নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ট্রুথ নেভার ডাই্‌জ

নিজের সম্পর্কে লেখার কিছু নেই । সাদামাটা ।

আহমেদ জী এস

পুরোপুরি একজন অতি সাধারন মানুষ । আমি যা আমি তাই ই । শয়তানও নই কিম্বা ফেরেশতা । একজন মানুষ আপনারই মতো দু'টো হাত, চোখ আর নিটোল একটা হৃদয় নিয়ে আপনারই মতো একজন মানুষ । প্রচন্ড রকমের রোমান্টিক আবার একই সাথে জঘন্য রকমের বাস্তববাদী...

আহমেদ জী এস › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঠিক দুক্কুর বেলা ভুতে মারে ঢিল....

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:৫৮



ঠিক দুক্কুর বেলা ভুতে মারে ঢিল ..... গানটি নিশ্চয়ই শুনেছেন ?
দুপুর বেলা না হোক রাতের বেলাতে আপনাকে কি কখোনও ভুতে ঢিল ছুড়েছে বা কখনও কি আপনাকে ভুত বা শয়তানে আছর করেছে ? কিম্বা জ্বীন-পরীতে পেয়েছে কখনও ? পায়নি ..? গুড ! পাওয়ার অবশ্য কোনও কারনও নেই ।
আপনাকে না পেলেও হয়তো শুনেছেন, অমুক কে ভুতে ধরেছে । ওঝা-ফকির চলছে । কেউ ছুটছে পানি পড়া আনতে । কেউ বিশ্বাস করেন, কেউ করেন না ।

আসলে আপনার শরীরটি একটি সর্বন্নোত প্রানীর শরীর এবং সঙ্গত কারনেই তা বেশ জটিলতায় প্যাঁচানো । আর এর মধ্যে আপনার মগজটি হলো সবচেয়ে জটিল এবং দুর্বোধ্য । অথচ আপনি জেনে অবাক হবেন, এই মগজটি খুবই শান্তিপূর্ণ আর সার্বক্ষনিক ব্যস্ত । আমাদের মতো আকামে ব্যস্ত থাকার তার কোনও সুযোগ নেই । এর সকল ক্রিয়াকান্ডই সুক্ষ ভাবে ব্যালান্সড । তারপরেও এখানে মাঝে মাঝে ঝড় উঠতে পারে । এই ঝড় হতে পারে বাইরের পরিবেশগত কারনে অথবা শরীরের ভেতরের রাজনৈতিক কারনে । এই ঝড় বা গন্ডগোল হলেই আমরা বলি- ভুতে আছর করেছে, জ্বীন-পরীতে পেয়েছে । শরীর বিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা নেই বলে এমন ভুতুড়ে কান্ডকারখানা কে অলৌকিক বলে বিশ্বাসও করে বসি ।
কিন্তু জেনে রাখুন, এই গন্ডগোলগুলি মোটেও ভুত, শয়তানের আছর অথবা অপদেবতাদের রোষ থেকে হয়না ।
এগুলো সবই আপনার মগজে ঘটতে থাকা জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়াকান্ডের উল্টোপাল্টা ফল । তাই আপনার মগজে কি ঘটছে আর কি করেই বা ঘটছে তা জেনে রাখা ভালো যাতে ভুত-শয়তান-জ্বীন-পরী আপনার ত্রি-সীমানায় ঘেসতে না পারে । আর ঘেসলেও যেনো বুঝতে পারেন , কি করতে হবে তখন।

তাহলে জম্পেশ করে বসুন, কেন ভুত-শয়তান-জ্বীন-পরী আপনাদের সবাইকেই তেতুল গাছের মগডালে ওঠায় না, গল্পে গল্পে তা শুনি…………..

