নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আহমদ জসিম জার্নাল

নিজের ভাবনা অন্যকে জানাতে ভালো লাগে।

আহমদ জসিম

মূলত গল্প ও প্রবন্ধ লিখি।

আহমদ জসিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

হুমায়ুন আহমেদের পাঠক অথবা তরুণদের সাহিত্য জ্ঞান!

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৪৬



আমি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িনি,তদুপি কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমাকে চ,বি'র ক্যাম্পাসে নিয়মিত যেতে হতো।আমি আর প্রপদের নুসরাত জাহান আমরা দু'জনে মিলে ক্যাম্পাসে ছোট্ট একটা পাঠচক্র চালাতাম। পর্বত্য চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার উপর চলমান রাষ্ট্রিয় নীপিড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ছিল পাঠচক্রের উদ্দেশ্য(এ-বিষয় আমার লেখা ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার প্রশ্নের রাষ্ট্রের ভূমিকা ও আধিপত্যের ভাষা, ছাপা হয়েছে ব্লগ সিএসটি বিডি ও মার্মা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের বার্ষিক প্রকাশনা চেদনাতে) এই সময় আমার একমাত্র গল্প গ্রন্থ ‘যে ভাবে তৈরি হলো একটি মিথ’ প্রকাশ হয়, একদিন আইন শাস্ত্রের এক ছাত্র নিজের পরিচয় দিয়ে বললে, নন্দন লাইব্রেরি থেকে কিনে সে আমার বইটা পড়েছে, তার খুব ভাল লেগেছে। চোখের সামনে নিজের পাঠক দেখে আমি খুশিতে আত্মহারা।মুহূর্তে ভুলে গেলাম বই করতে গিয়ে বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েছি।সাহিত্য নিয়ে একটু গপসব করার উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে গেলাম ঝুপড়ির দিখে।দু'কাপ চা'র কথা বলে আলাপ শুরু করবো এসময় সে আমাকে বললে,ভাই আপনার বইটা কিনারসময় শুনলাম আখতারুজ্জান ইলিয়াস নামে একজন লেখক আছে ।আমি তার দিকে বিস্ময় তাকিয়ে আছি দেখে সে আরো বললে, আসলে চেরাগীতে বন্ধুরা মিলে গেলাম আর বই কিনলাম না এটা কী করে হয়। আপনারটা নিলাম দাম কম(৬০টাকা) আর প্রচ্ছদ সুন্দর দেখে। সত্যিইতো বিস্ময়কর বটে, আখতারুজ্জামন ইলিয়াসের মহাকাব্যিক সৃষ্টি খোয়াবনামার এক পৃষ্টার ওজন নেওয়ার ক্ষমতা নেই এই হুমায়ুন আহমেদের, অথচ তারাই জাতি তথা তরুণদের হিরো। আর ইলিয়াসরা এখনো অজ্ঞাত আমাদের তরুণ সমাজের কাছে। তাই সত্যিই আমি চরম হতাশ আমাদের তরুণ সমাজের সাহিত্য জ্ঞান দেখে।

মন্তব্য ৯২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৯২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৫৬

প্রেমহীন পৃথিবী বলেছেন: গল্প কার..............?

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০০

আহমদ জসিম বলেছেন: ঠিক বুঝলাম না।

২| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০০

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: কোন লেখকের সঙ্গে অন্য লেখকের তুলনা করাটা অর্থহীন। যে যার মতো। কাউকে ছোট কাউকে বড় করা যায় না।

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০২

আহমদ জসিম বলেছেন: তবে শিল্পের মান বিচার করবেন কী দিয়ে, কিংবা পার্থক্য করবেন কী ভাবে একজন রবীন্দ্রনাথের সাথে কাসেম বিন আবু বকরের।

৩| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০২

স্পর্শের বাহিরে বলেছেন: আপনার সেই কালজয়ী লেখকের কালজয়ী সাহিত্য ধর্মগ্রন্থের মতো বুক সেলফে আগলে রাখুন। যেই সাহিত্য সাধারন মানুষের এন্টিনায় ধরে না সেটা সাহিত্যিক নিজের শেলফে রাখলেই পারেন প্রকাশের কি দরকার। হুমায়ূন বুঝতে হলে তার মিসির আলীর প্রথম দিকের কিছু বই পড়ুন। সহজভাষায় লিখে বলে হুমায়ূন এর সব লেখা বুঝতে পারেন আর ঐ সব কালজয়ীদের কিছুই এন্টিনায় ধরে না বলে ভাবেন আরে বাহ কি ভাষা রে। হায়রে জ্ঞ্যানপাপী...

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০৮

আহমদ জসিম বলেছেন: যা বলেছেন ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ।সত্যিইতো সাহিত্যও কিন্তু জাতির কাছে ধর্মগ্রন্থেরমতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে যদি সে সাহিত্য জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়। যে ভাবে লেভ তলস্তয় রুশ জাতির আয়না বলা হয়। কিংবা আমাদের মুক্তিসংগ্রামে নজুরুলের গান কবিতা অনুপ্রাণিত করেছে।

৪| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:০৮

স্পর্শের বাহিরে বলেছেন: "বাংলা সাহিত্যের কোনো এক ‘কালজয়ী’ লেখকের সঙ্গে ‘বাজারি লেখক’ হুমায়ূন আহমেদের কথা হচ্ছিল—
কেমন আছেন হুমায়ূন সাহেব?
জি, ভালো। আপনি ভালো তো?
জি, তা ইদানীং কি নতুন কিছু লিখছেন?
একটা সস্তা প্রেমের উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি। তবে যতটা সস্তা হওয়া প্রয়োজন ততটা হচ্ছে না। এ জন্য একটু শঙ্কিত। দোয়া করবেন, যেন লিখতে পারি।
কালজয়ী লেখক চুপ।
তা আপনি কি নতুন কালজয়ী কোনো কিছু লিখছেন?
আপনার রসবোধ ভালো।"



স্যার এর নখের যোগ্য নয় এমন কিছু ব্লগার এতোদিন স্যার এর নিন্দা করতে ছাড়ে নি। তাদের জন্য একটাই প্রশ্ন আপনি বা আপনার সেই সব আতেল কালকজয়ী সাহিত্যিকরা কি সাহিত্য প্রসব করেছে যার জন্য মানুষ তাদের হুমায়ূন স্যার এর মতো এভাবে শ্রদ্ধা করতে পারবে? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন ...

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:১৩

আহমদ জসিম বলেছেন: প্লিজ পড়ে দেখুন, চিলেকোটার সেপাই, খোয়াবনামা। কিংবা গল্পগুলো। আরো পড়ুন, আহমদ ছফা, মাহামুদুল হক, রশীদ করীম।প্রবন্ধ সাহিত্যের জন্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী , বদরউদ্দিন উমর, হুমায়ুন আজাদ।

৫| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:১৫

ভাইরাস রেদওয়ান বলেছেন: স্স্পরসের বাহিরে বলেছেন: "বাংলা সাহিত্যের কোনো এক ‘কালজয়ী’ লেখকের সঙ্গে ‘বাজারি লেখক’ হুমায়ূন আহমেদের কথা হচ্ছিল—
কেমন আছেন হুমায়ূন সাহেব?
জি, ভালো। আপনি ভালো তো?
জি, তা ইদানীং কি নতুন কিছু লিখছেন?
একটা সস্তা প্রেমের উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি। তবে যতটা সস্তা হওয়া প্রয়োজন ততটা হচ্ছে না। এ জন্য একটু শঙ্কিত। দোয়া করবেন, যেন লিখতে পারি।
কালজয়ী লেখক চুপ।
তা আপনি কি নতুন কালজয়ী কোনো কিছু লিখছেন?
আপনার রসবোধ ভালো।"


স্যার এর নখের যোগ্য নয় এমন কিছু ব্লগার এতোদিন স্যার এর নিন্দা করতে ছাড়ে নি। তাদের জন্য একটাই প্রশ্ন আপনি বা আপনার সেই সব আতেল কালকজয়ী সাহিত্যিকরা কি সাহিত্য প্রসব করেছে যার জন্য মানুষ তাদের হুমায়ূন স্যার এর মতো এভাবে শ্রদ্ধা করতে পারবে? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন ...

শত ভাগ সহমত। :)

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:১৮

আহমদ জসিম বলেছেন: এই প্রশ্নের জবাব একবার দেওয়া হয়েছে।

৬| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৩০

জটিল বলেছেন: নাক উঁচু ভাব এসে গেসে আপনার, তুলনা করাটা কিন্তু স্বাভাবিক কিছু নয় যেখানে লেখক হিসেবে প্রত্যেকের সত্ত্বা আলাদা। কমলকুমারের সাথে ত্রৈলোক্যনাথের তুলনা হয়না। ব্যাপারটা খেয়াল রাখবেন।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৩০

আহমদ জসিম বলেছেন: কিন্তু একজন মহৎ শিল্পি থেকে একজন বাজারি শিল্পি আলাদা করা আমার দায়ত্ব।

৭| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৩১

স্পর্শের বাহিরে বলেছেন: হুমায়ূন আজাদের নাম বললেন। প্রথম প্রশ্ন আপনি কি মুসলমান। মুসলমান হলে উনার পাক সার জমিন সাদ বাদ পড়ে দেখেছেন? যেকোন সচেতন মুসলমানের মন চাইবে লেখকের গালে চড় মারা। হুমায়ূন আহমেদ যদি ভাড়ামো করেন তবে ঐ সব কালজয়ী গুলো কি? কঠিন কঠিন শব্দ আর যৌনতার অবাধ ছড়াছড়ি দিলেই কি সুসাহিত্য হয়ে যায়। আমরা বাংগালীরা সহজকে গনায় ধরি না জটিলকে মাথায় তুলি। আফসোস...সম্ভব হলে আবারো বলছি মিসির আলীর বৃহন্নলা,নিশিথীনি পড়ে দেখুন এই টাইপের বই কেউ পড়ে নি। আর আপনার কালজয়ীরা যা দিতে পারে না হুমায়ূন স্যার তা দিয়েছেন। অসাধারন সব সাইন্সফিকশন। জাফর স্যার এই লাইনে উনার নখের যোগ্য নয়। আর কিছু না হোক হুমায়ূন স্যার এর কিছু সাইন্সফিকশন পড়ুন,উনার পুরাতন নাটকুগুলো দেখুন,বিখ্যাত গানগুলো শুনুন। ভাই জ্ঞ্যানপাপী একবার ভাবুনতো এই হুমায়ূন এক জীবনে কি দিয়েছেন আর আপনার কালজয়ী সেই সাহিত্যিকরা সবাই মিলে কি দিয়েছেন?

