নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাজিদ উল হক আবির

সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)

সাজিদ উল হক আবির › বিস্তারিত পোস্টঃ

থ্র্যাশ মেটাল মিউজিকের বাবা মেগাডেথের শেষ অ্যালবাম রিলিজঃ ৪০ বছরের জার্নির সমাপ্তি

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



আজ থেকে পাঁচ মাস আগে, গতবছরের অগাস্টের ১৪ তারিখ বিশ্বজুড়ে মেটাল মিউজিক ফ্যানদের নাড়িয়ে দিয়ে থ্র্যাশ মেটাল জনরার সবচে জনপ্রিয় ব্যান্ড মেগাডেথের ফ্রন্টম্যান, ভোকাল এবং গিটারিস্ট ডেভ মাস্টেইন মেগাডেথের চূড়ান্ত অ্যালবাম রিলিজের ঘোষণা দেন। আমরা যারা ছোটবেলা থেকে এই ঝগড়ার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি যে, কোন ব্যান্ড বেশী ভালো - মেটালিকা না মেগাডেথ, যারা ডেভ মাস্টেইনকে মনে করতাম পৃথিবীর সমস্ত শৃঙ্খলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চূড়ান্ত প্রতীক হিসেবে, যার গানের রিফ, এবং অসাধারণ সব গিটারিস্টের অসাধারণ সব সোলোতে আমাদের বারং বার গুজবাম্প এক্সপিরিয়েন্স হয়ে এসেছে এই পরিণত বয়সেও - আমাদের জন্য মেগাডেথের এই রিটায়ারমেন্টের ঘোষণা এক ভয়াবহ ইমোশনাল ধাক্কা। এই বিবেচনায় যে, সব ভালো জিনিসই একদিন শেষ হয়।

আমার কৈশোরে, যখন মানুষ ক্যাসেট কিংবা সিডি কিনেই গান শুনতো, ইন্টারনেটের প্রচার সেভাবে হয় নি, তখন ম্যাচ্যুর মিউজিকের টেস্ট বলতে ধরা হতো রক জনরার মিউজিককে। বাংলায় আইয়ুব বাচ্চু বা জেমসের সঙ্গীতের গণ্ডি পেরিয়ে ওয়ারফেজ বা আর্টসেল, অথবা অর্থহীনের মতো ব্যান্ডের মিউজিক ফলো করাকে স্মার্টনেসের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েট করা হতো। এই দেশী ব্যান্ড মিউজিকের গণ্ডি পেরুলেই বিশ্ব ব্যান্ড মিউজিকের হাতছানি। ব্ল্যাক স্যাবাথ, আয়রন মেইডেন, মেটালিকা, মেগাডেথ, প্যান্টেরা, গানস অ্যান্ড রোজেস, ড্রিম থিয়েটার। একটু পরের জেনারেশনের মধ্যে অলটারব্রিজ, ল্যাম্ব অফ গড, স্লিপনট, সিস্টেম অফ অ্যা ডন, ডিস্টার্বড।

আমার প্রথম মেটাল মিউজিক শোনা শুরু চিলড্রেন অফ বডম দিয়ে। তখন নতুন নতুন পিয়ানো বাজানো শিখছি শামস ভাইয়ের কাছে। ধানমণ্ডি বেইজড একটা আণ্ডার গ্রাউন্ড ব্যান্ডের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু হয়েছে। তারা কভার করে মূলত মেগাডেথ। আমি কিবোর্ডে এলে, বলল, তারা কিবোর্ড ইউজ করে এমন ব্যান্ডের গান কাভার করা শুরু করবে। কিন্তু আগে মেটাল মিউজিকের জন্য আমার কান তৈরি করা দরকার। তো, তারা শুরুই করলো ফিনল্যান্ডের এই নিওক্ল্যাসিকেল ডেথ মেটাল ব্যান্ডের গান অ্যাঞ্জেলস ডোন্ট কিল দিয়ে। গিটারিস্ট কাম ভকালিস্ট অ্যালেক্সি লেইহোর গ্রাওল করা ভয়েস শুনে আমি হাসতে হাসতে শেষ। মেটাল স্ক্রিমিং অ্যান্ড গ্রাওলিং ভোকালের সঙ্গে ঐ আমার প্রথম পরিচয়। আমার হাসাহাসি দেখে ব্যান্ড মেম্বাররা ভাবল, আমাকে দিয়ে এই জনরার মিউজিক হবে না। তা আসলেই হয় নি। কিন্তু সত্যি বলতে, ধীরে ধীরে আমি প্রেমে পড়ে গিয়েছি মেটাল মিউজিকের। এখনও, আমার ক্রোধ, সিস্টেমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশের জন্য সবচে উপযুক্ত মিউজিক্যাল ফর্ম মেটাল মিউজিককেই মনে হয়।