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দূর্ভাগ্য হলো, এ পর্য্যন্ত মানুষের মস্তিষ্ক বা হিউম্যান ব্রেইন রয়ে গেল মানুষের কাছেই অচেনা আর অনেকটা অবহেলায় ।
ইতিহাসের সমস্ত কালটা জুড়েই এই মস্তিষ্ক মানুষের মানবতা এবং মানবিক গুনাবলী প্রকাশে সক্রিয় থেকেছে । আর এ কারনেই পাখা না থাকতেও মানুষ পাখীর মতো উড়ছে আকাশে, লেজ না থাকতেও মানুষ ডুব দিচ্ছে সাগরের গহীন তলে । মস্তিষ্কের কারনেই মানব ইতিহাসের দূর্যোগময় সময়গুলো কাটিয়ে মানুষ আশার আলো জ্বেলেছে । আর ধ্বংশকে রূপান্তর করেছে সৃষ্টিতে । শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে গেছে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা (Scientific Exploration) আর ধারনার (Speculation) গবেষনায় তার পরেও মানুষের মস্তিষ্ক রয়ে গেছে এখোনও মানুষের নিজের কাছেই রহস্যময় । এমনকি এটি ফিজিওলজী ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের কাছেও রয়ে গেছে প্রায় অচেনা । কারন কি ?
কারনটি তাহলে খুলেই বলি –
আমাদের মাথার খুপড়িতে (Skull) যে মগজটুকু (Brain) আছে তার ওজন মাত্র ৩ পাউন্ড । অল্প জায়গা জুড়ে থাকা এই ব্রেইনটিতে আছে ১৬ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ বা নিউরোন (Neuron)। কেবলমাত্র এই এতোগুলো কোষকে ( কোষ যে আপনার জীবনের একক তা নিশ্চয়ই আপনার জানা আছে । ) নিয়ন্ত্রন করা খুব সহজ একটা কাজ নয় । তার উপর রয়েছে নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia) বা সংক্ষেপে “গ্লিয়া” নামক আর এক ধরনের কোষ যারা সর্বক্ষন নিউরোনগুলোকে পরিচর্যা আর সংস্কার করে চলেছে । এদের সংখ্যা মাত্র ১৫০ বিলিয়ন । তার উপরে আছে এদের কানেকটিং ফাইবারগুলি (Connecting Fibres)। পুরো নার্ভাস সিষ্টেম বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মস্তিষ্কের গঠনটাই এমোন জটিল । আর এই জটিলতার কারনেই একে বুঝে ওঠা আসলেই কষ্টকর ।
কতোখানি কষ্টকর, তার একটা তুলনা করলে মন্দ হয়না । সারা পৃথিবীর সকল টেলিফোন সেটের কথাই ধরুন । পৃথিবীতে এখোন প্রায় সাড়ে সাত বিলিয়ন এর বেশী লোকের বাস । এই হিসেবে সারা বিশ্বের সকল টেলিফোন সেট, তাদের সংযোগ লাইন এবং সারাদিনে এর মধ্যে দিয়ে যে শত শত কোটি টেরাবাইট কথাবর্তা আদান প্রদান হচ্ছে তার বিশালতার কথা চিন্তা করুন, বুঝতে চেষ্টা করুন তার জটিলতা । আমরা যদি এই বিশালতা আর জটিলতাকে মাথায় রাখি তবে একজন মানুষের মস্তিষ্কের জটিলতার তুলনায় পার্থিব এই জটিলতা মোটেও তুলনার যোগ্য নয় । আপনার মগজের তুলনায় তা যেন সমুদ্র সৈকতের একটি বালুকনা মাত্র।

