| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এক
খালিকুজ্জামান আজ ঘুম থেকে উঠলো বেশ আগে। তার ছোট বাড়িটার সামনে এক সারি গাছপালা । অনেকে বলে ঝোপঝাড়, কেউ কেউ এটাকে বুনো উদ্যানও বলে থাকে। এই বুনো উদ্যানে হরেক রকম লতা গুল্ম গাছ। তাদের কার কার আজ পানি লাগবে হিসাব করে নিল জামান। তারপর সবাইকে তার প্রয়োজন-মতো পানি দিলো। তার এই বুনোউদ্যান আর পলেস্তারা খসেপড়া বাড়িটা যেন এক জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এই জনপদে বাড়িটা যেন এক শান্ত শান্তির ডেরা। কেবল সকাল সন্ধ্যা মুখরিত হয় সেটা জানা-অজানা শত পাখির গানে।
বাড়িটা থেকে কিছু দূরে এক বৃদ্ধ খাল। অনেক মানুষের অনেক দখলে লুণ্ঠিত হয়ে গেছে তার যৌবন। যদি আবার সে ফিরে পায় তার প্রবাহ, জামান ভাবে, আবার নিশ্চয় জেগে উঠবে তার বুকে অজস্র জীবনের গান!
উদ্ভিদ আর উদ্যানের যত্ন নিয়ে উঠে পড়ল জামান। নিজেকে গুছিয়ে নিলো সে। তারপর এক বুক আশা নিয়ে নেমে এল রাস্তায়। আজ ৮০ কিমি পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে শহরে যাচ্ছে সে।
বেশ কিছু পথ হাঁটা হলো তার। তারপর রিকশা নিলো জামান। রিকশায় পথটুকু পাড়ি দিয়ে দেখা মিলল বাসের। বাসে চড়ে বসল জামান। আকাশের সূর্যও যেন জেগে উঠলো এ সময়। এলোমেলো আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলল গাড়ি। বাড়ির পাশের খালটা এতদূর এসে মোড় নিয়েছে। খালের ওপর ছোট সেতুটা পেরুল তারা।
খালের ব্যথাভরা বুকে দৃষ্টি পড়তে ছোট বেলায় দেখা সেই বিপুল জলরাশির অভাব মনে কষ্ট জাগাল তার। হঠাৎ মনে পড়ে গেল বাবার সাথে শীতকালে মাছ ধরার কথা। পানি শুকিয়ে গেলে গ্রামবাসীরা সব নেমে আসত খালে। খালের বুকে সঞ্চিত মৎস্য সম্পদ দুহাত ভরে খুঁজে নিত তারা। হায়! কোথায় সে দিন! একরাশ আফসোস, যেন হাহাকার তার জীবনের, উছলে উঠল প্রাণে!
দুই
বাসের দুলুনিতে তন্দ্রা এসে গেল তার। এই সুযোগে মনের গোপনে লালিত স্বপ্নটা উঁকি দিলো আবার। পত্রিকার 'সাহিত্য পাতা'র কাজটা যদি পেতাম! তাহলে শান্তিতে লেখালেখিটা চালিয়ে নেয়া যেত।
কয়েক বছর ধরে সে চেষ্টা করছে। যদি কোনোভাবে একটা পত্রিকায় নিয়মিত কোনো চাকরি পেতাম তাহলে খুব সুবিধা হতো! ঝিমুনিতে ঘুম ভাঙল আবার। জামানের বয়স ৩৮ বছর। নিতান্ত ছোটবেলায় মা-কে হারিয়েছিল সে। বছর দশেক হলো বাবাও ছেড়ে গেছেন দুনিয়া। এখন সে একাই সামলে নেয় তার জীবন।
এম.এ. পাস করে একটা চাকরিও সে শুরু করেছিল। কিন্তু সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি তার ভালো লাগল না। সেখানে সারাদিন শুধু টাকা-পয়সা আর লাভ-ক্ষতির হিসাব। এত হিসাব-নিকাশ তার ভালো লাগে না। সে একটা মানবিক পরিবেশ চায়। খুব ভালো হয় যদি লেখাপড়া চালিয়ে যাবার মতো একটা কাজ পায়। তাই আগের চাকরি ছেড়ে এলাকার একটা স্কুলে সে পড়ানো শুরু করে। কিন্তু সেখানেও ওই একই পরিবেশ, অতি লোভী মানুষের দল। সেখানেও সবাই পরিমাপ করে জীবন টাকার হিসাবে। জীবন যে মুনাফা করার প্রচেষ্টা নয় একথা সে কাউকে বোঝাতে পারে না। জীবন এক অমূল্য প্রাপ্তি ! তা যে অজস্র শুভ-চেষ্টায় সমৃদ্ধ সে-কথা যেন কেউ ভাবে না, কেউ জানে না!