যাই হোক, প্রাকটিস প্যাডে বসে দেখতাম, ব্যান্ড মেম্বাররা মেগাডেথের টর্নেডো অফ সৌলস বা হলি ওয়ার্স, অথবা সিম্ফনি অফ ডিস্ত্রাকশন গানের রিফ বা সোলো প্র্যাকটিস করছে ভাঙ্গা ভাঙ্গা। রাফিদ নামে এক গিটারিস্ট ছিল দলে, যে পরে মেটাল মেইজ ব্যান্ডেও কাজ করে গিটারিস্ট হিসেবে, সে ছিল ওয়ারফেইজের অনি ভাইয়ের সবচে ভালো স্টুডেন্টদের একজন। ও দারুণ মেগাডেথ কাভার করতো। ওর কাছ থেকেই মেগাডেথের ব্যাপারে প্রথম জানা। ছেলেটা এতো প্র্যাকটিস করতো, এতো প্র্যাকটিস করতো, বলত, ওর টার্গেট হচ্ছে ও গিটার বাজাচ্ছে, আর ওর গিটারের ফ্রেড বোর্ড আর তারের ঘষায় আঙ্গুল কেটে রক্ত পড়ছে চুয়ে চুয়ে - এটা দেখা ওর স্বপ্ন। ছেলেটা পরে আর মিউজিক সিরিয়াসলি কন্তিনিউ করে নি। যেমন আমিও করি নি। সে আরেক গল্প।



ছবিঃ তরুণ ডেভ মাস্টেইন



ছবিঃ অপেক্ষাকৃত পরিণত বয়সে মাস্টেইন

বিষয় হচ্ছে মেগাডেথ। আমার ঐ আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ডের বন্ধুদের কাছ থেকেই জানলাম ডেভ মাস্টেইনের গল্প। সে ছিল মেটালিকার লিড গিটারিস্ট। তারপর তার মদ্যপ আচরণে বিরক্ত হয়ে তাকে দলচ্যুত করা হয় মেটালিকা থেকে। তারপর ডেভ সিদ্ধান্ত নেয়, সে এমন এক ব্যান্ড গঠন করবে যা হবে মেটালিকার চেয়েও অনেক ফাস্ট, আরও আধুনিক, আরও জনপ্রিয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই মেগাডেথ নামের এই বিস্ফোরক বিদ্রোহের জন্ম।

মেগাডেথ, এবং ডেভ মাস্টেইনের সৌভাগ্য, পৃথিবীর সেরা কিছু গিটারিস্ট শুরু থেকেই তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে মেগাডেথে। যেমন, থ্র্যাশ মেটাল মিউজিকের সবচে বড় আরেক ব্যান্ড স্লেয়ার -এর রিফ গিটারিস্ট ক্যারি কিং মেগাডেথের একদম শুরুর দিকে গিটার বাজিয়েছেন। কিন্তু মেগাডেথের সবচে ভালো কম্পোজার গিটারিস্ট ছিলেন সম্ভবত মারটি ফ্রিডম্যান। মেগাডেথের সবচে জনপ্রিয় গানগুলোর সোলো তার তৈরি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মেগাডেথের সাথে কাজ করা মারটির সবচে উল্লেখযোগ্য মেগাডেথ অ্যালবামের মধ্যে ছিল রাস্ট ইন পিস, কাউন্টডাউন টু এক্সটিঙ্কশন। নিওক্ল্যাসিক্যাল শ্রেডিং এর মাস্টার মারটির সঙ্গে ডেভ মাস্টেইনের কোলাবরেশন ওয়ার্ল্ড মেটাল মিউজিক সিনারিওর মধ্যে সবচে উল্লেখযোগ্য একটা ক্রিয়েটিভ ঘটনা।


