নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

বাধা বিঘ্ন না পেরিয়ে বড় হয়েছে কে কবে?

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেরং

২২ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

ছোট বেলায় আমার আশে পাশের সবার আব্বুদের দুই তিন হাজার টাকা বেতন ছিলো,
.
কারো বাবা অফিসার হলেও হয়তো স্প্রেফ আরো দুই তিন হাজার টাকা বেশী পেতো!
.
খোদার কসম নতুন শার্ট পড়লে যেদিক দিয়ে হেঁটে যেতাম সবাই মিষ্টি দাবী করতো,
.
একই শার্ট আর কারো গায়ে দেখলে হাজার মানুষের ভীড়েও আমরা বলে দিতে পরতাম আমার এলাকায় অমুকের এক সময় এমন একটা শার্ট ছিলো!
.
ব্রান্ডের শার্ট তখন দুর্লভ, পকেটে লোগোর দিকে তাকিয়ে ভাবতাম,
.
তখনকার শার্টগুলোর আমরা অনেক যত্ন নিতাম তবুও হাজার হলেও হকার মার্কেট থেকে নেওয়া! এতো যত্নে হাত উঠা নামা করার পরও বগলতল ছিঁড়ে যেতো!
.
বোতাম ছিঁড়ে যাওয়াটা সাধারণ ছিলো, কিনে এনে আবার বোতামগুলোর উপ্রে সেলাই করতাম!
.
শার্টগুলো লম্বা হওয়ায় পিছনে রোলের মতো করে উপর দিকে লেজ গুঁটিয়ে উঠতে থাকতো,
.
তখন আমরা ভাবতাম, গায়ে যে কালারের মাকড়সা উঠে, ভবিষ্যতে সে কালারের একটা শার্ট আমারও হবে! কি আনন্দ!
.
বাবার পেট বেড়ে যাওয়ার পর শার্টগুলো আমার হতো, আমি মোটা হয়ে গেলে ছোট ভাইয়ের,
.
প্যান্টগুলো কখনো ফিটিংস হতো না! বেল্ট দিয়ে কোঁচকিয়ে কোমরের সাথে আটকিয়ে রাখতে হতো!
.
প্লাজু টাইপের এক একটা পায়ের ফাঁক গলিয়ে অনায়েসে তিন চার বছরের একটা বাচ্চা ঢুকে যেতে পারবে এমন অবস্থা
.
শার্ট ইন করলে সেখানে অনায়েসে কয়েক কেজি আলু রাখার মতো জায়গা থেকে যেতো!
.
রোদে শুকাতে দিলে সুযোগ বুঝে শার্ট চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকতো,
.
সেই শার্ট প্যান্টে গুঁজে দিয়ে একটা কালা চশমা পড়ে যেদিন বের হতাম সেদিন তো সুন্দরী ললনাদেরও পাত্তা দেওয়ার টাইম থাকতো না!
.
সেদিন আমরা এক একটা সালমান শাহ! ঘর থেকে বের হলে ফিরা পর্যন্ত প্রশংসায় পঞ্চমুখ! লাগতেছেরে মামা! তোরে কিন্তু লাগতেছে!
.
হলিউড, বলিউড, ডালিউড, টালিউড, শালীউড ফেইল
.
আশার সময় ক্রাশের বাসার জানালা দিয়ে কয়েকবার ঘুরান্টি দিয়ে ঘরে ফিরে আস্তে আস্তে শার্টপ্যান্ট খুলে যত্ন করে রেখে দেওয়ার পরও রেশ থেকে যেতো!
.
সেই শার্টগুলো কিন্তু দাম বাড়েনি! এখনো দেড়শো টাকা! কিন্তু মানুষের কাছে দাম কমে গেছে! তখন আমরা ফেব্রিকস্ বুঝতাম কম!
.
তবুও দুই আঙ্গুল দিয়ে কাপড় ঘষে ভাব ধরতাম মস্ত বড় কাপড় বিশেষজ্ঞ তারপর পাল্টা প্রশ্ন করতাম, ভাই টিকবে তো! রং জ্বলবে?
.
দোকানদার আরো বড্ড ভাব নিয়ে বলতো, কাপড় ছিঁড়ে যাবে মাগার কালার উঠবে না!
.
তারপর একদিন ঐ শার্ট পড়ে দোকানদারের সামনে গিয়ে বললাম, ভাই দেখেনতো কালার উঠেছে কি না? সে বললো, 'কালার উঠেনি, ডিসকালার হয়েছে!'
.
কালার উঠে গিয়ে মূল কালারে ফিরে এসেছে! অদ্ভুত সহজ সরল ছিলো জীবন!

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:০০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আপনি তো দেখি খুব ভাগ্যবান ছিলেন।

২| ২২ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: সব কিছু বদলে যায়। বদলে যাওয়াই তো জীবন। জীবনের ধর্ম।

৩| ২২ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৫৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সময় সবকিছু বদলে দেয়....

৪| ২৩ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:৩৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: বাহ্,,,বেরং পরে মনটা রঙে ভরে গেল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.