নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাজিদ উল হক আবির

সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)

সাজিদ উল হক আবির › বিস্তারিত পোস্টঃ

থ্র্যাশ মেটাল মিউজিকের বাবা মেগাডেথের শেষ অ্যালবাম রিলিজঃ ৪০ বছরের জার্নির সমাপ্তি

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



আজ থেকে পাঁচ মাস আগে, গতবছরের অগাস্টের ১৪ তারিখ বিশ্বজুড়ে মেটাল মিউজিক ফ্যানদের নাড়িয়ে দিয়ে থ্র্যাশ মেটাল জনরার সবচে জনপ্রিয় ব্যান্ড মেগাডেথের ফ্রন্টম্যান, ভোকাল এবং গিটারিস্ট ডেভ মাস্টেইন মেগাডেথের চূড়ান্ত অ্যালবাম রিলিজের ঘোষণা দেন। আমরা যারা ছোটবেলা থেকে এই ঝগড়ার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি যে, কোন ব্যান্ড বেশী ভালো - মেটালিকা না মেগাডেথ, যারা ডেভ মাস্টেইনকে মনে করতাম পৃথিবীর সমস্ত শৃঙ্খলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চূড়ান্ত প্রতীক হিসেবে, যার গানের রিফ, এবং অসাধারণ সব গিটারিস্টের অসাধারণ সব সোলোতে আমাদের বারং বার গুজবাম্প এক্সপিরিয়েন্স হয়ে এসেছে এই পরিণত বয়সেও - আমাদের জন্য মেগাডেথের এই রিটায়ারমেন্টের ঘোষণা এক ভয়াবহ ইমোশনাল ধাক্কা। এই বিবেচনায় যে, সব ভালো জিনিসই একদিন শেষ হয়।

আমার কৈশোরে, যখন মানুষ ক্যাসেট কিংবা সিডি কিনেই গান শুনতো, ইন্টারনেটের প্রচার সেভাবে হয় নি, তখন ম্যাচ্যুর মিউজিকের টেস্ট বলতে ধরা হতো রক জনরার মিউজিককে। বাংলায় আইয়ুব বাচ্চু বা জেমসের সঙ্গীতের গণ্ডি পেরিয়ে ওয়ারফেজ বা আর্টসেল, অথবা অর্থহীনের মতো ব্যান্ডের মিউজিক ফলো করাকে স্মার্টনেসের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েট করা হতো। এই দেশী ব্যান্ড মিউজিকের গণ্ডি পেরুলেই বিশ্ব ব্যান্ড মিউজিকের হাতছানি। ব্ল্যাক স্যাবাথ, আয়রন মেইডেন, মেটালিকা, মেগাডেথ, প্যান্টেরা, গানস অ্যান্ড রোজেস, ড্রিম থিয়েটার। একটু পরের জেনারেশনের মধ্যে অলটারব্রিজ, ল্যাম্ব অফ গড, স্লিপনট, সিস্টেম অফ অ্যা ডন, ডিস্টার্বড।

আমার প্রথম মেটাল মিউজিক শোনা শুরু চিলড্রেন অফ বডম দিয়ে। তখন নতুন নতুন পিয়ানো বাজানো শিখছি শামস ভাইয়ের কাছে। ধানমণ্ডি বেইজড একটা আণ্ডার গ্রাউন্ড ব্যান্ডের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু হয়েছে। তারা কভার করে মূলত মেগাডেথ। আমি কিবোর্ডে এলে, বলল, তারা কিবোর্ড ইউজ করে এমন ব্যান্ডের গান কাভার করা শুরু করবে। কিন্তু আগে মেটাল মিউজিকের জন্য আমার কান তৈরি করা দরকার। তো, তারা শুরুই করলো ফিনল্যান্ডের এই নিওক্ল্যাসিকেল ডেথ মেটাল ব্যান্ডের গান অ্যাঞ্জেলস ডোন্ট কিল দিয়ে। গিটারিস্ট কাম ভকালিস্ট অ্যালেক্সি লেইহোর গ্রাওল করা ভয়েস শুনে আমি হাসতে হাসতে শেষ। মেটাল স্ক্রিমিং অ্যান্ড গ্রাওলিং ভোকালের সঙ্গে ঐ আমার প্রথম পরিচয়। আমার হাসাহাসি দেখে ব্যান্ড মেম্বাররা ভাবল, আমাকে দিয়ে এই জনরার মিউজিক হবে না। তা আসলেই হয় নি। কিন্তু সত্যি বলতে, ধীরে ধীরে আমি প্রেমে পড়ে গিয়েছি মেটাল মিউজিকের। এখনও, আমার ক্রোধ, সিস্টেমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশের জন্য সবচে উপযুক্ত মিউজিক্যাল ফর্ম মেটাল মিউজিককেই মনে হয়।

