| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা
Founder & Editor-in-Chief: priyobarishal.com | Journalist | Construction & Real Estate Expert

মানুষ কেন প্রিয়জনের সাথে তর্কে জিততে চায়?
এই ছোট্ট প্রশ্নের উত্তর আজও আমি খুঁজে পাইনি।
অর্ণব মানুষটা খুব সাধারণ। সারাদিন বাইরের পৃথিবীর সাথে তাকে যুদ্ধ করতে হয়। পেশাগত জীবনের তুমুল ব্যস্ততা আর মানসিক চাপ শেষে সে একটা আশ্রয় খোঁজে।এমন একটা নীড়, যেখানে কোনো অহেতুক সমীকরণ মেলাতে হবে না। যেকোনো বিপদে অর্ণব সবসময় আপনজনদের পাশে নিঃস্বার্থ ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু তার স্ত্রী তুসির জগৎটা একটু অন্যরকম।তুসির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তার নিজের তৈরি করা মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল। সে যেকোনো পরিস্থিতির আগেই একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে নেয়। অর্ণব হয়তো খুব সহজ মনে কোনো কথা বলতে এসেছে।কিন্তু তুসি আগে থেকেই ধরে নেয় অর্ণব হয়তো রাগ করবে বা শর্ত চাপিয়ে দেবে।
এই অমূলক ভয়ের কারণে সে সহজ সত্যিগুলো লুকিয়ে ফেলে। সম্পর্কে যখন আস্থার বদলে আগাম সন্দেহ জায়গা করে নেয়, তখন নিঃশব্দে দূরত্ব বাড়ে।
তাদের সম্পর্কের আরেকটা বড় বাধা হলো— তুসির তর্কে জেতার অদম্য জেদ। অর্ণব যখন কোনো একটা সমস্যার সহজ সমাধান চায়, তুসি তখন সেটাকে ইগোর লড়াই বানিয়ে ফেলে। ভুল বোঝাবুঝি মেটানোর বদলে সে অবান্তর যুক্তির জাল বোনে। সহজ একটা ভালোবাসার প্রকাশ তখন হয়ে দাঁড়ায় ক্লান্তিকর এক স্নায়ুযুদ্ধ।
তুসি হয়তো বুঝতে পারে না, সংসার কোনো বিতর্ক প্রতিযোগিতা নয়। তর্কে জিতে হয়তো সাময়িক ইগোর তৃপ্তি পাওয়া যায়।কিন্তু তাতে দিনশেষের মানসিক শান্তিটা চিরতরে হারিয়ে যায়। অর্ণব তার এই প্রতিদিনের লড়াইয়ে কোনো প্রতিপক্ষ চায় না, সে একজন সহযোদ্ধা চায়।
একটি ছোট গল্প বলি।
একবার এক বয়স্ক দম্পতি পাহাড়ে বেড়াতে গেল। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার পর স্বামী বলল, "রাস্তাটা এদিকে।" স্ত্রী রেগে গিয়ে বলল, "না, ওদিকে।" তর্ক শুরু হলো। স্বামী বুঝল, সে সঠিক হলেও এই তর্ক চালিয়ে গেলে আজকের দিনটাই নষ্ট হবে। সে চুপ করে স্ত্রীর দেখানো ভুল পথেই হাঁটল। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী বুঝল সে ভুল করেছে। সে অনুতপ্ত হয়ে স্বামীর হাত ধরল। পথ ভুল হলেও, তাদের দুজনের হাত সেদিন আর আলাদা হয়নি।
সম্পর্কে কখনো কখনো হেরে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় জয়। ইগোর দেয়াল ভেঙে দুজন মানুষ যখন নিজেদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে সহজভাবে কথা বলতে শেখে, ঠিক তখনই সম্পর্ক সফল হয়। অর্ণবের মতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তুসিরা যদি শুধু এই সহজ সত্যটা মেনে নিতে শেখে, তবে সামনের পথচলাটা হতে পারে দারুণ সুন্দর।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:০৮
শায়মা বলেছেন: ভালো

স্বামী স্ত্রী বা প্রেমিক প্রেমিকার কথা মেনে নিয়ে ভালোবাসতে চাওয়া যায়!!
কিন্তু অফিসের বেয়াদপ বেয়াড়া পাগল ছাগল টাইপ শয়তান বসকে কেমেন ঢিঢ করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা ট্রেইনিং প্রয়োজন!!!