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৪৫

আহমদ জসিম বলেছেন: ''প্রথম প্রশ্ন আপনি কি মুসলমান''আমার প্রশ্ন আপনে কী ধর্ম প্রচারক? কথা হচ্ছে সাহিত্য নিয়ে আপনে ধর্মের প্রশ্ন তুলেছেন কেন।হুমায়ুন আজাদ মূলত গবেষক প্রবন্ধিক, তঁার লেখা দার্শনিক গ্রন্থ ''আমার অবিশ্বাস''গত একশ বছরে লেখা হয়নি। জী, বৃহন্নলা আমি পড়েছি এবং তার উল্লেখযোগ্য প্রায় সব লেখায় আমার পড়া আছে। কিন্তু আপনারা কেন শুধু হুমায়ুন আহমেদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন অন্যলেখাগুলো পড়ছেন না। মুসলমানিত্ব খারিজ হয়ে যাবার ভয়ে।

৮| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৩৫

সুদীপ্ত কর বলেছেন: স্স্পরসের বাহিরে বলেছেন: আপনার সেই কালজয়ী লেখকের কালজয়ী সাহিত্য ধর্মগ্রন্থের মতো বুক সেলফে আগলে রাখুন। যেই সাহিত্য সাধারন মানুষের এন্টিনায় ধরে না সেটা সাহিত্যিক নিজের শেলফে রাখলেই পারেন প্রকাশের কি দরকার। হুমায়ূন বুঝতে হলে তার মিসির আলীর প্রথম দিকের কিছু বই পড়ুন। সহজভাষায় লিখে বলে হুমায়ূন এর সব লেখা বুঝতে পারেন আর ঐ সব কালজয়ীদের কিছুই এন্টিনায় ধরে না বলে ভাবেন আরে বাহ কি ভাষা রে। হায়রে জ্ঞ্যানপাপী...

এটাই মোদ্দা কথা। বই তো আর সাজানোর জন্য না বা বিতঙ করে বলার জন্য না যে আমি তমুকের বই পড়ি।
এটা শিউর থাকেন যে হুমায়ুন আহমেদের বই যে একবার পড়েছে বলে স্বীকার করেছে সে অই বইটা পুরা মাথায় নিয়ে নিয়েছে।

বাকী সবই অসার ভাবভংগী...

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৪৭

আহমদ জসিম বলেছেন: আপনার বক্তব্য পরিস্কার হলো না।

৯| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৪৬

তারিক মাহমুদ (তারিক) বলেছেন: হুমায়ূন পাঠকদের কে হুমায়ূন ছাড়া অন্য কারো কথা বলে লাভ নাই। উহারা হুমায়ূন বিষে বিষাক্ত হইয়া গেছে।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৪৬

আহমদ জসিম বলেছেন: সমমত, ধন্যবাদ।

১০| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৫০

সুদীপ্ত কর বলেছেন: @তারিক মাহমুদ>> আপনি কার অমৃতে অমর হইসেন বলেন তো। কার কার বই পড়সেন?

১১| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৫

শাহ মো. আরিফুল আবেদ বলেছেন: লেখাজোকা শামীম বলেছেন: কোন লেখকের সঙ্গে অন্য লেখকের তুলনা করাটা অর্থহীন। যে যার মতো। কাউকে ছোট কাউকে বড় করা যায় না।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৪৯

আহমদ জসিম বলেছেন: তবে শিল্প বিচারের মান ডন্ড কী? একটু বুঝিয়ে বলেন।

১২| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৭

ষাটোর্ধ্ব যুবক বলেছেন: তুলনা করলে হুমায়ুন আহমেদ কাজীদার ধারেকাছেও নেই অথচ.......

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৫০

আহমদ জসিম বলেছেন: কাজীদাটা আবার কে?

১৩| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:০৩

জ্বীন কফিল বলেছেন: হুমায়ুনের সমালোচনার নামে দেখি নিজের ঢোলই বাজায় গেলেন।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৫০

আহমদ জসিম বলেছেন: তা মাঝে মাঝে বাজাতে হয় বইকী।

১৪| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৪৫

এস আর সজল বলেছেন: আমি ওই বাজারি লেখকের অন্ধ ভক্ত, কারো কোন সমস্যা। ওই বাজারি লেখকের বই পড়ে প্রথম রাতের বেলা বসে বসে জোছনা দেখেছি। প্রথম কল্পনা করতে শিখেছি, প্রথম প্রেমে পড়েছি, প্রথম ছ্যেকা খেয়ে ঠিক থাকার শক্তি পেয়েছি। সব কিছু সহজ ভাবে ভাবতে শিখেছি। বিজ্ঞান শিখেছি। ওই বাজারি লেখকের বানানো নাটক দেখে "তুই রাজাকার" গালি শিখেছি। কারো কোন সমস্যা????????????????? X((

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৫৬

আহমদ জসিম বলেছেন: জি, না, সমস্য নেই। সমস্য হবে যখন আপনার মতো হুমায়ুন আহমেদ পড়ে অধিকারের প্রশ্ন এড়িয়ে করুন করতে শিখবে। মনে রাখবেন করুনা কিন্তু চরম অপমান কর শব্দ।

১৫| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫০

সারথী মন বলেছেন: একেই বলে- চ্যাপো,র পোস্ট।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৫৯

আহমদ জসিম বলেছেন: তাই নাকি?

১৬| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৯:২৮

আমি কেউ না বলেছেন: শরত্‍ যখন লেখা শুরু করছিলো তখন বুইড়া শকুনগুলা (আর পাতি আতেলরা) তারে গাইল্লাইতে চড়ে নাই...
সাহিত্য মানে 50-100 বছর আগে গিয়ে পরে থাক নয়...

৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৫৮

আহমদ জসিম বলেছেন: ওই রকম গালি রবীন্দ্রনাথও খেয়েছেন।তবে শরৎ-এর সময়কালে সাহিত্য বোধকরি আজকের যুগের মতো পণ্য হয়ে উঠে নাই।

১৭| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১:০৯

রাশেদ হাসান নোবেল বলেছেন: ashce r ek sahitter ejara dar! Shahitter shonga ki? Ekti shahitto kormer sharthokota kothay? Shahitter valo mondo bicharer man dondota ki? Humaun ahmed shoman ekta prishtha likhen tar por shomalochona korte aishen. X(

১৮| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১:১০

রাশেদ হাসান নোবেল বলেছেন: ashce r ek sahitter ejara dar! Shahitter shonga ki? Ekti shahitto kormer sharthokota kothay? Shahitter valo mondo bicharer man dondota ki? Humaun ahmed shoman ekta prishtha likhen tar por shomalochona korte aishen. X(

১৯| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১:৩৪

আবদুল্লাহ্‌ আল্‌ মামুন বলেছেন: কারো সাথে কারো তুলনা কেন। আমি পাঠক হিসাবে, সামনে যা পাই তাই পড়ি। তবে কারো কারো লেখা একবারের বেশি পড়তে ইচ্ছে করে.....


হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন, এই আর কি !

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:৫৮

আহমদ জসিম বলেছেন: আপনে কী ঘি আর গু এর পার্থক্য বুঝেন না?

২০| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ২:২৬

শাহেরীন বলেছেন: আমার মনে হয় আবেগের মাত্রা বেশ কমে গেছে, সেই সূত্রে সম্ভবতঃ এই জাতির ধারকদের মাঝেও আমি কেউ নয়...এ জাতির আবেগ আসলেই মাত্রাহীন! কখনো গালি দিতেও কম হয় না, আবার মহামানব বানাতেও এ জাতির জুড়ি নেই!
তাই হয়তো হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যু খবর শুনে ভাবাবেগের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি আমার, প্রতিদিন আমার দেশের আর দশটা জনগণের মৃত্যু খবরের মতো একটা খারাপ লাগা, বিশেষ কিছু নয়...

এই রাষ্ট্রে ২ টাকার মজুরী বৃদ্ধির জন্য আমার ভাই গুলি খেয়ে মরে! আর হুমায়ুন আহমেদ তো মারা গেছেন পরিণত বয়সে সর্বোচ্চ চিকিৎসা লাভের পর!!!

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:০১

আহমদ জসিম বলেছেন: চমৎকার বলেছেন, তার ছেয়ে অনেক বেশি কেঁধেছে মিড়িয়া। এটা যে তাদের বাণিজ্যের স্বার্থ জড়িত।

২১| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ২:২৭

শাহেরীন বলেছেন: হাজারো কিশোরের মনে দাগ কেটেছে হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল'রা...কিন্তু হয়তো সকলেই হিমু মার্কা লেখা থেকে পরবর্তীতে বেরুতে পারে না... আর কর্মবিমুখ, ভাববাদী চরিত্র তৈরীর দায় হুমায়ুন আহমেদ কখনোই এড়াতে পারেন না। তিনি নিঃসন্দেহে বড় মাপের লেখক হতে পারতেন, সে ক্ষমতা তার ছিল, কিন্তু লেখার বাজার হারানোর ভয়ে এই ক্ষণিকের বিনোদনের বাইরে তিনি খুব কমই লিখেছেন... এমন কি তার লেখক জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়েও তিনি হিমু'কে আইডল হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেন তরুণেরা সমাজ নিয়ে না ভাবেন... সর্বদাই তার লেখা ছিল শাসকশ্রেণীর পক্ষাবলম্বন করে এবং নিজের লেখার বাণিজ্যকে উর্ধ্বে তুলে... তাকে বিশ্লেষণের সময়ে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখাটা জরুরী বলেই মনে করি...

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:০২

আহমদ জসিম বলেছেন: সমমত।

২২| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ২:২৭

শাহেরীন বলেছেন: কিছুদিন আগ পর্যন্ত হূমায়ুন গুণীমানুষ ছিলেন। মারা যাওয়ার পর হলেন মহামানব। এখন চ্যানেল ঘুরিয়ে দেখা যাচ্ছে তিনি 'নবী' হয়ে গেছেন! এই 'নবীর' মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সাহাবী এবং উম্মতের নবীবন্দনা চলছে......। চলবে আরও বেশ কিছুদিন। চলুক, তাতে সমস্যা নেই, তারপর এমনি থেমে যাবে, ভুলে যাবে...
হয়তো আগামী বছরের এই সময়ে তাকে ঘিরে “হুমায়ুন মেলা” শুরু করতে পারে প্রথমালু, অন্যপ্রকাশ, চ্যানেল-আই গং। আর তখন হয়তো এই উম্মতগণের নবী বন্দনা, আর আহাজারী আবারো শুরু হবে! আর এই শোকের ব্যবসাটা কিন্তু বেনিয়া মিডিয়া আর বই-ওয়ালারা ঠিকই খুব ভাল করে করেছে, করছে এবং করবে! হুমায়ুন আহমেদ এই পাঠককুলের জন্য নবীতুল্য হলেও ওই বেনিয়াদের কাছে কেবলই সেলেবল কমোডিটি! যাকে তারা জীবিত অবস্থায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিক্রি করেছে, আর এখন মারা যাওয়ার পরও এই বেনিয়াদের ব্যবসা বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং বেড়েছে!! গত বই মেলায় হুমায়ুন আহমেদের ৬টা বই ওই বেনিয়ারা আঁটকে রেখেছিল, বই সম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রকাশিত হলো না? তারা কী হুমায়ুন আহমেদের মারা যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন? হয়তো তাই, প্রথমালু গং-এর পক্ষে তা অসম্ভব কিছু মোটেও নয়। হয়ত তার অসম্পূর্ণ লেখা অন্য কাউকে দিয়ে শেষ করিয়ে প্রচার করবে “এটাই হুমায়ুন আহমেদের জীবনের শেষ লেখা”; আর এতেই হুমড়ী খেয়ে পড়বে হুমায়ুন আহমেদের উম্মতগণ... ব্যবসায়ীদের ব্যবসা শতভাগ সফল!!!