যাই হোক, প্রাকটিস প্যাডে বসে দেখতাম, ব্যান্ড মেম্বাররা মেগাডেথের টর্নেডো অফ সৌলস বা হলি ওয়ার্স, অথবা সিম্ফনি অফ ডিস্ত্রাকশন গানের রিফ বা সোলো প্র্যাকটিস করছে ভাঙ্গা ভাঙ্গা। রাফিদ নামে এক গিটারিস্ট ছিল দলে, যে পরে মেটাল মেইজ ব্যান্ডেও কাজ করে গিটারিস্ট হিসেবে, সে ছিল ওয়ারফেইজের অনি ভাইয়ের সবচে ভালো স্টুডেন্টদের একজন। ও দারুণ মেগাডেথ কাভার করতো। ওর কাছ থেকেই মেগাডেথের ব্যাপারে প্রথম জানা। ছেলেটা এতো প্র্যাকটিস করতো, এতো প্র্যাকটিস করতো, বলত, ওর টার্গেট হচ্ছে ও গিটার বাজাচ্ছে, আর ওর গিটারের ফ্রেড বোর্ড আর তারের ঘষায় আঙ্গুল কেটে রক্ত পড়ছে চুয়ে চুয়ে - এটা দেখা ওর স্বপ্ন। ছেলেটা পরে আর মিউজিক সিরিয়াসলি কন্তিনিউ করে নি। যেমন আমিও করি নি। সে আরেক গল্প।

বিষয় হচ্ছে মেগাডেথ। আমার ঐ আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ডের বন্ধুদের কাছ থেকেই জানলাম ডেভ মাস্টেইনের গল্প। সে ছিল মেটালিকার লিড গিটারিস্ট। তারপর তার মদ্যপ আচরণে বিরক্ত হয়ে তাকে দলচ্যুত করা হয় মেটালিকা থেকে। তারপর ডেভ সিদ্ধান্ত নেয়, সে এমন এক ব্যান্ড গঠন করবে যা হবে মেটালিকার চেয়েও অনেক ফাস্ট, আরও আধুনিক, আরও জনপ্রিয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই মেগাডেথ নামের এই বিস্ফোরক বিদ্রোহের জন্ম।

মেগাডেথ, এবং ডেভ মাস্টেইনের সৌভাগ্য, পৃথিবীর সেরা কিছু গিটারিস্ট শুরু থেকেই তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে মেগাডেথে। যেমন, থ্র্যাশ মেটাল মিউজিকের সবচে বড় আরেক ব্যান্ড স্লেয়ার -এর রিফ গিটারিস্ট ক্যারি কিং মেগাডেথের একদম শুরুর দিকে গিটার বাজিয়েছেন। কিন্তু মেগাডেথের সবচে ভালো কম্পোজার গিটারিস্ট ছিলেন সম্ভবত মারটি ফ্রিডম্যান। মেগাডেথের সবচে জনপ্রিয় গানগুলোর সোলো তার তৈরি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মেগাডেথের সাথে কাজ করা মারটির সবচে উল্লেখযোগ্য মেগাডেথ অ্যালবামের মধ্যে ছিল রাস্ট ইন পিস, কাউন্টডাউন টু এক্সটিঙ্কশন। নিওক্ল্যাসিক্যাল শ্রেডিং এর মাস্টার মারটির সঙ্গে ডেভ মাস্টেইনের কলাবরেশন ওয়ার্ল্ড মেটাল মিউজিক সিনারিওর মধ্যে সবচে উল্লেখযোগ্য একটা ক্রিয়েটিভ ঘটনা।

