| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাজিদ উল হক আবির
সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)
গত একবছর দেশের প্রবাদপ্রতীম এক থিয়েটার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নাট্যাচার্য নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ও সেলিম আল দীনের হাতে গড়া এই নাট্যদলটির সিনিয়র সব সদস্যদের মুখে একই কথা বারবার বারবার শুনেছি। একসময় মহিলা সমিতি, অথবা শিল্পকলায়, তাদের ২ - ৩ ঘণ্টা ব্যাপ্তির নাটক দেখার জন্য ভিড় এতো বেশী হতো যে, হলরুমে জায়গা পর্যন্ত দেয়া সম্ভব হতো না। টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি হতো।
আজ ঢাকার থিয়েটার অঙ্গনের কি খবর? নাটক কেমন চলে? টিকিট কেমন বিক্রি হয়?
ঢাকার নাট্যজনেরা, থিয়েটার ঝিমিয়ে আসার পেছনে বাংলাদেশের মানুষের ধর্মমুখী হওয়াকে দোষ হিসেবে দেখেন না। তারা বলেন স্মার্টফোনের কথা। প্রযুক্তির কথা। দৈনন্দিন জীবনের কাজ শেষে, যদি খাটে শুয়ে রিল স্ক্রল করেই ২ ঘণ্টা সময় কাটিয়ে দেয়া যায়, তবে কে আর গাঁটের পয়সা খরচ করে বাস/রিকশা/সিএনজিতে চড়ে শিল্পকলায় এসে ২০০/৩০০/৫০০ টাকার টিকিট কেটে নাটক দেখবে?
লেখালিখির কি অবস্থা দেশে? বই কি রকম বিক্রি হয় কথাসাহিত্যিকদের?
আমার বই তো ইদানীং ১০০ কপি যদি এক মেলায় বিক্রি হয়, আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।
বই বিক্রি কমার কারণ কি? দেশের মানুষ চিল্লায় যাচ্ছে আজকাল অনেক বেশী পরিমাণে?
অবশ্যই না।
এখানেও সমস্যা ঐ প্রযুক্তির অনুপ্রবেশ।
তাছাড়া যদি মার্কেজ, মুরাকামি, কাফকা, দস্তয়ফস্কির বই ফটোকপিতে নীলক্ষেত শাহবাগে ১০০ - ২০০ টাকায় পাওয়া যায়, আমার মতো একজন অপরিচিত লেখকের বই মানুষ ৩০০ - ৪০০ - ৫০০ টাকা দিয়ে কেন কিনবে?
প্রতিযোগিতার বাজার ছড়িয়ে গেছে। বিশ্বায়নের যুগ এটা।
দেশীয় সিনেমা আর হলিউডের একটা ভালো সিনেমা যদি বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে একই দামে দেখান, মানুষ কোন সিনেমা একই দামের টিকিট কেটে দেখবেন বলে আপনার ধারণা?
সঙ্গে আছে ওটিটি প্লাটফর্মের মচ্ছব।
গত ১০ বছর ধরে ২০ - ২৪ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসরুমে ডিল করার সূত্র ধরে জানি, বর্তমানে তরুণ তরুণীদের মধ্যে সবচে প্রসারিত সংস্কৃতি হচ্ছে কোরিয়ান সংস্কৃতি।
শিল্পসংস্কৃতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আমাদের বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যতটুকু প্রসারিত, আমাদের শিল্প সংস্কৃতিও, সাধারণভাবে, ঐ পরিমানই আবেদনময়, এবং প্রসারিত হবে।
যদি তাঁতের কাপড় বাজারে প্রতিযোগিতায় না টেকে, কাসার/মাটির তৈরি থালাবাসন প্রতিযোগিতায় ফ্যাক্টরির কাঁচের বাসনকোসনের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে, তবে লোকগান, পালাগান, যাত্রাপালা কেন গ্রামের ছেলেপেলেদের মোবাইলের নেশা, জুয়াখেলা, পর্ণ আসক্তি, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অফুরন্ত সময় নষ্ট করাকে রিপ্লেস করতে পারবে?
ধর্মচর্চা, ওয়াজ ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে সংস্কৃতির নামে অশ্লীল অশালীন নৃত্যগীতের প্রচার প্রসার, এবং প্রায় সবধরণের গানবাজনার বিরুদ্ধে কথা বলা হয়। এবং এই ধরণের বক্তব্য যেহেতু বহুলাংশে পপুলিস্ট ঘরানার, কাজেই তাতে ওয়াজ ব্যবসা যারা করেন, তাদের ব্যবসা ফুলেফেঁপেও ওঠে, অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু এককভাবে ধর্মমুখীনতার কারণে লোকসংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে - এ ধরণের বক্তব্য যদি আমরা সংস্কৃতিঅঙ্গনের মানুষেরা ধারণ করি, এবং দিই, তাতে সংস্কৃতির ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।
বরং ধর্মকে শিল্পসৃষ্টির অনুপ্রেরণা ও উপাদান হিসেবে নেয়ার দায় ছিল এদেশের শিল্পাঙ্গনের মানুষজনের। এতো বড় জনসঙ্খ্যার একটা দেশ, যেখানে মানুষ ধর্মকে খুব সিরিয়াসলি নেয়, সেখানে ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চা হাতে হাত ধরে না চললে মহা মুশকিল।
ইরানে,তুরানে এই আত্মিকরণ সম্ভব হলে, বাংলাদেশেও সম্ভব।
আশা করি এদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা, যেহেতু তারা নিজেদের অধিক শিক্ষিত ও উন্নত মনে করেন, তারা নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে এসে এই কাজটি করবেন। কারণ, উল্লেখিত সমস্যার এটাই টেকসই সমাধান
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৭
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: যখন আগ্রহ ছিল, তখন কোন কোন নাটক দেখতেন?