ছবিঃ মারটি ফ্রিডম্যান

আমি যখন ২০১০ সাল থেকে মেটাল শোনা শুরু করি, তখন মেগাডেথের হয়ে স্টেজ কাঁপাচ্ছেন ক্রিস ব্রডরিক। আমি অসম্ভব ফ্যান ছিলাম এই লোকের প্লেয়িং এর। গিটারকে নিয়ে প্রায় ছেলেখেলা করতেন। ক্রিস মেগাডেথএর সাথে এন্ডগেম, থার্টিন, সুপার কোলইডার - এই তিনটি অ্যালবাম উপহার দেন। তিনি বিখ্যাত ছিলেন তার ক্ল্যাসিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং টেকনিক্যাল পারফেকশনের জন্য।


ছবিঃ ক্রিস ব্রডরিক

মেগাডেথের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য লিড গিটারিস্ট ছিলেন ল্যাতিন অ্যামেরিকান কিকো লরেইরো। তার সাথে মেগাডেথএর অ্যালবাম ডিস্টোপিয়া গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতে ২০১৭ সালে। এছাড়া মধ্য ৮০র দশকের লিড গিটারিস্ট ক্রিস পোল্যান্ডও দারুণ জনপ্রিয় গিটারিস্ট ছিলেন। তার লিডে পিস সেলস বাট হু'জ বায়িং এর মতো অ্যাল্বাম রিলিজ হয়।


ছবিঃ কিকো লরেইরো

বেইজ গিটারে ডেভিড অ্যালেফসন দীর্ঘতম সময় কাজ করেন মেগাডেথে।



ছবিঃ ডেভিড অ্যালেফসন

কিন্তু মানুষ মেগাডেথ বলতে মূলত ডেভ মাস্টেইনকেই চেনে।

ডেভ একজন অসাধারণ গীতিকারও বটে। মেগাডেথের গত ৪০ বছরের সব গানই তার একক অথবা কোলাবরেশনে লেখা। থ্র্যাশ মেটাল ব্যান্ডের ভোকাল হিসেবে তাকে কিছু কম নাম্বার দেয়া হয় মেটালিকার জেমস হেটফিল্ড, বা স্লেয়ারের টম আরেয়ার তুলনায়। কিন্তু সব মিলিয়ে পারসনা হিসেবে থ্র্যাশ মেটালে ডেভের চে বড় কোন লারজার দেন লাইফ চরিত্র গত ৫০ বছরে, সম্ভবত আসে নাই।

মেগাডেথের ম্যাসকট - ভিক র‍্যাটলহেড, মূলত একটা কঙ্কাল। ১৯৮৫ সালের অ্যালবাম Killing Is My Business… And Business Is Good! থেকে তার যাত্রা শুরু, সে সবচে বেশী পপুলার হয় পরের বছরের অ্যালবাম Peace Sells… But Who’s Buying? থেকে। তারপর, প্রায় প্রতিটি অ্যালবামে নিত্যনতুন রূপে ভিক হাজির হতে থাকে মেগাডেথের ম্যাসকট হিসেবে। বিশ্ব অ্যানিমেশনের যুগে প্রবেশ করলে ভিককে দিয়ে মেগাডেথের অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওও শুট করানো হয়। মেগাডেথের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত অ্যালবাম 'মেগাডেথ' এর কাভারেও ভিককে দেখা গেছে।

মেটালিকা বড় না মেগাডেথ - এই ডিবেট আসলে কখনো শেষ হবার নয়। পৃথিবীব্যাপী ফ্যান ফলোয়িং এবং সিনিয়রিটির বেসিসে, মেটালিকা বড়। ওদের মাস্টার অফ পাপেটস, ফেড টু ব্ল্যাক, এন্টার স্যান্ডম্যান, ওয়ানএর মতো অসংখ্য জগতবিখ্যাত গান আছে। ব্যান্ডের সদস্য নিয়েও তারা অনেক স্থিতিশীল ছিল। ডেভ ছাড়ার পর কারক হ্যামেটই মেটালিকার লিড গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করছেন আজ প্রায় ৪০ বছর।

