নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যদিও আমি ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী, অন্যান্য ভাষার সাহিত্যও পাঠ করতে ভালোবাসি। নিজেকে সাহিত্যের জালে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

মৌরি হক দোলা

আগুনপাখি

মৌরি হক দোলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কৃষ্ণকান্তের উইল ও তৎকালীন নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩




দেশ-কাল-জাতি নির্বিশেষে প্রায় সব সাহিত্যেই নর-নারীর সম্পর্কের জটিল রসায়ন একটি জনপ্রিয় বিষয়। বাংলা সাহিত্যের ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসেও এ চিরায়ত বিষয়টি উঠে এসেছে। রোহিণি-গোবিন্দলাল-ভ্রমর, মুখ্য এ তিন চরিত্রের ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনিতে প্রতিফলিত হয়েছে তৎকালীন সমাজে যাপিত নারীর জীবন বাস্তবতা।

উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র রোহিণি সতের বছর বয়সী এক বিধবা। কৃষ্ণকান্তের উইল চুরি প্রসঙ্গে উপন্যাসের শুরুতেই তার আগমন ঘটে। প্রথম থেকেই এ চরিত্রের মধ্যে ভালোবাসা পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যায়। স্পষ্টতই টাকার বিনিময়ে নয়, বরং বিধবা বিবাহের প্রলোভনেই সে কৃষ্ণকান্ত রায়ের মেজোপুত্র হরলাল রায়ের জন্য উইল চুরি করতে রাজি হয়। আবার, উইল চুরি করার পরে হরলাল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে সে নিজের বিপদ সত্ত্বেও আসল উইল ফিরিয়ে দিতে যায়। এ ঘটনায় বোঝা যায়, রোহিণি ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এতোটাই মরিয়া যে সে এ প্রাপ্তির জন্য অনৈতিক কাজ করতেও প্রস্তুত। তার এই অভাব আরও গাঢ়ভাবে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে যখন সে একটু সহানুভূতি পেয়েই গোবিন্দলালের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে গোবিন্দলালের ভালোবাসা পেয়েও পরবর্তীতে নিশাকরের প্রতি তার মুগ্ধ হওয়া তার চরিত্রকে চূড়ান্তভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

উপন্যাসের অপর নারী চরিত্র ভ্রমর পূর্বালোচিত রোহিণি চরিত্রের ঠিক বিপরীত। সে স্বামী সোহাগী, পতিব্রতী এক কিশোরী। স্বামী গোবিন্দলালের সাথে তার সম্পর্ক উপন্যাসের শুরুতে এক স্বর্গীয় আবহে চিত্রিত হয়েছে। কিন্তু কাহিনির আবর্তন তাদেরকে ধীরে ধীরে এক জটিল পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করায়। তখন স্বামীর প্রতি তার চিরায়ত ভক্তি অক্ষুণ্নরূপে প্রতিফলিত হলেও, এক সুক্ষ্ম আত্মমর্যাদাবোধের উপস্থিতি তার চরিত্রকে অনন্য করে দোলে। স্ত্রীস্বভাবানুসারে সে গোবিন্দলালকে হরিদ্রাগ্রামে ফিরে আসার অনুরোধ করলেও আত্মমর্যাদাবোধের জন্যই সে বাবার বাড়ি ফিরে যেতে চায় এবং গোবিন্দলালকে পূর্বের মতো স্বামীর আসনে বসবতে পারে না।

আলোচ্য রোহিণি ও ভ্রমর উভয়ই ঊনিশ শতকের নারী সমাজের মুখপাত্র। অল্প বয়সে বিধবা হলেও নারীর যে শারীরিক ও মানসিক চাহিদার উপস্থিতি অনিবার্য, তার প্রকৃষ্ট আলাপ রোহিণি চরিত্রের বিশ্লেষণের মাধ্যমে উঠে আসে। আর ভ্রমর তুলে ধরে সে সময়ের আদর্শ সধবা স্ত্রীর উদাহরণ। তবে পতিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও চারিত্রিক দৃঢ়তায় ভ্রমর সাধারণত্বের মাপকাঠির উপরে। আর তাকে এভাবে অসাধারণ করে আঁকাই ঔপন্যাসিকের সফলতা হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখা প্রথমবার পড়লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.