নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

বাধা বিঘ্ন না পেরিয়ে বড় হয়েছে কে কবে?

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাটল ট্রেন

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২০

প্রকৃত সত্য বলতে গেলে শাটল ট্রেন মুভিতে দেখানো প্রেম ভালবাসার বাহিরে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের জীবন,
.
গল্পের ভিতরে প্রকৃত গল্প থাকে, গরমে শাটলে সেদ্ধ হতে থাকা ছেলেগুলোর অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সস্তায় খেয়ে শাটলে উঠে,
.
বিকেলে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে কোন সুন্দরী ধনীর দুলালী সামনে অংক কষতে কষতে ভাবে বিকালের নাস্তাটা এখনো আসছে না কেনো!
.
সন্ধ্যায় সিনেমা প্লেস কিংবা কোন স্টেশনে বাস কিংবা ট্রেনের আশায় তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে কিংবা বসে থাকে,
.
শাটল থেকে নেমে রাতের খাবার খেয়ে রুমে ফিরে যখন মনে পড়ে কালকে তো অ্যাসাইনমেন্ট আছে তখন এসব বালের প্রেম রোমান্টিকতা কিংবা কোন মেয়ের মুড সুইং সহ্য করার মতো মানসিকতা থাকে না!
.
শাটল ট্রেন মুভির জন্য গল্পের অভাব হলে আমাদের বলতে, আমাদের শাটল ট্রেন ঘিরে বড় হওয়ার পিছনে হাজারো গল্প আছে,
.
গল্পের ভিতরগুলো বড্ড নোনা! খোদার কসম একটা সিঁটের জন্য, একটু ভালো করে বাঁচবো বলে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে!
.
যখন একে একে সাপ্লি কিংবা কোন ঘটনার কারণে ছাত্রত্ব হুমকির মুখে তখন কোথায় থাকে নীতি নৈতিকতা, একমাত্র বড় ভাই, সহমত ভাইকে বুকে টেনে নিয়ে অস্তিত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার যে গল্প তখন আমরাও তোমাদের চোখের নষ্ট ভাইদের প্রেমে হাবুডুবু খায়,
.
বড় ভাইয়েরা মিছিল শেষে পাঁচশ টাকা দিলে নিশ্চিন্তে পাঁচ দিন চলে যায়!
.
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আমাদের হয়ে বড় ভাইদের দেখে আবেগের জায়গা পাল্টে যেতে থাকে,
.
আমি শাটল ট্রেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ছিলাম, আমার আশি শতাংশ বন্ধু থেকে শুরু করে বড় ছোট ভাই, দেখেছি ব্যাচলর ডিগ্রীর সময়ে আজীবন সিঙ্গেল ছিলেন!
.
কাপল বলতে যা দেখতাম তা কেবলি হাতে গুণে রাখা যায় এতো সংকটাপন্ন,
.
মাস শেষে বাবার কাছে টাকার জন্য যখন মোবাইলে বাবার নাম্বার ডায়ালিং হয় তখন গল্পগুলোর কন্ঠ স্তব্ধ হয়ে আসে, সেশন জটের গোষ্ঠী উদ্ধার করে মাথায় চাকরির পোকা ঘুরে!
.
যে ছেলেটা ভবঘুরে সে ও পরীক্ষার জন্য আন্দোলন কিংবা দ্রুত রেজাল্টের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়,
.
এতো কম বেতন পড়াশুনা করেও বেতন বৃৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যে আন্দোলন তা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের অন্যতম বড় আন্দোলন যার স্বাক্ষী হয়ে আছি!
.
অথচ প্রেক্ষাগৃহে নাকি চলছে প্রেম তামাশার অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা 'শাটল ট্রেন'
.
এখানে মাম্মী ড্যাডির ছেলে মেয়েদের গল্প চোখে পড়ে না বরং ঘামে ভেজা শার্টে শাটলের গায়ের ড্রামের আওয়াজে ভেসে উঠে, সবকিছুর মধ্যেও জীবন উপভোগ করা যায়! জীবন এতো সহজে দমে যাওয়ার নয়,
.
শাটলের দেশে কিংবা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার চেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম বড়!!!
.
এখানে 'হায় নিঠুর পরিবেশ, হলের ডালে জীবন শেষ' 'এ কেমন অভিশাপ বলো' তার চিত্র ফুটে উঠে,
.
ঝাঁকড়া-মাকড়া চুল নিয়ে ঢুকে টাক মাথা নিয়ে বের হওয়ার পিছনে কত যে যাতনা থাকে সে গল্পের কাছে প্রেম ভালবাসা কেবলি ম্লান!
.
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি হারানো, কিংবা র্যাড ডে বিদায় উৎসবে চোখের জল নতুবা সমাবর্তনের উৎকন্ঠা প্রতীক্ষা অথবা শাটলকে শেষ বিদায় উঠে না আসলে এ কেমন চুলের ফিল্ম!
.
এই ট্রেন থেকে নামার পরে নোবেল জয়, বিশ্বজয়সহ হাজারো গুণীর সৃষ্টি হওয়ার পিছনে যে একক সাধনা তার পিছনে খোদার কসম তথাকথিত প্রেম ভালবাসার গল্প নেই যা আছে কেবলি তা সংগ্রাম আর কাজের প্রতি ভালবাসা!
.
তোমাদের বানানো সিনেমার রিভিওগুলো দেখে মনে হয়েছে বই মেলার মতো সিনেমা জগতে আরেকটা চমকপি নতুন সিনেমা এসেছে 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দিবো' টাইপ!
.
সাহস হয় কিভাবে!!! অনুমতি দেয় কে!!!

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো লিখেছেন।

২| ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: অনেকগুরো বাস্তব সত্য বলে গেলেন। ধন্যবাদ জানবেন।

৩| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২৪

অজ্ঞ বালক বলেছেন: জোস জোস জোস। দারুন লিখসেন। আমি চবির না। কিন্তু বন্ধু ছিল অনেক ঐখানে। আর সরকারি ভার্সিটিতে পড়সি, কাজেই ঐ সংগ্রাম সবার খুব চেনা, খুব আপন। ছবি রিভিউ পড়ি নাই তবে আপনার বলা কথাগুলার উপর ভিত্তি কইরা সিনেমা বানানোর মুরোদ যে এখনো এই দেশের কারো হয় নাই সেইটা জানি।

৪| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আপনার লেখাগুলো পড়তে ভালো লাগে আমার কাছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.