২|
০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮
শাহ আজিজ বলেছেন: ৭৭ / ৭৮ সালে শকুন্তলা দিয়ে আমার শুরু । আফজাল ভাইয়ের নির্দেশনায় আমরা মঞ্চ সাজাতাম । পার্শ্ব চরিত্রে উতঙ্কের রোল করতাম যদিও আমাকে অই রোল করা লাগেনি । আমরা চট্টগ্রাম এবং টাঙ্গাইলে শকুন্তলা নিয়ে গেছি । দারুন জনপ্রিয় হয়েছিল নাটকটি। ভাস্কর্য বিভাগে সময় দিতে গিয়ে মহিলা সমিতিতে যাওয়া বন্ধ হল । বেশ উপভোগ করেছি সময়টি ।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আফজাল সাহেব এখনও ঢাকা থিয়েটারের নাটকের মঞ্চসজ্জা করেন। ঢাকা থিয়েটারের সাম্প্রতিক তম প্রযোজনা রঙমহাল ফারুক আহমেদ ভাইয়ের পরিচালনায়। ওতেও তিনি মঞ্চসজ্জা করেছেন। আপনার উচিৎ আপনার অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে লেখা।
৩|
০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আপনি ঠিক বলেছেন,ধর্মকে সাথে নিয়েই চলতে হবে আমাদেরকে,ধর্ম মূলত সংস্কৃতি চর্চাকে নিষেদ করেনা।উলঙ্গপনা এবং বেহায়াপনাকে নিষেদ করে।মানুষ ধর্ম সম্পর্কে অনেক মূর্খতা এবং সংকীর্ণতা পূর্ণ ধারনা
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৯
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: যারা সংস্কৃতির কাণ্ডারি, তাদের অনেক বড় মনের অধিকারি হওয়া উচিৎ। একটা দেশের এতো অধিক সংখক মানুষ যদি ধর্মভীরু হয়, তবে ধর্মীয় উপাদানগুলো কেন শিল্প সাহিত্যে আসছে না - এটা তাদের চিন্তা করা উচিৎ।
৪|
০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০০
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ধারনা রাখে
৫|
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯
বাজ ৩ বলেছেন: আবির ভাই।আমিও মনে করি,ধর্মীয় বিষয়গুলো যদি আমাদের শিল্প সংস্কৃতিতে আসে তাহলে সেটা উপকারিই হবে,ক্ষতিকর হবেনা।আমার একটা আশা এগুলো সংস্কৃতিতে আসুক,এগুলো নাটকের মঞ্চে এই বিষয়টিকেও সংযুক্ত করা হোক।যদিও সবাই তা গ্রহন করবেনা,কিন্তু বড় একদল মানুষ উৎসাহের সহিত একে গ্রহন করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।মানুষ অবশ্যই বিনোদনপ্রিয়।যদি বিনোদনের পাশাপাশি উপকারও নিহিত থাকে তাহলে সেটা আরোও উত্তম।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২১
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: অনেক বাধাবিপত্তি আছে এ ব্যাপারে ভাই। শিল্প সংস্কৃতির লাইনের লোকদের উন্নাসিকতা আছে, ধর্ম ব্যবসায়ীদের ঘৃণা করতে গিয়ে খোদ ইসলামকে ঘৃণা করার অভ্যাস আছে। তবুও কিছু কিছু পরিবর্তন আসছে। যেমন, ফরিদ উদ্দীন আত্তার রচিত ধ্রুপদী কবিতা মানতিকুত্ তোয়ায়ের অবলম্বনে পাখিদের বিধানসভা নাটক মঞ্চে এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ। দিলনেওয়াজ নামে একটা গীতিনাট্যনৃত্য পরিবেশিত হচ্ছে মঞ্চে।
ভারতে বলিউড, টলিউড যেভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা পার্বণ উপলক্ষে সেলিব্রেটরি, উৎযাপনমূলক গান তৈরি করে, বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া, নাটক সিনেমায় এমন কোন সূফী, মরমি গান অথবা হামদ নাত কিছুই পাই না। সেখানেও এখনও ভারতের এ আর রাহমান, বা সেলিম সুলেমানের মতো মিউজিক ডিরেক্টরদের নির্মিত হিন্দি - উর্দু গানের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে শেষ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এসব থিয়েটার মানুষ দেখে না কারণ এসব দেখার সময় নেই । একসময় খুব আগ্রহ ছিলো ।