| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রচারণায় দানের মাহাত্ম নষ্ট হয়। তারপরও আত্মত্যাগী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই পথে যেতে হয় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সংঘটন বড় করার তাগিদে। দরিদ্র মানুষের করুণ মুখের পাশাপাশি দান পরবর্তী হাঁসি মুখ না দেখালে আমরা আবার টাকা দিতে চাই না। এত কিছু করার পরও প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে অনেক মহৎ উদ্যোগ। কারন আমাদের
দেশে আত্মদানের অনেক ভালো নিদর্শন আছে, যারা কোন বিজ্ঞাপন করে না। আবার অনেকে করতে চেয়েও পারে না ভালো ক্যামেরা কিংবা উপস্থাপনার অভিজ্ঞতার অভাবে। আবার কেউ যদি সেই ধাপটা করেও ফেলে তা আমাদের রুচিশীল মনে পাত্তা পায় না, বরঞ্চ আমরা অতি যত্নে সুক্ষ্য কোন খুঁত বের করে নিজের নির্লিপ্ততার সান্তনা খুঁজে নেই “অন্তত এই ভণ্ড আর লোক দেখানো কাজে আমি নেই”। এই একি আমি হয়ত ফেইসবুকে শেয়ার দিয়ে বেড়াই বিদেশী কোন ভদ্রলোকের ক্ষনিক দানের চকচকে ভিডিও। ভাই সাদা চামড়ার লোকজন ধোয়া তুলসী, তাঁরা আমাদের মত না, ভেরিফিকেসানের দরকার কি? আর বাঙ্গালি কিছু করলেই শুধু কিন্তু আর কিন্তু!!! বিশ্বনন্দিত বাঙালি মানুষগুলোকে যেখানে আমরা ছাড়ি না, সেখানে এইসব উঠতি সমাজসেবক পালাবে কোথায়? সন্দেহ আর সমালোচনা যে কোন মহৎ কাজের অংশ। তাই সেই অংশের বংশবৃদ্ধি করানো আমাদের স্বভাব।
একটি উদাহরণ দেই। পার্শ্ববর্তী দেশের এক তরুণ তাঁর প্রথম বেতনের টাকা পথশিশুদের নিয়ে KFC তে উপভোগ করছে, তা আমি অন্তত তিনবার দেখছি আমার নিউজ-ফিডে আপনাদের শেয়ার দেয়ার বদৌলতে। ভাই আমার ছোট বন্ধুচক্রে অন্তত ২ জনকে একি কাজ করতে দেখছি, কই তাঁদের নিয়ে তো কেউ আওয়াজ করল না।
আমি নিজে বিদ্যানন্দ (http://www.facebook.com/Bidyanondo) নামে এক সংঘটনের সাথে যুক্ত, একজন ব্যাক্তির অর্থায়নে তিনশ ছাত্রকে ফ্রি একাডেমীক ক্লাস আর সাত সহস্রাধিক বইয়ের তিনটি উন্মুক্ত পাঠাগার (ঢাকা, চট্টগ্রাম আর নারায়ণগঞ্জে) বছরের সবকটি দিন সেবা দিয়ে থাকে। প্রচারবিমুখ এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদক্ষেপ শুধুমাত্র আত্মত্যাগের তবুও এটি জায়গা করতে পারেনি আপনাদের বিদেশপ্রীতি ফেইসবুকের নিউজ-ফিডে। দানের জন্য না বরঞ্চ ভালো কাজের স্বীকৃতি দরকার একটি প্রতিষ্ঠানে। আমদের এই অবহেলায় হয়ত বলী হবে বিদ্যানন্দের মত সব প্রতিষ্ঠান নীরবে চোখের আড়ালে।
©somewhere in net ltd.