নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\'অভ্রনীল\' (অর্বাচীন ব্লগার)

I\\

অভ্রনীল ইরান

ব্লগ সম্পকে\" ভাল ধারনা আছে

অভ্রনীল ইরান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মনের আকাশে একটুকরো চাঁদ

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:২২

অভ্রনীল
হাআআআচ্যিওওওও. !!!
টিস্যুর বাক্সটা প্রায় শেষ
করে ফেলেছে ইতি। এরই
মধ্যে চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।
চোখ দিয়ে পানি পরতে পরতেই চোখের
এই
অবস্থা হয়েছে তার।
কি করবে ??
ধনী পরিবারের
মেয়ে হওয়াতে "রান্নাঘর" নামক
শব্দটার নাম শুনলেও এর সাথে ভালো মত
পরিচিত
নয় সে।
মাঝে মাঝে তার আম্মুকে হেল্প করার
আগ্রহ
প্রকাশ করলেও তার আম্মু
তাকে লেখাপড়ার
নাম দিয়ে তেমন কোন কাজ
করতে দিতনা। অবশ্য
এইসব তার বাবার নির্দেশেই হতো।
ইমনের সাথে বিয়ে হয়েছে আজ ১৩ দিন।
অবশ্য পালিয়েই
বিয়েটা করেছে তারা।
যদিও উভয়ের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস
খারাপ ছিলনা।
কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে যা হয়
আরকি ???
প্রেম জিনিস টা কেন যেন আমাদের
পরিবার খুব
সহজে মেনে নিতে চায়না। এটা এক
ধরনের প্রথার
হিসেবেই আমাদের
সমাজে চলে আসছে।
তবে প্রথাটা কোন যুগ থেকে শুরু
হয়েছে তার সঠিক
ধারনা আসলে আমি রাখিনা।
আর বিয়ের পর থেকেই ১৩ দিনই অনেক
কষ্ট
করে রান্নাঘর এর কাজ সামলায় ইতি।
সে নিজেই জানে যে তার রান্নার
মান
এখনো পুরোপুরি ভাল হয়না। তবুও
যদি ইমনকে জিজ্ঞেস করা হয়
রান্না কেমন
হয়েছে ??
জবাবে সে মুচকি হেসে বলে,
-- ইশ খাওয়ার সময় কেউ
কথা বলে নাকি ??
জানো তোমার হাতের
রান্না করা খাবার
খেলে মনের মধ্যে অন্যরকম
একটা ফিলিংস কাজ
করে, যেটা শুধু মাত্র মায়ের রান্নাতেই
খুঁজে পাই।
তার মিথ্যা প্রশংসা ইতি ঠিকই
বুঝতে পারে, আর
ইমিনের মুখের
অবস্থা দেখে হাসতে থাকে।
নতুন বিয়ে করা সত্ত্বেও সংসারের
দায়ভার
কাঁধে নিয়ে কাজের টানে ছুটে যায়
ইমন।
একটা বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত
আছে সে।
বিয়ের পর থেকে এখনো তেমন কোন
স্পেশাল সম
ইতিকে দিতে পারেনি সে।
আজ অফিসে আসার পথে শার্টের কলার
টেনে ধরে ইতির
দেওয়া চুমুটা এখনো যেন তার মুখেই
লেগে আছে।
ভালবাসার তাগিদে মেয়েটা কত কষ্ট
করে তার
সংসারের ঘরোয়া কাজ সামাল
দিচ্ছে, ভাবতেই
মায়া লাগে।
আজ কাজে তেমন
মনযোগী হতে পারছেনা ইমন।
মেয়েটাকে একটু বিশেষ সময়
দেওয়া উচিৎ তার।
*****
কলিং বেল বাজতেই
ইতি দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।
-- একি আজ অফিসে যাও নি ??
বিকেলে ফিরে এসেছ
যে ???
