| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাতাসে লাশের গন্ধ
--- রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা - একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।
বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ -
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা…
রক্তের কাফনে মোড়া - কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার - স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -
স্বাধীনতা - আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।
*** কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কবিতাটি লিখেন নব্বইর দশকের শুরুর দিকে । কিন্তু পুরোনো শকুনেরা আজো জাতির পতাকা ছিড়ছে, আজো তারা জাতির শহীদ মিনার ভাঙ্গছে। আজো তাদের আস্ফালনে বাংলার মাটি ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। আজো কিছু মানুষ নিরপেক্ষতার নামে তাদের সমর্থন করছে। আমরা কি ভুলে যাচ্ছি সেই রক্তাক্ত দিনের কথা। নাকি সেই সব মানুষগুলোর নিরপেক্ষতার আড়ালে লুকিয়ে আছে সেই সব পুরোনো শকুন। বাংলাদেশেকে ওরা খামচে ধরেছে।
আজ আমাদের সময় এসেছে তাদেরকে প্রতিহত করার। আজ আমরা নতুন প্রজন্ম সেই অসাধ্য কাজটিই শুরু করেছি সারা বাংলাদেশ কে সাথে নিয়ে। জয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা। ।
©somewhere in net ltd.