| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফজলে এলাহি
অন্যদিগন্ত: www.bishorgo.com ভালবাসতে চাই মানুষকে, পৃথিবীকে, ভালবাসিও, কিন্তু যখনি দেখি অপচ্ছায়া ঢেকে ফেলছে আমার ভালবাসাকে, তখনি যেন নিজেকে আর খুঁজে পাই না নিজের মাঝেই,,, এই না পাওয়ার প্রকাশই আমার কথা, কাজ, কাব্য, গদ্য, নীরবতা, আক্রোশ, এটাই পৃথিবীতে আমার প্রকাশ, আমার ভূমিকা। ভালবাসতে চাই মানুষকে, পৃথিবীকে, ভালবাসিও, কিন্তু যখনি দেখি অপচ্ছায়া ঢেকে ফেলছে আমার ভালবাসাকে, তখনি যেন নিজেকে আর খুঁজে পাই না নিজের মাঝেই,,, এই না পাওয়ার প্রকাশই আমার কথা, কাজ, কাব্য, গদ্য, নীরবতা, আক্রোশ, এটাই পৃথিবীতে আমার প্রকাশ, আমার ভূমিকা।
ঈদ অর্থ বার বার ফিরে ফিরে আসে যে আনন্দ। মুসলিম জীবনে দু'টো ঈদ আল্লাহ্ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার একটি হলো ঈদুল ফিতর বা রোযার ঈদ আর অন্যটি ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ। ঈদুল ফিতরের মহত্ব হলো পুরো একটি মাস আল্লাহর জন্য মানুষেরা সিয়াম সাধনা করে করে যে কষ্ট স্বীকার করে, তার সমাপনী দিন। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি যেমন নিহিত থাকে, তেমনি থাকে দীর্ঘ একমাস পর দিনের বেলায় খাবার গ্রহণসহ আরো অন্যান্য আনন্দ উপভোগ। অন্যদিকে ঈদুল আযহার পুরোটা জুড়েই থাকছে ত্যাগ ও কুরবানীর প্রশিক্ষণ। যারা হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে পূণ্যভূমিতে অবস্থান করছেন, তাদের জন্যে তো রীতিমত সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যব্স্থা রয়েছে যেন। সামরিক অভিযান পরিচালনার মতই সেখানে রয়েছে আল্লাহর সৈনিকদের জন্য তাঁবু বা ক্যাম্প স্থাপনের পদ্ধতি, রয়েছে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান, ইমাম বা সেনাপতির খোৎবা বা বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা, পুনরায় কা'বা বা কেন্দ্রে ফেরৎ, তারপর আবারো ক্যাম্পে ফিরে যাওয়া ইত্যাদি। পুরো হজ্জ ইবাদাতের ব্যবস্থাপনাটাই যেন আল্লাহর সৈনিকদেরকে তাঁর যমীনে তাঁর দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্য একটা সামরিক ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। মূলতঃ মুসলমানগণ প্রত্যেকেই তাদের প্রতিপালকের জন্য এক একজন সৈনিক। সে যেমনিভাবে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে তার নিজেকে হেফাযত করার জন্য নিজ নফসের সাথে ও স্বয়ং ইবলীসের সাথে লড়াই করে, তেমনি সমাজের নানা কুসংস্কার ও ঈমান বিনষ্টকারী বিষয় ও সেসবের প্রচারকদের সাথে লড়াই করে তার কথা শক্তি, বাহু শক্তি ও আন্তরিক শক্তি দিয়ে, ঠিক তেমনি প্রয়োজনে যখন ইমাম আহ্বান করবেন তখন জিহাদের ময়দানেও সেই একই সাধারণ মুসলমান সৈনিক হিসেবে লড়াই করবেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য। এতে প্রয়োজন পড়লে নিজের প্রাণ প্রিয় সম্পদ, সন্তান এমনকি নিজের জীবনকে কুরবান করতেও সে পিছপা হবে না। হ্জ্জ ও হজ্জের দিনগুলোর অন্তর্ভু্ক্ত কুরবানীর ঈদ সে শিক্ষাই প্রতিজন মুসলমানকে দিয়ে যায় প্রতি বছর একবার করে।
কুরবানীর মহিমা আমাদের জীবনে অপার। নিখুঁতভাবে তাকালে আমরা দেখতে পাবো যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমরা নিজের জন্য বা কারো না কারো জন্য কুরবানী দিয়ে যাচ্ছি। জীবনের বেশীর ভাগকেই হয়ত নিজের জন্য দিচ্ছি মনে করে কুরবান করছি। কিন্তু তাতে নিজের জন্য খুব কম অংশই থাকে, কেননা মৃত্যুর পরপরই যাবতীয় 'নিজের'গুলো অন্যের হয়ে যায়। তাই 'নিজের জন্য' যা কিছু সঞ্চয় করা হয়, সেসবেরও খুব সামান্যই নিজের হয়ে থাকে। এর বাইরে মাতা-পিতা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী সকলের জন্যই নানা অংশে ত্যাগ ও কুরবানী আমাদেরকে করতেই হয়। সমাজবদ্ধ যাপনে যা জীবনের মূলধারার সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে আছে। এতসব ত্যাগ ও কুরবানীর একটা বিনিময় তো মানুষ হিসেবে সবাই পৃথিবীতেই প্রাপ্ত হয়, কিন্তু মুসলমানগণ এসবের দু'টো প্রতিদান পাবে। একটি পৃথিবীতে যা পাওয়ার তা, অন্যটি পাবে মুসলমান তার প্রভু আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিয়্যতে যদি কোন ত্যাগ ও কুরবানী করে থাকে, তবে আখেরাতে সেসবের পরিপূর্ণ প্রতিদান। অবশ্য মুসলমান হয়েও যদি নিয়্যত বা সংকল্পে শুধুমাত্র দুনিয়ার পাওনাকে নির্দিষ্ট করে দেয়, তবে মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও আখেরাতে তার জন্য আর কিছু বাকী থাকবে না। সর্বোপরি এসব ত্যাগ ও কুরবানীর মূখ্য উদ্দেশ্য হয় নিজ থেকে নিয়ে দুনিয়ার কেউ না কেউ।