২৩| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ২:২৭

শাহেরীন বলেছেন: আরেকটা কথা মনে পড়লো, ক'দিন আগে মাপুজমিডিয়ার (এটিএন) ভাঁড়নি (মুন্নী সাহা) তার বিখ্যাত (!) ভাঁড়শো’র শেষে ঘোষণা করলেন; তিনি (হূমায়ুন) বাঙালিকে পড়তে শিখিয়েছেন!!!
অর্থাৎ, হূমায়ুন বাঙলার আকাশে উদীত হওয়ার আগে এ জাতির কেউ পড়তে জানত না!!!

এই মিডিয়া একজন অদৈত মল্ল বর্মণের নাম জপে না, কারণ তাকে চেনাতে হলে নিজেদেরকেই আগে চিনতে হবে। কিন্তু চেনা বামুন হূমায়ূনকে ফেরি করতে ট্যাক্সো লাগে না, কারণ হূমায়ূন হটকেক কমোডিটিজ!!!
দালাল মিডিয়া সর্বদাই দালালী আর বাণিজ্যের নেশার বুঁদ হয়ে থাকে... তাইতো মৃত্যুর পরেও হুমায়ুন আহমেদ'কে বেচতে তারা ভুল করছে না বিন্দু মাত্র... আর আবাল মধ্যবিত্তের দল হুমায়ুন'কে 'নবী' বানিয়ে চলেছে, এমনকি যারা এতোদিন 'দেয়াল' নিয়ে তাকে উঠতে বসতে গালি দিত, তারাও এখন নাঁকী নাক্কায় মশগুল!!!

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:০৬

আহমদ জসিম বলেছেন: ুমায়ুনের জন্য ছিচকঁাদুনেদের আপনার কমেন্টগুলো পাঠ করা উচিৎ।

২৪| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:২৪

এস আর সজল বলেছেন: লেখক বলেছেন: জি, না, সমস্য নেই। সমস্য হবে যখন আপনার মতো হুমায়ুন আহমেদ পড়ে অধিকারের প্রশ্ন এড়িয়ে করুন করতে শিখবে। মনে রাখবেন করুনা কিন্তু চরম অপমান কর শব্দ।

আপনি বলতে চাচ্ছেন যে যারা হুমায়ূন পড়ে তারা অধিকারের ব্যাপারে অজ্ঞ, তারা করুণা খোজে????

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:১০

আহমদ জসিম বলেছেন: আমি বলিনি আপনে বলেছেন হুমায়ুন আহমেদ পড়ে কিসব শিখেছেন, আমিও হুমায়ুন আহমেদ পড়েছি তবে আপনার মতো করে শিখিনি।

২৫| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:৩২

এস আর সজল বলেছেন: @শাহেরীনঃ স্যার তো মারা গেলেন, দেখবো তো এবার ওইসব সাহিত্যের মহামতিরা কি বা*টা ছিঁড়েন। বইমেলা হোক কিংবা ঈদসংখ্যাই হোক, দেখবো তো তাদের ক্ষমতা। কতটা পাঠক তারা ধরে রাখতে পারেন। শরৎ তাঁর জীবনকালে এমন অনেক আঁতেল সাহিত্যিকের সমালোচনার মধ্য দিয়ে গেছেন। এখন কোথায় শরৎ আর কোথায় সেই সব আঁতেলরা।
বাংলাদেশের মানুষ বইমেলায় যাওয়া আর বই পড়া শিখেছে ওই ফ্যামিলির তিন ভাই আর সেবা প্রকাশনীর জন্যে।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:১৩

আহমদ জসিম বলেছেন: একজন লেখকের মৃত্যুরপর, যাদের সাহিত্য পাঠ শেষ হয়ে যায়, এমন পাঠক সাহিত্য ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।অতএব চিটা বাতাসে ভেসে যাবে আসল বিচ থেকে যাবে।

২৬| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:১০

মনোয়ার রুবেল বলেছেন: আঁতেল ব্লগ লেখক।

৩০ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:১৪

আহমদ জসিম বলেছেন: ছিঃ ওভাবে বলরেত নেই।

২৭| ৩০ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:০৭

চোরা শিকারি বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনে কী ঘি আর গু এর পার্থক্য বুঝেন না? হা হা তাই তো বলে কুকুরের পেটে ঘি সহ্য হয় না X(
আর একজনের সাথে অন্য একজনের সাথে তুলনা করার আগে দেখুন আগে তাদের রচনা এক রকম কি না,আর বর্তমান অবস্থা হয়েছে অনেকটা এমন যে যত কঠিন করে কথা বলবে তারাই তত বড় লেখক হয়ে যাবে X((
আগে সকল কে সম্মান করতে শিখুন তারপর কথা বলুন

৩১ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৩১

আহমদ জসিম বলেছেন: মানহীন সাহিত্য পাঠে অবস্ত হয়ে উঠলে যে কোন সিরিয়াস সাহিত্যকে কঠিন মনে হতে বাধ্য। আর একটা কথা মনে রাখবেন সকলকে সম্মান করে সুবিধাবাদীরা।

২৮| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১:০৫

এস আর সজল বলেছেন: ভাই আপনাকে আমি চিনি কিংবা জানি না, যদি চিনতাম বা জানতাম আপনাকে ধরে এনে আমার বাসায় আমার বাবার তৈরি পারিবারিক পাঠাগারটা দেখাতাম। সেই ১৯৪০দিকে দাদার কেনা বই থেকে শুরু করে আমার ছোট ভাইয়ের গত সপ্তাহের কিনা বইটাও আছে। যে পরিমাণ বই আমার সংগ্রহে আছে তাঁর ১০ভাগের একভাগ আপনি পড়েনওনি। আর বন্ধু-বান্দব আর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কথা তো বাদই দিলাম।
ধান ধরে পরীক্ষা করে বলবেন, আন্দাজের উপর বলবেন না।

৩১ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:৫৩

আহমদ জসিম বলেছেন: ভাই, এখানে ব্যক্তিগত আক্রমনের কোন সুযোগ নেই।তবে বই থাকলেই পড়বে, আর পড়লেই সে জ্ঞানি হবে এমন ধারণাতে আমার বিশ্বাস নেই। একটা কথায় শুধু মনে রাখবেন যারা স্রেফ পড়ার জন্য পড়ে তারা একটা মুরগী জবায় করার চেয়েও সহজ কাজ করে।পাঠ এবং সেই পাঠ অভিজ্ঞতাকে যথাযত বিচার বিশ্লেষণ করার জন্য চায় নিজের মধ্যে একটা শক্তিশালী দাশরইনক বুনিয়াদ।

২৯| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:০৪

নিয়েল ( হিমু ) বলেছেন: প্রথম মন্তব্যকারীর জবাবে আপনি বলছেন "বুঝলাম না"
আসলে আপনার এই বল্পুষ্টের কিছুই আমি বুঝলাম না।

৩১ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:৩৫

আহমদ জসিম বলেছেন: দ্বিতীয়বার পড়ুন।

৩০| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩০

নিয়েল ( হিমু ) বলেছেন: এই বার বুঝছি । বাবারে বাবা হুমায়ূন আহমেদ উদ্ধার হৈল আপনার হাতে ।

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:১৫

আহমদ জসিম বলেছেন: তাই নাকী?

৩১| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪২

টিকেটার বলেছেন: হুমায়ুন আহমেদ খুব ভাল এন্টারটেইনার । তার লেখাও খুব মজা লাগে । কিন্তু তার বইগুলা সেবার বইয়ের মত , শুধু মজা । সাহিত্য বলতে আমরা যা বুঝি তিনি আসলে তা লিখেন নাই , তাই সাহিত্যিকদের সাথে তার তুলনা দেয়াটা ঠিক মানায় না ।

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:১৬

আহমদ জসিম বলেছেন: সমমত।

৩২| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৪

নাহিয়ান বিন হোসেন বলেছেন: যাক! অন্তত হুমায়ুন আহমেদের নাম নেয়ার কারনে আপনার পোষ্টখানা কিছু কমেন্টের মুখ দেখলো, আর আপনার ব্লগ খানা পেলো কিছু হিট! আপনার আগের দুটো পোষ্ট ও দেখছি হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে! চালিয়ে যান! এ লাইনে আপনি একমাত্র মাল না! বইমেলায় যাদের বইতে মাছি হাগু করে, যাদের নাম পাবলিক দূরে থাক পাশের ফ্ল্যাটের মানুষ জন ও জানে না, এরকম অনেকেই বহু সময় হুমায়ুনের নামে কিছু লিখে একটু পরিচিতি পেতে চেয়েছে , একটু জাতে উঠতে চেয়েছে! আজাদ "ছাহেব" কিংবা তার এ যুগীয় শিষ্য আপনারা তার ভালো উদাহরন! আমি এতে দোষের কিছু দেখি না! পরগাছা-কিংবা পরজীবি এরা যে বিরাট মহীরুহকে অবলম্বন করেই বাঁচতে চাইবে তাতে আর অবাক হওয়ার কি আছে!

আর হ্যাঁ, কমেন্ট বুঝবেন তো! আপনার আবার যে অসাধারন সাহিত্য জ্ঞান কিংবা বোধগম্যতার যোগ্যতা তার ঠেলায় তো আবার সরল বাংলা বোঝার ক্ষমতাটা হারিয়ে গেছে!


০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:২৫

আহমদ জসিম বলেছেন: কোন মহৎ সাহিত্য যদি বিক্রি না হয়ে মাছি হাগু করে এটা সত্যি জাতির জন্য লজ্জার কথা। এটার জন্য আপনার আমার লজ্জা পাবার কথা। আর বেশি বিক্রি হলেই যে সাহিত্য মান ভাল হবে এমন কথা বলে মূর্খ'রা।তা ছাড়া মনে রাখবেন হুমায়ুন আহমেদের পাঠকের থেকে নীল ছবির দর্শক অনেক বেশি। আর আমার পোষ্টের কথা বলছেন, আমি না হয় তাকে নিয়ে দুইটা পোষ্ট দিলাম আর দেশের সমস্ত বুর্জোয়া মিড়িয়া যে শোখ বাণিজ্যে নেমেছে....!

