| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অনেকেই সমালোচনা করে বলে থাকেন, বাঙ্গলী নাকি কোন কালেই স্বাধীন ছিল না। স্বাধীন বা স্বাধীনতা এই বিষয়টি অনেকই অনেক ভাবে ব্যাখ্যা করে থাকেন। বাস্তবিক অর্থে স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক থাকে। যেমন- ভৌগলিক স্বাধীনতা, ভাষার স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, গনতান্ত্রিক স্বাধীনতা,ইতিহাসের কলঙ্ক থেকে স্বাধীনতা (মুক্তির) ।
১৯৪৮ সালে ইংরেজ ঔপনীবেশ হতে পাকিস্থান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পূর্ব পাকিস্থান উপরের কোন দিক থেকেই স্বাধীন ছিল না। ১৯৫২ সালে ভাষার স্বাধীনতার জন্য যে ভাবে সালাম, বরক, রাফিক সহ অনেক তরুন নিজের বুকের তাজা রক্ত দিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তারই কারনে ১৯৯৯ সালে এই ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি আন্তজাতিক মাতৃ ভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেল । যা আমাদের জন্য অত্তান্ত গৌরবের বিষয়।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু হিসাব কষে ৬ দফার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিল বাঙালিকে। ৬ দফার পক্ষে রায় দিল বাঙালি ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্থান আরও একবার বুঝিয়ে দিল যে তারা বাঙ্গালির হাতে দেশ পরিচালনার ভার তুলে দিবে না। অর্থাৎ তারা বাঙালি মানুষ হিসাবে গণ্য করে না। ১৯৫২ সালে যেমন এই দেশের তরুণ রা ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষার স্বাধীনতা অর্জন করল তেমনই ১৯৭১ সালে ৬ দফা থেকে ১ দফায় নামিয়ে স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পরল এবং তা অর্জন করল ৯ মাসের একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে আরও একটি বিরল ঘটনা। প্রত্যেক সত্তের পিছনেও যেমন কিছু মানুষ বিরোধিতা করে তেমনই কিছু অর্জনেরও বিরোধিতা কিছু মানুষ (আমার ভাষায় অমানুষ) বিরোধিতা করে থাকে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ও কিছু মানুষ এর বিরোধিতা করেছিল। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রাহমান তার "মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা প্রশ্ন লেখায় বলেছেন " যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্থান এর সঙ্গে সহযোগিতা করেন তারা দেশে উল্লেখ যোগ্য অংশ, আমার ধারনা তারা এক তৃতীয়াংশ না হলেও একচতুর্থাংশ হবে।" এদের মধ্যে জামাত ইসলাম ও মুসলিম লীগ সসস্ত্র বিরোধিতা করে। তৎকালীন জামাত ইসলাম এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমান ইসলামী ছাত্র শিবির) সহ এরা রাজাকার, আল বদর, আল সামস ও শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী ও স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগ সহ নানাবিধ মানবতা বিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়। বাঙালি বরাবরই শান্তিকামী ও ধর্মপ্রাণ সেটা যেই ধর্মের হোক না কেন। তাই ধর্মপ্রাণ বাঙালি মুসলমানের প্রিয় ধর্ম ইসলাম কে ব্যাবহার করে মুক্তিযুদ্ধের সময় নানাবিধ অপপ্রচার চালিয়ে যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হয় তারা। তারছেয়েও বড় কাজটি করে মুক্তিযুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ বলে পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে এবং প্রায় ৩০ হাজার মা বোন দের ধর্ষণ ও অত্যাচার করে । তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নাস্তিক ও ভারতীয় দালাল বলে অপপ্রচার চালায় তারা আরও ঘোষণা দেয় পাকিস্থান ভাঙলে এই দেশে ইসলাম বিনষ্ট হবে। আর এখন পাকিস্থানের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, প্রায় প্রতি দিনই মসজিদে বোমা মেরে মানুষ হত্যা চলছে। আজ বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম পাকিস্থানের চেয়ে অধিক নিরাপদ।
১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী সময়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক চাপে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা সম্ভব না হলেও সময়ের পরিক্রমায় তার বিচার করা যাবে না তা কিন্তু নয়। এই বিচার জাতির জন্য অত্যান্ত জরুরী বিষয় হয়ে দাড়ায় যা অগ্রাজ্য করা যায় না।