আবার দুনিয়াবী কারো জন্য ত্যাগ ও কুরবানীর বাইরেও এমন কিছু ত্যাগ ও কুরবানী আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে চেয়েছেন, যেসবের মূখ্য দিকটাই হয় আল্লাহ তা'আলা, অর্থাৎ শুধু মাত্র তাঁর জন্যই। যেমন, ইসলামের মৌলিক ইবাদাতগুলোসহ এজাতীয় অন্যান্য ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদাত। নামায আদায় না করলে বাহ্যিকভাবে দুনিয়ার কারো তেমন কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু আদায় করলে ব্যক্তি নিজেসহ তার আশপাশের সমাজ তা দ্বারা উপকৃত হবে ইত্যাদি। তন্মধ্যে বর্তমানে আমরা পার করছি একটি মৌলিক ইবাদাত হজ্জ ও তার পাশাপাশি কুরবানীর মৌসুম।
পূর্বে ত্যাগ ও কুরবানী কাদের জন্য করা হয় সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এবার আসা যাক কি কি কুরবানী করে থাকি আমরা এসব ক্ষেত্রে। এর ফিরিস্তি দিতে গেলে শব্দ লিখেই শেষ করা যাবে না। মৌলিকভাবে তাকালে সময়, অর্থ, ভালবাসা ও প্রিয়জন এবং নিজের জীবন; এ কয়টি ভাগে ভাগ করে নিতে পারি।
সময়টা নানাভাবে ব্যয় হতে পারে, কারো সাথে আড্ডা দেয়া থেকে শুরু করে শেষ বিদায়ের জানাযায় অংশগ্রহণও হতে পারে।
অর্থ ব্যয়ের নমুনা পথের ধারের ভিক্ষুককে দশ পয়সা ছুঁড়ে মারা থেকে নিয়ে কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশে সিডর আক্রমণের পর যেমন এক সউদী নাগরিক হাজার কোটি টাকা দিয়েও নাম প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন অথবা হতে পারে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জিহাদে যেমন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাঁর সমস্ত সম্পদ এনে হাজির করেছেন প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে।
ভালবাসা ও প্রিয়জনের কুরবানীর উদাহরণ তো এমন হতে পারে যে, আদর্শের জন্য কিংবা কোন লক্ষ্যের জন্য ভালবাসার বস্তু কিংবা মানুষদের কাছ থেকে দূরে অবস্থান করা কিংবা ভালবাসার মানুষদেরকেই বর্জন করা অথবা কুরবানী করা। যেমন, যদি কেউ তার প্রিয় কোন বস্তু কিংবা মানুষের কাছে যেতে চায়, কাছে থাকতে চায়, অথচ এতে তার আদর্শ, তার লক্ষ্যচ্যুতির সম্ভাবনা থাকে, তবে মানুষ তা ত্যাগ করে। এমন অসংখ্য উদাহরণ থেকে নিয়ে শুরু করে পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের তাঁর প্রভু আল্লাহর জন্য নিজ সন্তান কুরবানী করার মত চূড়ান্ত পর্যায়ও হতে পারে।
সর্বোপরি মানুষ নিজেকেই উৎসর্গ করে দেয় তার আদর্শ কিংবা লক্ষ্যের তরে। এতে কারো লক্ষ্য যদি হয় বিপদগ্রস্ত প্রিয়জনকে উদ্ধার, কারো হয় স্বদেশের স্বাধীনতা, কারো হয় আদর্শের প্রতিষ্ঠা; তবে মানুষ সে জন্য নিজের জীবনকে বাজী রাখে এবং অবশেষে নিঃশেষ হয়ে যায় তার পছন্দের পথে।
আগেই বলেছি যে, আমরা এখন অতিক্রম করছি বাৎসরিক কুরবানীর মৌসুম, অর্থাৎ কুরবানীর ঈদ। এ কুরবানীর প্রারম্ভ ইতিহাস আমাদের সবারই কম-বেশী জানা রয়েছে। আল্লাহর আদেশে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম তাঁর আপন সন্তান ইসমাঈল আলাইহিস্ সালামকে কুরবানীর জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। মূলতঃ ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের জন্য এ ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি এবং তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র দু'জনেই কুরবানী দিতে ও হতে ছিলেন সন্তুষ্টচিত্তে প্রস্তুত। তখন আল্লাহ্ তাঁর প্রতি তাঁদের এহেন আন্তরিক ও কার্যকর আনুগত্য ও আত্মসমর্পনের বাস্তবায়ন দেখে বালক ইসমাঈলের স্থলে জান্নাত হতে ফিরিশ্তার মাধ্যমে একটি দুম্বা শুইয়ে দেন; এভাবেই ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস্ সালাম আত্মত্যাগের এ কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এটা