নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আরেফিন মিনার

আরেফিন মিনার › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাভারের মৃত্যুর উপত্তকা থেকে বেঁচে আসা কিছু মানুষ.

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:০৪

সাভারের মৃত্যুর উপত্তকা থেকে বেঁচে আসা কিছু মানুষকে দেখতে গিয়েছিলাম ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। হাসপাতালে ঢুকতেই দেখতে পেলাম রানা প্লাজার অসুস্থ মানুষের তালিকা পাশে গনজাগরন মঞ্চের পোস্টার যাতে রক্তের প্রয়োজন হলে তাদের সাথে যেন যোগাযোগ করে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা শেফালি, মরিয়ম, লিপি, জহির, সপ্না সহ অনেকে, যাদের একটি হাত, একটি পা কেউবা তাদের দুটো হাত দুটো পা ই হারিয়েছে। যে হাত দিয়ে তারা সেলাই মেশিন চালিয়ে মালিকের জন্য ডলার এনে দিয়েছিল। যে পা দিয়ে মেশিনের প্যাডল চেপে দেশের জন্য এনে দিয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রা, সেই হাত, সেই পা হারিয়ে তারা অপলক দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল। ছলছল করছিলো তাদের দুটো চোখ। রত্নার বাবা আমাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন বললেন উনার আরো ২ মেয়ে এবং ১ মেয়ের জামাই এখোনো নিখোঁজ। বিছানার পাশে বসে থাকা রত্নার মা শাড়ির আঁচল দিয়ে অনবরত চোখ মুছছেন বিছানায় শুয়ে থাকা রত্না স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। নিজেকে বড্ড বেশী অপরাধী মনে হল। মনে প্রানে নিজের চোখের পানি লুকতে চেষ্টা করালাম। রত্নার বাবা হাতে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে দ্রুত চলে আসলাম। ICU র ব্যাডে শুয়ে থাকা শেফালী ও সুভাষের পাশে যখন গেলাম, দেখলাম মরা মাছের চোখের মত তাদের দুটি চোখ দিয়ে তাকিয়ে ছিল আমাদের দিকে নিঃপ্রান ওই দুটি চোখের কোনায় গড়িয়ে পড়ছিল পানি। তাদের দুটো পা ই থেঁথলে গিয়েছিল। পত্রিকায় পড়লাম BGMEA এর সম্মতি নিয়ে সরকার ২ গার্মেন্টস মালিকে গ্রেপ্তার করলো। অবাক হলাম BGMEA কি সরকার থেকে এতোটাই শক্তিশালী যে অপরাধী রক্তচোষা গার্মেন্টস মালিকে গ্রেপ্তার করতে সরকারকে BGMEA এর নেতাদের সম্মতি নিতে হল?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.