| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিভিন্ন দিবস বিভিন্ন ভাবে উদ্যাপন করা হয়। একুশ উদ্যাপনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রভাত ফেরী। এই প্রভাত ফেরীতে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো....’ গানটি গাওয়া হয়। প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহণকারীরা নগ্নপদে গান গাইতে গাইতে শহর প্রদক্ষিণ করেন। তাঁরা কালব্যাজ ধারণ করেন। শহর প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
প্রভাত ফেরী একুশের প্রাণ। অন্যান্য দিবস ঘরে বসে উদ্যাপন করা যায়। অন্যান্য দিবসে পরিচিত ব্যক্তিদের গণ্ডি অতিক্রম না করলেও হয়। কিন্তু ঝড়, বাদল, আয়ুবের সামরিক শাসন, এনএসএফ-এর নৃশংস গুণ্ডা-পাণ্ডা-মুজিববাদী খুনে রক্ষীবাহিনী সব কিছুকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করে সাধারণ মানুষকে একত্রে রাস্তায় নামতে সাহস এবং উৎসাহ দিয়ে আসছে একুশে ফেব্র“য়ারি। ১৯৭৬ আবুল ফজলের ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ কথাটি সামরিক শাসনে হত-বিহ্বল গণতান্ত্রিক শিবিরে প্রাণ স্পন্দন জাগ্রত করেছিল।
এখানে সতর্কতার সাথে মনে রাখা দরকার যে, একুশের প্রভাত ফেরী ১৪ ডিসেম্বরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কবর জেয়ারতের মতো শোক সমাবেশ নয়। প্রভাত ফেরীতে যে কালো ব্যাজ ধারণ করা হয় তা প্রতিবাদ, বিক্ষোভের; শোকের নয়। একুশের প্রভাত ফেরী পহেলা বৈশাখের মতো কোন আনন্দ উৎসবের মিছিল নয়। একুশের প্রভাত ফেরীতে শহীদদের জন্য শোক থাকে, থাকে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের জন্য আনন্দ-উৎসব। কিন্তু শোক বা উৎসব একুশের প্রভাতফেরীর প্রধান দিক নয়। একুশের প্রভাতফেরীর প্রধান বৈশিষ্ট্য সামনে চলার জন্য সব মানুষকে একত্রিত এবং সমবেত করা। শহর-গ্রামের সব মানুষকে জাগ্রত করে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানোর মধ্যেই নিহিত থাকে প্রতি বছর একুশ উদ্যাপনের সার্থকতা। ২৪/২/০২
©somewhere in net ltd.