পরীক্ষা। কোন কোন অবিবেচক ধর্মবিদ্বেষীকে বলতে দেখা যায় যে, "আল্লাহ্ যদি জানতেনই তবে কেন তিনি ইব্রাহীমকে পরীক্ষা করতে গেলেন"? এদের জন্য সুস্থতা কামনা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। কেননা, প্রত্যেক পরীক্ষকই প্রশ্নের উত্তর জানেন এবং উত্তর জেনেই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন; কিন্তু পাশ করবেন কি না তা জানেন না। এখন বুঝার বিষয় যে, সৃষ্টিজগতের প্রত্যেক পরীক্ষক আর পরীক্ষক হিসেবে স্বয়ং স্রষ্টা কি এক হলো? না, এক নয়। বরং স্রষ্টা এটাও জানেন যে, পরীক্ষার্থী পাশ করবে কি না। তাহলে স্রষ্টা এসব ঘটনা অনুষ্ঠিত করেন কেন? এর জবাব জ্ঞানী মাত্রের নিকটই নিতান্ত সহজ, কিন্তু মূর্খ সম্প্রদায়ের জন্য জীবনপণ সমস্যা(!)। মূলতঃ পরবর্তী মানুষদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্যই আল্লাহ্ নবী-রাসূলগণের জীবনকে অসংখ্য ঘটনাবহুল করেছেন, তাঁদের নিকট হতে অসংখ্য পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কারণ, তাঁরাই তো মানব জাতির জন্য আদর্শ, তাই মানবজাতিকে তাঁদের অনুসরণ করাতে হলে তাঁদের জীবনকে সেভাবেই সাজাতে হবে। এসব প্রশ্নের অনেক বিজ্ঞজনোচিত জবাব থাকলেও সহজ ভাষায় বুঝতে পারাটাই আমাদের জন্য বেশী জরুরী। এছাড়া আমরা নিজেরাও জীবনে নানা পরীক্ষায় জর্জরিত হয়ে থাকি, সেসবের মধ্যেও এসব প্রশ্নের জবাব নিহিত রয়েছে।
প্রতি বছর কুরবানীর মৌসুম এলেই যতটা না রক্তের সুতোধারা প্রবাহিত হয় কুরবানীর ঈদের দিনে, তার চেয়ে বহু বহুগুণ বেশী রক্তের সাগর ভাঙ্গে ধর্ম শব্দের এলার্জিতে আক্রান্ত নাস্তিক-মুরতাদদের হৃদয়ে। সারা বছর অসংখ্য প্রাণী জবাই করে টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে চড়িয়ে-পুড়িয়ে খেতে তাদের কোন ব্যথা লাগে না, কেবল বুকটা ভেঙ্গে যায় শুধু মাত্র মুসলমানগণ যখন তাদের পরম প্রিয় আল্লাহর জন্য ঈদুল আযহার দিনে কুরবানীর পশুর গলায় ছুরি বসায়। তাদের পশুপ্রেম তখন তাদেরকে 'পশু'তে পরিণত করে ফেলে। তাদের হাম্বা রব আর ম্যৎকারে তখন কুরবান হওয়া পশুরাও যেন হেসে উঠে। কি অর্বাচীনের মত তাদের এহেন আচরণ, তারা তখন পশু জবাইয়ের সময়কার ঘটনাগুলোকে যেন পশুর রক্তে নয়; তাদের নিজেদেরই প্রতিহিংসা সমৃদ্ধ বুকের রক্তে নানাভাবে রঞ্জিত করে করে অপপ্রচারের আর্তনাদে মেতে উঠে। তারা তখন এ কুরবানীতে ত্যাগ খুঁজে পায় না, পায় কেবলি কপটতা, হৃদয়ের প্রশস্ততা খুঁজে পায় না, পায় কেবলি সংকীর্ণতা; মুসলমানদের নিয়ে তখন তাদের কি নিদারুন(!) মাথাব্যথা, মুসলমানগণ আল্লাহর জন্য নয়; বরং লোকদেখানোর জন্য এসব করছে...কি উলঙ্গ বেহায়াপনা! (মুসলমানদের নিয়্যত বা সংকল্পের বিচ্যুতির কথা পূর্বেই প্রতিদানের বিষয়ের সাথে উল্লেখ করেছি।)
যখন অন্যায়ভাবে বনী আদমের রক্ত ঝরে, তখন উল্লাস করে ইবলীস, কেননা সে ফিৎনা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে। আর যখন আল্লাহর কোন বান্দা তাঁর জন্য কুরবানী করে রক্ত ঝরায় তখন ইবলীসের আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়; বছর বছর কুরবানীর মৌসুমে আমরা যেন মানুষরূপী ইবলীসদের আর্তনাদ শুনতে পাই। যেমনটি আল্লাহ্ বলেছেন: مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ "(কুমন্ত্রণাদানাকারী এ শয়তান) জিন ও মানুষদের মধ্য থেকে।" [সূরা আন্-নাস: ৬]
কথায় কথায় আমরা বলে থাকি- ত্যাগেই শান্তি, ত্যাগেই মুক্তি। বাস্তবিকই তাই। দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছাড়াই অর্থ দানকারী ব্যক্তি উপলব্দি করতে পারেন যে, অর্থদানে হৃদয়ে কতটা প্রশান্তি নেমে আসে। তেমনি একটি প্রিয় গৃহপালিত পশুকে যত্নে লালন-পালন করে বড় করে একদিন আল্লাহর জন্য তার গলায় ছুরি চালানোর মধ্যে কতটা আত্মিক পরিশুদ্ধি নিহিত তা নিষ্ঠাবানদের পক্ষেই উপলব্দি সম্ভব। অন্যথা, ব্যক্তি সেই একই পশুটিকে কিন্তু চিরদিন ধরে রাখতে পারবে না, কখনো না কখনো সে তাকে জবাই করে খাবেই, হতে পারে তা কোন অনুষ্ঠানের ভোজে কিংবা বিক্রয় করা অর্থ খরচ করে। সেসব ক্ষেত্রে কিন্তু উল্লেখিত আত্মিক পরিশুদ্ধি হয় না বা ধর্মবিদ্বেষীদের চিৎকার-ম্যৎকারও শোনা যায় না। তাই সকলের উচিত তাদের নিজ নিজ ইবাদাতগুলোকে নিষ্ঠার সাথে পালন