কিন্তু মেগাডেথ হচ্ছে পাড়ার সেই সুদর্শন লম্বা চওড়া শার্টের কলার উঁচানো, হাতা ভাঁজ করা তরুণ ছেলেটি। তাদের অসাধারণত্ব তাদের স্পিডে, তাদের অ্যালবাম রিলিজের ধারাবাহিকতায়, কখনোই ব্যান্ডের মান পড়তে না দেয়ায়। ঝামেলা হলেই ডেভ দলের মেম্বারদের হুটহাট বের করে দিয়েছেন দল থেকে। কিন্তু কাজের মান পড়তে দেন নি। মেটালিকার গত ১৫ বছরে কয়টা উল্লেখযোগ্য নতুন কাজ আছে? কিন্তু মেগাডেথের অ্যালবাম ২০১৭ সালেও গ্র্যামি জিতেছে। ওদের গানের বিষয়বস্তু, লিরিক সবসময় অসহায় মানুষের পক্ষে, যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ওদের সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত অ্যালবামের গানগুলিও কম্পোজিশনের দিক থেকে, রিফ - সোলো বিবেচনায় যেকোন তরুণ ব্যান্ডের হাঁটুতে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়ার মতো।

এই লেখা আরও লম্বা করা যায়। কিন্তু করবো না। আমি লিখছি মেগাডেথের ফ্যান হিসেবে। জীবনে অনেক অন্ধকার মুহূর্তে মেগাডেথের গান আমাকে সাহায্য করেছে, সাহস জুগিয়েছে। এখন মেটাল মিউজিক ফলো করে এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম, তাই এ নিয়ে আলাপও হয় না। আমি লিখে আমার দায় সারলাম। পরে ফিরে ফিরে এসে লেখাটা আরো সম্পাদনা করবো।

আমার পছন্দের মেগাডেথের ১০ গানের তালিকা দিয়ে লেখাটা শেষ করি -

১। টর্নেডো অফ সৌলস

২। হলি ওয়ার্স

৩। সিম্ফনি অফ ডেসট্রাকশন

৪। ড্রেড অ্যান্ড ফিউজিটিভ মাইন্ড

৫। পিস সেলস বাট হু'জ বায়িং?

৬। হ্যাঙ্গার ১৮

৭। পাবলিক এনিমি নাম্বার ওয়ান

৮। ট্রাস্ট

৯। সাডেন ডেথ

১০। পয়জনাস শ্যাডোজ

বোনাস ট্র্যাক (তাদের সর্বশেষ এবং অন্তিম অ্যালবাম থেকে) - দা লাস্ট নোট


মেটাল মিউজিকের সিনারিওও গ্লোবালি বদলে গেছে। আজকাল আর গিটারের লম্বা লম্বা সোলোর দিন নেই। রামস্টেইনের মতো পৃথিবীর সবচে জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ডও স্রেফ রিফের ওপর বেইজ করে গান তৈরি করে।

তবে যতদিন পৃথিবীতে তরুণ ছেলেপেলেরা গিটার বাজানো শিখবে, স্টেজে গিটার বাজাবে, ডেভ মাস্টেইন তাদের আদর্শ হয়ে থাকবে। মেগাডেথ তাদের কাভার করাই লাগবে।

মন্তব্য ১৯ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগল পড়ে।
প্রথম গানটির শুরুটা খুব ভাল লেগেছে।
প্রথমটির শুরুর দিকের সুর আমাদের বাংলা ব্যান্ডের কোন এক গানের সুর মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ব্যান্ডের ওপর আরো লেখা পাবো আশা করি - দেশী দিদেশী।

২| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১২

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আমার প্রথম শোনা গান /সুর Europe - The Final Countdown
গুগল করে জানলাম, The Final Countdown হলো সুইডিশ রক ব্যান্ড Europe-এর একটি গান, যা ১৯৮৬ সালে মুক্তি পায়। তাদের প্রধান গায়ক Joey Tempest এটি লিখেছিলেন। এটি ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে তৈরি করা । গানের কথা David Bowie-এর "Space Oddity" দ্বারা অনুপ্রাণিত।

মূলত শুধুমাত্র একটি কনসার্ট ওপেনার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ব্যান্ডের একই নামের স্টুডিও অ্যালবামের প্রথম সিঙ্গেল এবং টাইটেল ট্র্যাক।

জেনে অদ্ভুত লাগল যে ব্যান্ডটি কখনো ভাবেনি যে এটি একটি হিট হবে। আর বাংলাদেশে বসে আমি তাদের মুগ্ধ শ্রোতা হয়ে গিয়েছিলাম। আরো জানলাম , কিন্তু যখন তাদের রেকর্ড কোম্পানি Epic Records এটিকে প্রথম সিঙ্গেল হিসেবে প্রকাশ করার পরামর্শ দেয়, তখন ব্যান্ড সিদ্ধান্ত নেয় এটি প্রকাশ করার।