বিস্মিত হয় সে। স্কুল ছেড়ে কৃষিতে মন দেয়। তার বাবার রেখে যাওয়া কয়েক বিঘা জমিতে ফসল ফলানোর চেষ্টা করে। পাশাপাশি কয়েকটা টিউশনি করে জীবন চালিয়ে নেয়। আর এর ফাঁকে একটু একটু করে লেখা চালিয়ে যায় সে।
কয়েক বার লেখা প্রকাশের চেষ্টাও চালিয়েছিল জামান। কিন্তু সফল হতে পারেনি। অপরিচিত কারও লেখা তো কেউ ছাপাতে চায় না। একবার বই ছাপার জন্য এক প্রকাশককে টাকাও দিয়েছিল জামান। কিন্তু সব বিফল! টাকা নিয়ে সে আর সেটা স্বীকার করল না! ঝগড়া-ঝামেলা তার একদম ভালো লাগে না। তাই এসবের পিছনে সময় নষ্ট করাটা সমীচীন লাগল না তার। সে আবার নিজের জগতে ডুব দিলো।
তিন
সূর্যের আলো শহরের সুউচ্চ ভবনগুলোকে দিনের আগমনী শোনাল। হাজারো শব্দ ফুঁসে উঠলো নগরের পথে। ঝাঁপিয়ে পড়লো শত সহস্র ও লক্ষ মানুষ দিনটিকে সফল করতে। জামান বাস থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করল। মিনিট দশেক হেঁটে সে পৌঁছল 'সাহিত্যিক' পত্রিকা অফিসে।
বাইরে দুনিয়ায় আলোর জোয়ার! কিন্তু এখানে এখনও গাঢ় ছায়া! সে আটতলা ভবনটার ৬ তলায় এসে সম্পাদকের কথা বলল। তাকে জানানো হলো যে তার আসতে বারোটা বাজবে। তরুণী রিসিপশনিস্ট বলল, আপনি বরং একটু হাঁটাহাঁটি ঘোরাঘুরি করে আসেন। এদিকে কোন কাজ থাকলে সেটা সেরে আসতে পারেন।
শহরের শব্দ আর ধুলোর দূষণে জামান নাকাল। বাইরে বেরুনোর কোন ইচ্ছা নেই তার। আমাকে যদি এখানে কোথাও একটু বসার ব্যবস্থা করে দিতেন, জামান বলল, আমি একটু লেখাপড়া করে নিতাম।
"এই বয়সে এখন আর কী পড়বেন?" তরুণীটি অবাক হলো। তার মনে হয় যে এত লেখাপড়ার কী আছে! একটা চাকরি-বাকরি পেয়ে গেলে ওসব দিয়ে আর হবে কী? জামান বলল, আমি একটু লেখালেখি করি তো—তা নিজের কিছু লেখা একটু এডিট করতাম বসে বসে।
তরুণীটি তার বসার একটা ব্যবস্থা করে দিলো।
বারোটা পেরিয়ে একটা বাজল তবু সম্পাদকের দেখা মিলল না। জামানের ক্ষুধা লাগল। এবার ভাবল সে বাইরে পেরিয়ে কিছু খেয়ে আসবে। কিন্তু পরক্ষণে চারদিকে ছড়িয়ে থাকা শব্দ-সন্ত্রাসের ভয় জেগে উঠল মনে। সে বরং অনাহার মেনে নিল। সম্পাদকের দেরী দেখে রিসিপশনিস্ট তাকে কয়েকটা বিস্কুট আর এক কাপ চা খেতে দিলো।
তিনটার দিকে সম্পাদক এলেন। তার চর্বিমাখা মুখ আর উপচে ওঠা ভুঁড়িতে ফুটে উঠেছে এক আভিজাত্য। নিজের ঘরে ঢুকে তিনি কিছুক্ষণ বিড়ি ফুঁকে নিলেন। রিসিপশনিস্ট জানাল যে সকাল থেকে একজন বসে আছে তার অপেক্ষায়।
"ওহ্ হো! একদম ভুলে গেছি!", আফসোস হলো তার। তিনি জামানকে তার ঘরে ডেকে পাঠালেন।
চার
সম্পাদক এক গাল হেসে জামানকে অভ্যর্থনা জানাল। মুহূর্তেই সম্পাদককে ভালো লেগে গেল তার। কিছুক্ষণ কথা বলার পর সম্পাদক পিয়নকে ডেকে দুইজনের জন্য 'ভালো নাস্তা' আর দুই কাপ দুধ-কফির অর্ডার দিলেন। জামান বলল, অনেক ধন্যবাদ, ভাই। আপনি কি আমার লেখা পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন?
'ভাই' ডাক শোনার জন্য সম্পাদক প্রস্তুত নন। 'স্যার' বলতে বলতে সবাই হয়রান হয়ে যায়! আর এ বলে কী? অবাক লাগল তার। জামান তার চাকরির আবেদনের সাথে দুটো লেখাও পাঠিয়েছিল। সম্পাদক একটা লেখার ওপর কয়েক মিনিট চোখ বুলিয়েছিলেন। পুরো লেখাটা পড়া হয়নি। কিন্তু সে-কথা তিনি প্রকাশ করতে চান না। হ্যাঁ, তা বেশ লেখেন আপনি! সম্পাদক বললেন। আসলে সে জামানের মতো একজন নিরীহ মানুষকে খুঁজছিল, যাকে দিয়ে সুবিধামতো সব কিছু করিয়ে নেয়া যাবে।
সম্পাদক বললেন, তাহলে কাজ তো বুঝতে পেরেছেন? সাহিত্য পাতার লেখাগুলো আপনি পড়ে এডিট করবেন। আমি যেভাবে বলব সেভাবে লেখাগুলো বাছাই করবেন। কোনো কোনো লেখা একটু বদল করাও লাগতে পারে!
জামান বলল, অনেক প্রতিভাবান মানুষ অপেক্ষায় আছেন। অনেক বছর ধরে তারা হয়তো সাধনা করে চলেছেন কিন্তু প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। আমরা যদি ভালো লেখাগুলো ছাপতে পারি তাহলে লেখকেরা কিছু সম্মানী পাবেন। এতে তাদের উৎসাহও বাড়বে। কথাটা সম্পাদকের ভালো লাগল না। আরে ও রাখেন ওসব ভাওতাবাজি, সম্পাদক নাখোশ হয়ে বলল, আমি যেভাবে বলব সেভাবে সব হতে হবে। ওসব আদর্শ-ফাদর্শ এখন চলে না!
কথাটা যেন সরাসরি জামানের বুকের মধ্যে এসে লাগল। সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, স্যার! অনেক ধন্যবাদ। তাহলে কাজটা মনে হয় আমাকে দিয়ে হবে না। যখন কাউকে আপন লাগে তখন তাকে ‘ভাই’ বলতে ভালো লাগে জামানের। সম্পাদককে এখন তার দূরের মানুষ বলে মনে হচ্ছে!