করা এবং জিন শয়তান ও মানুষ শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে- পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম যখন ইসমাঈল আলাইহিস্ সালামকে কুরবানীর জন্য অস্ত্রহাতে উদ্যত হলেন, তখন শয়তান নানাভাবে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে, পিতা তখন শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাকে উদ্দেশ্য করে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। শয়তানের প্রতি প্রথম মুসলিম ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের কঙ্কর নিক্ষেপের সে ক্রিয়াটি আজো হজ্জের অনুষ্ঠানাদির মধ্যে "জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ হিসেবে" অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সাধু সাবধান!
9 ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৭
ফজলে এলাহি বলেছেন: আবূসামীহা-
যথার্থ মন্তব্য। ধন্যবাদ।
২|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৮
মাহমুদ৬৯ বলেছেন: জিন কুতায় থাকে?
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২২
ফজলে এলাহি বলেছেন: কুতায় মানে কি কোথায়?
জিন এ বিশ্ব বহ্মাণ্ডে থাকে। মানুষদের দৃষ্টি থেকে জিনকে আড়াল করে রেখেছেন স্রষ্টা।
তবে ইবলীস, যে কিনা শয়তানদের প্রধান সে জিন জাতি হতে, পরে আল্লাহ্ তাকে অনেক ক্ষমতা প্রদান করেন। সাথে সাথে এও বলে দেন যে,
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ "(কুমন্ত্রণাদানাকারী এ শয়তান) জিন ও মানুষদের মধ্য থেকে।" [সূরা আন্-নাস: ৬]
৩|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৬
ভন্ডুল বলেছেন: মাহমুদ৬৯ বলেছেন: জিন কুতায় থাকে?
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৩
ফজলে এলাহি বলেছেন: নিজের কোন ভাষ্য নাই?
৪|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৬
আল-আমিন বলেছেন: ুন্দর লেখার জন্য প্লাস
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:২৮
ফজলে এলাহি বলেছেন: ধন্যবাদ আল-আমিন ভাই।
৫|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩২
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন: মাহমুদ ভাই আমার খুব পছন্দের ভাই...উনার প্রশ্ন শুনে ইচ্ছা জাগল জীন নিয়া একটা পোস্ট দিমু।আমি এই জীনের বিপক্ষে থাকায় কলেজে আমারে নাস্তিক বইলা গাল দিত।অনেক কাহিনি...কিন্তু আমি এখন জানি হ্যা এটা আছে!!!!মোটেও তা হুজুরদের সেই বুজরকি কাহিনি শুনে নয়!!!পোস্ট দিব ইনশাল্লাহ
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩৯
ফজলে এলাহি বলেছেন: এ.এস.এম রাহাত খান-
আপনার পোষ্টের অপেক্ষায় থাকলাম। অবশ্য আমি ইদানিং ব্লগে আসতে পারি কম, তাই পোষ্ট দিলে লিংকটা আমার কোন একটি ব্লগে রেখে যাবার অনুরোধ রাখলাম। ধন্যবাদ।
৬|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৫
শাহ জাহান বলেছেন: কুরবানীকে আরবী ভাষায় উযহিয়্যা বলা হয়। উযহিয়্যা শব্দের অর্থ হল, ঐ পশু যা কুরবানীর দিন যবেহ করা হয়। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য নির্দিষ্টি সময়ে পশু যবেহ করাকে কুরবানী বলাহয়।
কুরবানীর তাৎপর্য হলো ত্যাগ, তিতিক্ষা ও প্রিয় বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি জন্য উৎসর্গ করা। নেক আমলসমুহের মধ্যে কুরবানী একটি বিশেষ আমল।রসুলুল্লাহ (সা ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্বেও কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।(সুত্র: ইবনে মাজাহ; শামী)
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৭
ফজলে এলাহি বলেছেন: শাহ জাহান ভাই-
জাযাকাল্লাহ খায়ের। সুন্দর কিছু কথা তুলে ধরেছেন। খুব ভালো লাগলো। পাঠকও উপকৃত হবেন।
৭|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২০
দ্বীপবালক বলেছেন: কিচু কিচু জিন কিচু মানুষরূপী শয়তানের মস্তিষ্কে তাকে @মাহমুদ৬৯
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫০
ফজলে এলাহি বলেছেন: দ্বীপবালক-
জটিল কথা বলেছেন ![]()
৮|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আমার পোস্টের ( Click This Link) কিছু অংশ বিশেষ তুলে দিচ্ছি......