এই জটিলতার কথা জানার কি প্রয়োজন আপনার, এমোন প্রশ্ন উঠতেই পারে ।
এই যেমন আপনি, এই মূহুর্তে আমার এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন কিম্বা ভাবছেন “আজাইররা পোষ্ট” অথবা বিরক্ত বোধ করছেন এটা ভেবে যে কি কুক্ষনে আপনি এই ব্লগে ঢুকেছিলেন; ইত্যাকার যে প্রতিক্রিয়া আপনার ভেতরে ঘটে চলেছে তা আর কিছু নয়, আপনার মস্তিষ্কের জটিলতারই বা জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়াকান্ডেরই ফল ।
আপনার কি এটা জানতে ইচ্ছে করেনা, কেনই বা আপনি রেগে যাচ্ছেন, কেনই বা আপনার ভেতরে একটুখানি ভালোবাসা দানা বাঁধছে ধীরে ধীরে ? কেনই বা আপনার মনখানা হঠাৎ হঠাৎ উদাস হয়ে যাচ্ছে ? কেনই বা ভাল্লাগছেনা কিছুই ? কেনই বা আপনি এরকমটি না হয়ে ওরকম ?
এগুলো জানতে হলে আপনাকে মগজের ভেতরে একটু ডুব দিতেই হবে । কারন জটিল বলে একে এড়িয়ে গেলে, জ্বীন-পরী বা শয়তানের আছর হয়েছে এমোন আজগুবী ধারনা থেকে কখনও মুক্ত হতে পারবেন না । আবার সবকিছুকেই মনস্তাত্বিক ধাঁধা (Psychological Puzzle) বলে ধরে নেয়াও ঠিক হবেনা । তাহলে মস্তিষ্কের পাহাড়-উপত্যকার মনোরম পরিবেশে একটু ঘুরে এলে দোষ কি ? ঘুরে আসা না বলে, ডুব দিয়ে আসা বললেই বোধহয় বেশী যুক্তিযুক্ত হবে ।
কারন মগজে ডুব দিতে গেলেই প্রথমে যে বাঁধাটা আসবে তা হলো ২০টি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত মাথার খুলি বা Skull. এটি পেরিয়ে যখন আমরা মস্তিষ্কের উপরি ভাগে পৌছবো তখন সত্যিকার ভাবেই আমাদের লাগবে ডুবরীর পোষাক । কারন মস্তিষ্কের উপরিভাগে যে তিন স্তর বিশিষ্ট একটি আবরন Meninges রয়েছে তার মধ্যেই রয়েছে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িড (CSF) যা আপনার মগজে পুষ্টির যোগান দেয় আর বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে । এই ফ্লুয়িড বা তরলের ভেতর ডুব দিয়েই আপনি যেখানে পৌছে যাবেন সেটি হলো সেরিব্রাল হেমস্ফিয়ার (Cerebral Hemisphere)। এখানেই ভুত-প্রেত-পরীরা বাস করে । দেখতে পাবেন এটি বাম এবং ডান, দুটি ভাগে বিভক্ত । মজার ব্যাপার হলো, ডান হেমস্ফিয়ারটি আপনার শরীরের বামদিকের সকল কাজ আর বাম হেমস্ফিয়ারটি আপনার শরীরের ডানদিকের সকল কাজ নিয়ন্ত্রন করছে । এই যেমন আপনি এখন ডান হাতটি দিয়ে মাউসটিকে ঘোরাচ্ছেন, তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আপনার মগজের বাম সেরিব্রাল হেমস্ফিয়ারটি দিয়ে । এগুলো একটি ভৌতিক ছবিতে দেখা সাপের মতো আঁকাবাঁকা পাহাড়-উপত্যকায় ঘেরা এলাকা । এই পাহাড়ের মতো উঁচু উঁচু জায়গাগুলোকে বলা হয় Gyrus আর উপত্যকা বা নীচু জায়গাগুলোকে বলা হয় Sulcus ।


ছবি - ২ . আপনার মস্তিষ্ক দেখতে এমনই, ভৌতিক ছবিতে দেখা সাপের মতো আঁকাবাঁকা পাহাড়-উপত্যকায় ঘেরা একটি এলাকা যেন !

