| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফুলকলির বিকেল
আমি আমার নিজের বিকেলের রাজা। বিকেল মানে আমার রাজত্ব। বিকেল মানে আমার ভালোবাসা। বিকেল মানেই আমি।
থ্যালাসেমিয়া!একটি বংশগত রক্তের রোগ। অনেকেই হয়তো ভাবছেন এটা কি। দুঃখের বিষয় হলো ভয়াবহ এবং জটিল এই রোগের সম্পর্কে বাংলাদেশের বেশিরভাগ লোকই জানেন না, অথচ বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর এবং এই রোগের ভাইরাস বা জীন বহন করা ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ভয়াবহ এবং জটিল বলার কারণ হচ্ছে কেবল এই রোগে আক্রান্ত রোগী এবং রোগীর পরিবারই জানে কত কষ্ট এবং সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় রোগীর। এই রোগের চিকিৎসা যেমন জটিল তেমন ব্যয়বহুল। যার ফলে অনেক রোগী বা রোগীর পরিবার এমন আছেন যারা এই রোগের চিকিৎসা চালিয়ে রোগীকে বাচিয়ে রাখতে হিমশিম খায়। এ রোগ নিয়ে আমি আমার জানা কিছু তথ্য পরিবেশন করি। ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন।
থ্যালাসেমিয়া রোগ এর ভাইরাস বা জীনের বাহক বাবা-মায়ের মধ্যে বিয়ে হলে, তাদের সন্তান জটিল এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেনস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। থ্যালাসেমিয়া দুইটি প্রধান ধরনের হতে পারে: আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বেটা থ্যালাসেমিয়া। সাধারণভাবে আলফা থ্যালাসেমিয়া বেটা থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়াবিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়। অন্যদিকে বেটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়। বাবা অথবা মা, অথবা বাবা-মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। থ্যালাসেমিয়া দুইটি প্রধান ধরনের হতে পারে: আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বেটা থ্যালাসেমিয়া। সাধারণভাবে আলফা থ্যালাসেমিয়া বেটা থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়াবিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়। অন্যদিকে বেটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশ্বে বেটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। এছাড়া এই রোগে আক্রান্ত রোগী ছাড়াও, এই রোগের ভাইরাস বহণকারী রোগীর তেমন কোন সমস্যা না হলেও এরা অনেকেই রক্তশূণ্যতায় ভোগে। যার ফলে এদের যথেষ্ট সচেতন হতে হয় চলাফেরায়, তারা কখনো কোন দূর্ঘটনার শিকার হলে একবার রক্ত নেওয়া লাগলে অনেকের এই রক্ত নেওয়ার ধারবাহিক ভাবে চালিয়ে যেতে হতে পারে।
থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছে, দেশে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ। বংশগত এই রোগ নিয়ে প্রতি বছর দেশে সাত হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পর পর নতুন রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে হয়। সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসা পেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। বাবা অথবা মা, অথবা বাবা- মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া জীন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়।এক সমীক্ষায় দেখা যায়,বাবা এবং মা উভয়ের থ্যালাসেমিয়া জীন থাকলে ভূমিষ্ট শিশুর শতকরা ২৫ ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।
সচেতনতার অভাবে বিশ্বের আনুমানিক ৬০-৮০ মিলিওন মানুষ বিটা থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছে।থ্যালাসেমিয়া স্বল্প উন্নত দেশ যেমন নেপাল,বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বেশি দেখা যায়।আশঙ্কা করা হচ্ছে,আগামী ৫০ বছরে থ্যালাসেমিয়া অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়াও বাংলাদেশেও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক এবং আক্রান্তের সংখ্যা থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগী-দুটি ভিন্ন জিনিস।
থ্যালাসেমিয়ার বাহকরা এ রোগে আক্রান্ত নন। থ্যালাসেমিয়ার দুজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে, জন্ম নেয়া সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। থ্যালাসেমিয়া রোগীর লক্ষণ । থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তশূন্যতা দেখা দেবে, পেটের প্লীহা বড় হয়ে যাবে, তাকে ফ্যাকাশে দেখাবে। এই রোগের চিকিৎসা হচ্ছে যতদিন বাঁচবেন, ততদিন নিয়মিত নতুন রক্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে হবে কিংবা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (Bone Marrow Transplant) করতে হবে, যথেষ্ট ব্যয়বহুল এবং কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ।
সচেতনতাই পারে থ্যালসেমিয়া প্রতিরোধ এবং একজন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দিতে। তাই সবারই উচিত, রক্তে থ্যালাসেমিয়া আছে কি না, তা পরীক্ষা করা। রোগ প্রতিরোধে থ্যালাসেমিয়ার বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা দরকার। সম্প্রতি হাইকোর্টে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতা মূলক করার প্রক্রিয়া চলমান আছে। তবে কেবল সরকারী পদক্ষেপ নয়, সাথে দরকার যথেষ্ট প্রচারণার। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা প্রয়োজন।
(ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত)
২|
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:৩৫
কলাবাগান১ বলেছেন: Cousin marriage should be banned
৩|
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:১৩
রাজীব নুর বলেছেন: সরকারের উচিত ঘরে ঘরে সেবা কর্মী পাঠিয়ে মানূষকজে সচেতন করা।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:০১
চাঁদগাজী বলেছেন:
খুবই কষ্টের সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার, থ্যালাসেমিয়া যাদের আছে; তাদের যাতে শিশু না হয়, সেই ব্যবস্হা নিতে হবে।