৩৩| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৭

নাহিয়ান বিন হোসেন বলেছেন: ওরে ভাইরে ভাই! আপনার বাংলা বানানের যে অসাধারন (!) দশা দেখছি, তাতে আপনার প্রতি একটা অনুরোধ, হুমায়ুনের গুষ্টী উদ্ধার করে নাম পরে কামায়েন, আগে অন্তত প্রাইমারিটা ঠিকমত শেষ করে আসেন /:) /:)

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:২৮

আহমদ জসিম বলেছেন: বানান দেখবে প্লুপলিডার, আমাদের কাজ ফাকিঁবাজদের চিহ্নিত করা।

৩৪| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০১

নাহিয়ান বিন হোসেন বলেছেন: "আজাদ" ছাহেব বিয়াফুক জ্ঞানী বই লেইখ্যা ফালাইছেন গত এক লক্ষ বছরের মইধ্যে! তয় "আজাদ" ছাহেবের দোষ শুধু একটাই আছিলো! মাঝে মাঝে বিদেশী লেখকের বইটা পুরাই কপি মাইর‍্যা দিতেন! আবার কোন সময় কপি মারতেন অংশ বিশেষ! আসলেই আজাদ "ছাহেব" বিয়াফুক জ্ঞানী সাহিত্যিক আছিলেন! এমন "কপি" গত এক লক্ষ বছরে বাংলা সাহিত্যে কেউ করছেনি =p~ =p~ =p~

ইশ, আপনার ব্লগে এসে, আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংলা সাহিত্যিক আজাদ ভাইয়ার কথা শুনে আমার বানানগুলোর যে কি দুরাবস্থা হলো! অকাট মূর্খ আমি!

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৩৩

আহমদ জসিম বলেছেন: আপনার মূর্খতা স্বীকারের জন্য ধন্যবাদ। ‌‌''আমার অবিশ্বাস'' কিংবা নারী বইয়ের কথা বলছেনতো? মনে রাখবেন ভাব নিয়ে সাহিত্য রচনা অপরাধ না। গ্যাটে দ্য ফাউস্ট লেখেছেন কালিদাসের শকুনতলা পাঠে অনুপ্রাণিত হয়ে।

৩৫| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৪

ওবায়েদুল আকবর বলেছেন: হ ভাই। ঠিক কইছুইন। চার্লস ডিকেন্স, হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড, কোনান ডয়েল, টমাস হার্ডি, এডগার রাইজ বারোজ, রুডইয়ার্ড কিপলিং, এলান পো, ইয়ান ফ্লেমিং, রবার্ট লুই স্টিভেনসন, মার্ক টোয়েন, আলেক্জান্ডার দ্যুমা রা সব বাজারি সাহিত্যিক। উনাদের লেখায় সাহিত্য পাওয়া যায়না। এইসব বই পড়া বুদ্ধিবিকাশের অন্তরায়। অত্যন্ত সহজ ভাষায় লিখে গেছেন এইসব বালছাল লেখক। আর এদেরকে অনুসরণ করে কাজি আনোয়ার হোসেন, রকিব হাসান, হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল রা আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যের বারোটা বাজিয়েছেন।

ওহ আর একটা কথা বলতে তো ভূলে গেছি। শেক্সপিয়ার আর টলস্টয় ও নাকি সহজ ভাষায় লেখালেখি করতেন!! তারা নাকি ভাষাকে সহজববোধ্য করে গেছেন। তাহলে এরাও কি সাহিত্যিক না? প্লীজ আমাকে একটু বুঝান। জীবনে সাহিত্য কি তা আজ জানতে চাই। অনেক দিন পর একজন পন্ডিত পেলাম যার কাছ থেকে সাহিত্য বুঝা যাবে।

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৪১

আহমদ জসিম বলেছেন: আমার কাছে সাহিত্য সত্যের বিনির্মাণ। আর জনপ্রিয় সাহিত্য আর জনচিত্তধারার সাহিত্য এক বিষয় নয়।আপনে যেসব মহান লেখকের নাম বলেছেন তারা কঠিন ভাষায় লেখেছে নাকি সহজ ভাষায় এটা আমার জানার কথা নয়, কারণ ওই বাষাগুলো নিয়ে আমার কোন ধারণা নেই। তবে এই টুকু বলতে পারি তারা সাহিত্য লেখেছেন, নয়তো শত শত বছর ধরে এই সাহিত্য থাকতো না।

৩৬| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৩

আফিফা মারজানা বলেছেন: ভাই সাহিত্য কি খায় না মাথায় দেয় না সেলফে সাজিয়ে রাখে ?

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৪২

আহমদ জসিম বলেছেন: যার যা রুচি।

৩৭| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:০৩

সম্ভব,অসম্ভব বলেছেন: লেখক বলেছেন তবে শিল্প বিচারের মানদন্ড কী? ফর এভার মানদন্ড বলে কিছু নাই। মানদন্ড যুগেযুগে পরিবর্তন হবে । পাঠক নিধারন করবে মানদন্ড কোনটা। একজন লেখক কিছু একটা লিখে বলতে পারবে না এটা মানদণ্ড। পাঠকের মানদণ্ড যদি না মানে কোন লেখক পাঠক বলবে তোমার সাথে খেল্ব না । তখন বই লিখে ডাউনছাদের ভিতর ডুকায় রাখা লাগবে ।

শিল্প বিচারের মানদন্ড কথাটা শুনলে একটা কথাই মনে আসে- আফসুস !

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৫২

আহমদ জসিম বলেছেন: ভাই, পাঠকের উপর যখন মানডন্ডের ভার দিচ্ছে তখন এ-কথাটাও নিশ্চি মানবেন যে।পাঠকেরও বিচারের ক্ষমতা থাকা চায়। পাঠক যাতে চকচকে বিজ্ঞাপন আর মিড়িয়ার প্রচারণা দেখে পাঠক না হয়। নিজস্ব বিবেচনা বোধ যাতে তার থাকে।

৩৮| ৩১ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:১০

সম্ভব,অসম্ভব বলেছেন: একজন লেখকের মৃত্যুরপর, যাদের সাহিত্য পাঠ শেষ হয়ে যায়, এমন পাঠক সাহিত্য ও জাতির জন্য ক্ষতিকর.।.।.।.।।।

লেখক বেচে থাকতেই তার লেখা যদি কেউ না পড়ে তাহলে সেই লেখক জাতির জন্য ক্ষতিকর ই শুধু না সাহিত্য ও জাতির জন্য সে অস্বাস্থ্যকরও বটে!

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৫৬

আহমদ জসিম বলেছেন: ভাই, আমরা কী ভুলে গেলাম শেক্সপিয়ার জীবন দশায় প্রায় অজ্ঞাত ছিলেন। তাই বলে কী শেক্সপিয়র অস্বাস্থ্যকর?

৩৯| ০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৫০

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: You are a f**king ATEL...

০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৫৬

আহমদ জসিম বলেছেন: মন্তব্য নয়, যুক্তি দেখান।

৪০| ০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১:১০

কথক পলাশ বলেছেন: তবে বই থাকলেই পড়বে, আর পড়লেই সে জ্ঞানি হবে এমন ধারণাতে আমার বিশ্বাস নেই।

পাঠ এবং সেই পাঠ অভিজ্ঞতাকে যথাযত বিচার বিশ্লেষণ করার জন্য চায় নিজের মধ্যে একটা শক্তিশালী দাশরইনক বুনিয়াদ।

আপনার কথা ধরেই বলি, ভালো পাঠক কখনো বানান ভুল করেনা। বাংলা সাহিত্য পড়ছেন, অথচ বাংলা বানানের এই বেহাল অবস্থা আপনার দৈন্যকেই প্রকাশ করছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হুমায়ূন আজাদ পড়ে আপনার অন্তত উন্নতি হয়নি-এটা সহজে অনুমেয়। দয়া করে নিজেকে আর কূপমণ্ডুক প্রমাণ করবেন না।

আর হ্যাঁ, আপনি ছাড়াও আহমদ সফা, সৈয়দ শামসুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হুমায়ূন আজাদ, রশীদ করিম, নূরুল মোমেন, হাসান হাফিজুর রহমান, জহির রায়হান, মুহম্মদ কবীর, শম্ভু মিত্র, শঙ্খ ঘোষ, সিরাজুল ইসলাম, মুহম্মদ আবদুল হাই, ড. আলী আহসান, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, বিপ্রদাস বড়ুয়া... এঁদের লেখার পাঠক এই ব্লগেই প্রচুর আছে।

আপনার জন্য একটা পুরনো বাংলা প্রবচনঃ
"যে নদী যত গভীর হয়, তার বয়ে চলার শব্দ তত কম।"

আপনি হুমায়ুন আহমেদের সাথে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর তুলনা করে সাহিত্যের মানদণ্ড বিচার করতে চাইছেন, রবীন্দ্রনাথের সাথে শরৎ চন্দ্রের সাহিত্যের তুলনা করে বলুন কে শ্রেষ্ঠ?

০২ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:০৪

আহমদ জসিম বলেছেন: অভ্রতে লেখতে গিয়ে আমার ভুল হচ্ছে, তাই আপনার সমস্ত ভৎসনা মাথাপেতে নিচ্ছি।তদুপি বলছি, আমার একার না,একটু খোঁজ খবর নিলেই জানবেন বানান নিয়ে সমস্য ছিল রবীন্দ্ররাথ, কবি জসীম উদদীন-এরও বানানে ভয়াবহ সমস্যা ছিল। আর রবীন্দ্রনাথ-শরৎ চন্দ্রের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ এটা পাঠকেই বলবেন। তবে আমি বলতে পারি তাদের দুইজনের কেউ বাজারি লেখক ছিলেন না।সাদের সাহিত্য সৃষ্টির পিচনে একটা লক্ষ এবং উদ্দেশ্য ছিল।

৪১| ০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১:৪৩

নিঃসঙ্গ নির্বাসন বলেছেন: সাহিত্যসভায় কালজয়ী সাহিত্যিক হওয়ার সম্ভব, কবি সম্মেলনে নিভৃতিচারী কবি হওয়া সম্ভব, সাহিত্যপত্রিকার জীবনঘনিষ্ট লেখক হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু পাঠকের হুমায়ূন আহমেদ, বইমেলার হুমায়ূন আহমেদ হওয়া সম্ভব নয়। এটিই তিতকুটে সত্য, নির্জলা বাস্তবতা ।




