| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কথক পলাশ
পোশাক আর মননের গেঁয়ো ভাবটা এখনো যায়নি। তাল মেলাতে গেলেই খেই হারিয়ে ফেলি।
একদা এক শৃগাল নির্নিমেষ লাফাইয়া দ্রাক্ষা’র নাগাল না পাইয়া ঘোষণা করিলো ‘দ্রাক্ষাফল অম্ল স্বাদ যুক্ত’-আলোচ্য গল্পখানি আশা করি সকলেরই অবগত। ইহার মূলভাবও সকলেরই অন্তঃস্থ সন্দেহ নাই। কিন্তু অতঃপর কি হইলো-তাহা কি আমরা জানি? সে একখানা দীর্ঘ ইতিহাস। আলোচ্য শৃগাল ব্যর্থ মনোরথ হইয়া নিজ কার্যে মনোনিবেশ করিলো। যথাসময়ে বিবাহ করিয়া সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো। কিন্তু অদৃষ্টের কি পরিহাস! চাহিলেই কি আর অতীত মুছিয়া ফেলা যায়? ঈশপ নামক এক দুষ্টু লোক তাহার দ্রাক্ষা সংক্রান্ত ব্যর্থতার কথা জনে জনে রাষ্ট্র করিয়া দিলো। সকলেই এখন তাহাকে দেখিয়া ঠাট্টা মশকরা করে। এতদ্ব্যতীত অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া শৃগাল তাহার স্ত্রী ও পুত্র সহযোগে নতুন আবাসে গিয়া থাকিতে আরম্ভ করিলো। এইখানে যথাপিও সকলেই ঘটনাখানা শুনিয়াছে, কিন্তু তাহারা কেহ অত্র শৃগালকে চিনিতে পারেনাই বলিয়া বিরক্ত করিতো না। বরং শৃগাল স্বয়ং বহুবার অন্যদের সহিত উক্ত গল্প করিয়া হাসাহাসি করিয়াছে-যাহাকে দুষ্টু মানুষেরা কাষ্ঠহাসি বলিয়া থাকে। সে কিন্তু স্ব-পুত্রের সম্মুখেও নিজের মূর্খামির কথা ঘুণাক্ষরেও কহেনাই। যাহা হউক, পুত্র বড় হইলো, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এর পাঠ চুকাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইলো। বিদ্বান হইবার পর তাহার নাম হইলো শৃগাল পণ্ডিত। কিন্তু কথায় আছে যে, খাসিলত যায়না মরিলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিনীদের দেখিয়া সে তাহাদের দ্রাক্ষাফলের ন্যায় সুমিষ্ট মনে করিতে লাগিলো। স্ব-পাণ্ডিত্য জাহির করিবার ছলা-কৌশলে সে চশমার অন্তরালে সহপাঠিনীদিগের দিকে চৌর্যদৃষ্টিতে তাকাইতে লাগিলো এবং কয়েক বৎসরের ভিতরেই হৃৎপিণ্ডে বেশ কয়েকবার উত্তাপ পাইলো। সে অনুধাবন করিলো, সকলেই শৃগাল এবং দ্রাক্ষাফল জনিত একখানা গল্প লইয়া তাহাকে বেশ নাজেহাল করিতে ছাড়ে না। গল্পখানা সে-ও বিলক্ষণ পড়িয়াছিলো, সুতরাং প্রতিবাদ করিবার অবকাশ হইয়া ওঠেনাই। সত্যই তো গল্পখানা হাসির উদ্রেককারী! এইদিকে একেরপর এক উত্তাপ খাইবার পর তাহার অবস্থাও কাহিল। তাবৎ সহপাঠিনীদের প্রতি তাহার আক্রোশ চরমে উঠিলো।
তাহারপর একদিন আলোচ্য শিক্ষিত শৃগাল পূর্বপুরুষদিগের মূর্খামির পুনরাবৃত্তি না করিয়া নতুন ঘোষণা করিলোঃ ‘দ্রাক্ষাবৃক্ষই অম্লস্বাদ যুক্ত’। কেননা, স্ব-ফলিত দ্রাক্ষাগুলিকে একই বৃন্তে না ধারণ করিয়া পৃথক বৃন্তে ধারণ করিবার অর্থ হইতেছে তাহাদিগের একতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা। উপরন্তু, দ্রাক্ষাগুলি নিজেদের স্বরূপ এমনতরো ভাবে বাহির করিয়া রাখে যে, আত্ম লোভ সংবরণ করিতে কষ্ট হয়। নিশ্চিতভাবে ইহা কুটিল আহবান। তাকাইতে না চাহিলেও কিরূপে যেন চক্ষু ওইদিকে চলিয়া যায়। এহেন একতাহীন এবং রূপসর্বস্ব দ্রাক্ষাফল নিশ্চয়ই কদাকার দ্রাক্ষাবৃক্ষের ন্যায় কূট-বুদ্ধি সম্পন্ন! সুতরাং উহা গলধঃকরণ করিলে শরীরের সমস্ত প্রত্যঙ্গের একতাকেই হুমকীর সম্মুখে ঠেলিয়া দেওয়া হইবে এবং চরিত্র নষ্ট হইবে। অতএব উহাদের নিকট হইতে দূরে থাকাই উত্তম
অতএব, এতদ্ব্যতীত সিদ্ধান্তে আসিয়া শৃগাল সন্তুষ্ট চিত্তে দূর হইতে পুনরায় চশমার অন্তরালে দ্রাক্ষা দেখিতে লাগিলো এবং এহেন দুঃশ্চরিত্র কটু ফল ফলাইবার কারণে দ্রাক্ষাবৃক্ষকে র্ভৎসনা করিতে লাগিলো।
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১০:২২
কথক পলাশ বলেছেন: ঘুমকাতুরের ঘুম ভাঙ্গলো?
