| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরা তোমাদের (করোনা বিপ্লবীদের) ভুলবো না - আহসান উদ্দিন ভূঁইয়া
জাতি হিসেবে আমাদের বুদ্ধির আর সাহসের কথা কে না জানে? দুর্দিনে আমাদের সৃজনশীলতা ঠিকরাবেই! এই ধরুন না মুক্তিযুদ্ধের কথা। লক্কর ঝক্কর থ্রী নট থ্রী, আধ-ভোঁতা ছুরি বল্লম, কুচ প্রভৃতি দেশজ অস্ত্র দিয়েই সুসজ্জিত প্রফেশনাল পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে নাকাল করে ছেড়েছিলেন ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের বীরসেনানীগণ।
এর পেছনে মূল যে রহস্য ছিলো তা হলো এদেশের মানুষের গেরিলা বুদ্ধি এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্রবাহিনীকে বোকা বানাতে পাড়ার পারঙ্গমতা। 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দিয়ে বা 'পাক সার জমিন সাদবাদ' গেয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর ট্যাঙ্কারে বসে তাদেরই মৃত্যুর ছক আঁকতেন এদেশের সূর্য সন্তানগণ নিখুঁত অভিনেতার মতোন। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত বীরত্বগাঁথা রূপকথার মতো ছড়িয়ে আছে ছাপ্পান্নো হাজার বর্গ মাইল জুড়ে। বিনম্র শ্রদ্ধা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই মহানায়কগণের প্রতি।
যাই হোক, শুধু মুক্তিযুদ্ধ কেনো? তার আগে পরের সকল দুর্যোগ সাক্ষী। ক্রান্তিকালে এদেশের মানুষের বুদ্ধির জট যত খুলে , আমি হলফ করে বলতে পারি, পৃথিবীর আর কোনো জাতিগোষ্ঠির মানুষের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা এতো দ্রুত চলে না।
এবার আসি আসল কথায়।সে কথা করোনা যুদ্ধের গেরিলা সৈনিকদের কথা। তাদের ইনোভেটিভ সংগ্রামের উপাখ্যান।পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সৃজনশীল সমর পরিকল্পনার কথা।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। অতি উত্তম। দীর্ঘ ছুটি মানেই তো বাড়ি ফেরার হিড়িক। প্রিয় মানুষজনের সাথে সময় কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ।কিন্তু এখানেও বাগড়া বাজালো সেই সরকার । এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়া নিষিদ্ধ করলো। বিভিন্ন জেলা 'লক ডাউন' ঘোষণা করলো! শুধু ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয় নি! তা বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সকল বাহিনীর সমন্বয় করে তাদের পথে নামিয়ে দিয়েছে! এ কেমন দ্বিমুখী নীতি সরকারের ? এই ঘোর অনাচার মানা যায়? তাই বিদ্রোহ ঘোষণা করলো এ দেশের কিছু সংগ্রামী জনতা। তারা পণ করলো, যে কোনো মূল্যে এই চক্রান্তকে প্রতিহত করে প্রিয় জনের কাছে ফিরে যাবেই যাবে। এদেশে করোনার রামরাজত্ব কায়েম করেই ছাড়বে।
যে কথা সেই কাজ। একদল গেরিলা যোদ্ধা ফন্দি আঁটলো তারা মালবাহী ট্রাকে গাঁদাগাঁদি করে বসবে আর বিভিন্ন পণ্যের বস্তাকে যেভাবে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় সেভাবে ঢেকে দেওয়া হবে। তারা নির্বিঘ্নে বাড়ী ফিরে যাবে। সেনাবাহিনীর ঘটে কি আর এতো বুদ্ধি আছে যে তাদের ধরতে পারে !
অন্য আরেকদল তো আরেক কাঠি সরস আইডিয়া বের করলো।তারা রাসায়নিক পণ্য আর মাছ আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ড্রামে মুখ গুঁজে বসে পড়লো। সেই ড্রাম গুলোও ট্রাক এ চড়লো। সেই ট্রাকও রওনা দিলো পণ্যদের গন্তব্যের দিকে। কিন্তু বিধি বাম হলো! উভয় পরিকল্পনা ভেস্তে গেলো।দুই বিপ্লবী দলকেই ধরে ফেলে নচ্ছার বাহিনী!
বাংলাদেশের সকল সামরিক, আধাসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের বোকা বানিয়ে, তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তাদেরই চোখের সামনে দিয়ে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে প্রিয়জনের কাছে ফেরার এই মহান বৈপ্লবিক প্রচেষ্টা মাস্টার দা সূর্য সেনের অস্ত্রাগার লুণ্টনের অভিযানের মতোই ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস তাদের এই অসীম সাহিসিকতা কোনোদিন ভুলবে না। ভুলতে পারে না।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৫৭
ত্রয়োদশ ভূঁইয়া বলেছেন: পড়া এবং উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৫২
পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আহারে এত পরিকল্পনা করেও গেরিলা বাহিনী পুলিশের কাছে ধরা পড়ে গেল ?
শুভ ব্লগিং।
প্রতিমন্তব্য করতে আমাদের কমেন্ট বক্সের ডান দিকে সবুজ বাটনে প্রেস করলে নতুন একটি স্পেস আসবে তার মধ্যে উত্তর লিখে জমা করলে তবেই আমাদের নোটিফিকেশনে দেখাবে।