নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাঙ্গা দেওয়ালে আগাছার চাষ অথবা প্রথমত মানুষ দ্বিতীয়ত মানুষ তৃতীয়ত মানুষ মূলত যাই বলা হোক না কেন পুরান ইতিহাস আর আজ একই মুঠো খুলে দেখা গেল ফুস..।

অড়বরই

বাংলায় লিখতে ভালবাসি

অড়বরই › বিস্তারিত পোস্টঃ

মধ্য রাতের প্রতিবেদন - বন্ধু

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৪৪

কার কাছে রেখে যাব এই দাগ, কলঙ্করেখা? বিষবৃক্ষের ছাল বাকল শেকড়?



যস্য ছায়ামৃতাং যস্য মৃত্যু...বৃদ্ধ বললেন, যাঁর ছায়া অমৃত, মৃত্যুও যাঁর ছায়া – একমাত্র তার কাছেই তোমার যাবতীয় যন্ত্রনা দুঃখ ক্ষোভ অপমান সমর্পণ কর। শুধু তার কাছে তোমার শোক সন্তপ্ত জীবন উৎসর্গ কর। ভাষার কাছে আশ্রয় চেয়েছি। আঃ, এই ভাষাইতো! আমাকে করেছে বিপথচারী। হ্যাঁ, আমার মায়ের মুখ থেকে শেখা সেই ভাষার কথাই বলছি।



ভেবে দেখলাম, আমার এমন কোনও অভিনবত্ব নেই বা কোনও বিশেষ অবস্থান যা আমাকে বিশিষ্ট করে তুলতে পারে বা গর্বিত। চল্লিশ বছর আগে সীমান্ত টপকে আসা লোকটি যেমন অনায়াসে এবং সঙ্গত ভাবেই বলতে পারে, আমি একজন রিফিউজি। এটা তার অহংকার। আক্রমনের হাতিয়ার। আত্মরক্ষার ঢালও বা। হতে পারে। কিন্তু আমার তেমন কিছুই নেই। আমি কেমন করে পৌঁছুব তার কাছে?



বন্ধু? এখন আর বন্ধুত্ব হয় না কারুর সঙ্গে। ভাটার টান বড় বেশি বুকে এসে বাজে। তর্ক শুরু হলে বা কথার পৃষ্ঠে কথা যেমন... হ্যাঁ। কোথাও পটে না। ট্রেনে না। বাসে না। অফিসে না। পাড়ায় না। এমন কি ঘরেও না। কবে যে সুবুদ্ধী হবে? বিশ্বাসের কথায় অবধারিত যে নামটা এসে যায়, বাপ্পা আমার বন্ধু। ও ছিল বিশ্বাসী। ও ছিল আশাবাদী। বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু কি ভাবে যে অসুখটা এল? কোত্থেকে এল? কখন এল? কিছুই জানা গেল না। মৃত্যুর আগে ও ঠিক এই কথাটাই বলতে চেয়েছিল। পারে নি। ব্যাথার তীব্রতা। মুখে অক্সিজেন মাস্ক। হাতে স্যালাইন-ড্রিপ। আই সি ইউতে ও তখন অচেতন। ধরাশায়ী এক গাছের গুড়ির মতন পরে আছে। আমার বন্ধু। আর তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা...



আমি কী অবিশ্বাসী?

কী চাস তুই?

নিজেকে নিজের মত করে দেখতে চাওয়ার স্বাধীনতা কী আমার আছে?

