| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১৩ এপ্রিল রাতে শ্যমলি বাস এ করে বান্দরবান এর উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করলাম। বাস এর টিকিট এসি ৯৫০ টাকা অথবা নন এসি ৬৫০ টাকা। আমরা এসি বাস এর টিকিট পেয়েছিলাম। সকাল ৭.৩০ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম শহরে। আমাদের হোটেল আগেই বুক করা ছিল। কারো ঠিক করা না থাক্লেও সেখানে গেলেই পেয়ে যাবে সাধ্য অনুযায়ী হোটেল। সময় এর উপর ভিত্তি করে ভাড়া পরবে ৫০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত।
আমরা উঠেছিলাম স্বর্ণশীলা তে। নন এসি ৮০০ টাকা, এসি কাপল ১৫০০ টাকা। মশার উপদ্রপ থাকলেও হোটেল টা ভালো।
বান্দরবান বাস থেকে নেমে হোটেল এর জন্য ১ টি অটো নিলাম। ৫-৭ মিনিট পর আমাদের নামিয়ে দিলো। হোটেল এ উঠে ফ্রেশ হয়ে আবার বের হলাম। নাস্তা সেরে আবার গেলাম বাসস্ট্যন্ড এ। শহরের আশে পাশে কিছু জায়গা আছে সেগুলো ঘুরে দেখবো। সেখানে আমরা পেয়ে গেলাম আর ১টা গ্রুপ। ৬ বালক। ৬ বালক আর আমরা ৪ জন। এবার হল আমাদের ১০ জন এর গ্রুপ। মহেন্দ্রা ভাড়া করতে লাগলাম। মহেন্দ্রা হল সি এন জি থেকে আর একটু বড়। ৫-৬ জন বসা যায়। তবে যে কেউ চাইলে সি এন জি নিতে পারে। ভাড়া একি পরে।
কয়েকটি স্পট আমাদের কে ঘুরিয়ে দেখাবে।
১। রামজাদী মন্দির বা রাম মন্দির-১ টি মন্দির। কেউ হাফ প্যন্ট পরা থাকলে সেখানে ঢুকতে পারে না। লুঙ্গি বা ফুল প্যান্ট পরা থাকতে হবে। তবে কেউ চাইলে সেখান থেকে লুঙ্গি ভাড়া নিতে পারে। ভাড়া ২০ টাকা। আর মন্দিরে ঢুকার ভাড়া ১৫ টাকা।
২। মেঘলা পার্ক ঃ শহর থেকে ৪ কিলো দূরে একটি পার্ক। এর প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত ব্রীজ এবং ক্যবল কার। ভাড়া ঢুকতে ৪০ টাকা, আর ক্যাবল্কার এর ৫০ টাকা।
৩। প্রান্তিক লেক ঃ শহর থেকে একটু দূরে একটি শান্ত লেক। অপরূপ প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশে আছে নীল পানি। ঢুকতে খরচ হবে ৫০ টাকা। তবে যাবার সময় কাপড় নিয়ে যাওয়া উচিত। কারন ইচ্ছে করলেই গোসলটা সেড়ে নেয়া যায়।
৪। ন্যশনাল পার্ক ঃ আহামরি কিছু নাই। জঙ্গল এ কিছু প্রানী আছে।
৫। নীল আঁচল ঃ এই ১ টা জায়গা আমার অনেক পছন্দের। সূর্য ডোবার আগে সেখানের আকাশ ২ রঙ দেয়। উপরে সাদা, নিচে নীল। তাই এর নাম নীল আঁচল। সন্ধাটা পার করলাম সেখানে।
এই ৫ জায়গায় ঘুরতে আমাদের কে গুন্তে হয়েছে ১৬০০ টাকা। তবে অফ সিজনে আরো কম নিবে। তবে বলে রাখা ভালো এই সব গুলা জায়গা আমারা ঘুরেছি ভেজা কাপড় নিয়ে। কারন বৈশাখ এর ১,২,৩ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বৈসাবি উৎসব চলে। তাই রাস্তায় পানি নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে এবং জাকে পায় তাকেই পানি ঢেলে দেয়। আমরাও বাদ যাই নি। তবে আগে থেকে জানতাম বলে সব কিছু পলিথিন এ করে রেখেছিলাম। রাতে খাবার শেষ করে আবার গেলাম বাসস্ট্যন্ড এ। এবার পালা চান্দের গাড়ি ভাড়া করার। যেহুতো বন্ধের দিন তাই সবাই দাম বেশি চাচ্ছিলো। প্রায় ঘন্টা ২ মুলামুলি করার পর নীলগিরি যাওয়ার জন্য রাজি করালাম এক ভাই কে। ভাড়া ৪৩০০। । ১ গাড়ি তে প্রায় ১৪-১৬ জন উঠতে পারে। তাই এসব জায়গায় গ্রুপ না গেলে অনেক বেশি খরচ পরে যাবে।
পরদিন ভোর ৫ টায় আমরা রউনা দিলাম নীলগিরি এর পথে।আমরা ছিলাম ৯ জন। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর আমাদের গাড়ির চালক মনে হয় পাল্লা দিচ্ছিলো রাস্তার সাথে। গাড়ি পাহাড় বেয়ে কেবল উপড়েই উঠতে লাগলো। ঘন্টাখানেক পর আমরা চিম্বুক এ নেমে চা টা সেরে আবার রউনা দিলাম। ২ঘন্টার মধ্যে চোখে পড়লো নীলগিরি। টিকিট ৫০ টাকা করে। কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ফেরার পথ ধরলাম।