১৯৮৬ এবং ১৯৮৭ সালে মুক্তির পর "The Final Countdown" বিশ্বব্যাপী চার্টে সফল হয়, ২৫টি দেশে (যুক্তরাজ্য সহ, যেখানে এটি দুই সপ্তাহ শীর্ষে ছিল) এক নম্বরে পৌঁছায়, এবং এটি ব্যাপকভাবে ব্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং স্বীকৃত গান হিসেবে বিবেচিত হয়। সিঙ্গেলটি US Billboard Hot 100 চার্টে ৮ নম্বরে পৌঁছায়। আমাদের রেডিওতে তখন দুপুরে একটা অনুষ্ঠান হতো 'World Music', যার বদৌলতে বিদেশী গান শুনবার সুযোগ হতো।
আরো জানলাম, Nick Morris-এর তৈরি মিউজিক ভিডিওটি YouTube-এ ১.৩ বিলিয়নেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল The Final Countdown সিঙ্গেলের। গানটি ১৮টি দেশে চার্টের শীর্ষে উঠেছিল এবং CBS Records-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হিট হয়ে ওঠে। এই গানটি আজও বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া ইভেন্ট, টেলিভিশন শো এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং ১৯৮০-এর দশকের অন্যতম আইকনিক রক সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত।

আরেকটু পরের দিক প্রিয় হলো Roxette - The Look
তারপর Bon Jovi - It's My Life
,মাইকেল জ্যাকসন তো পাশাপাশি ছিলই। এগুলোই বাল্যকালের স্মৃতি।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: প্রিয় ব্লগার, আন্তরিক ধন্যবাদ আপনার বিস্তারিত মন্তব্যে। দুটো মন্তব্যের উত্তর একসঙ্গে দিচ্ছি এই ঘরে।

ইয়োরোপা ব্যান্ডের ফাইনাল কাউন্টডাউন গানটার সঙ্গে আপনি মিল খুঁজে পাবেন বাংলাদেশের মাইলসের ফিরিয়ে দাও গানটির মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের। দুটো গানই শুরু হয় এক কিংবদন্তি কিবোর্ড মিউজিক পিস দিয়ে। খুব সহজ, একই সঙ্গে হৃদয়গ্রাহী। আমিও আসলে প্রথম ইংরেজি গান শোনা শুরু করি ঠিক হেভি বা থ্রাশ মেটাল ব্যান্ড দিয়ে নয়, বরং ইয়োরোপার কাছাকাছি একটা জনরা থেকে। আমার প্রথম শোনা ইংরেজি ব্যান্ডের গান ছিল লিঙ্কিং পার্কের ইন দি এন্ড। তখন এমিনেম বা ফিফটি সেন্টসের র‍্যাপও পছন্দ করতাম।

বনজোভি, মাইকেল জ্যাকসন কিছু কিছু শুনেছি। কিন্তু রোক্সেট একেবারেই অপরচিতি আমার জন্য।

এবছর ইউটিউব দেখলাম নতুন ফিচার যুক্ত করেছে। ঘুরে ফিরে একই রকম ভিডিও নিউজফিডে ঘোরাফেরা করতে থাকলে তারা বড় রকমের শাফল করে একই প্যাটার্নের নতুন ভিডিও সাজেস্ট করে। এভাবে অনেক নতুন ব্যান্ড এবং আর্টিস্ট খুঁজে পেয়েছি এ বছরের প্রথম মাসে। তাদের নিয়ে সময় করে লিখবো কিছু কিছু।

পুনরায় ধন্যবাদ আপনার বিস্তারিত কমেন্টে। আপনার সময়ের বাংলাদেশের তরুণ তরুণীদের মিউজিকের টেস্ট নিয়েও কিছু লেখার অনুরোধ আপনার প্রতি। নিরন্তর শুভকামনা।

৩| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:২০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সবচে জনপ্রিয় ব্যান্ড মেগাডেথের ফ্রন্টম্যান,
.......................................................................
এ বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ,
তাই এর উপর মন্তব্য করতে চাইনা ,
তবে , এই মিউজিক মানুষের জীবনে বড় কোন ধরনের
ঘটনা ঘটিয়েছিল কিনা জানা থাকলে বলবেন ।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১১

