নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ছুটি\'স গোল্ডেন আই\"

মোঃ আসাদুজ্জামান ছুটি

আমার পরিচয়? মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, ধর্ম নিরপেক্ষ ও সুস্থ মানসিকতার একজন সমাজ সচেতন বাংলাদেশি নাগরিক ।

মোঃ আসাদুজ্জামান ছুটি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও আমার অভিজ্ঞতা

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২০

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই ? নিশ্চই ভাল । বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাবার জন্য ভিসা আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে আপনাদের অনেকের অনেক রকম অভিজ্ঞতা আর জিজ্ঞাসা নিয়ে পড়তে গিয়ে আমার মনে হয়েছে এবার আমার উচিত এই বিষয়ে কিছু লেখা । আজ সেজন্যই কলম/কিবোর্ড ধরেছি ।
তো, ভারতীয় ভ্রমণ ভিসা সম্পর্কে বলি ।

আমি নিজে এই সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে এক বছরের মাল্টিপল ভ্রমণ ভিসা পেয়েছি । তাই আপনি আমার দেওয়া তথ্য গুলোর ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলে আমি একটা জিনিস খুব উপলব্ধি করি, আর তা হল, বাংলাদেশের বেশিরভাগ লোকের জানার আগ্রহ খুব কম, নিজে যা বোঝে সেটাই তাঁরা সঠিক মনে করে, নিজেদের এঁরা খুব চতুর মনে করে এবং সঠিক ভাবে কোন তথ্য যা একটু বুদ্ধি খাটালে হাতের সামনেই হয়তো পাওয়া যায় তাঁরা তা না খুঁজে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কথার উপরে নির্ভর করে । ফলশ্রুতিতে হয় কি, এক শ্রেনীর লোক এদের বোকামীর ফায়দা লুটে । তো আমার মনে হয় আমার এই লেখা যারা পড়বে, তাদের উপকার হবে বলেই আমার বিশ্বাস ।

কাজের কথায় আসি । শুরুতেই বলে নেই, বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী নাগরিকদের জন্য ভারতীয় সকল প্রকার ভিসা বিনামুল্যে প্রদান করা হয় ।

বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা হয় ভ্রমণ/ট্যুরিস্ট ভিসার। তো ভ্রমণ ভিসা পেতে হলে আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছেঃ-

প্রথমেই ভারতীয় ভিসা আবেদনের ওয়েব সাইটে গিয়ে একটি আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে । যা নিজে নিজেই সম্ভব ।ফরম পুরন করতে এই লিংক Click This Link এ ভিজিট করুন, তারপর ‘Online Visa Application‘ অংশে ক্লিক করে তথ্য পুরন করা শুরু করুন। ফরম পূরণ করতে আপনাকে অবশ্যই সাথে রাখতে হবে একটি টু বাই টু ইঞ্চি ছবির সফটকপি যার ব্যাপারে আমি নিচে '২' নং অংশে বিস্তারিত বলেছি । এই ছবিটা ফরম পুরনের সময় আপলোড করতে হয় । এরপর নিচের '৩ ও ৪' নং অংশে বলা জিনিস গুলোও সাথে রাখতে হবে পূরণের সময় । ব্যাস । ফরম পূরণ শেষ করে আপনি ইডিট অংশ পাবেন । মনোযোগ দিয়ে ফরম টা পড়ুন , সব ঠিক থাকলে ভেরিফাই অংশে ক্লিক করে ফরম সাবমিট করুন অনলাইনে । খুব সহজ ।

তবুও আপনাদের অনেকের বোঝার সুবিধার্থে আমি কিছু বিষয় বলে দেই । মনে রাখবেন,
ক) বাসার ঠিকানা ইউটিলিটি বিলের কপিতে যেমন আছে তেমনই দিতে হবে ।
খ) পোর্ট বা ভ্রমণের বন্দর নির্বাচন করার সময় অবশ্যই যে কোন একটা পোর্ট নির্বাচন করবেন । যেমন- বাই রোড চ্যাংড়াবান্ধা/রানিগঞ্জ অপশন আছে ওখানে । আবার বাই রোড চ্যাংড়াবান্ধা আছে খালি । এগুলো ওদের সার্ভারের কিছু ভুল থাকে । আপনি ভুলেও চ্যাংড়াবান্ধা/রানীগঞ্জ সিলেক্ট করবেন না । শুধু চ্যাংড়াবান্ধা বা শুধু ডাউকি সিলেক্ট করবেন । ফরম জমা নেবার সময় ওরা এই পোর্ট ভুলের কারনে ৩০০টাকা কারেকশন ফি নিবে । আবার অনেক সময় ফরমটা জমা নাও নিতে পারে । সব ওদের মর্জি চলে ওখানে । তাই সাবধান । তাছাড়া যেই পোর্ট ই সিলেক্ট করুন, বেনাপোল, গেদে আর এয়ার আপনি ফ্রি ই পাচ্ছেন যাওয়া আসার জন্য ।
গ) আপনি যদি চাকুরি , ব্যবসায় নাও করেন, যদি ছাত্র নাও হন, পেশার অংশ পূরণের সময় ভুলেও আন অ্যামপ্লয়েড সিলেক্ট করবেন না । কিছু অপশন কেবল ওয়েব সাইটে দেওয়াই থাকে, কিন্তু ওগুলো সিলেক্ট করলে ওরা ফরম জমাই নেয় না । যেমন আমার ১ম বারের ফরম টা নিতেই চায়নি । যদিও পরে বড় অফিসারের কথায় নিয়েছে কিন্তু ১ম বার ভিসা রিজেক্ট করে দিয়েছে ।
মনে রাখবেন ফর্ম পুরন শুরু করার পর ১ম পৃষ্ঠা শেষ হলে ওরা একটা Temporary ID দিবে। এটা সেভ করে রাখুন। কোন কারণে সার্ভারে সমস্যা থাকলে বা আপনি বাকি অংশ পরে পুরন করতে চাইলে এই লিংকে গিয়ে Complete Partially Filled Form ক্লিক করে Temporary ID আর ক্যাপচা দিয়ে আবার আগের জায়গা থেকে শুরু করতে পারবেন।
ব্যাস, আর তেমন কিছু নেই, এবার নিজের ফরম নিজে পূরণ করে ডাউনলোড করুন , কালার প্রিন্ট করুন, ঘরে বসে ভিসা আবেদন ফি ৮২৪ টাকা(ভ্যাট সহ) পরিশোধ করুন এবং নিচের জিনিস গুলো সাথে নিয়ে রবি থেকে বৃহস্পতিবার দেশের যে কোন ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে চলে যান । মনে রাখবেন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আবেদন পত্র জমা নেওয়া হয় । কখনো কখনো চাপ বেশ থাকলে ৩টা পর্যন্ত নেয় ।
---------------------------------------------------------------
যা যা ফরমের সাথে জমা দিতে হবে,
১/ মেয়াদ অন্তত ছয় মাস বাকি আছে এমন একটি পাসপোর্ট থাকতে হবে
, পুরাতন সকল পাসপোর্ট সাথে দিতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে । যদি কোন পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই জিডির কপি দিতে হবে সাথে ।(সকল ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য)
২/ স্টুডিও থেকে সদ্য তোলা এক কপি টু বাই টু (২x২) ইঞ্চি মাপের রঙিন ছবি লাগবে, এবং একই ছবির একটি সফট কপি পেন ড্রাইভে অথবা মেমরি কার্ডে নিয়ে নিতে হবে । অবশ্যই মনে রাখবেন, সাদা জামা পরা ছবি গ্রহণ করা হয় না , কিন্তু ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা হতে হবে এবং ছবিতে আপনার মুখমন্ডল যেন স্পষ্ট দেখা যায় , চোখ খোলা , দুই পাশের কান বোঝা যাচ্ছে এমন একটি সোজা ছবি । মনে রাখবেন টু বাই টু ছবি পাসপোর্ট সাইজের ছবির চেয়ে একটু বড় । ফরম জমা দেবার আগেই আপনাকে ছবি তুলতে হবে কারন ফরমে এই ছবির সফটকপি লাগে ।
৩/ আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি । যার জাতীয় পরিচয় পত্র নেই কেবল সেই জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি দিবেন , অন্যরা নয় ।
৪/ ইউটিলিটি বিল তথা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বা ল্যান্ড টেলিফোন যে কোন একটির বিলের কপি। মনে রাখবেন এই কপিতে যেন বাসার ঠিকানা স্পষ্ট বোঝা যায় । এটা খুব জরুরী ।
৫/ আপনার আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণের জন্য বাংলাদেশের যেকোন ব্যাংক থেকে অ্যান্ডোরস করা ডলারের কপি , অথবা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গত ছয় মাসের স্টেটমেন্টের কপি । মনে রাখবেন , নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় হাই কমিশন এখন কেবল যে কোন কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে অ্যান্ডোরস করা ডলারের রশিদই গ্রহণ করে, কোন মানি এক্সচেঞ্জের রশিদ গ্রহণ করে না । এবং আপনি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে চাইলে অবশ্যই অ্যাকাউন্টে নুন্যতম ২০ হাজার টাকা থাকতে হবে । এবং যা আবেদন পত্র জমা দেবার অন্তত ৭-১০ দিন আগে রাখতে পারলে ভাল । আর যদি নিয়মিতই এমন অংকের টাকা থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই । তবে আবেদন জমা দেবার পরে ভিসা পাবার আগে আপনি ওই টাকা আর তুলতে পারবেন না । ওরা চেক করে, হিসেবের গড়মিল পেলে আপনার ভিসা রিজেক্ট হবে । মনে রাখবেন কেবল ব্যাংক থেকেই সিল সহ পাওয়া স্টেটমেন্ট পেপারের কপি জমা দিবেন , অনলাইন প্রিন্ট কপি নয় ।
৬/ পেশাঃ
ক) পেশার প্রমাণ হিসেবে আপনি যদি ছাত্র হন তাহলে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং সর্বশেষ মাসের বেতনের রশিদের কপি । মনে রাখবেন , আইডি কার্ডে আপনার শিক্ষার্থী মেয়াদ পার হয়ে গেলে ভিসা রিজেক্ট হবে ।
খ) যারা চাকুরি করেন তারা প্রতিষ্ঠান থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি নিবেন । জেনুইন এনওসি দেওয়াই উত্তম । অনেকেই আছে যারা নিজেরা একটা এনওসি তৈরি করে দেয় , এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় হাই কমিশনের অফিসারেরা ফোন করেন, তখন ফোন বন্ধ পেলে বা সঠিক তথ্য দিতে না পারলে ভিসা রিজেক্ট হয় ।
গ) আর আপনি ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের কপি দিবেন ।