জামানের কথায় সম্পাদকের নিজেকে অসম্মানিত লাগল। 'আমার অফিসে এসে আমাকে অপমান!' উত্তেজিত সাপের মতো তার অন্তর ফুঁসে উঠলো। এ সময় নাস্তা এসে গেল। সম্পাদক অনেকটা হুঙ্কার দিয়ে বললেন, এই নাস্তা নিয়ে যা! এসব মাথামোটা অযোগ্য লোকদের আমরা নাস্তা করাই না!
অনেক ক্ষুধার মধ্যে খাবার দেখে জামান খাওয়ার চিন্তা শুরু করেছিল। কিন্তু সম্পাদকের কথায় সে হতাশ হলো! মানুষের এমন নির্মমতা সে আগে দেখেনি। আমাদের মতের অমিল হতে পারে, তাই বলে মানুষ হয়ে মানুষকে এমন অপমান!
এখানে আর এক মুহূর্তও থাকতে ইচ্ছা করল না তার। সে উঠে পড়ল। "তাহলে আসি!" বলে সে বিদায় নিলো। সম্পাদকের ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে সে চিৎকার শুনতে পেল । সম্পাদক উত্তেজিত হয়ে বলছেন, এসব উজবুক লোকেরা কীভাবে এখানে আসার সুযোগ পায়? ফাহিম কোথায়? এসব অথর্ব লোকদের ও কী দেখে বাছাই করে? ফাহিম হচ্ছে সম্পাদকের ভাগ্নে এবং অফিসের সেক্রেটারি। ছেলেটা বয়সে তরুণ কিন্তু একজন সাহিত্য সমঝদার।
পাঁচ
'সাহিত্যিক' অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এল জামান। চারদিকে কান-ফাটানো শব্দ, অবারিত জীবন প্রবাহ, আর মানুষের পদচারণায় মুখর দুনিয়া। চাকরিটা তার খুব দরকার ছিল, সেটা হারানোর কোন ইচ্ছা তার ছিল না। কিন্তু আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোন কিছু সে পেতে চায় না। চাকরিটা না হওয়ার জন্য তার কোনো খারাপ লাগছে না, বরং তার হতাশ লাগছে এরকম একজন মানুষকে দেখে। এসব মানুষ যদি এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রধান হন তাহলে তাকে দিয়ে কী ভালো হবে? আর যারা এখানে কাজ করছে তারাই বা কেমন আছে? তারা কি নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি সব বন্ধক দিয়ে মাসে মাসে শুধু বেতন নিয়ে চলেছে? হাজারো প্রশ্ন ভিড় করছে তার মনে। অতীত ও বর্তমান দেখে প্রশ্নরাশি সব সব উড়ে উড়ে ছুটে আসছে তার মনে। সে হেঁটে হেঁটে যেভাবে এসেছিল 'সাহিত্যিক' অফিসে, সেই একইভাবে হেঁটে চলল বাস স্ট্যান্ডের দিকে।
কিছুক্ষণ পর একটা বাস হাক-ডাক শুরু করল। জামান উঠে পড়ল তাতে। কাল রাতে ঘুমটা ঠিকমতো হয়নি, সারাদিন খাওয়া-দাওয়া নেই, এখন তার ক্লান্ত লাগছে। সে বাসের সিটে বসে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল।
সন্ধ্যা হতে বিশেষ বাকি নেই। চারদিকে নিভে আসছে দিনের আলো। জামানসহ আরও যাত্রীদের নিয়ে বাস এসে থামল জামানের ছোট শহরে। গাড়ি থেকে নেমে জামান তার পরিচিত ছোট এক রেস্টুরেন্টে ঢুকে কিছু খেয়ে নিলো। চায়ে চুমুক দিতে দিতে তার মনে পড়ল পুরনো দিনের কথা।
তার হতাশা, ব্যর্থতা আর দুর্বলতা সব যেন উঁকি দিল আজ সন্ধ্যাবেলা! তার মনে হতে লাগল তার নিজের জীবনটা যেন এক অনিশ্চিত যাত্রা। বাবা বলেছিলেন, মানব জীবনই অনিশ্চিত। যে কোন দিন যে কোন মুহূর্তে যে কেউ থেমে যেতে পারে! কিন্তু এসবের মাঝেও তো সংসার আর জীবন সাজিয়ে চলে মানুষ!