আমি যখন ২০১০ সাল থেকে মেটাল শোনা শুরু করি, তখন মেগাডেথের হয়ে স্টেজ কাঁপাচ্ছেন ক্রিস ব্রডরিক। আমি অসম্ভব ফ্যান ছিলাম এই লোকের প্লেয়িং এর। গিটারকে নিয়ে প্রায় ছেলেখেলা করতেন। ক্রিস মেগাডেথএর সাথে এন্ডগেম, থার্টিন, সুপার কোলইডার - এই তিনটি অ্যালবাম উপহার দেন। তিনি বিখ্যাত ছিলেন তার ক্ল্যাসিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং টেকনিক্যাল পারফেকশনের জন্য।

মেগাডেথের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য লিড গিটারিস্ট ছিলেন ল্যাতিন অ্যামেরিকান লরেইরো। তার সাথে মেগাডেথএর অ্যালবাম ডিস্টোপিয়া গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতে ২০১৭ সালে। এছাড়া মধ্য ৮০র দশকের লিড গিটারিস্ট ক্রিস পোল্যান্ডও দারুণ জনপ্রিয় গিটারিস্ট ছিলেন। তার লিডে পিস সেলস বাট হু'জ বায়িং এর মতো অ্যাল্বাম রিলিজ হয়।

বেইজ গিটারে ডেভিড আলফানসো দীর্ঘতম সময় কাজ করেন মেগাডেথে।

কিন্তু মানুষ মেগাডেথ বলতে মূলত ডেভ মাস্টেইনকেই চেনে।

ডেভ একজন অসাধারণ গীতিকারও বটে। মেগাডেথের গত ৪০ বছরের সব গানই তার একক অথবা কলাবরেশনে লেখা। থ্র্যাশ মেটাল ব্যান্ডের ভোকাল হিসেবে তাকে কিছু কম নাম্বার দেয়া হয় মেটালিকার জেমস হেটফিল্ড, বা স্লেয়ারের টম আরেয়ার তুলনায়। কিন্তু সব মিলিয়ে পারসনা হিসেবে থ্র্যাশ মেটালে ডেভের চে বড় কোন লারজার দেন লাইফ চরিত্র গত ৫০ বছরে, সম্ভবত আসে নাই।

মেগাডেথের ম্যাসকট - ভিক র‍্যাটলহেড, মূলত একটা কঙ্কাল। ১৯৮৫ সালের অ্যালবাম Killing Is My Business… And Business Is Good! থেকে তার যাত্রা শুরু, সে সবচে বেশী পপুলার হয় পরের বছরের অ্যালবাম Peace Sells… But Who’s Buying? থেকে। তারপর, প্রায় প্রতিটি অ্যালবামে নিত্যনতুন রূপে ভিক হাজির হতে থাকে মেগাডেথের ম্যাসকট হিসেবে। বিশ্ব অ্যানিমেশনের যুগে প্রবেশ করলে ভিককে দিয়ে মেগাডেথের অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওও শুট করানো হয়। মেগাডেথের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত অ্যালবাম 'মেগাডেথ' এর কাভারেও ভিককে দেখা গেছে।

