নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

বাধা বিঘ্ন না পেরিয়ে বড় হয়েছে কে কবে?

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেয়ের বাবা

১২ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭

মেয়ে বড় হয়েছে এখন কোরবানি না করলে হইবো না, মেয়ের বাবার কথাখানি বুঝিয়ে দেয় এই সমাজে মেয়ের বাবাদের কত কিছু চিন্তা করতে হয়!!!
.
প্রায় দুই লাখ টাকা দেনা আছে কিন্তু মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গরু না পাঠালে হয়তো মেয়ে ভালো থাকবে না!!!
.
আরো জোরে বলেন, এই সমাজে এমন চুতমারানির বাচ্চারা আছে কি? না? যারা মেয়ের সাথে মেয়ের বাবাকেও ঢুকিয়ে দেয়!
.
আমার মুখে ভালা কথা আসে না! আমি তো ভালা না, তোমরা ভালা যারা লেখে তাদের নিয়ে থাকো!
.
অত্র এলাকায় ছেলের বিয়ে হলে আপনি তাদের টয়লেটের বদনা উল্টিয়েও 'মেইড ইন শ্বশুর বাড়ি' লেখা পাবেন,
.
একসময় কন্যা সন্তানের জন্ম হলে মাটিতে পুতে রাখা হতো, ঠিক সেই মুহূর্তে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এসে তাদের কবর থেকে তুলে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছিলেন!
.
আজ সত্যি বলতে ভাই মেয়েদের জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়না তবে মেয়ের বাবাদের জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়,
.
কতটা স্বপ্ন নিয়ে একটা মেয়ে স্বামীর ঘরে ঢুকে আর কতটা মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে সে সংসার করে তার খবর কখনো কেউ রাখেনা!
.
মেয়ের বাড়ি থেকে কি আসছে! কারা আসবে! কখন আসবে! কি কি আসা দরকার! ছেলের পড়ালেখা করাতে লাখ লাখ টাকা গেছে! এখন গলা টিপে ধর ফইন্নীর, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম!
.
মধ্যরাতে স্বামীর অর্গাজমের সাথে স্ত্রীর দীর্ঘশ্বাস বের হয়, কেউ জানবে না কতটা কষ্টের জীবন! এই সমাজ! সংস্কার! সামাজিকতা!
.
বাথরুমে আয়নায় চোখে পানির ঝাপটা দিয়ে কত মেয়ে যে চিৎকার করে বলে, তুই মেয়ে, তোকে সহ্য করে যেতে হবে, মেনে নিতে হবে নয়তো মানিয়ে!
.
ছেলে মেয়ে হয়ে গেলে হয়তো এসব মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে ভেবে কতটা স্বস্তি!
.
মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বাবা বুঝতে পারে কি চলছে জীবনে, বড্ড সুখে আছে, পরের ঈদে ঘরের গাভী বিক্রী করে কোরবানে বলদ পাঠিয়ে আবার মেয়ের সামনে দাঁড়ায়!
.
মেয়ে বাবার চোখে কি যেনো খুঁজতে থাকে! বাবা মেয়ের চোখে! চোখাচোখি হয় কথা হয় না! ভালো থাকিস মা! তুমিও ভালো থেকো বাবা!
.
বাবার তিন তিনটা মেয়ে, কদম আলী রোজ হাদীস শুনায়, তুমি তো বিনা হিসেবে বেহশতে যাইবা মিয়া! এই কদম আলী দুক্কের আশা! বেঁচে থাকাতে তার কথায় যেনো ভরসা পাওয়া যায়!
.
সেদিন ঘটক সাহেব এসেছিলো ছোট মেয়ের জন্য, কঠিনভাবে ছেলের গুণগান গাইলো! হ্যান্ডসাম! সুদর্শন! বেতন টেতন মাশাল্লাহ!
.
যাওয়ার সময় চোখ টিপ মেরে থুতনি চেপে একটা কথা বলে গেলো, 'এই যুগে এমন পাত্র পাওয়া মানে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া তয় এক্কান কথা ছেলের প্রমোশনের জন্য নাকি......যে যুগ আইছে, পাঁচ লাখ টাকা ছাড়া নাকি প্রমোশন হয় না!'
.
মেয়ের বাবা ঘুম হারাম! একদিন পীর ছেলে অন্যদিকে প্রমোশন.... ঘরের পাশের জমিটাতে বহুদিন ধরে ভালো ফসল হচ্ছে না...!
.
ঐদিকে ঘটক সাহেব কয়েকদিন ধরে আসছেন না, পরে জানা গেলো, ছেলের বাবা হ্বজ থেকে আসলে বিয়ের কথাবার্তা জোরালে হবে.....!
.
সত্যি এসব মেয়ের বাবা বিনা হিসেবে বেহেশতে না গেলে আমি সেই বেহেশতে যেতে চাইনা, ওখানে বরং হাজী সাহেবকে পাঠান....!

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি সন্দ্বীপের লোকদের ঠিক করেন, আমি বাকীগুলো দেখবো।

২| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: মেয়ে বাপের যন্ত্রনা বেশি।
তবে ছেলের বাপের যন্ত্রনাও কম না।

৩| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাহমুদুর রহমান জাওয়াদ বলেছেন: পড়লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.