......
কোরবানির তথাকথিত তাৎপর্যঃ
১। আল্লাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজের জানমালকে কোরবানি করতে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এটাকে বলা হচ্ছে ত্যাগ-তিতিক্ষার শিক্ষা। আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রিয় বস্তু, মনের স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও খোদাভীতি তথা তাকওয়ার চিহ্নস্বরূপ সম্পদের ব্যয়কে দেখতে ভালোবাসেন।
২। কোরবানির মাধ্যমে সমস্ত পশুত্বকেও কোরবানি করা হয়। মনের মধ্যকার যত কালো দিক আছে- তার অবসান ঘটে।
৩। কোরবানির গোশতের তিনভাগের দুইভাগ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার মাঝে- গরীব- দুঃখীদের প্রতি মহান কর্তব্য পালিত হয়।
ভিন্ন ধরণের কিছু আলোচনা ও প্রশ্নঃ
১। ইতিহাসবিদ ও নৃতাত্বিক গণের আলোচনায় আমরা দেখি, প্রাচীণ আমলে মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে পশুবলী এমনকি নরবলী দিত। সবই তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের ঈশ্বর ও দেবতাদের উদ্দেশ্যে ঐ সব পশু বা নর বলী দিত বা উতসর্গ করতো। যেমন কোন সময় খরায় বা অন্য কোন কারণে ফলন না হলে- অধিক ফলনের আশায় জমিতে পশু/নর বলী করতো। বা বৃষ্টির আশায় বৃষ্টির দেবী বা দেবতার উদ্দেশ্যে বলী দিত।
ইসলামের কোরবানির সাথে তার সম্পর্ক বা পার্থক্য কি?
২। এই ২/৩ দিনে গোটা দুনিয়ায় একসাথে কতটি পশু মারা যায়? উৎসব হিসাবে লাখে লাখে পশু হত্যা, প্রথা হিসাবে কেমন?
৩। শুধু একধরণের বিশ্বাসের জায়গা থেকে যে ত্যাগ, তাতে ত্যাগের মহিমা আসলেই কতখানি থাকে?
৪। গরীবের যেখানে চাল/আটা কেনার পয়সা নেই, সেখানে তাদের গোশত দেয়া কি একধরণের মশকরা নয়?
৫। মনের পশুত্ব কোরবানি দেয়ার জন্য কি পশু কোরবানি আবশ্যক?
উৎসবের লক্ষে পশুহত্যা আর ভোজনের উদ্দেশ্যে পশুহত্যা কি এক?
ঈদুল আজহার এই পশুবলী নিয়ে কথা বললেই প্রশ্ন চলে আসে- "এই প্রথাটি নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কি নিরামিষভোজী?" বা অনেকে নৈতিকতার প্রশ্নও তুলেন- "কোরবানীর মাংস-পোলাও-কোরমা-কালিয়া খেয়ে দেয়ে কোরবানী উৎসব বা প্রথাটি নিয়ে কথা বলে না-কি প্রগতিশীল সাজাটা কেমন?"
এ ব্যাপারে আমি আমার নিজের জবাবটি এখানে দিয়ে আলোচনা শেষ করছি। আমি যখন এই উৎসব বা প্রথাটি নিয়ে কথা বলি, তখন পশুহত্যা নিয়ে আমার আপত্তির কথা কখনো তুলিনা, দুনিয়া জুড়ে লাখে লাখে- কোটিতে কোটিতে পশু প্রকাশ্যভাবে হত্যা করে, সেই হত্যা-যজ্ঞকে কেন্দ্র করে একটি উৎসব বা প্রথা গড়ে উঠলে সেটিকে মধ্যযুগীয় বর্বর মনে না করার কারণ দেখিনা। এই প্রথাটির ব্যাপারে আমার এলার্জী আছে, কিন্তু আমার খাবারে মেনুতে গরু-ছাগল-মাছ এসব পশুর উপস্থিতিতে আমার কোনদিনই কোন এলার্জী ছিল না।
এক কালে ঈদের নামাজ পড়ে এসে বাবা ও বড় ভাইয়ের পাশে হুজুরের জবাই করা থেকে শুরু করে মাংস ছিলা, মাংস কাটা, ভাগ-বাটোয়ারা, চামড়া বিক্রি... ইতয়াদি সব ভালো উপভোগ করলেও (অবশ্য কয়েকবার ছাগল কিছু আগে কেনার কারণে ছাগলের প্রতি মায়া পড়ায় কষ্টও তৈরী হয়েছিল!)- আজ ঐধরণের নৃশংস কাজগুলো থেকে নিজেকে দূরেই রাখার চেষ্টা করি, তবে আগেও মাংস খাওয়ায় কোন সমস্যা দেখিনি- এখনও দেখিনা (মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে যা একটু কম খাওয়ার চেষ্টা বাদে!!)......
