নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মজায় মজা আনে

আসুন মজা করি

মজায় মজা আনে।

আসুন মজা করি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আলিশান বাড়িতে কে থাকে ????

১১ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৪৬

ঐশ্বর্য্যে ভরপুর, পীর আউলীয়ার স্মৃতি বিজড়িত প্রবাসী অধ্যুষিত হাসন রাজার জন্মভূমি আধ্যাত্মিক শহর বিশ্বনাথ। এই জনপদ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পরও বিনিয়োগ করার সুযোগ না থাকায় আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। অনেক বাড়িতে প্রবেশ না করলে অনুমান করা যাবে না কত টাকা খরচ হয়েছে এ বাড়িতে। প্রতিবছর প্রবাসীদের কল্যাণে এ উপজেলায় নির্মিত হয়েছে বড় বড় অট্টালিকা। বাড়িগুলো অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। অথচ এসব বাড়িতে বেশির ভাগ প্রবাসীরা বসবাস করেন না। তবে, থাকছেন পরদেশীরা। বিনিয়োগ করার কোন সুযোগ না থাকায় হচ্ছে না কোন মিল-কলকারখানা। অভিযোগ রয়েছে নিরাপত্তার অভাব, গ্যাস না থাকা এবং ঘনঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে প্রবাসীরা দেশে আসতে ও বিনিয়োগ করতে চান না। শুধু মাঝে মাঝে নাড়ির টানে এক-দুই সপ্তাহ’র জন্য দেশে আসার কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে এসব আলিশান বাড়ি তৈরি করা। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই বাড়িগুলোতে পরদেশীরা বসবাস করে আসছেন, আবার আনেক বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পরদেশী হচ্ছে অন্যজেলার লোক। যারা দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের অন্যান্য উপজেলার মতো বিশ্বনাথেও বসবাস করছেন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রবাসীদের রেখে যাওয়া মূল্যবান মালামালের অধিকাংশ জিনিসপত্র হচ্ছে নষ্ট। বেশির ভাগ প্রবাসীদের বাড়িতে আছে সর্বাধুনিক মডেলের ফার্নিচার, ইলেক্টনিক্স জিনিসপত্র, ঘরের ব্যবহার্য আসবাবপত্র, কম্পিউটার, আছে ডিস লাইন, ইন্টারনেটের ব্যবস্থা, আছে ব্যক্তিগত জিম সেন্টার, সুইমিংপুল, আছে মিনি পার্ক, আর কি চাই বলুন। শুধু এখানেই শেষ নয়, এছাড়াও রয়েছে লেটেস্ট মডেলের জিপ, কার, মোটরসাইকেল। শুধু নেই বাড়িতে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যবহার করার মতো মানুষ। আর তাই ঘর পাহারার জন্য রাখতে হচ্ছে অন্য জেলার লোকদের। ইদানীং ফাঁকা বাড়িতে অহরহ ঘটছে নানান ধরনের অপকর্ম-অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য, পাশপাশি চলছে চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা। যে কারণ প্রবাসে গিয়েও শান্তিতে নেই এলাকার প্রবাসীরা। তারা দেশে আসার পর কতদিন দেশে আছেন জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তারা বলেন- দেশে থাকতে মন চায় কিন্তু যে হারে বিদ্যুৎ লোডশেডিং, গ্যাসের সমস্যা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই বেড়েছে তাতে থাকার কোন সুযোগ দেখি না। প্রবাসীদের অনেকেই বলেন দেশে আসি বাপ-দাদার ভিটে-বাড়ি, সহায়-সম্পত্তি, আত্মীয়-স্বজনকে দেখার জন্য। বিশ্বনাথের হরিকলস গ্রামের প্রবাসী যুক্তরাজ্য যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছিত বাদশা বলেন- প্রবাসীরা একেবারে যে বিনিয়োগ করছে না তা কিন্তু নয়। সমস্ত সিলেট জুড়ে যে আলিশান প্রাসাদ নির্মিত হচ্ছে, বড় বড় মার্কেট নির্মিত হচ্ছে, মার্কেটগুলোতে ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, আবাসিক এলাকার সৃষ্টি হচ্ছে, বিশ্বনাথেও কয়েকটি আধুনিক মার্কেট গড়ে উঠেছে এবং অনেক রাস্তাঘাট প্রবাসীদের বিনিয়োগের ফলেই। তবে এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের প্রবাসীদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসা উচিত বলেও তিনি মনে করেন। তবে বড় কিছু করতে হলে নিরাপত্তা, গ্যাস না থাকা এবং ঘনঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিং, ফাইল নিয়ে বছরের পর বছর অফিসে দৌড়সহ সকল সমস্যা দূর করতে হবে। আর সেই জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগমুখী পরিবেশ। প্রবাসীদের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই বলে কষ্টার্জিত টাকায় নির্মিত হচ্ছে আলিশান বাড়ি। সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগ করার সুযোগ-সুবিধা করে দিলে বিশ্বনাথ তথা সিলেটে গড়ে উঠবে ছোট বড় অনেক কলকারখানা এমন আশাবাদী উপজেলার সচেতন নাগরিক।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.