নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ফাল্গুনী আলম

ফাল্গুনী আলম › বিস্তারিত পোস্টঃ

তেলটুকি (গল্প)

০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ৯:৫৬

১।

আমি যেখানে বসে আছি সেখান থেকে সুর্য্য দেখা যায়না। সুর্য্যটা সম্ভবত এখন মাঝ আকাশে,দেখা না গেলেও তার উত্তাপটা টের পাওয়া যাচ্ছে ঠিক-ই।

আমি একটা বিশাল গোলাকার জিনিসের আড়ালে লুকিয়ে আছি। জিনিসটায় সম্ভবত পানি রাখা হয়। আমার চোখ ভূপৃষ্ঠের সাথে সমান্তরালে আটকানো একটা তারজালির দিকে স্থির। তারজালির নিচে বোধহয় কনক্রিটের গুহা। আমি অবশ্য ওদিকটা দেখিনি কখনো।

জায়গাটা কৃত্রিম আলোয় উজ্বল! প্রচন্ড আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়,বেশিদূর দেখা যায়না। সবকিছু ভাঙা ভাঙা লাগছে। তারজালির আরেকটু কাছে যেতে পারলে হতো। কিন্তু সাহস পাচ্ছিনা! প্রতিতা মুহূর্ত কান খাড়া করে থাকতে হচ্ছে-যেকোন মুহূর্তে চলে আসতে পারে অতিকায় জন্তুগুলো!

 

২।

দু’ঘন্টার বেশি হবে বসে আছি। দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি। খাবারের সন্ধানে বের-ই ত হতে পারিনি। ও খবর পাঠিয়েছিলো দুপুরে আসবে। তবে ঠিক ক’টায় তা জানায়নি। তাই আগে ভাগেই চলে আসতে হলো। সমস্ত ইন্দ্রিয় টানটান করে আছি;কখন তারজালির ওপাশ থেকে ডাক আসবে-“ তেলটুকি”

তেলটুকি আমার দাদীর রাখা নাম। দাদীদের আমলটা অনেক শান্তিপুর্ন ছিলো। তখন এখনকার মতো অতিকায় জন্তুগুলো হানা দিতোনা। ওদের কাছে এখনকার মতো বিষাক্ত জিনিস ও ছিলোনা। এইখানে রাজত্ব করতাম আমরাই! ও ছিলো আমার ছোটবেলার বন্ধু। এখানেই ঘুরতাম আমরা। কতোদিন ওই তারজালি ছুঁয়ে দৌড়ে আসার প্রতিযোগিতা করেছি;কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি তারজালির ওপাশ নিয়ে ওর এতো কৌতুহল ছিলো!

একদিন বিকেলে তারজালির ফাঁক গলে ও ওপাশে চলে গেলো। কিন্তু নাদুস নুদুস সেহটা নিয়ে আর বের হতে পারেনি! ওইখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কতো কাঁদতো! তারপর একদিন কনক্রিটের গুহায় গিয়ে অন্যদের সাথে বসবাস করা শুরু করলো। এদিকে জন্তুগুলোর অত্যাচারে আমরাও বাড়িঘর ছেড়েছিলাম। আজ এতোবছর বাদে খবর পেয়ে দেখা করতে এসেছি। কিন্তু আর কতোক্ষণ?তর সইছেনা আর!

 

৩।

কতক্ষণ পার হয়েছে কে জানে! হঠাৎ মনে হলো তারজালির ওপাশে কিছু একটা নড়লো! তারপর-ই ফিসফিস করে একটা ডাক-

“তেলটুকি”

আমি দৌড়ে যাচ্ছিলাম;মাঝপথে পৌছানোর আগেই দুপদাপ করে দৌড়ে এলো এক অতিকায় জন্তু। সাথে সাথেই আবার পিছনে ফিরে গেলো! আমি স্থির! কোনদিকে যাবো বুঝতে পারছিনা। ভেবেচিন্তে সামনেই এগোলাম;প্রায় তারজালির কাছে পৌছে গেছি-এমন সময় আবারো এলো জন্তুটা! তার ভয়ানক এক ধাক্কায় উল্টে পড়ে গেলাম। গায়ের উপর কতগুলো সাদা পাউডার এসে পড়লো।সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছে। ও কোথায়!

চেতনা হারানোর আগমুহূর্তে শুনতে পেলাম জন্তুরূপী জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণিটার কন্ঠ-

“তেলাপোকার জ্বালায় অস্থির,বাথরুমের ছাকনির ভেতরে বাইরে সবজায়্গায়……………”

                                                               --O--

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ১০:০৭

মামুন রশিদ বলেছেন: তেলাপোকার আত্মকাহিনি ;)

২| ০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ১০:২২

কালীদাস বলেছেন: অর্থহীনের সুর্য গানটার কথা মনে পড়ে গেল :-<

৩| ০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:৪২

রেজোওয়ানা বলেছেন: ওহ, তেলাপোকার গল্প!!

৪| ০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:৫৬

স্বপ্নবাজ অভি বলেছেন: B-) B-)

৫| ০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১:৪৫

ফাল্গুনী আলম বলেছেন: :)

৬| ০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ১১:২৬

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: বাহ ! তেলাপোকার কাব্যিক নাম তাহলে " তেলটুকি" !! নামটা সুন্দর তো !

০৯ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৯:১৩

ফাল্গুনী আলম বলেছেন: :)

৭| ০৮ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:২২

জ্যোস্নার ফুল বলেছেন: :) :) :)

৮| ০৮ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৪

একলা চলো রে বলেছেন: তেলটুকি নামটার জোনয প্লাস।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.