২|
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৩:২৬
মুনসী১৬১২ বলেছেন:
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১০:২২
কথক পলাশ বলেছেন:
৩|
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ৭:৫৭
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে বলেছেন:
লেজ কাটা শেয়ালের গল্প খানা জুড়িয়া দিলে রম্য আর ও ভালো হইত -----
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১০:২৩
কথক পলাশ বলেছেন: ঠিক আছে, আপনার পরামর্শ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সহিত গৃহীত হইলো।
৪|
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১২:৪৩
আরজু পনি বলেছেন:
হা হা...রম্যখানা কাকে উদ্দেশ্য করিয়া মহাশয়? ![]()
মজারু
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১:০০
কথক পলাশ বলেছেন: এইরূপ মানুষতো আমরা চারপাশে অহর্নিশ দেখিতে পাইয়া থাকি। মূলত তাহাদেরকেই অঙ্গুলিনির্দেশ করিতেছি। আর নিতান্তই যদি এমনতরো কাহাকেও না পাওয়া যায়, তাহা হইলে একখানা দর্পনের সম্মুখে দাঁড়াইয়া নিজেকেই দেখাইয়া দিবো।
সকলেই ভালো হইলে আমি স্বয়ং মন্দ না হইয়া উপায় কি?
৫|
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ২:৪১
হাসান মাহবুব বলেছেন: টক বিষয় নিয়া লিখিলেও রম্যের স্বাদ অতি ঝাঁঝালো এবং 'জাঝা'লো হৈয়াছে
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১০:৩০
কথক পলাশ বলেছেন: অনুপ্রেরণাদায়ক মন্তব্য।
সম্মানিত বোধ করিলাম। ![]()
৬|
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১০:২৯
সায়েম মুন বলেছেন: বেশ লাগলো রম্য!
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১২:০৯
কথক পলাশ বলেছেন: ধন্যবাদ কবি।
৭|
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১২:১৩
েমা আশরাফুল আলম বলেছেন: মারহাবা, মারহাবা।
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ২:৪৮
কথক পলাশ বলেছেন: শুকরিয়া শুকরিয়া।
৮|
১৫ ই আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৬
আধাঁরি অপ্সরা বলেছেন: ভাইয়া আপনি কি নিজে এই রম্যটা লিখেছেন? সাধু ভাষায় আপনার দক্ষতা দেখে আমি হিংসিত!!
অসাধারণ রম্যে অগনিত পিলাছ!
২৪ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১০:০৩
কথক পলাশ বলেছেন: ভাইয়া, হিংসিত হবার কিছু নেই। এইটুকু রম্য সাধু ভাষায় লিখতে গিয়ে কী-বোর্ড ভাঙ্গে ভাঙ্গে অবস্থা।
শরৎ বাবু আর বঙ্কিম বাবুকে প্রণাম করতে করতে লিখেছি।
৯|
২৭ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১:২৯
আধাঁরি অপ্সরা বলেছেন:
শরৎ বাবু আর বঙ্কিম বাবুকে প্রণাম করতে করতে লিখেছি।
আমিও বাবুদের দুই একটা প্রণাম দিয়ে কেরামতি দেখাতে চাই!!!
২৭ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১:৩২
কথক পলাশ বলেছেন: হা হা হা!
তোমার রম্য লিখার হাত অসাধারণ! খুব সাধারণ ঘটনাও খুব মজা করে লিখতে পারো। আমার ধারনা, তুমি লিখলে তা খালিপেটে পড়তে হবে। কারণ, হাসতে হাসতে পেট থেকে খাবার রিভার্স হবার চান্স আছে।
অনেস্টলি বলতেছি।
১০|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২৫
মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: ভাইয়া, খুব মজা পেলাম। ইভ টিজিঙের জন্য মেয়েরাই দায়ী- একে রম্য করে কি উপরের পোস্ট টি ??
সাধু ভাষায় আমার প্রথম পোস্ট অনুরোধে ঢেঁকি গেলা দিয়েছিলাম একটু পড়ে দেইখেন।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:২৫
কথক পলাশ বলেছেন: না, আসলে উল্টোটা। মেয়েরা যাই করুকনা কেন, সব দোষ তাদের দিয়ে ছেলেদের তুলসী পাতা সাজার অভ্যেসের কথা বলেছি।
১১|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২০
মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: আমিও তাই বোঝাতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রথম মন্তব্যে ব্যাপার টা পরিস্কার করে বলতে পারিনি
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:০৬
কথক পলাশ বলেছেন: হা হা হা! ব্যাপারনা।
অফিসে ছিলাম বলে তখন অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে পারিনি
![]()
এখন গিলছি।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ২:১৬
ঘুমকাতুর বলেছেন: