নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমই আমার অস্ত্র। শব্দের মধ্যে দিয়ে সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি ও বাস্তবতাকে তুলে ধরতে চাই। আমি লিখি, কারণ নিঃশব্দে বেঁচে থাকাকে আমি মেনে নিতে পারি না।

দৈত্যুষ

দৈত্যুষ › বিস্তারিত পোস্টঃ

উপমহাদেশের ব্যালেন্স পলিটিক্সে ইমরান খানের গুরুত্ব ও বর্তমান আফগান-ভারত সম্পর্কের বাস্তবতা

২৯ শে এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১১:২৮

উপমহাদেশের ব্যালেন্স পলিটিক্সে ইমরান খানের গুরুত্ব ও বর্তমান আফগান-ভারত সম্পর্কের বাস্তবতা

২০২১ সালে যখন আমেরিকা আফগানিস্তান ছেড়ে দ্রুত পালাতে বাধ্য হয়, তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। সেই সময়, বিশ্ব যখন হতবাক, পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা সরাসরি কাবুলে অবস্থান করছিলেন। আফগানিস্তানে তখনকার হঠাৎ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশ তাদের প্রতিনিধিদের দ্রুত সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান, বিশেষ করে ইমরান খানের স্বাধীনচেতা নেতৃত্বের কারণে, তালেবান সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ইমরান খান বরাবরই আমেরিকা-বিরোধী এবং মুসলিম বিশ্বের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তালেবানের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল মনোভাব পোষণ করেছিল। এতে প্রথমদিকে ভারত প্রবল টেনশনে পড়ে — কারণ, আফগানিস্তান হয়তো পাকিস্তানের প্রভাবাধীন হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু সময়ের স্রোতে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ইমরান খান যখন অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান, তখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও আফগানিস্তানের প্রতি তাদের নরম মনোভাব থেকে সরে আসে। আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপে তারা আফগানিস্তানের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পাল্টায়। এই সুযোগটাই পুরোপুরি কাজে লাগাতে দেরি করেনি ভারত। আজকের আফগানিস্তান সরকার ভারতঘেঁষা হয়ে উঠেছে, এবং পাকিস্তানের প্রতি প্রকাশ্য বিদ্বেষ দেখাতে শুরু করেছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই আফগানিস্তান-ভারত ঘনিষ্ঠতার অন্যতম প্রধান কারণ। পাকিস্তানের এই ব্যর্থতা আঞ্চলিক ব্যালেন্স পলিটিক্সের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের অনেক আলেম, হয়তো মাসালাগত বা ব্যক্তিগত কারণে ইমরান খানের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উপমহাদেশের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতির জন্য ইমরান খানের মতো নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত জরুরি। যদি ইমরান খান টিকে থাকতেন, হয়তো বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট দেশগুলোরও বিশেষ সুযোগ তৈরি হতো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে।

বর্তমানে পাকিস্তানের জনগণের বড় অংশ এখনো ইমরানপন্থী। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রতি অভূতপূর্ব ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। জনগণের এই মনোভাব পাকিস্তানের ভবিষ্যত রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, আফগানিস্তানের ভারতের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব তাদের নিজস্ব স্বার্থেই বড় ভুল হবে। একইসঙ্গে, এটি গোটা উপমহাদেশের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ ভারত যখন চাপমুক্ত থাকে, তখন সে আশপাশের ছোট ছোট দেশগুলিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গ্রাস করার প্রবণতা দেখায়। আর ভারত যখন চাপে থাকে, তখন এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র দেশগুলোর নিজস্বতা রক্ষার সুযোগ তৈরি হয়।

একদিন যদি ইমরান খান মুক্ত হন এবং বাংলাদেশে যদি ভারতীয় তাবেদারী সরকার বিদায় নেয় — তাহলে উপমহাদেশের রাজনীতি এক নতুন, স্বাধীন ও সমতাভিত্তিক ধারায় প্রবাহিত হবে। যেখানে সত্যিকারের আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.