আবারো সেই অদ্ভুত সুন্দর আর ভয়ঙ্কর সেই রাস্তা। নীলগিরি এর চেয়ে রাস্তার সৌন্দর্য টাই আমার বেশি মনে হয়েছে। আসার পথে থামলাম শৈল প্রপাত। ১টি ঝর্না। সাধারনত বর্ষা কালে এর আসল রুপ বের হয়ে আসে। এই সময় তাকে কেমন যেন বুড়ি বুড়ি লাগলো।
ফিরলাম শহরে। হোটেল এ ফিরে আবার বের হলাম। এবার শুরু হলো পানি ঢালা। বালতির বালতি পানি আমাদের কে এমন ভাবে ভেজালো যে আমরা গরম টেরই পেলাম না। হাঁটছি আর ভিজছি। এর পর আমরা ১টা অটো নিলাম। হোটেল থেকে বালতি করে পানি নিলাম, সাথে কিছু বোতল। নে, বাবা আমরাও শুরু করলাম পানি খেলা। শহর ঘুরলাম আর পানি দিলাম মানুষের গায়ে। এই দিন গুলোতে কেউ রাগ করে না। কারন এটাই তাদের উৎসব। বিকেল পর্যন্ত এভাবে পানি খেলা খেলে, রাজার মাঠের পানি উৎসব উপভোগ করলাম।
তারপর আবার ফিরে এলাম নীলাচল কটেজ এ। আগের দিন কটেজ টা ভাড়া করে গিয়েছিলাম। ৩০০০ টাকা ভাড়া। তবে একসাথে অনেকে গেলে ১ রুম এ অনেকে থাকতে পারে। এক্সট্রা বেড নিতে হয় শুধু। যার ভাড়া পরে ১০০০ টাকা। সন্ধায় আবারো নীলাচল গায়ে দিয়ে আমরা ঘুমের রাজ্যে হাড়িয়ে গেলাম।
পর দিন ভাড়া চুকিয়ে বের হয়ে শহর এ ফিরলাম। নীলাচল থেকে যাওয়া আসা সি এন জি ভাড়া ৫০০ টাকা। তবে শুধু যাওয়া বা আশা ২৫০ টাকা। এবার হোটেল এ ফেরার আগে ন্সাঙ্গু নদির পাশ দিয়ে অনেক্ষন হাটলাম। দুপুর নাগাদ আবার সেই আগের হোটেল এ। এবার এসি রুম। বিকেলে আবার গেলাম রাজার মাঠে উৎসব এ। আবারো ভিজলাম। সন্ধায় খেয়ে দেয়ে আবার ঘুম। সকালে ঢাকায় ফেরার বাস। সেন্টমারটিন পরিবহন। ১৫০০ টাকা ভাড়া জনপ্রতি। পরদিন সকাল ১১ টায় বাস ছাড়ল, সন্ধ্যা ৮ টায় নামিয়ে দিলো আবার সেই যান্ত্রিক শহরে।

২|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৪৭
চাঁদগাজী বলেছেন:
ওখানকার মানুষজনের অবস্হা কেমন?
৩|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৫৮
অতঃপর হৃদয় বলেছেন: ভেবে দেখতে হবে।
৪|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:০০
সুমন কর বলেছেন: ছবি আর লেখা মিলিয়ে পোস্ট ভালো হয়েছে।
৫|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:০৫
প্রশ্নবোধক (?) বলেছেন: আরো সুন্দর করে গুছিয়ে বেশ বড় করে লিখলে আরো ভাল লাগত।
৬|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৬
শাহিন-৯৯ বলেছেন: ২০১২ সালে গিয়েছিলাম. রাস্তার সৌন্দর্য আমারও বেশি ভাল লেগেছিল.
৭|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৫৬
সেলিম আনোয়ার বলেছেন: আজকেও পানি ছুড়ে ভিজিয়ে দিয়েছে। এরা যে কতদিন পানি ছুড়ে কে জানে ।অফিসের কাজে বান্দরবান অবস্থান করছি। শৈলপ্রপাত ও বনপ্রপাত দেখেননি। সাঙ্গু নদী বেশ সুন্দর । বান্দরবান কে আমার মনে হয় মালয়েশিয়ার ক্যামেরুন হাইল্যান্ড ।
৮|
১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:৩৩
করুণাধারা বলেছেন:
ছবিগুলো চমৎকার। লেখাও ভাল।বান্দরবনে যেতে আগ্রহীরা পোস্ট পড়ে উপকৃত হবে।
৯|
১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:৫০
মোস্তফা সোহেল বলেছেন: বেশ মজা করেছেন। পানি উৎসব মনে হয় খারাপ না।
১০|
১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৭
বর্ণমালা বৃষ্টি বলেছেন: Shoilo propat e ager bar giyechilam. TokHon onk pani chilo. But boishakh e pani thake na. Borsha season ta asole bandarban jawar jonno best.
১১|
১৮ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:১৪
মনসুররবি বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন । খুব ভালো লাগলো
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৪৬
চাঁদগাজী বলেছেন:
বান্দর দেখা যায়?