বেশ। তাহলে এগুলো কী? কেনইবা লেখা লিখি? আপনিও তেমনটা ভাবতে পারেন। গতকাল যেমন আমার এক বিজ্ঞ বন্ধু বলল, তুই আজকাল বড্ড বোকা বোকা কথা বলিস। তাকেও দোষ দেওয়া যায় না। লেখা লিখিটা আমার অসুখ। পরিবারের ধারনা তাই। আমি তাদেরও দোষ দেব না। এমন কী তাকেও না, আমার আরেক সাহিত্য যশপ্রার্থী বন্ধু, ক্রিটিক এবং লেখকও বটে, সেই বন্ধুটিকেও, যে তার বাড়িতে লেখা শোনানর জন্য ডেকে নিয়ে গিয়ে পাঠের মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়ে, পড়া শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে হঠাৎ জেগে উঠে শেষ দুটো বাক্য শুনেই জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ শুরু করে দেয়। এবং যতখানি সম্ভব রুঢ় ভাষায় লেখাটিকে নস্যাৎ করে দিয়ে সদর্পে আসর ছেড়ে উঠে যায়। আমি তাকেও দোষ দেব না। এদের মধ্যেই বেঁচে বর্তে থাকতে হবে কি না? রাস্তায় দেখা হলে দাঁত ক্যালাতেও হবে। প্রয়োজনে করমর্দন। ঠিক সেই মুহূর্তে আমার নিজেকে একটা ভন্ড ছাড়া কিছুই মনে হয় না। এমন দুজন মানুষের মধ্যে কী বন্ধুত্ব হতে পারে?



হাসপাতালের সেই আলোকজ্জ্বল হিম কক্ষে শেষ বারের মতো ওর কানে কানে জানতে চেয়েছিলাম, এমন সমাজ কোথাও রচিত হয়েছে, যেখানে আমি আমাকে আমার মতন করে দেখতে পারি!

এখানে কেন?

আমার অবস্থাটা দেখছেন? আখ মাড়াই কলে কেমন পিষ্ট হচ্ছি? আহা! প্রকাশ্যে তিনি মহান নেতা। প্রকাশ্যে তিনি প্রমোটার। অপূর্ব! কী আশ্চর্য সহাবস্থান? তার অফিস ঘরের দেওয়ালে পাশাপাশি লোকনাথ আর লেনিন। বাবা তাও মাঝে মধ্যে ফুলের মালা চন্দনের ফোটার আমল পান। এক আধটা ধূপকাঠিও হয়ত জ্বলে সন্ধে বেলা। লেনিনের বড় দূরাবস্থা। কয়েক পরত ধূলো আবছা কাঁচের ওপর। আমি চেয়েছিলাম এক দৃস্টে লেনিনের ধূসর হয়ে আসা বরফ-কঠিন মুখটার দিকে। প্রমোটারের পাল্লায় পরে আমার প্রান তখন ওষ্ঠাগত। ছোট্ট একটা আশ্রয়। মাথা গোঁজার ঠাইটুকুইত। সুখের হাতছানি। সুখে থাকব আমরা। আমাদের ছোট পরিবার!

কী হচ্ছে এখানে?

আর্নেস্তোর বাবা লিখছেন; “...ওর মধ্যে ছিল এক বিশেষ মাত্রায় দৃঢ়তা। অন্যের দুঃখ কষ্টকে নিজের মধ্যে হৃদয়ঙ্গম করার শক্তি, সমস্ত রকমের তিক্ততা থেকে মুক্ত এক হৃদয় আর অপরের জন্য আত্মবলিদানের প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি এবং তার ফলেই ও ঝাঁপ দিতে পেরেছিল নিঃশেষিত প্রায় মানবতার মধ্যে, দুনিয়ার অধিকাংশ দরিদ্র মানুষ যেখানে বাস করতে বাধ্য হয়। অনেক বছর পর ওর এই অবিরাম যাত্রা সম্বন্ধে যখন ভেবেছি তখন বুঝতে পেরেছি যে আর্নেস্তোর ওই সফরই ওকে আগামী দিনের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছে...”



কোথায় পাব তাকে, বন্ধু বলে দুহাত তুলে যার কাছে সবটুকু উজার করে দিতে পারি?

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৫১

শূন্য পথিক বলেছেন: বন্ধু... বোঝে আমাকে...

২| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৪৩

অড়বরই বলেছেন: ধন্যবাদ, শূন্য পথিক, অনেক শুভেচ্ছা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.