| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মার্চ ১;১৯৭১, দাদুর ডায়েরী কড়চা:
সেদিন ছিল সোমবার
,দুপুরের পর থেকেই মানুষের মাঝে কৌতুহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান আজ জাতির উদ্দেশ্য সরাসরি ভাষণ দিবেন।বিকাল ৫টা গড়াতে সবাই রেডিও নিয়ে উঠোনে জড়ো হতে লাগল,আসর নামাজের পর লোকজন এইসব বলতে বলতে হাজির শুধু কি ঘোষনা আসে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে।নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাচ্ছে তবুও ভাষণ শুরু হচ্ছেনা,এ নিয়েও নানা মুখরোচক আলোচনা ও চলছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ফোনে ওয়াসিংটনে কথা বলেই যাচ্ছেন,সাথে পুর্ব বাংলার নতুন গভর্নর শিবজাদা ইয়াকুব খান।ফোন রেখে একটা সিগারেট ধরিয়ে কি যেন ভাবলেন,বাহিরে অপেক্ষমান মিডিয়া।জাতির উদ্দেশে একটু পরই ভাষণ দিবেন।অবশেষে শুরু হল ভষণ।তার বক্তব্যের মুল কথা হল; "আজ জাতি চরম সঙ্কটাপন্ন,দেশের অবস্থা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে খারাপ তাই ন্যাশনাল এসেম্বলী এখন হবেনা এবং পরবর্তী ঘোষনা পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত।"
তিনি জানতেন এ ঘোষনার পর শেখ মুজিব ও পুর্ব পাকিস্তানের জনগন চুপ থাকবেনা।ঠিক যা কল্পনা ছিল প্রেসিডেন্টের মনে তা ই হল।শেখ মুজিব তাৎখনিক সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন সাথে ছিলেন সিরাজুল আলম খান,আ স ম আব্দুর রব,শাহজাহান সিরাজ এবং বললেন এটা গনতন্ত্র হতে পারেনা।আগামীকাল অর্থাৎ ২ তারিখ ঢাকায় ও ৩ তারিখ সারাদেশে সর্বাত্নক হরতাল ঘোষনা করলেন আর পরবর্তী পুর্নাঙ ঘোষনা আসবে ৭ তারিখ।
তার আগে এক আনঅফিসিয়াল মিটিং এ পুর্ববাংলার গভর্নর এডমিরাল এস এম আহসান সম্ভাব্য ভাষণ পরবর্তী গোলযোগ হলে গুলি করতে অস্বীকৃতি জানায়,ফলস্রুতিতে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে শিবজাদা ইয়াকুব খানকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
এদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্ধকৃত ১লাখ৫০ হাজার টন গম সহায়তা পুর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয় আমেরিকা। এতে পশ্চিম পাকিস্তানে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কট হলেও আমেরিকা ও ইয়াহিয়ার ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা পুর্ব বাংলার জনগনের বুঝতে বেশী সময় লাগেনি।(.....চলবে)
©somewhere in net ltd.