নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার লেখা কারো ভালো লাগলে ০১৮১৫৩৩৮৩৭৫ নাম্বারে বিকাশ কিংবা লোড নতুবা ডাক বিভাগের সেবা নগদে মজুরি পাঠালে আমি গর্ববোধ করবো ৷ আমার জীবনের বেশীরভাগ সময় আমি লিখে কাটাতে চাই, আমার ফেসবুকের ঠিকানা, www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

আমার লেখা কারো ভালো লাগলে ০১৮১৫৩৩৮৩৭৫ নাম্বারে বিকাশ কিংবা লোড নতুবা ডাক বিভাগের সেবা নগদে মজুরি পাঠালে আমি গর্ববোধ করবো ৷ আমার জীবনের বেশীরভাগ সময় আমি লিখে কাটাতে চাই, আমার ফেসবুকের ঠিকানা, www.facebook.com/abdur.sharif অথবা Abdur Rob Sharif

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি ফকিন্নীর পোলা

১৬ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:৩৫

আমি গর্ব সহকারে আজো বলি আমি ফকিন্নীর পোলা ৷ কেউ আমাকে নতুন কোন কিছু উপহার দিতো না ৷ একদিন পরে ফিটিংস হয় নাই অমুকের পোলারে দে ৷ নতুন ভালো জিনিস্ ৷ ভরে দে ৷
.
হাজার মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে ৷ শোভাকলোণী কেমন? এখানে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ৷ আপনারা যেমন নাম দেখে ভাবেন এটা লস্ এঞ্জেলস্ তেমন না ৷
.
২০০৬ সালে আবাসের সাংবাদিক মুসলিম আজাদের ভাইয়ের সাথে যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানের সাথে দেখা করি তখন দেখলাম মুসলিম ভাই তার পেটে গুঁতো দিলে সে হাসে ৷ আমিও ছোট সাংবাদিক যেহেতু গুঁতো দিলাম ৷ সে হাসে না ৷ ভ্রু কোঁচকে রাখে ৷
.
তখন মুসলিম ভাই এক সাইড হয়ে আমাকে বলে, তুমি তোমার বাবার পরিচয় দিবে না ৷ কারণ ওনারা তাদের বস্ ৷ তাই তোমার গুঁতো ওনাদের সহ্য হয় না ৷
.
সেদিন থেকে আমি বাবার পরিচয় সবার আগে দিই ৷ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নিয়ে লীড্ নিউজ করতে গেছি ৷ প্রেন্সিপাল কিরণ চন্দ্র দেবের স্যারের রুমে গেলাম ৷ বললাম, আমার বাবাকে আপনি চিনবেন ৷ আমিও কলেজের ছাত্র ৷ তবে আজ সাংবাদিক হয়ে এসেছি ৷
.
আমার শোভাকলোণীতে রাস্তা নেই ৷ কারণ এখানে শিক্ষকরা থাকেন না ৷ অফিসারও না ৷ নিজেদের রাস্তা আমরা নিজেরা করতাম ৷ নিজেদের পুকুর আমরা নিজেরা কাটতাম ৷ এখানে যা কিছু উন্নয়ন কাঁধে কাঁধ রেখে, হাতে হাত রেখে ৷
.
এখানে আমি ছাড়া কেউ কোন দিন একটা গল্প কোথাও লিখেছে তা ও আমার জানা নেই ৷ আমি এখনে লুঙ্গী পরে বসে থাকলেও কেউ বলে না অমুক গল্প ঠাসা লিখছেন ৷ এখানে জীবন ছুটে চলার ৷ অন্যরকম ৷ কেউ বলেনি ভাই একটা সেলফি তুলবো আপনার সাথে ৷
.
ছোটকালে আমি আমার আত্মীয় স্বজনদের বাসায় তেমন কখনো যায়নি ৷ আমার জন্য নিয়ম পাল্টে যেতো ৷ ভালবাসা থাকলে কোথাও যেনো ও তো অমুকের ছেলে ৷ আমি তো গাড়ি নিয়ে এসে হর্ণ বাজাইনি ৷ ভালবাসার কমতি ছিলো না কারণ সেরা মানুষগুলো আমি আমার আত্মীয় হিসেবে পেয়েছি ৷ আমাদের মতো ফ্রেন্ডলি ফ্যামেলিও আমি দেখিনা ৷
.
