নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একটি ব্যক্তিগত সৃষ্টির আঁতুড়ঘর

ত্রয়োদশ ভূঁইয়া

ত্রয়োদশ ভূঁইয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

পাগল কইলো, \'আমারে ফাগল ফাইসো?\' : পর্ব ৪

২৫ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:৩৭

ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি-আহসান উদ্দিন ভূঁইয়া

একটুকরো রোদকে গোপনে চুরি করিনা অনেক দিন। মুক্তারের মরিচের চা, সোহেলের চটপটি, কামরুলের 'সবার আগে আম্নেরে দিমু' বলে সবার শেষে সার্ভ করা আদা দিয়ে দুধ চা কিংবা অফিস পাড়ার খালার ঘরে বানানো ছোলা আমাকে খুব টানছে। তারচেয়েও বেশি টানছে যানজট, ভিড়ের ঠেলাঠেলি, গাড়ির হর্ন। লকডাউনের আগেও এগুলো থেকে মুক্তির পথ খুজতাম। গৃহবন্দী জীবনের ৩০ তম দিনে এসে টের পেলাম এরাই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আরেকটা অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করলাম তা হলো - গাড়ির তেলপোড়া ইঞ্জিনের গন্ধকে আমি খুব ভালোবেশে ফেলেছি। ধুলাবালি আর পারদ মিশ্রিত ঢাকার বাতাস ফুসফুসে ঢুকে না সেও মেলাদিন হয়ে গেলো। তাই এখন ঘরের ভিতরের বিশুদ্ধ বাতাসকে লবন-মরিচ ছাড়া তরকারির মতন লাগছে। কথায় কি যেন বলে? কার পেটে যেন কি হজম হয় না?

আজ বাজারে যেতে হবে। কি যে একটা উৎসব উৎসব ভাব কাজ করছে মনে, সে ভাষায় প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট সমৃদ্ধ বাংলা 'ভোকাবুলারি' আমার নাই। বাজারে যাওয়া যে এতো আনন্দের তা এর আগে কোনোদিন বুঝিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ট্রল করেছিলেন, "একদিন ইতিহাস লিখা হবে। বাঙালী নামে একটা জাতি ছিলো যারা শুধু বাজার করতে গিয়ে ধ্বংস হয়েছে"। আমি করোনার মহামারির দিনে এই ট্রলের আবিষ্কর্তাকে বলতে চাই, "ভাই, বাজারে যাওয়া নিয়া ট্রলবাজি বন্ধ কর। নাইলে তোরে খুইজ্জা বাইর কইরা জড়াইয়া ধরবাম কইলাম!" কোয়ারান্টিনের দিনে এই বাজার যে কত মানুষকে কয়েক মুহূর্তের জন্য মুক্তির স্বাদ পাইয়ে দিয়েছে, সে সংখ্যা কোন প্রকারে নির্ণয় করি?

যাই হোক, বাসার প্রধান ফটক খুলে গলিতে ঢুকে যা দেখলাম তাতে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো ! দুইজন পাশাপাশি দাঁড়াতে কষ্ট হয় এমন সংকীর্ণ একটা গলিতে জনাপঞ্চাশেক মানুষ গা ধাক্কাধাক্কি করছে। ভালোমতো লক্ষ্য করে দেখলাম পাশের বাসার বাড়িওয়ালা খাদ্য সামগ্রীর পোটলা বিতরণ করছেন এদের মধ্যে। তিনিও নিজেও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না।

আমি খুব বিরক্তি নিয়ে কাছে গিয়ে আমার যাওয়ার রাস্তা করে দিতে অনুরোধ করলাম। তার এই মহৎ কাজ যে আমার ভালো লাগেনি সেটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এবং সবাইকে সরিয়ে আমার যাওয়ার পথ করে দিলেন। আমি যখন এই মানবাতঙ্ক অতিক্রম করছিলাম তখন সেই ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে শুভ্র শশ্রুমন্ডিত মুখে ঈষৎ লাজুক হাসি এনে কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিতেই বললেন, "কাল থেকে তো রোজা, তাই আল্লার নামে কিছু খরচ করছি"। কিন্তু এক বেলার খাবার দেয়ার আয়োজন করতে গিয়ে এতগুলো মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার অধিকার আল্লাহ উনাকে দিয়েছেন কি? উনি তো চাইলে ব্যক্তিগত দূরত্ব নিশ্চিত করেও তার এই সহায়তা কার্যক্রম চালাতে পারতেন।

এ আর এমন কি! ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলায় এক বুজুর্গের জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ যে করোনা ভাইরাসের চেয়েও বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তাতো আমরা সকলেই জানি। কেউ এখানে কন্সপিরেসি তত্ত্বের গন্ধ পেয়েছেন। কেউ একে মূর্খতা আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ আবার এটাকে ঐশী ঘটনাও বলছেন। বটেই! না হলে কি লকডাউনের দিনে এতো মানুষ হয়? যুক্তিটাও একবারে খাপে খাপ আবুলের বাপ।

তবে যে যাই বলেন না কেনো, করোনা কিন্তু পূণ্যবানদের পক্ষে। ঢাকায় প্রথম করোনা রোগে মৃত ব্যক্তিটি কিন্তু জামাতে নামাজ পড়তে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছিলেন। আপনারা যারা ধর্ম ভিত্তিক এই জামায়াতের সমালোচক (আমি কিন্তু সমালোচনা করছি না। প্রামাণ্য বর্ণনা করছি।) তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে এক গরুর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা শুনতে পাই কয়েক লাখ ! অবস্থাদৃষ্টে চন্দ্রবিন্দু'র একটা গান খুব করে কানে বাজছে-'ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি'! আমি আর কি বলবো?

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:১১

আল-ইকরাম বলেছেন: গরুর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণ? হাসবো না রাগ করবো বুঝতে পারছি না। আমারা তথা মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছি? আমরা সত্যিই অদ্ভূত! আমরাই আবার নিজেদের কে শ্রেষ্ঠ জীব বলে গৌরব করি! আমাদের লজ্জাও নেই। কেননা ঐ বস্তুটিও হয়তো করোনার চেয়ে আরও ভয়াবহ! তাই তা থেকে আমরা নিজেদের কে নিরাপদ দূরত্বে রাখাটাই শ্রেয় মনে করি। ধন্যবাদ। শুভ কামনা রইল।

২৭ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:৩২

ত্রয়োদশ ভূঁইয়া বলেছেন: আসুন দূরে থাকি। কোলের জনকে, বুকের ধনকে নিরাপদ রাখি। তাহলেই দেশ বাঁচবে, মানবকুল বড় ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে সক্ষম হবে। ধন্যবাদ। ভালোবাসা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.