সবাইকে ধন্যবাদ ও
আবারো ঈদের শুভেচ্ছা।
=============>>>>>>>>>>
পোস্টের মন্তব্যের কিছু আলোচনাও সেই সাথে যুক্ত করছি........
ক্স ফাইলস্ বলেছেন: আল্লাহর নির্দেশে স্বপ্নযোগে হযরত ইব্রাহীম যে কুরবানী দিতে রাজী হলেন.... এটাকে কি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বলবেন? যদি বলেন সেই ভালোবাসায় কি অন্ধত্ব দেখতে পান।
মানে আমি যেটা বলতে চাই.... তবে কি ইসলাম ধর্মান্ধতা সমর্থন করে।
অন্যভাবে বললে, আমি যদি একজনের প্রতি অন্ধ হই তবেই তাকে নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা আমি মনে আনবোনা। কোন বিবাদে জড়াবোনা।
এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন?
লেখক বলেছেন:
শুধু ইসলাম নয়- প্রায় সব ধর্মই তো অন্ধতাকে সমর্থন করে। আজ যদি কোন মুসলিম বান্দা স্বপ্নে আদিষ্ট হন যে- তার সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী দিতে হবে- এবং সে অনুযায়ী সেই মুমিন বান্দা যদি তার বাচ্চাকে উৎসর্গ করতে যায় তবে কি ঘটবে? সবাই সেই বান্দাকে আটকানোর চেস্টা করবে, তাকে উন্মাদই বলবে। তাই নয় কি?
তবে, ইব্রাহীম বা আব্রাহামকে আমার সেরকম উন্মাদ মনে হয় না। এবং এই ইব্রাহীম কিন্তু ইসলামের আবিষ্কার নয়- এই ইব্রাহীম/আব্রাহামকে খৃস্টান-ইহুদী সহ আরব অঞ্চলের বিভিন্ন মিথেই যুগে যুগে স্মরণ করা হয়েছে। ইতিহাস/নৃতাত্তিক বিভিন্ন পাঠ থেকে এটুকু মনে হয় যে- কেবল উন্মাদ একজন মানুষকে লোকে যুগে যুগে এমন মনে রাখার কথা নয়। তাহলে কি হতে পারে? ঐ অঞ্চলে খরা-অনাবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক কারণে কৃষিজ জীবন ব্যাপক ব্যহত হত এবং সেখানে দেবতা/ঈশ্বেরের উদ্দেশ্যে নরবলীর প্রথা চালু ছিল এমনটাও জানা যায়। এসব মিলিয়ে মনে হয়- এমনটা হতে পারে যে, এই আব্রাহাম/ইব্রাহীমই সম্ভবত নরবলীর মত একটা বর্বর প্রথাকে পশুবলী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেন। এই কাজটিতে ইব্রাহীমের সাথে সাথে পুত্র ইসমাইলের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য হওয়ার কথা। হতে পারে, এই নরবলীর প্রথা উচ্ছেদ কল্পে ইসমাইল তার প্রাণটাও প্রায় খোয়াতে বসেছিল।
এসব কিছুই লোকের লোকের মুখে মুখে বিবর্তিত হয়ে এমন একটা মিথে পরিণত হয়েছে। আর সেটিই ইসলাম এডোপ্ট করে নিয়েছে।
মাহিরাহি বলেছেন: ভাই, মানলাম মুসমানেরা খুবই খারাপ কাজ করে।
কিন্তু আপনি যদি পরিসংখ্যান দেখেন তবে দেখা যাবে,
শুধুমাত্র আমেরিকার খৃষ্টানেরাই বছরে যে মাংস খায়, সারা পৃথিবীর মুসলমানেরাও তার অর্ধেকও খায় কিনা আমার সন্দেহ আছে।
তারা নিশ্চয় জ্যান্ত পশু খায় না কোন কোন ভাবে পশুগুলোকে হত্যা করতে হয়।
এই ব্যপারে আমেরিকানদের নিষ্পৃহতার কারন কি।
তারা এই আকামটি মেনে নিচ্ছে কেন?
