| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাজিদ উল হক আবির
সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)
রমজান একদম দরজায় দাঁড়িয়ে। বলা হয়ে থাকে, বর্ষাঋতুর মাস দুয়েকের ভারী বর্ষণে যেমন মাটি সারাবছর সুজলা সুফলা থাকার মতো পর্যাপ্ত পানি নিজের ভেতর জমা করে নেয়, রমজান মাস – বিশ্বাসী এবং আচরি মুসলিমদের জীবনে ঠিক সে ভূমিকা রাখে। দিনে রোজা, রাতে তারাবিতে দাঁড়িয়ে কোরআন শোনা, দিন – রাতের ব্যক্তিগত তিলাওয়াত, তসবিহ তাহলিল সবকিছু মিলিয়ে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের সারা বছর সঠিক পথে থাকার ইনার ইঞ্জিনিয়ারিং এ একমাসেই হয়ে যাওয়ার কথা।
কিন্তু আদতে তা হয় না।
এর এক মূল কারণ হয়তো এটাই যে, আমরা, বাঙ্গালী মুসলমানেরা অন্যের জীবন নিয়ে যতটা কন্সারন থাকি, নিজেদের অন্তরের অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে সেই সচেতনতা আমাদের ভেতর দেখা যায় না।
ইউভাল নোয়াহ হারারির ২১ লেসন্স ফর ২১ সেঞ্চুরি নামের বইটা কিছুদিন আগে পড়ে শেষ করলাম। বইটাতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মচর্চার প্রচুর সমালচনা করলেন, লিবারেল ডেমোক্রেসিতে তথ্যের ওভারফ্লো কীভাবে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনকে লক্ষ্যচ্যুত করে দিচ্ছে, ওভারকানেক্টেভিটি কীভাবে নিজের কাজে ফোকাসড হতে সমস্যা তৈরি করছে ইত্যাদি বললেন, শেষমেশ এ সমস্যার সমাধান দিলেন যে তিনি বছরে ৩ মাস বৌদ্ধধর্মের যোগ পদ্ধতি – ভিপাসানা মেডিটেশন ফলো করে বছরের বাকি দিনগুলোতে নিজের কাজে মনোযোগী হতে পারেন।
কথা হচ্ছে, দৈনন্দিন জীবনে মেডিটেটিভ হওয়ার পেছনে ইসলাম অভূতপূর্ব গুরুত্বপ্রদান করেছে। দিনে পাঁচবার, ঠিক সময়ে যে ব্যক্তি মনোযোগের সাথে সালাত আদায় করে, রিফ্লেকটিভ উপায়ে খোদার সামনে দাঁড়ায় – তার তো জীবন এমনিতেই লাইনে চলে আসার কথা।
রাত জাগা এই যুগের এক মহামারী। ২০১৮ সালে আমি ঢাকার অপেক্ষাকৃত কম জনঅধ্যুষিত একটি জায়গায় বসবাস শুরু করি, যেখানে মাত্র নগরায়ন শুরু হয়েছে। অনেক বয়স্ক – মধ্যবয়স্ক নরনারীদের দেখেছি সেই সময় ভোরবেলা উঠে হাঁটতে। করনার পর মানুষের স্মার্টফোন আর অনলাইন অ্যাডিকশন এতো বাড়ল, এখন তো কাউকেই সেভাবে আর হাঁটতে দেখি না ভোরে, আমার মহল্লায়। মুরুব্বীরাও (আমার বাবা মা সহ) সবাই মোবাইলে ইউটিউব শটস বা ফেসবুক রিলসে হুকড হয়ে থাকেন রাত ১ টা ২টা পর্যন্ত।
অথচ ইসলামের দাবী আপনি দিন শুরু করবেন ফজরের ওয়াক্তে। সূর্যদয়ের আগে। এবং ফজর আদায়ের পর আপনি রুটিরুজির তালাশে বেরিয়ে পড়বেন পৃথিবীর জমিনে।
খাওয়ার ক্ষেত্রে সংযম, কথা বলার ক্ষেত্রে সংযম, আচারব্যবহারে সংযম – এগুলো ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। বেশী না জমানো, মজুদদারী না করা, লেনদেনে ব্যবসা বাণিজ্যে সততা বজায় রাখা – এগুলো ইসলামের কোর ভ্যালু। অথচ রমজান আসলে বাজারে এমন আগুণ লাগে, পাশ দিয়ে হাঁটলেও তার আঁচ এসে গায়ে লাগে।
সম্ভবত আজ সন্ধ্যা থেকে রমজান শুরু। এসব চিন্তাভাবনাই মাথায় ঘুরছিল। কি নিতে পারবো এই আগতপ্রায় মহিমান্বিত রাত থেকে। কীভাবে আরও একটু রিফ্লেকটিভ, তায়েব, ডাউনটু আর্থ মানুষ হব – এই পাগলা সোসাইটিতে, যেখানে সবাই চব্বিশ ঘণ্টা ব্যস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ফল যেটা হয়েছে, আমাদের ধর্ম চর্চা এসে থেমেছে নারীদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা, আর কার জীবনে কি চলছে সে নিয়ে আলাপে। কোরআন হাদিস এবং সলফে সালেহীনের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে তার মাপকাঠীতে নিজের জীবনকে গড়ে নেয়ার সদিচ্ছা আমাদের ভেতর আর কাজ করে না।
আল্লাহ যেন এই গাফলত থেকে আমাকে অন্তত আগতপ্রায় রমজান মাসে রক্ষা করেন, কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনাই কাজ করছে মনের ভেতর এ মুহূর্তে।
২|
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রামাদান মুবারক আপনাকে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১০
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: সব কথাগুলোই সত্য। আমাদের মন শয়তানে দখল করে রাখে সারা বছর-সারা জীবন। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত দিন। পবিত্র রমজানে উছিলায় অন্তর শুদ্ধ রাখার তৌফিক দান করুন।