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: কোন ধরনের মিউজিক কার ওপর কিরকম প্রভাব ফেলবে, বা আদৌ ফেলবে কি না, এটা অনেকাংশেই ভৌগলিক একটা ব্যাপার। জেনারেশনেরও ব্যাপার। মেগাডেথ ব্যান্ড তার লিসেনারদের ওপর কেমন প্রভাব রেখেছে, ওটা ব্যান্ডের ইউটিউব পেইজে গিয়ে যে কোন গানের কমেন্ট সেকশনে একবার তাকালেই বুঝবেন।

৪| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

হাইজেনবার্গ ০৬ বলেছেন: মেগাডেথ ক্লিক করে নাই কখনো, বন্ধুরা শুনতো।কলেজে ক্লাসের বেন্চে নানান ক্যালিগ্রাফীতে 'মেগাডেথ' খোধাই করে রাখতো।তারা সবাই গিটার নিয়ে সাধনায় ছিলো। যারা গিটার বাজাতো তাদের কাছে মেগাডেথ,আইরন মেইডেন ছিলো আদর্শ। আমার কাছে এর চেয়ে মেটালিকা, লেড যেপলিন, গানস এন্ড রোজেস ভালো লাগতো।পরে সিস্টেম অফ ডাউন, ডিস্টার্বড,কর্ন শুনতাম। মাঝে গডস্ম্যাক শুনছি কিছুদিন।আমার কাছে গানে ভালো লিরিক্স, টিউন সহ মেলোডি থাকতে হবে। যেমন জার্মানি ব্যান্ড রামস্টািইন লিরিক্স না বুজলেও গানে দারুন মাধুর্য আছে। মেগাডেথে তা নাই। ধরেন এটিএনের মাফফুজে গান গাইতাছে ইভা রহমানের লিরিক্স দিয়া পিছনে গিটার হাতে আর্টসেলের এরশাদ; শুনতে কেমন শুনাবে? =p~

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আপনি মনে হয় আমাকে খ্যাপানোর জন্যই কমেন্টটা করসেন। আপনার উদ্দেশ্য সফল হইসে। বাট আমি রিঅ্যাক্ট করবো না। কারণ, আপনার গিটারিস্ট বন্ধুরা গান বুঝে শুনতো। আপনি গান শুনেন শখে। তদুপরি মেটাল মিউজিকে 'মাধুর্য' খুঁজেন। এ বড় বিষম বিড়ম্বনা। : )

৫| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: মূল পোস্টে কেন জানি আর ছবি অ্যাড করতে পারতেসি না। কাজেই কমেন্ট বক্সে আরও কিছু দরকারি ছবি অ্যাড করি। মেগাডেথের সিম্বল / ম্যাসকট ভিক র‍্যাটলহেড মেটাল মিউজিকের দুনিয়ায় এক অসাধারণ ইনোভেশন। মেগাডেথের লাস্ট অ্যালবামে তার ছবি এই যে -



৬| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আমার ছোট ভাইয়ের আইডল ছিলেন ডেভ মাস্টেইন।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৩

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: বাহ! আজকাল তরুণ ছেলেপেলে মেটাল মিউজিক শোনেই না প্রায়। ইউনিভার্সিটিতে পড়াই, স্টুডেন্টদের প্রায়ই জিজ্ঞেস করি কি ধরণের গান শোনে, মেটাল মিউজিকের কথা প্রায় কেউই বলে না।

৭| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১২

চারাগাছ বলেছেন: এমন পোষ্টের অপেক্ষায় থাকি।
ধন্যবাদ আপনাকে। বিস্তারিত কমেন্ট নিয়ে ফিরবো।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। ফিরে আসেন, আপনার এ বিষয়ক স্মৃতি, অ্যাগ্রিমেন্ট ডিজঅ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে।

৮| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩০

হাইজেনবার্গ ০৬ বলেছেন: আবির ভাই মাইন্ড খাইয়েন না কমেন্টের জন্য, পোস্ট পড়ে ভালো লাগলো তাই লগইন কইরা নগদে কমেন্ট কইরালাইছিলাম। আমি আরো ভালো করে বলতে পারতাম। যাই হউক আপনি ঠিক বলেছেন আমি শখে শুনি আপনার মতে মিউজিক বোদ্বা না। তবে পোস্ট জোস হইছে।এই টাইপের পোস্ট আসে না সামুতে এখন আর। স্টকে এই রিলেটেড আরো কোন পোস্ট থাকলে দেন পড়ি।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ঠিক আছে ভাই। সমস্যা নাই। নিঃসন্দেহে সময় নিয়ে কমেন্ট করলে আরও গুছিয়ে লিখতেন। যাই হোক, লিখবো পছন্দের ব্যান্ড নিয়ে সামনেও। আপনিও লেখেন।