মেটালিকা বড় না মেগাডেথ - এই ডিবেট আসলে কখনো শেষ হবার নয়। পৃথিবীব্যাপী ফ্যান ফলোয়িং এবং সিনিয়রিটির বেসিসে, মেটালিকা বড়। ওদের মাস্টার অফ পাপেটস, ফেড টু ব্ল্যাক, এন্টার স্যান্ডম্যান, ওয়ানএর মতো অসংখ্য জগতবিখ্যাত গান আছে। ব্যান্ডের সদস্য নিয়েও তারা অনেক স্থিতিশীল ছিল। ডেভ ছাড়ার পর কারক হ্যামেটই মেটালিকার লিড গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করছেন আজ প্রায় ৪০ বছর।

কিন্তু মেগাডেথ হচ্ছে পাড়ার সেই সুদর্শন লম্বা চওড়া শার্টের কলার উঁচানো, হাতা ভাঁজ করা তরুণ ছেলেটি। তাদের অসাধারণত্ব তাদের স্পিডে, তাদের অ্যালবাম রিলিজের ধারাবাহিকতায়, কখনোই ব্যান্ডের মান পড়তে না দেয়ায়। ঝামেলা হলেই ডেভ দলের মেম্বারদের হুটহাট বের করে দিয়েছেন দল থেকে। কিন্তু কাজের মান পড়তে দেন নি। মেটালিকার গত ১৫ বছরে কয়টা উল্লেখযোগ্য নতুন কাজ আছে? কিন্তু মেগাডেথের অ্যালবাম ২০১৭ সালেও গ্র্যামি জিতেছে। ওদের গানের বিষয়বস্তু, লিরিক সবসময় অসহায় মানুষের পক্ষে, যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ওদের সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত অ্যালবামের গানগুলিও কম্পোজিশনের দিক থেকে, রিফ - সোলো বিবেচনায় যেকোন তরুণ ব্যান্ডের হাঁটুতে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়ার মতো।

এই লেখা আরও লম্বা করা যায়। কিন্তু করবো না। আমি লিখছি মেগাডেথের ফ্যান হিসেবে। জীবনে অনেক অন্ধকার মুহূর্তে মেগাডেথের গান আমাকে সাহায্য করেছে, সাহস জুগিয়েছে। এখন মেটাল মিউজিক ফলো করে এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম, তাই এ নিয়ে আলাপও হয় না। আমি লিখে আমার দায় সারলাম। পরে ফিরে ফিরে এসে লেখাটা আরো সম্পাদনা করবো।

আমার পছন্দের মেগাডেথের ১০ গানের তালিকা দিয়ে লেখাটা শেষ করি -

১। টর্নেডো অফ সৌলস

২। হলি ওয়ার্স

৩। সিম্ফনি অফ ডেসট্রাকশন

৪। পিস সেলস বাট হু'জ বায়িং

৫। হ্যাঙ্গার ১৮

৬। পাবলিক এনিমি নাম্বার ওয়ান

৭। ট্রাস্ট

৮। সাডেন ডেথ

৯। পয়েজনাস শ্যাডোস

১০। দা লাস্ট নোট


মেটাল মিউজিকের সিনারিওও গ্লোবালি বদলে গেছে। আজকাল আর গিটারের লম্বা লম্বা সোলোর দিন নেই। রামস্টেইনের মতো পৃথিবীর সবচে জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ডও স্রেফ রিফের ওপর বেইজ করে গান তৈরি করে।

তবে যতদিন পৃথিবীতে তরুণ ছেলেপেলেরা গিটার বাজানো শিখবে, স্টেজে গিটার বাজাবে, ডেভ মাস্টেইন তাদের আদর্শ হয়ে থাকবে। মেগাডেথ তাদের কাভার করাই লাগবে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগল পড়ে।
প্রথম গানটির শুরুটা খুব ভাল লেগেছে।
প্রথমটির শুরুর দিকের সুর আমাদের বাংলা ব্যান্ডের কোন এক গানের সুর মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ব্যান্ডের ওপর আরো লেখা পাবো আশা করি - দেশী দিদেশী।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.