আমি এমন কোনও মাছ দেখিনি , যেটি পানি ছাড়া সাঁতার কাটে। এমন কোনও বঙ্গীয় সাহিত্যিক দেখিনি যিনি হুমায়ূন আহমেদকে গালি না দিয়ে জলস্পর্শ করেন কিংবা জলস্পর্শ শেষে হুমায়ুন আহমেদকে ঝেড়ে গালাগাল করেননা। সস্তা লেখক, চটুল সাহিত্য, মেয়েভোলানো লেখা , আরও কত কিছুই যে শুনেছি এবং শুনে আসছি হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে।



মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুম থেকে দামী শো পিস চুরি হয়না, কেবল হুমায়ূন আহমেদের বই খোয়া যায়।



হুমায়ূন আহমেদের বই সবাই পড়ে। কেউ পড়ে প্রকাশ্যে। কেউ পড়ে গোপনে।



তবে একটা কথা না বলে পারছি না, গত কয়েক বছরে, তার লেখার মান অনেক নেমে গেছে।



ইদানিং অনেকেই হিমু মার্কা চরিত্র নিয়ে লেখালেখি করে। তাদের বলতে চাই, হুমায়ূন আহমেদ হতে চাইলে আগে লিখতে হবে নন্দিত নরকে আর শঙ্খনীল কারাগার। তারপর অন্যকথা।



টিভি নাটকে একটা নবদিগন্তের সূচনা করেছেন তিনি। আজকাল ফারুকীরা যেসব বানায়, সেগুলো এক যুগ আগে বানিয়েছেন হুমায়ূন।



তার জন্য মানুষ এক কালে পাগল ছিল। কিন্তু এখন তাকে কেউ পুছে না। হায় রে মানব জাতি!!! তার ভাল দিকটা কেউ দেখল না।



হুমায়ুন আহমেদ ব্যক্তি হিসেবে কেমন তা বিবেচনা করছিনা,তবে তিনি বাংলা ভাষাকে যে কয়টি মাস্টারপিস উপন্যাস (এখনকার তথাকথিত বাজারিগুলো বাদ দিয়ে ) উপহার দিয়েছেন,বাংলাদেশে এখনো কেউ ঐ পর্যায়ে যেতে পেরেছেন বলে আমি মনে করিনা। বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা আর সাহিত্য পাঠের ক্ষমতার দিকে তাকালে হুমায়ূন আহমেদ আসলেই একজন যোগ্য লেখক। তিনি সব ধরনের পাঠকদের বাজার ধরতে পেরেছেন। অনেকের একটা ভুল ধারনা হুমায়ূন আহমেদের একটা আলাদা স্টাইল আছে। তারা হয়ত শঙ্করের বই পড়ে দেখেননি। তবে যারা ইংলিশ বই এর পাঠক তারা কিন্তু ধরতে পারবে কেননা ইংলিশ এ এই স্টাইলটা খুবই জনপ্রিয় স্টাইল। দয়া করে সিডনি শেলটন আর জে কে রাওলিং এর হ্যারী পটার পড়ে নিবেন ইংরেজীতে। তাহলে কিছুটা হলেও বোঝা যায় ভাববাচ্যে কিভাবে আকর্ষনীয় বই লেখা যায়। সাহিত্যবোদ্ধাদের কাছে সিডনীর লেখার কোন দাম নেই। সস্তা, সেক্স, ভায়োলেন্সে ভর্তি। রাওলিং এর লেখায় নিয়ম ভঙ্গকে প্রশংসনীয় হিসেবে দেখান হয়েছে। তার লেখা জাদুবিদ্যা ডাকিনী চর্চা উৎসাহিত করে। কিন্তু পাঠকেরা তাদের ঠিকই মাথায় তুলে রেখেছেন। একই কথা হুমায়ূনের জন্যও প্রযোজ্য। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের প্লট বাছাই চমৎকার। এই দিক থেকে তিনি অন্যন্য। এটা স্বীকার করতেই হবে।

০২ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:১৫

আহমদ জসিম বলেছেন: আপনার সাথে আমার অনেক চিন্তা মিলে যাচ্ছে।নন্দিত নরকে আর শঙ্খনীল কারাগার যখন লেখেন তখন তিনি আজকের জনপ্রিয়তা পাননি, তাঁর যেসব বক্ত তাঁর জন্য বিলাপ করছে তাদের বড় অংশটাই তাঁর ছোট গল্প আর এই মানের উপন্যাসগুলো পড়েনি।ওইযে বললেন শেষের দিকে উনি বাজারি লেখা লেখেছে সত্যি সমাজে এর ইনপেট অনেকদিন থাকবে।

৪২| ০১ লা আগস্ট, ২০১২ রাত ১:৪৪

এস আর সজল বলেছেন: একজন আঁতেলের সাথে অযথা বকবক করার চেয়ে আমার মুরগি কাটাই অনেক ভালো। ধন্যবাদ জনাব কসাই।

০১ লা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৩:৫৮

আহমদ জসিম বলেছেন: মুরগীটা কেটে ফেলেন। দাওয়াত দিতে ভুল করবেন না।

৪৩| ০১ লা আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৮

নাহিয়ান বিন হোসেন বলেছেন: ভাই আপনে একট জিনিস! পুরা পারফেক্ট শাহবাগী ছাগল! কথার উত্তর দেয়ার ও যোগ্যতা নাই! অবশ্য নকল করা সাহিত্য আর চটি পড়লে তো মাথার অবস্থা এমনই হবে! ক্যারি অন শাহবাগী আঁতেল!

০২ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:১৬

আহমদ জসিম বলেছেন: ব্যক্তিগত আক্রমন নয়, আমরা বরং আলোচনা করতে পারি।

৪৪| ০২ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:২০

কথক পলাশ বলেছেন: শোনেন, হুমায়ূন আহমেদের পাঠকরা অন্তত অভ্র দিয়েও শুদ্ধ বানানে লিখতে পারছেন, যেখানে আপনি ভারী ভারী সাহিত্য পড়েও সেই শুদ্ধতা অর্জন করতে পারেন নি। এবার নিজের দূর্বলতার জায়গাগুলো খুঁজে বের করুন অন্যের ভুল ধরার আগে।

"আর রবীন্দ্রনাথ-শরৎ চন্দ্রের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ এটা পাঠকেই বলবেন। তবে আমি বলতে পারি তাদের দুইজনের কেউ বাজারি লেখক ছিলেন না।"

তাঁর আমলে শরৎচন্দ্রকেও বাজারী লেখক বলা হতো। বলা হতো শরৎচন্দ্র সস্তা সাহিত্য লিখছেন। আর রবীন্দ্রনাথ-শরৎ চন্দ্রের শ্রেষ্ঠত্ব যদি পাঠকই নির্ধারণ করেন, তাহলে যারা হুমায়ূন আহমেদ কে শ্রেষ্ঠ বলছে, সেই পাঠকের দোষ কোথায়? পাঠকের পছন্দ অপছন্দকে সাহিত্য সবসময়ই গুরুত্ব দিয়েছে, কারণ পাঠকের জন্য সাহিত্য, সাহিত্যের জন্য পাঠক নয়।

আমার একার না,একটু খোঁজ খবর নিলেই জানবেন বানান নিয়ে সমস্য ছিল রবীন্দ্ররাথ, কবি জসীম উদদীন-এরও বানানে ভয়াবহ সমস্যা ছিল।

আপনার কথাটা ভুল। রবীন্দ্রনাথ ভাষার শক্তি ও দুর্বলতা দুদিক নিয়ে অতি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর স্তর ধরে ভেবেছেন বলেই বিদেশে অবস্থান করেও বাংলা ভাষার সমতা বিধান ও সংস্কার নিয়ে কাজ করে গেছেন নিরঙ্কুশ মনে।

এটা পড়ুনঃ
বাংলা বানানের গতি ও গন্তব্য রবীন্দ্রনাথ এবং উত্তরকাল

০৬ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:০০

আহমদ জসিম বলেছেন: বানানের ভুল কিন্তু বুনেনর ভুল নয়, তা ছাড়া আমি বানান মিকার জন্য সাহিত্য পড়ি না, সাহিত্য পড়ি শিল্পের দৃষ্টিদিয়ে সমাজ দেখার জন্য।শরৎ জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু জনচিত্তধারার লেখক ছিলেন না নিশ্চয়। আর সেই কালে একালের মতো পাঠক মনে মিড়িয়ার এত প্রভাবও ছিল না নিশ্চয়। আর রবীন্দ্রনাথের চিন্তার গভীরতা নিয়ে আপনার মতো আমারও দ্বি'মত নেই, আপনার লিংকের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পড়ে মন্তব্য করবো।

৪৫| ০২ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:২৪

কথক পলাশ বলেছেন: আগের লিঙ্কটি কাজ করছেনা। ওখানের লিখার কপিপেস্ট করছিঃ

বাংলা বানানের গতি ও গন্তব্য রবীন্দ্রনাথ এবং উত্তরকাল

একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় তার ভাষাকাঠামোর মধ্যে প্রকাশ পায়। সমতা বিধান, প্রমিত রূপ নির্বাচন ও ভাষাকে ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য ওই ভাষার শক্তি ও দুর্বলতা— উভয় দিকই চিনে নিতে হয় ভাষাব্যবহারকারীকে। রবীন্দ্রনাথ ভাষার শক্তি ও দুর্বলতা দুদিক নিয়ে অতি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর স্তর ধরে ভেবেছেন বলেই বিদেশে অবস্থান করেও বাংলা ভাষার সমতা বিধান ও সংস্কার নিয়ে কাজ করে গেছেন নিরঙ্কুশ মনে

রবীন্দ্রনাথ যখন বাংলাভাষা-পরিচয়ের কাজ করছেন, বই প্রকাশের আগে কোনো এক ভাষাতাত্ত্বিক তাঁকে পরামর্শ দিলেন, তিনি যেন প্রকাশোন্মুখ বইটি ভাষাবিজ্ঞানের আদলে দাঁড় করান। পরমর্শদাতার জবাবে রবীন্দ্রনাথ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি তত্ত্বের আলোকে বাংলা ভাষার পরিচয় নিয়ে কাজ করায় কোনো তেষ্টা বোধ করেন না, বরং তিনি বাংলা ভাষার রূপের পরিচয় উপস্থাপনে সময় ব্যয় করে আনন্দ পেতে চান। রবীন্দ্রনাথের এই এক বোধ, যিনি তাত্ত্বিকতাকে কখনো আমন্ত্রণ জানাননি নিজের কোনো লেখায়। তত্ত্বের অলিগলিতে পথ হেঁটেছেন, তত্ত্বের বিবরে প্রবেশ করেছেন; তবু নিজে যখন লিখেছেন তত্ত্বপ্রধান করেননি কোনো লেখাকে। ঊনিশ-বিশ শতকীয় বিশ্বের যাবতীয় সাহিত্যতত্ত্ব, দর্শন, শিল্পকলা তিনি পাঠ করেছেন, ভেবেছেন, আত্মস্থ করেছেন, তারপর বাংলার মাটির সঙ্গে মিলিয়েমিশিয়ে নিজের নন্দনবোধের আলোকমালার ভেতর তার রশ্মি চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

