| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
'Lock up' is better than 'Lock down' - আহসান উদ্দিন ভূঁইয়া
মানুষকে জেলে পুড়ে রাখা যত সহজ ঘরে ধরে রাখা মোটেও অতটা সহজসাধ্য ব্যাপার নয় ! জনৈক বন্ধুর খুব আক্ষেপ ছিলো একটা দীর্ঘ ছুটির। কারণটাও যুক্তিসঙ্গত। বিয়ের পর পেশাগত কারণে স্ত্রীরত্নের সাহ্নিধ্য খুব একটা পায় নি বেচারা। রসিকতা করে বলতো -ইশ!কাজে যেতে না হলে দিন রাত বৌয়ের আঁচল ধরে বসে থাকতাম (আসলে বলতো-দিন রাত শুধুই প্রেম করতাম। কোত্থাও যেতাম না। আমরা বন্ধুবান্ধব সেটাকেই ঐরকম ট্রান্সলেট করেছিলাম আরকি। বলে রাখা ভালো। ওর কয়েকটা উপাধিও জুটেছিলো। যেমন ধরুন- স্ত্রৈণ, বৌয়ের নেওটা, house husband ইত্যাদি)।
কয়েক মাস যেতে না যেতেই গেলো বন্ধুর কপাল খুলে! করোনা'র প্রাদুর্ভাবে দেশ জুড়ে 'Lock down' । লেব্বাবা, এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। শুধু বৃষ্টি বললে কম হয়ে যায়-দশ আঙুলের কপাল ওর - কয়েক শ' ঝর্ণা প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র নিজেই এসে চেঁপে বসেছে ওর খাটে। প্রেম করার জন্য মিলে গেলো অফুরন্ত ছুটি। কিন্তু হায় ! সাতদিন যেতে না যেতেই গণেশ পাল্টে গেলো? 'আমি বন্দি কারাগারে, আছিগো মা বিপদে, বাইরের এল চোখে পরে না...' গানের সাথে কেঁদে কেঁদে tiktok ভিডিও ছাড়লো।
ফেইসবুক-এ একজন কমরেড জ্বালাময়ী স্টেটাস দিলেন। "আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করেছি। সেটাও বেশ উপভোগ্য ছিলো। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন! লক-ডাউন এর বন্দী জীবন জেল জীবনের চেয়েও দুর্বিসহ।"
অধম জেলের ভাত খাইনি আজো। তাই এর স্বাদ জানতে চেয়ে লজ্জা দিবেন না।
আমি একজন অসূর্যস্পর্শাকে চিনি। চাঁদ-সুরুজ ও ক্বদাচিৎ তার দর্শন পান। তিনিও তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওয়াল-এ লিখেছেন, "এই বন্দি-জীবন নিয়ে আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না।" আরেকজন যিনি ফ্যান্টাসি কিংডমের রাইডারে চড়তে গিয়ে দুআ-কুনুত পড়েন তিনি স্টেটাস দিয়েছেন, "কবে যাবো পাহাড়ে ? আহারে ! আহারে!!"
সত্যিই সেলুকাস !
একটা ইংরেজি গল্পে পড়েছিলাম- এক চোর পুলিশকে দেখিয়ে দেখিয়ে একেরপর এক আইন ভাঙছে যেনো পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কারণ, আসন্ন শীতে ফ্রীতে তার একটা থাকার খাওয়ার বন্দোবস্ত হবে। এমন মেধা অবশ্য আমাদের দেশের ছিচকে চোর বা রাস্তার নেশাখোরদেরও আছে। এদের কারো কাছে জেলহাজত হলো মামার বাড়ি আর কারো শশুরবাড়ি। শুনা যায় খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও নাকি ক'দিন জেল খাটার শখ হয়েছিলো। তার মানে 'Lock up' বিষয়টা নেহায়েৎ মন্দ না।
Lock down এর ক্ষেত্রে দৃশ্যপট ভিন্ন। মার্কিন মুল্লুকে এই Lock down ভেঙে Lock down এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। এদিকে বাংলাদেশ,ভারতে তো আবালবৃদ্ধবনিতা নির্বিশেষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটা, জেল-জরিমানা হজম করেও বীরদর্পে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছলে-বলে-কৌশলে ঘর থেকে বের হচ্ছেন করোনাকে খুঁজে বের করতে।
বেশ কয়েকজন তো সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন- হাসপাতাল থেকে পালিয়ে। করোনাতে আক্রান্ত শুনে চিকিৎসা কেন্দ্র, পরীক্ষাগার এমনকি বাড়ি থেকেও পালিয়েছেন তেনারা। কেনো? কারণ, এখন তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন-এ থাকতে হবে। প্রয়োজনে জান দিবেন তেনারা তবু কোয়ারেন্টাইন-এ থেকে মান দিবেন না ! ব্র্যাভো !!
অরে বাবা ! এদেরই বা কি দোষ? যে দরজার তালাচাবি নিজের হাতে তার ভেতর কতক্ষণ বন্দী থাকতে পারে মানুষ? তাছাড়া, তালায় জং ধরলো কি না, কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় সেটা পরীক্ষা করাও তো একটা গুরু দায়িত্ত্ব, নাকি? সর্বোপরি, বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আর নিষিদ্ধ জিনিসের লোভ তো আদম-হাওয়াও সামলাতে পারেন নি। আমরা কোন ছাড়!
২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৫৮
ত্রয়োদশ ভূঁইয়া বলেছেন: পড়া এবং উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
২|
২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২৭
আল-ইকরাম বলেছেন: আপনার লেখাটি পড়ে মজা পেলাম। নিষিদ্ধ যেকোনো কিছু প্রতি মানুষের আকর্ষণ দুর্বার। এটা অনাদি। কিন্তু বন্দী জীবন অসহনীয়। তা সে লক আপ’ই হোক আর লক ডাউন’ই হোক। শুভ কামনা রইল।
৩|
২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:৩০
ত্রয়োদশ ভূঁইয়া বলেছেন: সত্যিই তাই । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:১৩
প্রেক্ষা বলেছেন: আমরা মানুষ জাতিটাই এমন ,যে জিনিস টা করতে মানা করা হবে সেটা বেশী বেশী করা লাগবে।