স্বাধীনতার প্রায় দুদশক পরে ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর আহ্বানে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিষয়টি সামনে আসে এই মর্মে ঘাতক দলাল নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। এখানেও জামাত শিবির ও তার দোষররা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে নাস্তিক ও মুরতাদ বলে অপপ্রচার চালায়। ১৯৯৪ সালের তখনকার রাষ্ট্রপক্ষ বিএনপি র রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা মাথায় নিয়ে তিনি মৃত্যু বরন করেন।
২০১১ সালে "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল" গঠন করে মহাজোট সরকার দেশের শীর্ষ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ শুরু করে। প্রথম বিচারের রায়ে আবুল কালাম আজাদ ওরপে বাচ্ছু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয় তার অবর্তমানে (বিদেশে পলাতক)।
২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী প্রায় ৩৪৫ জন নিরাপরাধ মানুষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে হত্যায় জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া ট্রাইব্যুনাল আব্দুল কাদের মোল্লাকে (কসাই মোল্লা) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। এই বিচারে ক্ষুব্দ হয়ে তরুন সমাজ ঢাকার শাহবাগ চত্তরে আন্দোলন করে। অহিংস এই আন্দোলনে ক্রমেই লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করে। সমাজের বিভিন্ন ধরনের মানুষ এখানে সংহতি প্রকাশ করে। তাদের পরিস্কার দাবি, যুদ্ধাপরাধীর সর্বচ্ছ শাস্তি (ফাঁসির) বিধান করা হোক।
মুক্তিযুদ্ধের ৪ দশক পরে এসেও তারা (জামাত শিবির ও তার দোষররা) ধর্মের নামে শাহবাগের এই আন্দোলনকে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। আন্দোলনকারীদের কে এখানেও তারা (জামাত শিবির ও তার দোষররা) নাস্তিক ও মুরতাদ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শাহবাগের এই আন্দোলনে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ এক হয়েছে। সেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সাথে দু একজন নাস্তিক ( যদিও এই পৃথিবীতে কে নাস্তিক আর কে আস্তিক তা বিচার করবেন একমাত্র আল্লাহ তায়লা শেষ বিচারের দিন) থাকতে পারে তাতে পুরো আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন বলে যে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা পবিত্র ইসলাম কখনই সমর্থন করে না। তাদের হীন চরিতার্থে তারা নানা ভাবে ইসলামকে ব্যাবহার করছে তাতে করে পবিত্র ধর্ম ইসলামের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং ইসলামকে বহির্বিশ্বে খাট করছে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের যে ভাবে বিপদ্গামি তরুন বলেছিল ঠিক একই ভাবে শাহবাগের তরুন্দের বিপদ্গামি বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর মিথ্যাকারির জায়গা পবিত্র ধর্ম ইসলামে থাকতে পারে না।
পবিত্র কোরআন শরীফে এ বলা হয়েছে যে, " এ কারনেই বনী ইস্রাইলের উপর আমি এই বিধান দিলাম যে নর হত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্তক কাজ করার জন্য কাউকে হত্যা করলে সে যেন তাতে পৃথিবীর সকল মানুষকে হত্যা করল, আর কেউ কারো প্রান রক্ষা করলে সে যেন তাতে পৃথিবীর সকল মানুষের প্রান রক্ষা করল। এই বিধান যে কেবল বনী ইস্রাইলের জন্য বিধেয় ছিল তা নয়। বেশিরভাগ ব্যাখ্যাকারীদের মতে, এই বিধান প্রযোজ্য ছিল সমুদয় মানব সম্প্রদায়ের জন্য।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীর দায়ে দেলোয়ার হোসেন সায়দী (দেলু রাজাকার) বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষণা হওয়ার পর দেশ জুড়ে জামাত শিবির এর সহিংসতায় পুলিশ সহ প্রায় ৭০ জন নিহত হয়। জামাত শিবির চক্র চাঁদে সায়দী কে দেখা গেছে বলে মিথ্যা প্রচারনার মাধ্যমে বগুড়ায় নিরিহ মানুষ কে ডেকে এনে থানা ঘেরাও করে ব্যাপক সহিংসতায় লিপ্ত হয়।
জামাত শিবির চক্র তাদের রাজনীতির জন্মলগ্ন থেকে মিথ্যা বলে আসছে, যা পবিত্র ইসলামের পরিপন্থি। আর পবিত্র কোরআন আমাদের শিক্ষা দেয়,
সত্য সমাগত, মিথ্যা অবিস্মৃত, মিথ্যার পরাজয় অবসম্ভাবি।
©somewhere in net ltd.