‘বাংলাভাষা-পরিচয়’ বই আকারে বের হয় ১৯৩৮ সালে। উত্সর্গ করেন ভাষাচার্য শ্রীযুক্ত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে। এর দুবছর আগে রবীন্দ্রনাথ যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তাব দেন ভাষাসংস্কার নিয়ে কাজ করার জন্য, তখনো সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ভাষাসংস্কার সমিতির অন্যতম কর্ণধার। বিষয়সংশ্লিষ্ট যোগ্যতম ব্যক্তিকেই রবীন্দ্রনাথ উত্সর্গপাতায় জায়গা দিলেন। এরও আগে ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ ও ‘শব্দতত্ত্ব’ নিয়ে তিনি লিখেছেন আরো দুটি বই। উভয় বইয়ে বাংলা ভাষা নিয়ে এই ব্যাকরণনিষ্ঠ উপাত্ত তার পরীক্ষা-নিরীক্ষাভিত্তিক সময়ের সাক্ষ্য তৈরি করেছে। অবশ্য ইতিমধ্যে যখন মুখের চলতি ভাষা সাহিত্যে জায়গা নিতে শুরু করল তখনই কিছু বাড়তি চিন্তা এল রবীন্দ্রনাথের মাথায়। রবীন্দ্রনাথ ‘বাংলাভাষা-পরিচয়’-এর ভূমিকাংশে বললেন, ‘চলতি বাংলা চলতি বলেই সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা নয়। হয়তো উচ্চারণে এবং বাক্যব্যবহারে একজনের সঙ্গে আর-একজনের সকল বিষয়ে মিল এখনো পাকা হতে পারে নি। কিন্তু যে ভাষা সাহিত্যে আশ্রয় নিয়েছে তাকে নিয়ে এলোমেলো ব্যবহারে ক্ষতি হবার আশঙ্কা আছে। এখন থেকে বিক্ষিপ্ত পথগুলিকে একটি মিলিয়ে নেবার কাজ শুরু করা চাই। এই গ্রন্থে রইল তার প্রথম চেষ্টা।’ রবীন্দ্রনাথ ভাষা নিয়ে এই কাজকে তার ‘প্রথম চেষ্টা’ বললেন। তারপর কাটল সাড়ে সাতটি দশক। সাড়ে সাত দশকে উভয় বঙ্গে বাংলা ভাষার সমতা, শুদ্ধতা ও প্রয়োগের সহজতা উন্মোচনে রবীন্দ্রপ্রয়াসের পর কতটা প্রাগ্রসর দরোজা খুলল, কতটা বন্ধ হলো, কতটা টিকে থাকল শতাব্দী পেরুনোর আগে তার গতি ও গন্তব্য নির্ণয় করার সময় কি এখনো আসেনি!

একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় তার ভাষাকাঠামোর মধ্যে প্রকাশ পায়। সমতা বিধান, প্রমিত রূপ নির্বাচন ও ভাষাকে ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য ওই ভাষার শক্তি ও দুর্বলতা— উভয় দিকই চিনে নিতে হয় ভাষাব্যবহারকারীকে। রবীন্দ্রনাথ ভাষার শক্তি ও দুর্বলতা দুদিক নিয়ে অতি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর স্তর ধরে ভেবেছেন বলেই বিদেশে অবস্থান করেও বাংলা ভাষার সমতা বিধান ও সংস্কার নিয়ে কাজ করে গেছেন নিরঙ্কুশ মনে। তিনি ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে ইংরেজ বন্ধুকে বাংলা শেখাতে গিয়ে বাংলা ভাষার প্রয়োগ ও উচ্চারণ নিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন। তিনি দেখলেন, লিখতে হয় ‘ব্যয়’ কিন্তু পড়তে হয় ‘ব্যায়’। অন্যদিকে অব্যয় শব্দে ব্য-এর উচ্চারণ ব্ব-এর মতো। আবার লিখতে হয় গর্দভ, কিন্তু পড়তে হয় গর্ধোব। রবীন্দ্রনাথ ‘শব্দতত্ত্ব’ বইয়ে বললেন, ‘আমাদের তিনটে স-এর উচ্চারণে কোনো তফাত্ নাই, বাংলায় সকল স-ই তালব্য শ-এর ন্যায় উচ্চারিত হয়; কিন্তু আমাদের যুক্ত-অক্ষর উচ্চারণে এ কথা খাটে না। তার সাক্ষ্য দেখ কষ্ট শব্দ এবং ব্যস্ত শব্দের দুই শ-এর উচ্চারণের প্রভেদ আছে।’ ২২-২৩ বছর বয়েস থেকেই রবীন্দ্রনাথ অনুভব করেন উচ্চারণের এই রকম অবারিত বিশৃঙ্খলা। মনের ভেতর প্রশ্ন জাগল, এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে হয়তো কোথাও একটা নিয়মও লুকিয়ে আছে। তখন ১৮৮৩ সাল, রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে ছিল দুটি বাংলা অভিধান। অভিধানের পাতা ঘেঁটে দৃষ্টান্তের পর দৃষ্টান্ত খুঁজে বের করলেন। কাগজের পর কাগজ সাজিয়ে শব্দের নমুনা সংগ্রহ করলেন। এক সময় এই বিশৃঙ্খলার ভেতর ঐক্য খুঁজে পেয়ে স্বস্তি পেলেন। চলে এলেন নিজের দেশে। চামড়ার বাক্সে বন্দি করে রেখেছিলেন ওই রাশি রাশি কাগজের নমুনা। গবেষণাকর্মের উপাত্ত বাক্সবন্দি থাকল বছর দুয়েক। ইংল্যান্ডে যে কাজ অসমাপ্ত করে রেখেছেন, তার একটি মর্ম উদ্ধার করার চিন্তা মাথায় নিলেন। দুবছর পার হতেই বাক্স খুললেন। নিতান্ত বিস্ময়ের ব্যাপার— বাক্স খুলে দেখেন কাগজপত্রের বদলে বাক্সে অবস্থান করছে হলদে রঙা গোটা দশেক মাটির পুতুল। পুতুলের বিছানাপত্র, ঘটিবাটি ও সুখস্বাচ্ছন্দ্যের সবকিছুই অবস্থান নিয়েছে ওই বাক্সে, নেই কেবল রবীন্দ্রনাথের শ্রমসাধ্য মূল্যবান ওই কাগজপত্র। জানা গেল, তার ঘরের মেয়েটি শিশুমনের স্বভাববশে এই কাজ করেছে। অপ্রত্যাশিত এই আকস্মিকতা রবীন্দ্রনাথকে সামান্যতম দমাতে পারেনি। অবশেষে স্মৃতি থেকে তিনি ওই উচ্চারণ বিশৃঙ্খলার নমুনাগুলো আবার লিখলেন।

এরপর বিভিন্ন সাময়িকপত্রে বের হল শব্দতত্ত্ববিষয়ক কয়েকটি প্রবন্ধ। সময়পরিধি হবে ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ অবধি, প্রকাশ পেল শব্দতত্ত্ব নিয়ে তাঁর বই। এই প্রয়াসের কয়েকটি অন্যতম নিয়মঐক্য উপস্থিত করছি। রবীন্দ্রনাথ দেখলেন ‘অ’ কেবল স্থানবিশেষে ‘ও’ হয়ে যায়। ই-ঈ, উ-ঊ কিংবা ইকারান্ত, উকারান্ত ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে তার পূর্ববর্তী অকারের উচ্চারণ ‘ও’ হবে। যেমন অগ্নি অগ্রিম কপি তরু অঙ্গুলি অধুনা হনু ইত্যাদি। আবার যফলা-বিশিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে ‘অ’ হয়ে যাবে ‘ও’। যেমন, গণ্য দন্ত্যলভ্য ইত্যাদি। ‘দন্ত’ শব্দের উচ্চারণে দ-এর জন্য আসে ‘অ’ কিন্তু ‘দন্ত্য’-এর বেলায় দ-এর জন্য হয় ‘ও’। আবার ‘ক্ষ’ পরে থাকলে তত্পূর্ববর্তী ‘অ’ হয়ে যায় ‘ও’। যেমন, অক্ষর কক্ষ লক্ষ পক্ষ ইত্যাদি। ঋফলা-বিশিষ্ট বর্ণ পরে আসলে তত্পূর্বের অকার হয় ‘ও’। যেমন, কর্তৃক ভর্তৃ মসৃণ যকৃত্ বক্তৃতা ইত্যাদি। শব্দতত্ত্বের পর রবীন্দ্রনাথ পরের ধাপে লিখলেন বাংলা শব্দতত্ত্ব। সেখানেও রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষা প্রয়োগের সুষ্ঠু বিন্যাস ও সমতার ক্ষেত্রগুলি সযত্নে মেলে ধরলেন।

ভাষার রূপপরিচয় নিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ২২ বছর বয়েস থেকে প্রায় আমৃত্যু। শুরুর দিকে বলছিলাম, রবীন্দ্রনাথ শেষজীবনেও ভাষাসংস্কার নিয়ে কাজ করে স্বীকার করলেন এ কাজ তার ‘প্রথম চেষ্টা’। তারপর আসে পরবর্তী চেষ্টা, যার দায় নিতে হয় উত্তরকালের মানুষের। ৭৫ বছরের ব্যবধানে বাংলা ভাষার গতিপ্রকৃতি কোন গন্তব্যে নোঙর করেছে তার কিছু চিত্র আমাদের জানতে বাধা নেই।

ভালো-মন্দ— দুই মিলেই আমাদের ভাষার গতিপ্রকৃতি রূপ গ্রহণ করেছে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্য নিয়ে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। দীর্ঘ সংগ্রাম ও অনেক রক্তপাতের বিনিময়ে বাংলার মানুষ তার অধিকার অর্জন করলেও বাংলা ভাষার প্রতি চরম উদাসীনতা দেখে আজ বিস্মিত হতে হয়। রবীন্দ্রনাথ প্রথম বাংলা ভাষার সংস্কার নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় একটি বানান সংস্কার সমিতি গঠিত হলো। বানানের ক্ষেত্রে সমতা ও শুদ্ধতা সৃষ্টির জন্য বানান সংস্কার সমিতির এই প্রয়াসের পর বাংলা বানানের একটি সর্বজনগ্রাহ্য প্রমিত রূপ ভাষা প্রয়োগকারী সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল। কিন্তু পণ্ডিতদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ভাষার ব্যুত্পত্তি না জেনে, না মেনে ইচ্ছামাফিক বানান চর্চা ও লেখার যে যজ্ঞ চলে আসছে তাতে করে ভাষানৈরাজ্য থেকে শুদ্ধ বাংলা ভাষাকে ফিরে পাওয়া এখন অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বানান নিয়ে বিভ্রান্তি দিনে দিনে বাড়ছে। বানানের নিয়মকানুন যে প্রতিদিন বদলাচ্ছে, তা নয়; বানান আয়ত্ত করার বিষয়ে আমাদের ঔদাসীন্য ও অবেহেলা বাড়ছে, বাড়ছে একধরনের হঠকারিতাও। অনেকের অভিযোগ বাংলা বানান বড় কঠিন। সব ভাষার বানানই যত্ন করে শিখতে হয়। অনেকের পর্যবেক্ষণ উচ্চারণের সঙ্গে বানানের মিল নেই বাংলায়। ভাগ্যিস নেই। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজেদের উচ্চারণ-অনুযায়ী বানান লিখতাম, তাহলে কী ভয়ংকর পরিণামই না হতো! তাছাড়াও, উচ্চারণ আর বানানের যোগ অনেক ভাষাতেই থাকে না।’