সূক্ষ অনেক বিষয় আমি বুঝতাম ৷ না খেয়ে থাকলেও কোন দিন কাউকে একটা ফোন করিনি ৷ আমার ফ্যান নষ্ট হলে নতুন কিনবো কিনবো বলে বছর পেরিয়ে যেতো ৷ নিজেকে কখনো তবুও ছোট হতে দেয়নি ৷
.
আমার সবার আগে আমার আত্মপরিচয়পর্ব চলে ৷ আমি গর্ব সহকারে পরিচয় দিই ৷ কেউ তা শুনে গর্ভবতী হলে আমার কিছু আসে যায় না ৷ আমি কোন দিন আমার অত্মীয় অমুক সমুক তমুক তারও পরিচয় দিয়েছি তা কেউ বলতে পারবে না ৷
.
একদিন যদি আমি অনেক কিছু হয়ে যায় আমি বলবো আমি শোভাকলোণী থেকে উঠে এসেছি ৷ আমার গায়ে মাটি আর ঘামের গন্ধ ৷ বগল তলের গন্ধ কটু বেশী ৷
.
আমি দেখেছি গরীবের পোলা শিক্ষক হওয়ার পর কোন দিন তার পুরনো কলোণীতে একবারের জন্য আসে নি ৷ খুব বলতে ইচ্ছে করে, শ্লা তুই স্যার হইস্ নি ষাঁড় হয়েছিস ৷
.
আমার এক মুরুব্বি আমাকে একবার বলে, বাবা তোমরা একদিন অনেক বড় হবে ৷ তখন আমাদের ভুলো না ৷ জানো অমুক ছেলেটা একদিন বিপদে পড়েছিলো আমি উদ্ধার করেছি ৷ সে আজ স্যার ৷ সালামের উত্তর নেওয়ার সময় বুঝিয়ে দেয়্ আমি কর্মচারী থেকে গেছি ৷ বুকটা হুহু করে উঠলো ৷ ইচ্ছে করলো, জড়িয়ে ধরে বলি, ওসব্ মানুষ না শুয়োরের বাচ্চা ৷ বললো বাবা গালি দেয় না ৷ বললাম, শুয়োরের বাচ্চার অর্থনীতি এটা আমার পাঠ্যও আছে ৷
.
খোদার কসম্ ৷ কলোণীগুলো থেকে অনেকে অনেক কিছু হয় ৷ হওয়ার পর তাদের প্রথম কাজ হলো কলোণী ত্যাগ করা ৷ আর্ নিজেকে প্রমাণ করা আমি শিক্ষক পাড়াতে বড় হয়েছি ৷ হায়রে মানুষ ৷ জন্ম পরিচয় নাই ৷ বেটা মানুষ লেখায় শোভাকলোণী দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গেছে ৷ তবুও আমার প্রিয় এলাকা আমি ব্রান্ডিং করবো ই ৷ যখন যেভাবে সুযোগ পাবো ৷
.
শুন্ বেটা ৷ তুই ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেও তোর জন্ম পরিচয়ের চেয়ে প্রেসিডেন্টের পরিচয় কোনদিন বড় হতে পারে না ৷ ঐ এলাকার আলো বাতাস পানি না তুই চুরি করে কলাও খাইছোস্ ৷ ভুলে গেছোস্ ডাব চুরির সোনালী গল্প?
.
আমার বাবার কাছ থেকে শিখ্ ৷ সারা জীবন গল্প করেছে তার ছোট বেলার নিজের ঘরের ধান চুরির গল্প ৷ গর্বে চোখ চিকমিক্ করতো গল্প শুনে ৷ কত যে গল্প ৷
.
জীবনে কত বড় হওয়া যায়? শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নাহলে হুমায়ুন আহমেদ্ ৷ তার লেখা হোটেল গ্রেভারেইন পড়েছিস্ ৷ মে বি ওখানে লেখা আছে এক সিঙ্গারা টাইপ খাবার দিয়ে ভাত খেয়ে জীবন কাটানোর গল্প ৷
.
কখনো গরীব আর কখনো বড়লোকের বাসায় দাওয়াত খেতে গেলে বুঝা যায় আন্তরিকতা কি জিনিস্ ৷ পারেনা মুখে তুলে খাওয়ায় দিতে ৷ কোনদিন কোন গরীব মানুষের দাওয়াত আমি মিস্ করিনি ৷ করিনা ৷ অথচ আমার অনেক প্রতিষ্ঠিত বন্ধুর পার্টিতে আমি যায় না ৷ আমি সোনা বুঝতে শিখেছি ৷ চিকচিক্ করলে সোনা হয় না ৷
.
আমি ফকিন্নী না আবার ৷ একধাপ নামিয়ে পরিচয় দিতে ভালো লাগে ৷ এই পরিচয়ে মানুষ আমাকে ভালবাসতে শিখে যাচ্ছে ৷

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ টি ভালো লাগলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.