলো? কারণ তুসি নিজেই কখনো তার মানুষটিকে সম্মানের জায়গায় বসায়নি। সে তার স্বামীর নীরব আত্মত্যাগগুলোকে এতই সস্তা আর সহজলভ্য হিসেবে দেখিয়েছে যে, পরিবারের অন্যরাও ধরে নিয়েছে—এই লোকটাকে অবহেলা করলেও সে কিছু মনে করবে না।

অথচ মানুষটার ভেতরের গল্পটা একদম ভিন্ন। মাস শেষে নিজের সব শখ বিসর্জন দিয়ে সে পরিবারের হাসিমুখ দেখতে চায়। বিনিময়ে সে কিছুই চায় না, শুধু দিনশেষে একটু মানসিক নির্ভরতা খোঁজে। কিন্তু সেই নির্ভরতার জায়গাটা যখন শূন্য থাকে, নিজের খুব সামান্য একটা অধিকার বা আবদারও যখন অবহেলায় প্রত্যাখ্যাত হয়, তখন বুকের ভেতর তীব্র এক শূন্যতা তৈরি হয়।

মানুষটা একজন নিখাদ স্রষ্টা। লেখালেখি করে, ভাবে এই সৃজনশীল কাজের জন্য যে মানসিক প্রশান্তির দরকার ছিল, তুসির অসংবেদনশীলতা আর অবমূল্যায়ন সেখানে জন্ম দিয়েছে কেবল তীব্র অস্থিরতার।

তুসি হয়তো ভাবে, তার অবহেলায় মানুষটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভেঙে পড়ছে। তুসিরা আসলে এটাই ভাবে।

কিন্তু তুসি জানে না, সৃজনশীল মানুষেরা কখনো দুর্বল হয় না। তারা শুধু বুঝতে শেখে, কোথায় তাদের কদর নেই। নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার পর যখন বিনিময়ে শুধু অবিশ্বাস আর সস্তা মূল্যায়ন জোটে, তখন তারা অভিযোগ করা বন্ধ করে দেয়। তারা কাউকে বোঝাতে যায় না, শুধু খুব শান্তভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

মানুষটা এখন জানে, অন্যের কাছে সম্মানের ভিখারি হওয়ার চেয়ে নিজের আত্মসম্মানের জগৎ অনেক বেশি প্রশান্তিদায়ক। তুসির তৈরি করা সেই ঘোলাটে আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে মানুষটা এখন তার নিজের স্বাধীন ক্যানভাসে ফিরে গেছে।

কারণ যে মানুষ নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্য বুঝতে শিখেছে, তাকে পৃথিবীর কোনো অবহেলাই আর স্পর্শ করতে পারে না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.