লেখক বলেছেন:
পরিসংখ্যানটি তথ্যসূত্র সহকারে দেখতে পারলে মন্দ হতো না। যাহোক, ধরে নিলাম আপনার তথ্যটিই সঠিক। তো? মাংস খাওয়া নিয়ে কি আমি কোন কথা বলেছি? মানুষের যে ক্যালরির প্রয়োজন- তার একটা বড় অংশই সে প্রাণিজ প্রোটিন দিয়ে পূরণ করে- এটাই স্বাভাবিক। প্রাণিজ আমিষ খেতে গেলে সেই প্রাণিকে মারতে হবে এটাও স্বাভাবিক। আমি শুধু বলছি- একটা দিনে দুনিয়া জুড়ে একটা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সব মানুষ এই প্রাণী মারায় লিপ্ত থাকে, সেটাই হলো একটা বিশেষ উৎসব ও প্রথা। প্রথা হিসাবে এটা কেমন? সারাবছরে কতখানি মাংস খায় সেটা যদি আমেরিকান-খৃস্টানদের চেয়ে হাজার গুণ হলেও সমস্যা নেই- কিন্তু মুসলমানেরা তার সারাবছরের খাওয়ার উদ্দেশ্যে পশুমারার কত অংশ একটি দিনেই মারে- সেই পরিসংখ্যানটি দেখুন। বাংলাদেশেই সারাবছরের জবাইকৃত গরু-ছাগলের ৪০ শতাংশের বেশী এই কোরবানীর এক দিনেই করে থাকে। তারচেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো- সারাবছরের বাকি সময় ধরে যে গরু ছাগল মারা হয়- সেগুলোর প্রায় ১০০ শতাংশই প্রকাশ্যে যত্র-তত্র হয় না- মানে নির্দিষ্ট স্থানে মাংস বিক্রেতারা বা কসাইরা এ কাজে লিপ্ত থাকে। অধিকাংশ সমর্থ পরিবারই সারাবছর নিজেরা একাজে লিপ্ত থাকে না; অথচ ঈদুল আজহার একদিনে একাজটি সকল সমর্থ মুসলিম পরিবার একাজে সরাসরি যুক্ত থাকে। আপনি দশটি গরু একাই খেলেও আপত্তি নেই যদি তা বছরের অন্য সময়ের মত মাংস বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে আনেন- কিন্তু ঈদুল আজহার দিনে তো হয়না। মাংস কিনে আনলে হবে না- আপনাকে চারপেয়ে প্রাণী কিনতে হবে এবং কোরবানী দিতে হবে। বিষয়টি ভাবুন তো- চারদিকে রক্ত, মাংস কাটাকাটি- গোবর-লাদি, চামড়া এসবের ছড়াছড়ি ....... এসবের বীভৎসতা কি এতটুকু নাড়া দিবে না?
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৭
ফজলে এলাহি বলেছেন: জবাবগুলো একজন খুব সাধারণ মুসলমানের কাছেও অতি সাধারণ। প্রথমে কিছুদূর পড়ে ভেবেছিলাম জবাব লিখবো। কিন্তু আরো কিছুদূর এগিয়ে দেখলাম যে, মূল লেখা থেকে নিচের কপি-পেস্ট অংশই আপনার জন্য যথার্থ হবে। তাই করলাম। তবে কখনো যথেষ্ট বেহুদা সময় পেয়ে গেলে লিখবো জবাব লিখবো হয়ত।
_______________________কপি-পেস্ট
কোন কোন অবিবেচক ধর্মবিদ্বেষীকে বলতে দেখা যায় যে, "আল্লাহ্ যদি জানতেনই তবে কেন তিনি ইব্রাহীমকে পরীক্ষা করতে গেলেন"? এদের জন্য সুস্থতা কামনা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। কেননা, প্রত্যেক পরীক্ষকই প্রশ্নের উত্তর জানেন এবং উত্তর জেনেই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন; কিন্তু পাশ করবেন কি না তা জানেন না। এখন বুঝার বিষয় যে, সৃষ্টিজগতের প্রত্যেক পরীক্ষক আর পরীক্ষক হিসেবে স্বয়ং স্রষ্টা কি এক হলো? না, এক নয়। বরং স্রষ্টা এটাও জানেন যে, পরীক্ষার্থী পাশ করবে কি না। তাহলে স্রষ্টা এসব ঘটনা অনুষ্ঠিত করেন কেন? এর জবাব জ্ঞানী মাত্রের নিকটই নিতান্ত সহজ, কিন্তু মূর্খ সম্প্রদায়ের জন্য জীবনপণ সমস্যা(!)। মূলতঃ পরবর্তী মানুষদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্যই আল্লাহ্ নবী-রাসূলগণের জীবনকে অসংখ্য ঘটনাবহুল করেছেন, তাঁদের নিকট হতে অসংখ্য পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কারণ, তাঁরাই তো মানব জাতির জন্য আদর্শ, তাই মানবজাতিকে তাঁদের অনুসরণ করাতে হলে তাঁদের জীবনকে সেভাবেই সাজাতে হবে। এসব প্রশ্নের অনেক বিজ্ঞজনোচিত জবাব থাকলেও সহজ ভাষায় বুঝতে পারাটাই আমাদের জন্য বেশী জরুরী। এছাড়া আমরা নিজেরাও জীবনে নানা পরীক্ষায় জর্জরিত হয়ে থাকি, সেসবের মধ্যেও এসব প্রশ্নের জবাব নিহিত রয়েছে।