বাবা ঠিক বলেছিলেন, জামান ভাবে। সব ঠিক আছে, কিন্তু আমি খুব চালাক মানুষ নই। হয়ত বিয়ের খপ্পরে পড়লে লেখালেখিটা বন্ধ হয়ে যাবে চিরতরে! আর কিভাবে বা আমি সংসার চালানোর জন্য এত আয় উপার্জন করব?
যেভাবে সে বড় হয়েছিল তা ছিল এক নিতান্ত সহজ সরল যাত্রা। ধূর্ত আচরণ, কাউকে ঠকানো বা কষ্ট দেয়া এসব তার কাছে এক বড় বিশ্রী ব্যাপার। সে জানে লেখক হতে হলে যে সৎ হতেই হবে এমন কথা নেই। অসৎ আর অন্যায়কারী কত মানুষও তো লেখক হয়! অনেকে নাম করে, টাকা করে... আরও কত কী করে! সত্যিকারে অর্থে জামান জানে না যে কীভাবে অসৎ হতে হয়, কীভাবে অন্যকে ধোঁকা দিয়ে টাকা আয় করতে হয়!
রেস্টুরেন্টের বিল পরিশোধ করে সে খালের বাঁকে এসে গেল। সন্ধ্যার আকাশে কোন তারা নেই আজ। কিছু পাখির দল পাশের এক বাঁশ ঝাড়ে আনন্দ উল্লাস করে চলেছে। জামান খালের পাড় ঘেঁষে পায়ে চলা পথ ধরে হেঁটে চলল। তার মনে হলো সেই ছেলেবেলার কথা, কলেজের দিনগুলোর কথা। সে বুঝতে পারে যে এই জীবনে এই দুনিয়ায় কেবল একটা কাজই সে সব থেকে ভালোবাসে—তা হলো লেখা-পড়া।
লেখা-পড়াকে সে ভালোবেসেছে, লেখা-পড়াকে সে ভালোবাসে—এবং হয়ত বাকী জীবন লেখা আর পড়াকেই সে ভালোবেসে যাবে। এখন তার একটা আয়ের ব্যবস্থা দরকার। যদি সে এই চাকরিটা পেয়ে যেত তাহলে বেশ সহজে কাজটা চালিয়ে নেয়া যেত।
যাইহোক, হঠাৎ তার রউফের কথা মনে পড়ল। রউফ তার এলাকার ছোট ভাই। সব্জির ব্যবসা করে। অনেক দিন ধরে রউফ তার কয় বিঘা জমিতে সব্জি চাষ করতে চায়। ও চায় যেন জামান তার পার্টনার হয়। লাভ-ক্ষতি যা হয়, দুজন সমান ভাগ করে নেবে। জামানের মনে হলো, এটাও মন্দ না। মাঝে মাঝে মাঝে মাঝে সব্জির বাগানে কাজ সে করতে পারবে। পাইকারদের সাথে কথা বলা কী অন্য কোথাও সব্জির চালান পাঠানো — এসবও সে পারবে। । মাঝে মাঝে এসব করলেও লেখা আর পড়ার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে থাকবে তার। লেখা ছাপা হোক আর না হোক, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক —লেখক হিসাবে আমার কাজ লিখে যাওয়া!
ভাবতে ভাবতে কখন যে জামান তার বাড়ির দুয়ার পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেছে বুঝতে পারেনি। এখন হঠাৎ খেয়াল হলো যে বেখেয়ালে নিজের ঘর সে ফেলে এসেছে পিছনে! নিজের দিক সে বদলে নিল তাই। এখন কিছু দূরে দেখা যাচ্ছে তার বাড়ি। তার অপেক্ষায় সেখানে প্রহর গুনছে কামিনী, বেলী, চন্দ্রমল্লিকা, হাসনাহেনা আর শিশির-স্নাত শত গুল্ম লতা ঘাস !
©somewhere in net ltd.