৭/ পাসপোর্ট এর ডাটা পেইজ বা যেখানে আপনার সকল তথ্য দেওয়া আছে সেই পেইজের এক কপি ফটোকপি ।
--------------------------------------------------------------
ফরম পূরণ , সকল পেপারস , ডকুমেন্ট গোছানো তো হল, এবার আসি ভিসা প্রসেসিং ফি কিভাবে পে করবেন সেই অপশনে । খুব সহজ । আপনি ঘরে বসেই এটা পে করতে পারবেন দালাল ছাড়া । কিভাবে ?
https://payment.ivacbd.com/ অপশনে যান । এখানে বাংলা ও ইংরেজিতে সব সুন্দর করে বলা আছে । আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিকাশে পে করতে পছন্দ করি । আপনার পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৮২৪ টাকা ক্যাশ ইন করে আপনি নিজেই সব দেখে দেখে পে করতে পারবেন । খুব সহজ । এছাড়াও আরো অনেক ধরনের পদ্ধতি আছে এই ভিসা আবেদন ফি পে করার ওয়েব সাইটে । নিজেই সব করুন । অহেতুক দালালের মাধ্যমে সহজ একটা কাজ করাতে গিয়ে কেন অতিরিক্ত ১০০টাকা দিবেন ?

তো বন্ধুরা, এই ছিলো ভ্রমণ ভিসা আবেদন কিভাবে করবেন তার বিস্তারিত । এবার আপনাদের জন্য কিছু টিপস । অবশ্যই মনে রাখবেন।
ক) মিথ্যা কোন তথ্য দিবেন না ।
খ) সকল প্রকার ডকুমেন্ট এর অরিজিনাল কপি সাথে নিবেন , ওরা অনেক সময় চেক করে । যেমন এইআইডি, ডলার অ্যান্ডোরস মেইন কপি ইত্যাদি । দেখাতে না পারলে বিপদে পরবেন ।
গ) দালালেরা খুব ঝামেলা করবে , আপনি নতুন হলেও বোকামী করবেন না , সব নিজে ঘর থেকে করে নিন , ওদের মাধ্যমে কিছু করাবেন না ।
ঘ) আবেদন অন লাইনে সাবমিট করার পর পাসপোর্ট আর পেপারস জমা দেবার জন্য ৭ দিন সময় পাবেন । আর ফি পে করার পর ৪ দিন সময় পাবেন । এর মধ্যে জমা না দিলে আবার নতুন করে সব করতে হবে কারন ওয়েব ফাইল নম্বর মুছে যাবে । এটা অটোমেটিক প্রক্রিয়া ।

বন্ধুরা, আপনাদের সকলের ভারত ভ্রমণ সুন্দর হোক , এই কামনায় লেখা শেষ করছি । ধন্যবাদ ।
-মোঃ আসাদুজ্জামান ছুটি✍️
৬।০৯।২০১৮ইং

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.