-- হুম... গিয়েছিলাম তো !! কিন্তু আমার
দেহটা যদিও
অফিসে পাঠিয়েছিলে কিন্তু
মনটা রেখে দিয়েছিলে কেন. ??
-- মানে ???
-- মানে কিছুনা................!!!
-- এই যাহ, ছাড়ো ,কি করছ. ?? সবসময়
দুষ্টুমি ভাল
লাগেনা হু।
-- আচ্ছা তাই বুঝি ??
রান্না ঘরের দিকে হাঁটতে শুরু
করে ইতি।
-- এই শুনো তোমার
ঘাড়ে কালি লেগেছে।
হাহাহাহা ....
-- কোথায়. ??'
-- কাছে এসো মুছে দিই!
কাছে আসতেও ইমন আবারও
ইতিকে পেছন দিক
থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে আলতো করে চুমু
এঁকে দেয়।
-- এবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে,
দেখছো রাতের
খাবার তৈরি করছি, আর তুমি ???
বাচ্চাদের
মতো কাঁদো কাঁদো সূরে বলে ইতি।
তার এই চেহারা দেখে ইমন আর
নিজেকে আটকাতে পারেনা। হুহুহুহু
করে হেসে উঠে।
আসলেই কান্নার আগমুহূর্তে মেয়েদের
চেহারা দেখার মতো হয়। তখন তাদের
মাঝে বাচ্চা বাচ্চা একটা ভাব
চলে আসে।
বিষয় টা উপভোগ করার মত।
-- আরে না। রাতের খাবার
তৈরি করা লাগবে না।
-- তো ?? চুমু খেলেই পেট
ভরে যাবে বুঝি ??
-- ধুর, কি বলো এইসব. ??
এটা তো ভালবাসার
একটা মিষ্টি ফিলিংস শেয়ার
করি মাত্র।
বাই দ্য ওয়ে আজ
দুজনে মিলে বাইরে ডিনার করবো।
-- সত্যি ???!!!!
খুশিতে চোখ দুটো বেশ বেশ বড় বড়
করে ফেলে ইতি।
তার পুরো শরীরে যেন একটা অন্যরকম
তরঙ্গ
সৃষ্টি হয়ে তা মনের
চারদিকে প্রবাহিত হয়ে গেল।
অবশ্য মেয়েদের এই দৃশ্যটাও খুব সুন্দর. !!!
এখন কিন্তু ইতিকে ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগছে।
ইচ্ছা করছে আবারও..........
না থাক. !!!
কোন রকমে সে একবার রেগে গেলেই
সবকিছু আবার
মাটি হয়ে যাবে।
*****
ডিনার শেষে খোলা আকাশের
নিচে রাস্তার পাশ
দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ
হেঁটে চলেছে তারা।
বেশ ভালই লাগছে।
সামনে চটপটির দোকান।
চটপটি দুইজনেরই ফেভারিট। ইতি একটু
ঝাল খেতেই
পছন্দ করে। তার ঝাল খাওয়া দেখে ইমন
হা করে তাকিয়ে থাকে।
আবারও হাঁটা স্টার্ট. !!
আজকের আকাশের চাঁদটা বেশ সুন্দর
লাগছে।
আসলে প্রিয়
মানুষটি কাছে থাকলে সবকিছুই অদ্ভুত
ধরনের সুন্দর লাগে।
কিন্তু ইমন আজ এক সাথে দুইটা চাঁদ এর
সৌন্দর্য
উপভোগ করেছে। একটা দূর আকাশে,
আরেকটা তার
পাশেই আছে।
অবশ্য এই সৌন্দর্য অনেকের দেখার
সৌভাগ্য
হয়ে উঠেনা।
বেশ সুন্দর লাগছে মেয়েটিকে।
মৃদু বাতাসে ইতির সিল্কি চুল
উড়ে ইমনের
মুখে এসে পড়ছে।
তার মনের আকাশের চাঁদটাও আজ খুব সুন্দর
লাগছে তার।
অনেক কষ্টে এতক্ষণ নিজেকে কন্ট্রোল
করেছে আসছে সে। না আর
পারা যায়না ইচ্ছা হচ্ছে আবারও..........

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.