প্রতি বছর কুরবানীর মৌসুম এলেই যতটা না রক্তের সুতোধারা প্রবাহিত হয় কুরবানীর ঈদের দিনে, তার চেয়ে বহু বহুগুণ বেশী রক্তের সাগর ভাঙ্গে ধর্ম শব্দের এলার্জিতে আক্রান্ত নাস্তিক-মুরতাদদের হৃদয়ে। সারা বছর অসংখ্য প্রাণী জবাই করে টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে চড়িয়ে-পুড়িয়ে খেতে তাদের কোন ব্যথা লাগে না, কেবল বুকটা ভেঙ্গে যায় শুধু মাত্র মুসলমানগণ যখন তাদের পরম প্রিয় আল্লাহর জন্য ঈদুল আযহার দিনে কুরবানীর পশুর গলায় ছুরি বসায়। তাদের পশুপ্রেম তখন তাদেরকে 'পশু'তে পরিণত করে ফেলে। তাদের হাম্বা রব আর ম্যৎকারে তখন কুরবান হওয়া পশুরাও যেন হেসে উঠে। কি অর্বাচীনের মত তাদের এহেন আচরণ, তারা তখন পশু জবাইয়ের সময়কার ঘটনাগুলোকে যেন পশুর রক্তে নয়; তাদের নিজেদেরই প্রতিহিংসা সমৃদ্ধ বুকের রক্তে নানাভাবে রঞ্জিত করে করে অপপ্রচারের আর্তনাদে মেতে উঠে। তারা তখন এ কুরবানীতে ত্যাগ খুঁজে পায় না, পায় কেবলি কপটতা, হৃদয়ের প্রশস্ততা খুঁজে পায় না, পায় কেবলি সংকীর্ণতা; মুসলমানদের নিয়ে তখন তাদের কি নিদারুন(!) মাথাব্যথা, মুসলমানগণ আল্লাহর জন্য নয়; বরং লোকদেখানোর জন্য এসব করছে...কি উলঙ্গ বেহায়াপনা! (মুসলমানদের নিয়্যত বা সংকল্পের বিচ্যুতির কথা পূর্বেই প্রতিদানের বিষয়ের সাথে উল্লেখ করেছি।)
যখন অন্যায়ভাবে বনী আদমের রক্ত ঝরে, তখন উল্লাস করে ইবলীস, কেননা সে ফিৎনা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে। আর যখন আল্লাহর কোন বান্দা তাঁর জন্য কুরবানী করে রক্ত ঝরায় তখন ইবলীসের আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়; বছর বছর কুরবানীর মৌসুমে আমরা যেন মানুষরূপী ইবলীসদের আর্তনাদ শুনতে পাই। যেমনটি আল্লাহ্ বলেছেন: مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ "(কুমন্ত্রণাদানাকারী এ শয়তান) জিন ও মানুষদের মধ্য থেকে।" [সূরা আন্-নাস: ৬]
৯|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০১
ভেংচুক বলেছেন: ইড মুবাড়ুক
ভালু থাকুন
গোশত মেলামাইন যুক্ত হলে পরিহার করুন![]()
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৯
ফজলে এলাহি বলেছেন: শব্দ দু'টি হবে- "ঈদ মোবারক"।
বিকৃত করে বিশ্বাসে ধ্বস নামানো যায় না; বরং বিকৃতকারীরাই বিকৃত হয়ে যায়। মনে রাখার চেষ্টা করবেন।
১০|
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৬
লুকার বলেছেন: উট কোরবানী দিলে কি বেশী নেকি হয়?
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:০০
ফজলে এলাহি বলেছেন: কোন কোন ক্ষেত্রে নেকি বেশী হয়, তবে কুরবানী হিসেবে সওয়াব সমান।
কিন্তু মনে রাখবেন, গাধা কোরবানী দিলে কিন্তু মোটেও সওয়াব হবে না।
১১|
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫২
ভালো-মানুষ বলেছেন: ভাইয়ার কাছে আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম, একনো উত্তর দিল না!
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:০০
ফজলে এলাহি বলেছেন: উত্তর পাওয়ার মত "ভালো-মানুষ" আপনি নন, তাই মুছে ফেলা হলো।
১২|
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩৫
আওরঙ্গজেব বলেছেন: যথারীতি +।
১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২২
ফজলে এলাহি বলেছেন: জাযাকাল্লাহ্ খায়ের আওরঙ্গজেব ভাই।
১৩|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
নাজিল আযামী বলেছেন: সময়াভাবে পড়তে পারিনি। আজ পড়লাম। মাশা'আল্লাহ, এভাবেই ইসলামের মহিমা প্রচার প্রসার হবে ।
১৪|
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৪৮
কৌশিক মোদক বলেছেন: ইমাম মাহাদির সৈন্য রা ইরাক সিরিয়া তে আর পাকিস্তানের কিছু ধর্ম প্রান মানুষ মসজিদে ই কিছু মমিন কে ঈদের দিন কুরবানি দিয়েছে, এই কুরবানিতেই কি সবচাইতে বেশি নেকি পাওয়া যাবে, এই ব্যপারে যদি একটু আলোকপাত করেন, খুব ভাল হয়---
১৫|
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:০৬
কৌশিক মোদক বলেছেন: রবলি প্রথা ইসলাম ধর্মেও ছিল, ইব্রাহিম সেই ধর্ম সংস্কার করেন, আজ পিসি সরকার আপনার চখের সামনে মানুষ কেটে জোড়া লাগান, তিনি দারি টুপি লাগিয়ে কুরানের বানি সহ এই একই কাজ করলে তাকে ম্যাজিক না বলে আল্লার কুদরত বলতেন-------- ইব্রাহিম এই কাজ তাই করেছিল ধর্মের নামে, সেই হিসাবে ইব্রাহিম ইসলাম ধর্মের রেনেসাঁর পত্তন করেন-
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৪
আবূসামীহা বলেছেন: হ্যাঁ! আমাদের অবশ্যই জিন শয়তানের সাথে সাথে মানুষ শয়তানদের থেকেও সাবধান হতে হবে।