| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাজিদ উল হক আবির
সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)
মানুষ, মানবিকতা, পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র - সবকিছু নিয়ে কতো উঁচু উঁচু কথা পড়েছি ছোটবেলায় সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে। সকল সাহিত্য, দর্শন, জ্ঞানবিজ্ঞানের লক্ষ্যবস্তু মানুষের উৎকর্ষ সাধন এমনটাই তো শুনেছি উক্ত বিভাগের সেরাদের মুখে। অথচ হাল আমলের পৃথিবীর দিকে তাকালে কি দেখতে পাই?
অ্যামেরিকা ভেনেজুয়েলায় ড্রোণ হামলা চালিয়ে তার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দী করেছে। গেল মাসে সোমালিয়ায় বিশাল পরিসরে তারা এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে। ইরানকে ট্রাম্প থ্রেট দিচ্ছে, দেশের ভেতরে আয়াতুল্লাহ খোমেনি সাহেবের বিরুদ্ধতাবাদিদের বিরুদ্ধে দমন পীড়ন চালালে ইরানে নাকি সে আবার বোম মারবে। ইরান উত্তর দিচ্ছে এমন কিছু হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে তারা অস্থিতিশীল করে তুলবে। সৌদি আরব ইয়ামনে বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে চিন তাইওয়ানকে তার দেশের অংশ বলে ঘোষণা করেছে, তাই জেনে অ্যামেরিকা তার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচে বড় যুদ্ধ সহায়তা বাজেট ঘোষণা করেছে তাইওয়ানের জন্য। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। বিশ্বজুড়ে মানুষ মারামারি হানাহানি করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটু মৌজমস্তি করতে যেই থাইল্যান্ডে যায়, সেই থাইল্যান্ডও নাকি কম্বোডিয়ার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, অতো বড় পরিসরে আর যুদ্ধ না হওয়ায় হয়তো আমরা ভুলে গেছি, মানুষের ইতিহাস আসলেই রক্তস্নাত, রক্তাক্তই। পৃথিবীর যেকোনো প্রাণীর তুলনায় বেশী জান্তব, বেশী নিষ্ঠুর, বেশী লোভী তারা।
এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যখন আমরা দেখছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সবসময় যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষেত্র বিশেষে রাশিয়া, কখনো কখনো চায়না, তাও অর্থ এবং অস্ত্রের ঝনঝনানিতে - এতো এতো পড়াশোনা, গবেষণা, সাহিত্যচর্চা, বিজ্ঞান চর্চা, ধর্মচর্চার আদতে কি মানে দাঁড়ায়?
এমনসময় কনটেক্সচুয়াল হয়ে পড়েন গুস্তাভ ফ্লবার্ট, যিনি বলেছিলেন - "There is no truth, only perception," অর্থাৎ, সত্য কোন নৈব্যত্তিক ব্যাপার নয়। সারা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য একই সঙ্গে প্রযোজ্য এমন সত্য, এমন দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করা আসলেই অসম্ভব।
কাজেই এতোদিন ধরে আমরা চায়ের দোকানে, স্কুল কলেজ সংসদে, বা ব্লগে এতো যে কাইজ্জা করলাম, কার মতাদর্শ ঠিক - এগুলোর আর কি অর্থ রইলো।
সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের মতো করে সত্য নির্মাণ করতে থাকুক। আমি আপনি - আমার আপনার নিজের ও পরিবারের চলার জন্য যে সত্যগুলো প্রয়োজন, সেগুলো খুঁজে নিয়ে নিজের মতো একটা রাস্তা নির্মাণ করি।
চাইলে এই পৃথিবীতে এখনও কায়দা করে বেঁচে থাকা সম্ভব।
©somewhere in net ltd.