একসময় বাংলা একাডেমী প্রমিত বানানরীতি নিয়ে বেশ প্রশংসনীয় কাজ করেছে। সে সময় প্রকাশিত হয় ‘বাংলা বানান অভিধান’। এই প্রমিত বানানের নিয়ম দেশ-বিদেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান অনুসরণ করে আরো আধুনিক অভিধান প্রকাশ করে। কিন্তু বাংলা একাডেমী প্রকাশিত ‘বাংলা বানান অভিধান’ ফুরিয়ে যাওয়ার পর আর পুনর্মুদ্রণের মুখ দেখেনি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রমিত বানানরীতি বিষয়ে তদানীন্তন কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধিতা। ব্যক্তিগত বিরোধিতা ও স্বেচ্ছাচারিতা আজ ভাষার উপরে আরোপ করা হচ্ছে। ফলে বাংলা একাডেমীর যে-উদ্যোগ আজ অনেকদূর এগুতে পারত, তা মধ্যপথে স্থবির হয়ে রইল।

প্রচলিত বাংলা অভিধানগুলোতে একটি বাংলা শব্দের একাধিক বিকল্প বানান ভাষাপ্রয়োগকারী সাধারণ মানুষকে ভীষণভাবে বিভ্রান্ত করেছে। সর্বশেষ, শুদ্ধ ও সর্বজন গ্রহণীয় একটি শব্দের একটি বানান অভিধানে থাকলে তা বিভ্রান্তি থেকে অনেকটা মুক্তি দিতে পারে।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে একমাসের ভাষাপ্রেম বাংলা ভাষার কোনো উপকারে আসে না। গণমাধ্যমগুলোও ক্ষেপে ওঠে বাংলা ভাষা ও একুশে নিয়ে। কিন্তু চ্যানেলগুলোর রঙিন পর্দায় যখন ভুল বানানের শব্দ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা দেখা যায় না। এই হলো বাংলা ভাষা প্রয়োগের হাল। সম্প্রতি দেশের এক টিভি চ্যানেলে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে ইন্টারভিউ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার। কিন্তু লজ্জাকর বিষয়, টিভির স্ক্রিনে ভেসে উঠল সমরেশের জায়গায় শমরেশ আর ঔপন্যাসিকের জায়গায় উপন্যাসিক। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি কথা মনে এল। বছর দশেক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রে হয় বড়মাপের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর সন্জীদা খাতুন। স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠানটি কাভার করতে এল দেশের প্রায় সবগুলো চ্যানেল। এক চ্যানেলের কালচারাল রিপোর্টার এলেন প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছু পরে। রিপোর্টারের দায়িত্ব প্রধান অতিথির সাক্ষাত্কার নেওয়া। রিপোর্টার হন্যি হয়ে কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলেন, সন্জীদা খাতুন কোন ব্যক্তি? কারণ সন্জীদা খাতুনকে তিনি কোনোদিন দেখেননি, নামও ইতিপূর্বে শুনেছেন কি না কে বলতে পারে। সেই রিপোর্টারের পক্ষে ইন্টারভিউ নেওয়া কতটা রুচিসম্মত কাজ হবে! যে কাজে যিনি বিন্দুমাত্র পূর্বাভিজ্ঞ নন, তাকে সে দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে কাজের যে কী দশা হয়, তা দেখে আমরা এখন আর বিস্মিত হই না।

বাংলাদেশের মানুষ বাংলা ভাষা নিয়ে আর ভাবে না। অশুদ্ধ বাংলায় বাক্য রচনা করলে কারো কোনো কষ্টবোধ তৈরি হয় না। ‘বাংলা বানানের নিয়ম’ বইয়ে মাহবুবুল হক বলেন, ‘নির্মম হলেও বলতে হয়, আমরা শিক্ষিতরা অনেকেই বানান ভুলের জন্য লজ্জা বোধ করি না; ভাবি না যে, এটি শিক্ষিত হিসেবে আমাদের জন্য অসম্মানজনক। অন্যদিকে, বিদেশি ভাষা শেখার জন্য আমরা যে শ্রম ব্যয় করি, তার সমান্যতম অংশও আমরা মাতৃভাষা আয়ত্ত করার জন্য দিই না। বরং এ দোষ ঢাকার জন্য বাংলা ভাষার উপর দায় চাপিয়ে বলি, বাংলা ভাষা খুব কঠিন, এর বানান ভারি ঝামেলার।’ গত কয়েক দশকে একুশে অবলম্বন করে ফেব্রুয়ারি মাসে বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রকাশনাশিল্পের আয়তন ও বিস্তৃতি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অসম্পাদিত ও অশুদ্ধ বই প্রকাশের দুর্দমনীয় প্রয়াস। শুধু বইপুস্তক আর দলিলদস্তাবেজে নয়, সাইনবোর্ড, টেলিভিশন স্ক্রিন, অফিসপাড়া, ব্যানার, ফেস্টুন, রাজনৈতিক স্লোগান, মঞ্চ, হাটেমাঠেঘাটে, লঞ্চে-বাসে— দেশের প্রায় সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের স্বেচ্ছাচারিতায় ছেয়ে গেছে। বাংলা ভাষার প্রতি এই শত্রুতাসুলভ মনোভাবকে দ্রুত রোখা জরুরি। আনিসুজ্জামান বাংলা ভাষার প্রতি এই উপেক্ষা আর অবহেলার কারণ খুঁজে বের করে বলেন, ‘১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-প্রবর্তিত বানানের নিয়ম আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয় নি। এসব নিয়মের সঙ্গে অপরিচয় এবং সংবাদপত্র ও পাঠ্যপুস্তক প্রভৃতিতে দৃষ্ট রক্ষণশীলতা তার কারণ। সাধু ও চলিত দুই রীতি পাশাপাশি চলায়ও কিছু বিভ্রান্তি বেড়েছে। তার ওপর অনেকদিন ধরে বিদ্যালয়ে আর যত্ন করে বানান শেখানো হয় না। ফলে বহু যুক্তবর্ণের সঙ্গেও আমাদের শিক্ষিত ব্যক্তিদের যথার্থ পরিচয় নেই— বানানের সঙ্গেও নেই।’ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বাংলা ভাষার দূষণ রোধে হাইকোর্ট রুল জারি করে। পরে আনিসুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের এক কমিটি গঠিত হয়। কমিটির লক্ষ্য হবে বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, সঠিক শব্দচয়ন না করা, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করা। যারা মাতৃভাষাকে অবহেলার চোখে দেখে আর বিদেশি ভাষায় কথা বলে স্মার্টনেস প্রদর্শনের অনিরুদ্ধ চেষ্টা চালায় তাদেরকে কমিটি কতটা নিয়ন্ত্রণ করবে এই নিয়ে সংশয় অনেকের। আসলে অফিসে-আদালতে-কর্মক্ষেত্রে-কর্পোরেট জীবনে বাংলা ভাষার প্রয়োগ ও সুষ্ঠু প্রয়োগের রাষ্ট্রীয় আইনগত নির্দেশ না বর্তালে ভাষার দূষণ থেকে মুক্ত হওয়ার আর কোনো পথ খোলা নেই।

এবার দেখি বাংলা বানান নিয়ে রবীন্দ্রোদ্যোগের পর তার উত্তরকালে কী কী কাজ হয়েছে। সন্দেহ নেই, উভয়বঙ্গে বাংলা ভাষার নিয়মকানুন খোলাসা করার ব্যাপারে বেশ কিছু দায়িত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদিত হয়েছে। সংকলিত হয়েছে কয়েকটি অভিধান ও বেশ কিছু বানানরীতির বই। একইসঙ্গে বানানসংস্কার সুপারিশ বিধানের কয়েকটি কাজও উভয়বঙ্গের কয়েকটি মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠান করেছে।

আমাদের হাতে আকর অভিধান আছে দুটি— একটি হল হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ অন্যটি জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’। প্রায় তিরিশ বছর পরিশ্রম করে সংকলনকার্য সমাপ্ত করেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে এটি ১৯৩৩-এর দিকে নানা খণ্ডে প্রকাশিত হতে থাকে। পরে ১৯৪৫ সালে সম্পূর্ণ অভিধানটি পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয় বিশ্বভারতী থেকে। এরপর ১৯৬৬ সালে দুই খণ্ডে এই অভিধান প্রকাশ পায়। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংস্কৃতপণ্ডিত এবং সংস্কৃতের অধ্যাপনা করতেন। এ কারণে তার শব্দকোষে প্রচুর দেশজ শব্দ থাকলেও ব্যুত্পত্তি নির্ণয় ও অর্থব্যাখ্যানে অনেকখানি সংস্কৃতঘেঁষা। অন্যদিকে জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধান প্রকাশিত হয় দুই খণ্ডে ১৯১৭ সালে। এর দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয় কুড়ি বছর পর ১৯৩৭ সালে।

এরপর রবীন্দ্রোত্তরকালে বানান, ব্যুত্পত্তি, অর্থ ও উচ্চারণের উপর জোর দিয়ে বেশ কিছু অভিধান প্রকাশ পায়, তার মধ্যে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে শৈলেন্দ্র বিশ্বাসের সংসদ ‘বাংলা অভিধান’, রাজশেখর বসুর ‘চলন্তিকা’, ‘বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক অভিধান’, ‘বাংলা একাডেমী বানান অভিধান’, ‘বাংলা একাডেমী উচ্চারণ অভিধান’, জামিল চৌধুরীর ‘শব্দসংকেত’, অশোক মুখোপাধ্যায়ের ‘সংসদ ব্যাকরণ অভিধান’ ও ‘সংসদ বানান অভিধান’, সুভাষ ভট্টাচার্যের ‘আধুনিক বাংলা প্রয়োগ অভিধান’ ও ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি অভিধান’ ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথের ‘বাংলাভাষা-পরিচয়’, ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’, ‘শব্দতত্ত্ব’-এর পর বাংলা বানানের নিয়মকানুন, সুষ্ঠু-শুদ্ধ ও ধ্বনিসমতানির্ভর বানান, বানানের প্রমিতরূপ ও স্টাইল ইত্যাদি নিয়ে অত্যন্ত শ্রমনিষ্ঠ কয়েকটি বই প্রকাশ পায়। তার মধ্যে সবার আগে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করতে হয় মণীন্দ্রকুমার ঘোষের ‘বাংলা বানান’ বইটির কথা। এখন থেকে ৩৪ বছর আগে ১৯৭৮ সালে তিনি এই বইটি লেখেন। রবীন্দ্রনাথের বানানসংস্কারের প্রয়াস ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবর্তিত বানানের নিয়মকানুনকে তিনিই আত্মস্থ করে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তার বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও তার সম্পূরক প্রস্তাব ও মন্তব্য উপস্থাপন করেন।