সব মিলিয়ে (সামনে-পেছনে-পাশে-উপরে) আপনার মগজটিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে Frontal, Occipital, Temporal এবং Parietal Lobe বা অঞ্চল, এই হিসেবে ।


ছবি - ৩. মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলো ।

এই এলাকাগুলিই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে আমাদের যাবতীয় কাজগুলি নিয়ন্ত্রন করে থাকে । যেমন Frontal Lobe আমাদের মাংশপেশীর কার্য্যক্রমকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে । Parietal Lobe আমাদের যাবতীয় অনুভুতিগুলোকে সংগ্রহ করে থাকে । দৃষ্টিকে শাসন করে থাকে Occipital Lobe আর Temporal Lobe আমাদের কথা বলাকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে । এছাড়াও আরো শতশত রহস্যজনক কাজকর্ম যেমন সচেতনতা,রাগ-অনুরাগ, আবেগ, অনুভুতি, সৃজনশীলতা, মোহ-মায়া ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রন করে থাকে এই এলাকাগুলিই ।
একটু পেছনে আর নীচে ডুব দিলেই আপনি গিয়ে পড়বেন সেরেব্লাম (Cerebellum) এলাকায় । এই এলাকাটি মস্তিষ্ক এমনকি আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষার কেন্দ্র । এই এলাকার নিয়ন্ত্রনের কারনেই আমরা সাধারনত “হেট-মুন্ড উর্দ্ধ-পদ” হয়ে থাকিনা । মাথা উঁচু করেই চলি । এখানেই আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়াকে পরিমার্জিত (Refined) ও সমন্বিত (Co-ordinated) করা হয় । যখন আপনার চলাচলে একটি কাব্যিক ভাব এসে যায় তখন আপনার ঐ নড়নচড়নের ছন্দময় কবিতাটি এই এলাকাতেই লেখা হয় । ভালো একটা উদাহরন হলো র‍্যাম্পে মডেলদের ক্যাট-ওয়াক । যার Cerebellum যতো ছন্দময়তা সৃষ্টি করতে পারে র‍্যাম্পে সে ততো দৃষ্টি নন্দন তার চলাফেরায় ।
আরো নীচে নামলে আপনি পৌছে যাবেন Lower brain stem এলাকায় । এন্টার্কটিকার মতো মস্তিষ্কের সর্ব দক্ষিন (নিম্ন) এলাকাই এটি । এখানে আছে আবার দুটো আলাদা ষ্ট্রাকচার, একটি Pons অন্যটি Medulla. এরাই সেরিব্রাল হেমস্ফিয়ার কে স্পাইনাল কর্ড (Spinal cord) বা মেরুরজ্জুর সাথে সংযুক্ত করেছে । আপনি যদি সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রকে (Nervous System) বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে তুলনা করেন তবে আপনার মস্তিষ্কটি হলো একটি বিদ্যুত কেন্দ্র । যেমন ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্র । আর স্পাইনাল কর্ড হলো সেই বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে যে মোটামোটা কেবল (Cable) মাটির নীচ দিয়ে প্রতিটি শহরে শহরে চলে গেছে সেরকম । এই স্নায়ু কেবলগুলো চলে গেছে আপনার হাড়-মাংশের উপর নীচ দিয়ে আপনার শরীরের বিভিন্ন শহর এলাকায় মানে অঙ্গ-প্রতঙ্গে । বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থায় যেমন সাব-ষ্টেশন, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি থাকে তেমনি স্নায়ুতন্ত্রেও এই রকম ব্যাপার স্যাপার আছে । এই ধারনাটুকু মাথায় থাকলে স্নায়ুতন্ত্রকে বুঝতে আপনার সুবিধে হবে ।


ছবি - ৪. আপনার মস্তিষ্কের এলাকা ও সেই এলাকার কাজগুলোর ধারনা পাবেন এখানে ।

আপনার স্পাইনাল কর্ডটি যেখানে মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত হয়েছে সে এলাকাটি হলো Medulla । এই এলাকাটি চীরজাগ্রত একটি দেশ । এখানে আপনি ঘুমপরীদের খুঁজে পাবেন না । কারন এই এলাকার জনগণ (মানে নিউরোন) ঘুমায় না কখোনও কারন এরাই আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কেন্দ্র যেমন হার্ট-রেট নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র (Heart rate control centre), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র (Centre for Breathing) কব্জা করে রেখেছে । তাই এদের ঘুমানোর কোনও সুযোগ নেই ।এরা যদি ঘুমিয়ে পড়ে, জানবেন আপনি দুরযাত্রার “ওয়ান-ওয়ে টিকিট” কেটে ফেলেছেন । এই Medullaই স্পাইনাল কর্ডে এসে শেষ হয় । আপনার স্পাইনাল কর্ডটিই মস্তিষ্কের প্রধান কমিয়্যুনিকেশন কেবল যা আপনার মেরুদন্ডের হাড়ের ভিতর দিয়ে নীচে নেমে গেছে ।


