নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উইন্ডোজ সেটআপ

লক্ষ্য পানে পৌছাঁর আলোকিত প্রত্যয়

আলমগীর ইউসি

আমি আইসিটি কাজ করি এবং নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। আমি প্রভুর প্রতি আত্মবিশ্বাসী তাই আমি অব্যশ্যই সফল হবো। প্রার্থনা পারে জীবনকে পরিবর্তন করতে।

আলমগীর ইউসি › বিস্তারিত পোস্টঃ

বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমানের চিঠি

১০ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৭

বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমানের চিঠি। বিশ্বাস করে চিঠিটা যতবারই পড়া হোক না কেন, এক অন্যরকম শিহরণ কাজ করে। তোমাদের ঋণ কিভাবে শোধ হবে ?



প্রিয়তমা মিলি,

একটা চুম্বন তোমার পাওনা রয়ে গেলো...সকালে প্যারেডে যাবার আগে তোমাকে চুমু খেয়ে বের না হলে আমার দিন ভালো যায় না। আজ তোমাকে চুমু খাওয়া হয় নি। আজকের দিনটা কেমন যাবে জানি না... এই চিঠি যখন তুমি পড়ছো, আমি তখন তোমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। ঠিক কতোটা দূরে আমি জানি না।



মিলি, তোমার কি আমাদের বাসর রাতের কথা মনে আছে? কিছুই বুঝে উঠার আগে বিয়েটা হয়ে গেলো। বাসর রাতে তুমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে যখন কাঁদছিলে, আমি তখন তোমার হাতে একটা কাঠের বাক্স ধরিয়ে দিলাম। তুমি বাক্সটা খুললে... সাথে সাথে বাক্স থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাকী বের হয়ে সারা ঘরময় ছড়িয়ে গেলো। মনে হচ্ছিলো আমাদের ঘরটা একটা আকাশ... আর জোনাকীরা তারার ফুল ফুটিয়েছে! কান্না থামিয়ে তুমি অবাক হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলে, "আপনি এতো পাগল কেনো!?" মিলি, আমি আসলেই পাগল... নইলে তোমাদের এভাবে রেখে যেতে পারতাম না।



মিলি, আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন প্রিয় কন্যা মাহিনের জন্মের দিনটা। তুমি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলে। বাইয়ে আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টি... আমি বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে কষ্টে পুড়ে যাচ্ছি। অনেকক্ষণ পরে প্রিয় কন্যার আরাধ্য কান্নার শব্দ... আমার হাতের মুঠোয় প্রিয় কন্যার হাত! এরপর আমাদের সংসারে এলো আরেকটি ছোট্ট পরী তুহিন.... মিলি, তুমি কি জানো... আমি যখন আমার প্রিয় কলিজার টুকরো দুই কন্যাকে এক সাথে দোলনায় দোল খেতে দেখি, আমার সমস্ত কষ্ট - সমস্ত যন্ত্রণা উবে যায়। তুমি কি কখনো খেয়াল করেছো, আমার কন্যাদের শরীরে আমার শরীরের সূক্ষ একটা ঘ্রাণ পাওয়া যায়? মিলি... আমাকে ক্ষমা করে দিও।



আমার কন্যারা যদি কখনো জিজ্ঞেস করে, "বাবা কেনো আমাদের ফেলে চলে গেছে?" তুমি তাঁদের বলবে, "তোমাদের বাবা তোমাদের অন্য এক মা'র টানে চলে গেছে... যে মা'কে তোমরা কখনো দেখো নি। সে মা'র নাম 'বাংলাদেশ'। মিলি... আমি দেশের ডাককে উপেক্ষা করতে পারি নি। আমি দেশের জন্যে জকে ছুটে না গেলে আমার মানব জন্মের নামে সত্যিই কলঙ্ক হবে। আমি তোমাদের যেমন ভালোবাসি, তেমনি ভালোবাসি আমাকে জন্ম দেওয়া দেশটাকে। যে দেশের প্রতিটা ধূলোকণা আমার চেনা। আমি জানি... সে দেশের নদীর স্রোত কেমন... একটি পুটি মাছের হৃৎপিন্ড কতটা লাল, ধানক্ষেতে বাতাস কিভাবে দোল খেয়ে যায়....!

এই দেশটাকে হানাদারের গিলে খাবে, এটা আমি কি করে মেনে নিই? আমার মায়ের আচল শত্রুরা ছিড়ে নেবে... এটা আমি সহ্য করি কিভাবে মিলি? আমি আবার ফিরবো মিলি... আমাদের স্বাধীনদেশের পতাকা বুক পকেটে নিয়ে ফিরবো। আমি, তুমি, মাহিন ও তুহিন... বিজয়ের দিনে স্বাধীন দেশের পতাকা উড়াবো সবাই। তোমাদের ছেড়ে যেতে বুকের বামপাশে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে... আমার মানিব্যাগে আমাদের পরিবারের ছবিটা উজ্জ্বল আছে... বেশি কষ্ট হলে খুলে দেখবো বারবার।

ভালো থেকো মিলি... ফের দেখা হবে। আমার দুই নয়ণের মণিকে অনেক অনেক আদর।

ইতি,

মতিউর।

২০ আগস্ট, রোজ শুক্রবার, ১৯৭১



আমরা কি পারিনা এই দেশটাকে সাজাতে? আমার চোখের জল বের হয়েছে কয়েকবার? আসলে যারা দেশকে ভালোবাসে তাদের চোখ জলকে রোধ করা যাবেনা। আসো আমরা এক হই দেশটাকে আবার স্বাধীন করি। যে স্বাধীন করা উদ্দ্যেশ্য চিল; হায়নামুক্ত করে শান্তি খুজে পাওয়া।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৯

পাজল্‌ড ডক বলেছেন: আগে পড়া ছিলো না, পড়লাম, অসাধারণ।

২| ১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:০০

মামুন রশিদ বলেছেন: চিঠিটা যতবার পড়ি, মন ছুঁয়ে যায় ।

৩| ১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:১৭

দিপ্২৪ বলেছেন: আসলে মন ছোঁয়া চিঠি। ভালবাসি তাদের অনেক, অনেক বেশি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.