| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মৃত্যুর পরেও একজন কবিকে ঈর্ষা করবেন জাতিস্মর গানের সৃষ্টিকর্তা কবির সুমন। তিনি বলেছেন - ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো; এই দুইটা লাইন কেন লিখতে পারলেন না এর জন্য কবরে গিয়েও আফসোস করবেন। সেই কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আমার প্রিয় কবি। 
"খোদার কসম আমি রবীন্দ্রনাথকেও ঈর্ষা করি না, ঈর্ষা করি লালন ফকির, হাসন রাজা, কবি জসীমউদ্দিন আর রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে ঈর্ষা করি।"- কবির সুমন
মূলত একটা কবিতার কথা বলার জন্যই আমার এই লেখা। যে কবিতার দুইটা লাইনের জন্য আমার মনে আজীবন গেঁথে থাকবে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নাম।- আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই, জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।
আমার বিশ্বাস রুদ্রের সেই পুরোনো শকুনেরা আর কোনও দিন এই বাংলায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। আফসোস রুদ্র তা দেখে যেতে পারলেন না।
বাতাসে লাশের গন্ধ – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।
বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ -
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা…
রক্তের কাফনে মোড়া – কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার – স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -
স্বাধীনতা – আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।
©somewhere in net ltd.