পবিত্র সরকার লিখেছেন ‘বাংলা সংস্কার : সমস্যা ও সম্ভাবনা’। বইটি একেবারেই ভাষাবিজ্ঞানের আমেজে বিন্যস্ত করা। তবে পরিশিষ্ট অংশে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি গৃহীত বানানবিধি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত বাংলা বানানের নিয়মের উপস্থাপনসহ বাংলা বানান ও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে তার পর্যবেক্ষণশক্তির পরিচয় লিপিবদ্ধ করছেন। হায়াত্ মামুদের ‘বাংলা লেখার নিয়মকানুন’ বইটি বাংলাদেশে সাধারণ পাঠকের দৃষ্টি কেড়েছে। জটিল ব্যাকরণের ভার থেকে মুক্তি দিয়ে বইটি সহজ যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করেন লেখক। মাহাবুবুল হকের ‘বাংলা বানানের নিয়ম’ও গুরুত্বপূর্ণ এক বই। বইটির ভঙ্গি ব্যাকরণনিষ্ঠ।

‘প্রথম আলো ভাষারীতি’ নামে বাংলা বানানের একটি নির্দেশিকামূলক বই বের করেছে। বর্ণমালার ক্রমভিত্তিক ‘লিখব’ ও ‘লিখব না’ শিরোনামাঙ্কে অধিকাংশ পৃষ্ঠা সাজানো হয়েছে। কোন বানান কেন ভুল, কোন রীতির কারণে শুদ্ধ হবে সেইদিক জোর না দিয়ে ভাষারীতি এগিয়েছে বইজুড়ে শুদ্ধ শব্দ লেখার তালিকা যোজনার মধ্য দিয়ে। একই ধাঁচে বাংলা লেখার আরেক গাইড বই বের করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। বইয়ের নাম ‘বাংলা লেখক ও সম্পাদকের অভিধান’। বাংলার প্রতিটি বর্ণকে শীর্ষাঙ্কে রেখে বহুল ব্যবহূত শব্দগুলিকে এখানে বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে যে সমস্ত শব্দ লিখলে ভুল হবে তার সংক্ষিপ্ত তথ্যটিও রাখা হয়েছে। একই ধরনের আরো দুটি বইয়ের নাম উল্লেখ করা যায়, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘বাংলা কী লিখবেন কেন লিখবেন’ ও অরুণাভ সরকারের ‘লেখালেখি ও সম্পাদনা’।

সম্প্রতি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান একটি অভূতপূর্ব কাজে হাত দিয়েছেন। একটি অভিনব চিন্তা থেকে তিনি বিবর্তনমূলক অভিধান করার কাজ অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছেন। বিবর্তনে বাংলা শব্দ কখন কীভাবে ব্যবহূত হয়েছে তার পরিচয় লিপিবদ্ধ হবে এই অভিধানে। এর সম্পাদনার দায়িত্বে আছেন গোলাম মুরশিদ।

রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বানানসংস্কার নিয়ে বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে দুইবঙ্গে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। তার মধ্যে আছে ১৯৮৮ সালে আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বানান নির্দেশিকা, ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমীর বাংলা প্রমিত বানানের নিয়ম ও ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির বানানবিধি।

রবীন্দ্রনাথ আধুনিক বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষার রীতিকে সমর্থন করে নবাগত মুখের ভাষার সংস্কার কাজ করেন। সেই পথ বেয়ে চলতি ভাষা এখন জীবন ও সাহিত্যের অনুপম দ্যুতি ছড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ সাধুযুগের পুরোনো রীতিকেই সম্প্রতি গ্রহণ করে নব্য ব্যতিক্রমী রূপকার হয়ে উঠতে ভালোবাসেন। যেমন, সলিমুল্লাহ খান ২০১১ সালে লিখেন : ‘বাংলাদেশে এসলামের সূচনা যে কারণেই হৌক, এসলাম প্রচারের কারণে বর্ণাশ্রম ধর্মের অবয়বে একটা বড় আঘাত নামিয়া আসে। দুঃখের মধ্যে, খোদ এসলামও এদেশে আসিয়া বর্ণাশ্রম ধর্মের আঘাতে খানিক পঙ্গু হইয়াছে। ১৯৪৭ সালের ইতিহাস বাদ দিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের ইতিহাস সাধনা চলিতেছে। তারেক মাসুদের সাধনা তাহাকে পুরাপুরি মানিয়া লয় নাই।’ এই সময়ের তরুণ গদ্যশিল্পী মাহবুব মোর্শেদ সাধারণত ফেইসবুকে যেভাবে স্ট্যাটাস আপডেট করেন তার একটি নমুনাবাক্য এ বছরের : ‘পয়লা বৈশাখে বাঙালি ইলিশ খাইতে চায় আর কয় তার সংস্কৃতি নাকি আবহমান। আরে পাগলা, পুরান রীতি অনুসারে বৈশাখে ইলিশ খাওয়া নিষিদ্ধ। এই সময় মাছগুলা ডিম পাড়ে। এখন আবহমান পাগলাদের কে বুঝাইবে যে পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাইও না। কইলেই তো গাধাগুলা মাইন্ড খাইবো।’ বাংলা ভাষা নিয়ে বিপরীতস্রোতে হেঁটে সৃষ্টিশীলরা যখন কাজ করেন তাতে ভাষার কোনো বিপর্যয় ঘটে না, বরং একত্বের মধ্যে বৈচিত্র্যের মাত্রা পায়। কিন্তু যখন মাতৃভাষার ওপর অবহেলা উপেক্ষা অজ্ঞতা ও অন্ধতার কালো ছায়া পড়ে তখন ভাষার গতি বাড়ে না, গন্তব্যও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

৪৬| ০২ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:৩১

মুহিব বলেছেন: এখানে হুমায়ূন আহমেদের কথা আসল কিভাবে?

০৬ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:০১

আহমদ জসিম বলেছেন: কোথায়?

৪৭| ০৩ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১০:০৮

অদ্ভুত স্বপ্ন বলেছেন: পোস্টদাতা কি পলায়ন করিলেন?

০৬ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:০৩

আহমদ জসিম বলেছেন: ৫দিন বিদ্যুৎ ছিল না, তাই নেটে বসতে পারি নাই।

৪৮| ০৬ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:৩৪

কথক পলাশ বলেছেন: আমি বানান মিকার জন্য সাহিত্য পড়ি না, সাহিত্য পড়ি শিল্পের দৃষ্টিদিয়ে সমাজ দেখার জন্য।

শুনুন, বানান ঠিক না থাকলে তার বুননও শিল্প সম্মত হয় না। এমন একটা ভালো সাহিত্য দেখান যেখানে বানানকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে! বানান ঠিক না থাকলে সেই সাহিত্য শিল্পহীন। ভালো সুতোয় বোনা হতো বলেই মসলিন এতো কদর পেতো। এতোই যদি শিল্প খোঁজেন, তাহলে আপনার বইয়ের জন্য প্রুফ রিডার ('প্লুপলিডার' নয়। এটা আপনার বানান ভুল নয়, সঠিক শব্দটাই আপনি জানেন না) প্রয়োজন হতো না।
আরেকটা কথা, যিনি জ্ঞানী, তিনি বানান জানেন। আর যিনি জ্ঞানের ভাব ধরেন কিন্তু আদতে লবডংকা, তাঁর কাছে শুদ্ধ বানান হচ্ছে-দিল্লি হনুজ দূর অস্ত। একজন মনোযোগি পাঠক হিসেবে আপনাকে পরামর্শ দেই, আপনার বাংলা জ্ঞানের যে অবস্থা, দয়া করে একটু পড়াশুনা করে, জ্ঞান অর্জন করে পরের বইটা লিখবেন। এই জ্ঞান নিয়ে লিখে অযথা মানুষের রূচি নষ্ট করবেন না। এটা প্রতারণার সামিল। সমাজ দেখতে চান ভালো কথা, কিন্তু বানানই যদি না জানেন, তাহলে আপনার অন্ধত্ব দিয়ে সমাজ দেখবেন কিভাবে? অন্ধের হাতি দেখা প্রবাদের সাথে কি আপনি পরিচিত নন? অযথা সাহিত্যের ঙাঙি হয়ে থেকে বিরক্তির উদ্রেক করার দরকার কি?
যাই হোক, আপনাকে বলে লাভ নেই। হুমায়ূন আজাদ স্যারের একটা কথা আমার খুব প্রিয়ঃ
"এক বইয়ের পাঠক হতে সাবধান"।
স্যার বেঁচে থাকলে আপনার অবস্থা দেখে 'পাঠক' এর যায়গায় 'লেখক' শব্দটা বসিয়ে দিতেন।

এই ব্লগেই এখনো অনেক ব্লগার আছেন-যাদের অনেক উঁচু মানের সাহিত্য অনেক আগেই প্রকাশিত হয়েছে। উনাদের সাথে আপনার তফাৎ হচ্ছে, উনারা আপনার মতো এতো গলাবাজি করেন না। ব্লগার "হাসান মাহবুব" ভাইয়ের ব্লগে যান, উনার ছোট গল্প গুলো পড়ুন, বুঝতে পারবেন তার গভীরতা কতো।

আর হ্যাঁ। তিতা কথা বলার জন্য দুঃখিত। আমি সৈয়দ মুজতবা আলী এবং প্রমথ চৌধুরীর ভক্ত কিনা!

৪৯| ০৬ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:৩৮

কথক পলাশ বলেছেন: ভালো কথা, 'শওকত আলী'র লিখা "প্রদোষে প্রাকৃতজন" বইটা পড়বেন দয়া করে। তাতে আপনার শিল্প সংক্রান্ত অজ্ঞতা অনেকটা দূর হবে আশা করি।

০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৩৫

আহমদ জসিম বলেছেন: জি, বইটা পড়েছি, তবে আরো একবার পাঠের ইচ্ছা আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.