নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একটি ব্যক্তিগত সৃষ্টির আঁতুড়ঘর

ত্রয়োদশ ভূঁইয়া

ত্রয়োদশ ভূঁইয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

পথের পাঁচালী : ৬৫ বছরেও পুরোনো হয়নি যে সিনেমা

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:১৪

ভারত, ১৯৫৫
দৈর্ঘ্য : ২ ঘন্টা ০৫ মিনিট
আসপেক্ট রেশিও : ১.৩৩: ১
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা : সত্যজিৎ রায়
প্রযোজনা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার
অভিনয় : কানু বন্দ্যোপাধ্যায়, করুনা বন্দ্যোপাধ্যায়, উমা দাশগুপ্ত, চুনীবালা দেবী, সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
সঙ্গীত : রবিশঙ্কর
চিত্রগ্রহণ : সুব্রত মিত্র
সম্পাদনা : দুলাল দত্ত

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী উপন্যাসের কিশোর পাঠ্য সংস্করণ 'আম আঁটির ভেঁপু'র প্রচ্ছদ এবং ইলাস্ট্রেশন করতে গিয়ে সিনেমা নির্মাণের ভুত পেয়ে বসে সত্যজিৎ রায়েকে এবং অপু ত্রয়ীর প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী'র মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে তার অভিষেক হয়।

সিনেমায় অপুর বাবা হরিহর একজন পুরহিত। স্বপ্ন দেখেন যাত্রা লিখে একদিন তাকে লাগিয়ে দিবেন, তার দুর্দশার দিন কেটে যাবে। অপুর মা সর্বজায়া চিরায়ত বাংলার গৃহিণী যিনি তার সবটা দিয়ে আগলে রাখেন নিজের সংসার। বাবা, মা ছাড়াও বোন দূর্গা আর পিসি ইন্দির ঠাকরুণকে নিয়ে অপুর ভুবন।

হরিহরের 'নুন আন্তে পান্থা ফুরায়' সংসারের আনন্দ প্রবাহ শুরু হয় অপুর জন্মের পর। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে হরিহরকে একসময় শহরে যেতে হয় এবং অনেকদিন স্বামীর কোনো খবর না পাওয়া সর্বজয়াকে দেখা যায় সংসার সামলাতে পিতলের থালা বিক্রি করতে, পথে পরে থাকা কুমড়া তুলে দ্রুত পায়ে বাড়ি আসতে। হাড়িতে ভাত নেই তবু প্রতিবেশীর দান নিতে অনিচ্ছুক সর্বজয়া। জীবনসংগ্রামের এ এক মর্মস্পর্শী আলেখ্য। এরইমধ্যে 'মরার উপর খাড়ার ঘা' হয়ে বাংলায় বর্ষা আসে। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় দূর্গা। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় হরিহরের বাড়ি। বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার ভিটা ফেলে সপরিবারে সে কাশী-যাত্রা করে।

রবিশঙ্করের সংগীতায়নে ধ্রুপদী আবহসংগীত সমৃদ্ধ ছবিটি নাচে-গানে ভরপুর প্রথাগত ভারতীয় সিনেমাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বিশ্বকে তাকে লাগিয়ে দেয়। পঁচাত্তর বছর বয়সী চুনীবালার কণ্ঠে ‘হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো...’গানের সংযোজন এবং ইন্দিরের মৃত্যুর পর শবযাত্রার সময় স্লো মোশনে গানটিকে ব্যাকগ্রাউন্ড ট্র্যাক হিসেবে ব্যবহার উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে শোক প্রকাশের ক্ষেত্রে 'কমন ট্রেন্ড' হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

পথের পাঁচালির সবচেয়ে বড় শক্তি এর দৃশ্যায়ন। কাশবনের মধ্যে দিয়ে অপু-দুর্গার ট্রেন দেখতে যাওয়া, দেওয়ালের ফুটো দিয়ে উঁকি দিয়ে মিষ্টিওয়ালাকে দেখা; অপু, দূর্গা আর কুকুরের মিষ্টিওয়ালার পিছনে ছুটা এবং পুকুরে তার প্রতিফলন দর্শককে নান্দনিকতার অনন্য স্বাদ পাইয়ে দেয়। মিষ্টিওয়ালাকে আবার দেখা যায় যখন দূর্গা শয্যাশায়ী কিন্তু তখন কেউ আর তার পিছু নেয় না!

শৈশবের দূরন্তপনা এবং ভাই-বোনের অম্লমধুর সম্পর্ক উপস্থাপনেও সত্যজিৎ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। আচার বানানো, যাত্রা অভিনেতাকে অপুর অনুকরণ ও দুর্গার হাতে মার খাওয়া, চড়ুইভাতি, বায়োস্কোপ দেখা, বৃষ্টিতে ভেজা প্রভৃতি দৃশ্য দর্শককে তার গ্রামীণ শৈশবে নিয়ে যেতে বাধ্য। ক্যামেরার ফ্রেমে বর্ষার আগমনের যে নিখুঁত উপস্থাপন পরিচালক করেছেন তা অপ্রতুল। কাশী-যাত্রার আগে দূর্গার চুরি করা পুঁতির মালা খুঁজে পেয়ে অপু পুকুরের ফেলে দেয় যেন তার মৃত বোনের উপর চুরির দায় না চাপে। এই বুদ্ধিমত্ত্বা ও বোনের প্রতি ভালোবাসার এমন উপস্থাপনও বাহবা কুড়িয়েছে যথেষ্টই।

১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট ছবিটি মুক্তি প্রাপ্ত এবং ১৯৫৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের 'বেস্ট হিউমান ডকুমেন্ট' পদকপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রের ৬৫ বছর পরে এসেও এর রিভিউ লিখার তাগিদ ও প্রয়োজনীয়তাই প্রমান করে এটি বিশ্ব সিনেমার কতবড় সম্পদ! যদিও সত্যজিৎ বিনয় করে বলেছেন, "নতুন করে কাঁচি চালাতে পারলে জিনিষটা আরও পরিপাটি ও ছিমছাম হতো, গতি বাড়তো।” সমালোচকগণ উপন্যাসের সাথে সিনেমার গল্প ও ঘটনার ভিন্নতার জন্য সত্যজিৎকে তোপের মুখে ফেলার চেষ্টা করলেও, অধিকাংশ বোদ্ধার কাছে এই ভিন্নতাগুলোই এই সিনেমার স্বকীয়তা হিসেবে গণ্য হয়।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৫৮

শোভন শামস বলেছেন: সুন্দর রিভিউ

২| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১৮

ত্রয়োদশ ভূঁইয়া বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.