নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হৃদয়ে বাংলাদেশ

আমার দেশ, আমার অহংকার

জুবায়েদ হোসেন

একজন বাংলাদেশী

জুবায়েদ হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুয়েজ খালঃ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ

০৯ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:৪২

পূর্ব ইতিহাসঃ বহুকাল ধরেই অনুভূত হচ্ছিল ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করার প্রয়োজনিয়তা। এ অনুভব কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই নয়, সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকেই তা তাড়া করে চলেছে মানুষ কে।

এ তাড়না থেকেই বিভিন্ন সময়ে, এমনকি খ্রিস্টের জন্মের ২০০০ বছর আগে মিশরীয় ফারাও সম্রাটদের আমলেও নেয়া হয়েছিল বিভিন্ন উদ্যোগ। কিন্তু নানান বেড়াজালে আবর্তিত হয়ে শেষ পর্যন্ত কোনটিই আলোর মুখ দেখেনি।

ঊনবিংশ শতাব্দিতে ভারতবর্ষ সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে পশ্চিম ইউরোপের ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারের সাথে এ সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা বৃদ্ধি পায়।

হিসাব করে দেখা যায়,ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করে একটি খাল খনন করলে উত্তরে ইউরোপ থেকে দক্ষিণে এশিয়া, উভয়প্রান্তে পণ্যপরিবহনে যাত্রাপথ প্রায় ৪০০০ মাইল কমে যাবে। আর এটিই হল সুয়েজ খাল।



সুয়েজ খাল (ইংরেজি ভাষায়: Suez Canal, আরবি ভাষায়: قناة السويس):

মিশরর সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল। এটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। ১৮৫৯ সালের ২৫শে এপ্রিল ফরাসিদের উদ্যোগেই এর খনন কাজ শুরু হয়। তবে ব্রিটেনও কাজটির ব্যাপারে অতি উৎসাহী ছিল। দশ বছর ধরে খননের পর পথটি ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। ঐ বছরের ১৭ নভেম্বর এর ঊদ্বোধন হয়। ২৫০০০ মিশরীয় এবং ১০০০ ইউরোপীয় এই প্রকল্পে কাজ করেন।

উত্তরে ইউরোপ থেকে দক্ষিণে এশিয়া, উভয়প্রান্তে পণ্যপরিবহনে সুয়েজ খাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসাবে ব্যবহৃত হয়, এতে করে সম্পূর্ণ আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে আসতে হয়না। খালটি উন্মুক্ত হবার পূর্বে, কখনো কখনো পন্য জাহাজ থেকে নামিয়ে মিশরের স্থলপথ অতিক্রম করে, ভূমধ্যসাগর হতে লোহিত সাগরে এবং লোহিত সাগর হতে ভূমধ্যসাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজে পারাপার করা হত। এর ব্যপ্তি ভূমধ্যসাগরের পোর্ট আবু সাঈদ হতে লোহিত সাগরের সুয়েজ (আল-সুওয়েজ) পর্যন্ত। ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স নামক একজন ফরাসি প্রকৌশলী এই খাল খননের উদ্যোক্তা।



আয়তন ও ব্যাপ্তিঃ শুরুতে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৬৪ কিলোমিটার (১০২ মাইল) এবং গভীরতা ছিল ৮ মিটার (২৬ ফুট)। বেশ কিছু সংস্কার ও সম্প্রসারণের পর ২০১০ সালের হিসাব মতে এর দৈর্ঘ্য ১৯০.৩ কিলোমিটার (১২০.১১ মাইল), গভীরতা ২৪ মিটার (৭৯ ফুট) এবং সর্বনিম্ন সরু স্থানে এর প্রস্থ ২০৫ মিটার (৬৭৩ ফুট)। এর মধ্যে উত্তর প্রবেশ চ্যানেল এর দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার/১৪ মাইল, মূল খালে দৈর্ঘ্য ১৬২.২৫ কিলোমিটার/১০০.৮২ মাইল এবং দক্ষিণ প্রবেশ চ্যানেল এর দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার/৫.৬ মাইল।



এটি 30°42′18″উত্তর অক্ষাংশ ও 32°20′39″ পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত।



এটি একটি এক লেন বিশিষ্ট খাল যাতে দুটি বাই-পাসের স্থান আছে, এগুলো হল বাল্লাহ বাইপাস এবং গ্রেট বিটার লেক। সুয়েজ খালে কোন লক বা ভিন্ন উচ্চতার নৌপথে জলযান নেবার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ গেট নেই। তাই সমুদ্রের পানি অবাধে এই খালের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সাধারণত, বিটার লেকের উত্তরদিকের খালে শীত কালে উত্তরমুখী স্রোত প্রবাহিত হয় এবং গ্রীষ্মে দক্ষিণমুখী স্রোত প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে লেকের দক্ষিণ দিকের খালে স্রোত সুয়েজের জোয়ার-ভাটার সাথে পরিবর্তিত হয়।

উল্লেখ্য, আরব ইসরাইল যুদ্ধের সময় পথটি বন্ধ ছিল।



মালিকানা ও পরিচালনাঃ খননের কিছুদিন পর বৃটেন এর সর্বাধিক শেয়ারের মালিক হয়। ১৯৫৬ সালে কর্ণেল নাসেরের নেতৃত্বাধীন মিশরীয় সরকার খালকে রাষ্ট্রীয়করণ করেন। তিনি জানান, এ খাল যে দেশের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সে দেশই এর মালিক। বৃটেন এবং ফ্রান্সের কাছে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা এর আন্তর্জাতিক রূপ ফিরে পাবার জন্য সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাসেরের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।



বর্তমানে সুয়েজ খালের মালিকানা ও পরিচালনা মিসরের সুয়েজ ক্যানেল অথরিটির ওপর ন্যাস্ত। ‌আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, সুয়েজ খাল শান্তিকালীন সময় অথবা যুদ্ধকালীন সময় - সব সময়েই যে কোন দেশের পতাকাবাহী বানিজ্যিক বা যুদ্ধ জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:৪৫

জুবায়েদ হোসেন বলেছেন: আরো কোন তথ্য জানা থাকলে মন্তব্যে উল্লেখ করতে পারেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.