নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমই আমার অস্ত্র। শব্দের মধ্যে দিয়ে সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি ও বাস্তবতাকে তুলে ধরতে চাই। আমি লিখি, কারণ নিঃশব্দে বেঁচে থাকাকে আমি মেনে নিতে পারি না।

দৈত্যুষ

দৈত্যুষ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আরশোলা যখন মোদীর বিরক্তির কারণ।

০৬ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৬



দিল্লির রাজপথে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। উত্তাল গোটা ভারত।

হাজার হাজার তরুণ-তরুণী জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, কোনো লাঠিসোঁটা নেই। তাদের এক হাতে ধরা আছে ভারতের সংবিধান, আর অন্য হাতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড। তারা নিজেদের নাম দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা জনতা পার্টি’।

নামটা শুনে অনেকেই শুরুতে হেসেছিল। আরশোলা? এমন একটা নোংরা, তুচ্ছ পোকার নামে কেউ কোনো রাজনৈতিক বা প্রতিবাদী মঞ্চের নাম রাখে? কিন্তু এই তরুণরা জানে তারা কী করছে। আরশোলা হলো পৃথিবীর সেই একমাত্র প্রাণী, যারা পারমাণবিক বিস্ফোরণের পরও টিকে থাকতে পারে। তারা বোঝাতে চাইছে....রাষ্ট্রযন্ত্রের যত বড় দমন-পীড়নই আসুক না কেন, এই তরুণ প্রজন্ম টিকে থাকবে। তাদের পিষে ফেলা যাবে না।

আজ তাদের লক্ষ্য একটিই...কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দুর্নীতির পাহাড়, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চরম দলীয়করণের প্রতিবাদে তারা রাজপথ কাঁপিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিয়েছে এক বিশাল রাজনৈতিক ভূমিকম্পে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি কথা প্রায়ই বলেন....ভারতের মতো এত বড় এবং বহুমাত্রিক একটি দেশে তরুণ-তরুণীদের কোনো আন্দোলন খুব সহজে দেশব্যাপী নজরকাড়া সাফল্য পায় না।

ভারতের বিশালতা, রাজ্যভেদে ভাষার ভিন্নতা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং জাতপাতের রাজনীতির কারণে পুরো দেশের মানুষকে একটি সুতোয় গাঁথা অত্যন্ত কঠিন। দিল্লির কোনো আন্দোলন হয়তো কেরালায় পৌঁছায় না, আবার তামিলনাড়ুর কোনো ক্ষোভ হয়তো গুজরাটে গিয়ে হারিয়ে যায়। মোদি সরকার বরাবরই এই বহুমাত্রিকতার বিভাজনকে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে।

কিন্তু, রাজনীতিতে ‘কখন কী হয়ে যায়, কে বলতে পারে!’

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে আরব বসন্ত...সবকিছুই শুরু হয়েছিল একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে। আজ দিল্লির রাজপথে যে ‘আরশোলা’দের উত্থান ঘটেছে, তা হয়তো আপাতত একটি শহরের আন্দোলন মনে হতে পারে। কিন্তু এই আন্দোলন একটি অমোঘ সত্যকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে...মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের তরুণ প্রজন্ম চরমভাবে ক্ষুব্ধ। তারা ফুঁসছে। বেকারত্ব, দুর্নীতি, ধর্মীয় বিভাজন আর কর্পোরেট তোষামোদের রাজনীতি তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

এই আরশোলাদের উত্থান হলো সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক তীব্র, অদম্য প্রকাশ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.