৯| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য।
আমার সময়ে গান নিয়ে আলাপ আলোচনা করার কোন সুযোগ আমার চারপাশে ছিল না।
মাত্র একজন বোদ্ধা ছিল, কিন্তু আমি এ সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। আলাপ করতে পারতাম না।
ভাষাও তো বুঝতাম না। বাংলাদেশ বেতারের World Music থেকে যা একটু শোনার সুযোগ।
তারপর ১৯৮৪ কি ৮৫ সাল। Dolly Parton, Kenny Rogers এর Islands In the Stream এর লিরিক এক বন্ধু, ক্যাসেটের কভারের গায়ে ছোট্ট করে লেখা - তা জোগাড় করলো। লিরিক হাতে লিখে তুলে নিলাম খাতায়। ক্যাসেট বাজিয়ে মন্ত্র মুগ্ধের মত শুনলাম। এক শোনায় সুর মুখস্থ।
মেয়েদের সার্কেলে গল্পের/ আড্ডার টপিক অন্যরকম হয়।
বহিঃ বিশ্ব - এর কালচার নিয়ে, আমি কখনোই মেয়েদের মাঝে আলাপ শুনিনি দু' একজন ছাড়া, যা ছেলেদের সার্কেলে সবার মাঝে হয় (খুব সম্ভবত।)

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: খুব সুন্দর মন্তব্য করলেন আপা। সময় বদলে গেছে। শিক্ষকতা পেশায় থাকার কারণে তরুণ ছেলে, তরুণ মেয়ে - দুইপক্ষকে নিয়েই কাজ করা লাগে। তরুণ মেয়েদেরও আগ্রহের বিষয় আজকাল বিস্তীর্ণ, এবং বিশ্বব্যাপী। রেকর্ড শুনে হাতে লিখে রাখার অভ্যাস আমারও ছিল। তখনও ইন্টারনেট এতোটা সহজলভ্য হয় নাই। শুনে লেখা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না নতুন গান টুকবার। অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

১০| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:২৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: হাইজেনবার্গ ০৬ বলেছেনঃ এটিএনের মাফফুজে গান গাইতাছে ইভা রহমানের লিরিক্স দিয়া পিছনে গিটার হাতে আর্টসেলের এরশাদ; শুনতে কেমন শুনাবে?
লাইনটা ভীষণ ভালো লেগেছে।
কিন্তু তারপরও ওনার যে চেষ্টা - গায়ক হবার, এই চেষ্টাটা আমার ভাল লাগে।
কোন সাল সঠিক মনে নেই, আমার শোনার শেষের দিকে একটা কঠিন গান - একদম তাল মেইণ্টেন করে গাইতে পেরেছিলেন।
আমরা যদি তার মত সাধনা করতে পারতাম তাহলে তো শিল্পী হতেই পারতাম।

১১| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫৫

হাইজেনবার্গ ০৬ বলেছেন: @হুমায়রা হারুন: বাংলাদেশ বেতারের World Music এ প্রোগ্রামটা ৯০ দশকের শেষের দিকেও ছিল। আমি মাঝে মাঝে শুনতাম। সেখান থেকে শুনা আপনারে দুইটা গান শুনাই

view this link

https://www.youtube.com/watch?v=FF2SIGtLZmc&list=RDFF2SIGtLZmc&start_radio=1

মাহফুজ স্যার যদি আপনার এ কমেন্ট দেখে তাইলে আগামি রোজার ঈদের এটিএনে গানের অনুষ্ঠানে উনার উৎপাত একটু বেসি হবে =p~

১২| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮

হুমায়রা হারুন বলেছেন: @হাইজেনবার্গ ০৬ খুব ভাল লাগলো গান দুটো।
অনেক ধন্যবাদ।
আমি আসলে, যারা খুব চেষ্টা করে তাদের চেষ্টাকে উৎসাহ দিই।
আরেকজন ছিল কন্ঠশিল্পী আমাদের দেশে।
নজরুল গীতি গাইতেন।
গান শুনলে মনে হতো গান নয়, কথা বার্তা বলছে।
খুব চেষ্টা করতো শিল্পী হবার। বিটিভিতে তার স্বামী খুব বড় পদে ছিলেন , সেজন্য অনেক অনুষ্ঠান করতেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.