| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এখনও প্রাণে বাজছে! আমার দেহ দিল মন মধুরতায় ছেয়ে আছে!
কাল জুমার দিন ছিল!
সাত দিনের সর্বোত্তম দিন এটা!
এ দিন মুসলমানের শিরায় শিরায়, রক্তপ্রবাহে অজাগতিক এক দীপ্ত অনিন্দ্য আকাশচুম্বী উপলব্ধি বিচরণ করে! প্রভাতের দেখা না পেতেই জুমার আগমনী সংবাদ এসে উঁকি দেয়! এ দিনের আবহাওয়ায় সোনার সৌরভ ছল ছল করে! অনুভূতির তাজা গন্ধে ঘুম আসে না এ দিন! এ সৌরভ! এ উপলব্ধির চূড়া সীমা সপ্ত আকাশে প্রোথিত! এ উপলব্ধির সমুখে নতশির সর্ব সৃষ্টি!
জুমাবারের জবানবন্দি লিখছি....
শুক্রবার! আজ ঘুমের ডোরটা অনেক সময় করে খুলেছে। নিদ্রাবাবুর বিদায়ের পর থেকে জুমার আবহ মনে একের পর এক পবিত্র এক আবেশ তৈরি করে চলেছে! চারদিকে জুমার আমেজ! সবার অন্তরে জুমায় যাওয়ার আমোদ! চারপাশে শুধু জুমা আর জুমা ভাসছে! জুমার নামাজের ক্ষণিক পূর্বে মসজিদ পানে রওনা দিই। সভ্য আর পরিচ্ছন্ন পরিচ্ছেদ গায়ে শত শত জুমা পাগল মুসলমান মসজিদ প্রাঙ্গনে গিজগিজ করছে!মসজিদ লোকে লোকারণ্য! তিল ঠাঁই নেই! সঙ্গে ছিল সম্মানিত এক বড় ভাই। দু সিঁড়ির মাঝখানটায় ফাঁকা মেঝেতে দুই কাতারের পেছনের কাতারে দাঁড়ালেন তিনি! আমি ওনাকে পাশ কেটে উপরে চলে যাই। অনেক পরিশ্রমে বল খরচ করে পেছনের কাতারে ঢুকে গেলাম! জড়সড়ো কাঁচুমাচু হয়ে নামাজ পড়ে শেষ করলাম! জুমার এই আমেজ আমার মনে দাগ কেটেছে, কী বলব আমি! ভাষা নেই প্রকাশ করার মতো! মুসল্লিদের দেখে লাগছিল যেন একজনে অপরজনার ঘাড়ে চড়ে নামাজ শেষ করতে চায়! ঈদের আমেজটাও এমনই হয়! এ দিনটাও তো সাপ্তাহিক ঈদ! এ দিনে ঈদের উপস্থিতি চোখে পড়ে!
নামাজ শেষে আমার অনুভূতি ছিল আমি যেন পৃথিবী জয় করে ফেলেছি! হিমালয় পর্বত আমার তরে তুচ্ছ কোনো পাত্র! সাইক্লোন আর বিধ্বংসীগুলো খোলা মাঠে উদিত শর!
জুমাকে বিদায় জানিয়ে ফিরে এলাম। কিন্তু এলে কী হবে! জুমা ফুরিয়েছে; জুমাবার তো এখনো ফুরোয়নি!
এই মোহনীয় আবেশকে সঙ্গী করে সারাটা দিন কেটে গেল!
হৃদয়ে এখন নতুন এক জুমাবারের প্রতীক্ষা....
-
আফফান কান্দুরী
©somewhere in net ltd.