ছবি - ৫ মেরুদন্ডের হাড়ের ভিতর দিয়ে নীচে নেমে যাওয়া স্পাইনাল কর্ড বা মেরুরজ্জু।

এই কর্ডের মাধ্যমেই আপনার শরীরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মস্তিষ্কে চলে আসে যাবতীয় সংবাদ । সংবাদগুলো হতে পারে স্পর্শ, স্বাদ, ব্যথা, শীত কিম্বা গরমের অনুভুতি । নিউটনের তৃতীয় সূত্র – এ্যাকশান ইক্যুয়াল টু রিএ্যাকশানের মতো এই অনুভুতিগুলোর প্রতিক্রিয়াই আবার আপনার মস্তিষ্ক থেকে স্পাইনাল কর্ড বেয়ে প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌছে যাবে । সুতরাং স্পাইনাল কর্ডে দু’ধরনের তার (Cable) থাকতে হবে । আপনার গৃহকর্মে ব্যবহৃত প্রচলিত ইলেকট্রিক তারে যেমন দু’রঙের তার দেখতে পান তেমনটি । এর একটিকে আমরা বলি – Sensory fibre যা অনুভুতিগুলোকে মগজে নিয়ে আসে আর অন্যটি হলো Motor fibre যা মগজের নির্দেশকে পৌছে দেয় প্রান্তীয় অঞ্চল পর্য্যন্ত ।
এ পর্য্যন্ত আপনি মগজের ভৌগলিক (Geographical Areas) ও জনসংখ্যাগত (Neural Population) তথ্য সম্পর্কে জেনেছেন । এবারে আসুন এই Neural Population এর পলিটিক্যাল সিচ্যুয়েশানে । এতো শক্তিশালী হয়েও মগজের কিন্তু নিজস্ব কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural Resources) নেই । মগজের জন্যে জ্বালানী হিসেবে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টিকে ( প্রধানত গ্লুকোজ ) আনতে হয় বাইরে থেকে । তাই হার্ট, ফুসফুস, পাকস্থলীর উপর তাকে দখলীসত্ব কায়েম রাখতেই হয় । অর্থাৎ এ্গুলোর সাহায্য ছাড়া মগজ অচল । এই আভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে মগজকে তাই নিয়ন্ত্রন রাখতে হয় শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্যবস্তু হজম, রক্ত-সঞ্চালন ইত্যাদি জীব-দৈহিক কাজকর্মের উপরে । নিজের জন্যে আপনার মগজটি শরীরের রক্ত-সঞ্চালনের এক তৃতীয়াংশই বরাদ্দ দিয়ে রাখে, যদিও আপনার মগজটির ওজন আপনার শরীরের ওজনের ২% মাত্র । জাষ্ট লাইক আ ডিক্টেটর …..

ছবি - ৬. আপনার শরীরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ।

এইসব করতে গিয়ে আপনার মগজকে একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে যেতে হয় । তাই আপনার সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্রটি একটি কেন্দ্রীয় (Central) এবং একটি প্রান্তিক (Peripheral) স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গঠিত । একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে যদি একে তুলনা করা যায় তবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, যা Brain এবং Spinal cord নিয়ে গঠিত তা সংসদ, মন্ত্রী-পরিষদ, সচিবালয় ইত্যাদির মতোই উচ্চ প্রশাসনিক সংগঠন যারা কেন্দ্রীয় সরকারের মতোই কাজ করে থাকে । আপনার মগজটিকে যে Frontal, Occipital, Temporal এবং Parietal Lobe এই হিসেবে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে সেইসব এলাকাতেই আছে এক একটি মন্ত্রীর দফতর । আর মন্ত্রীর দফতরে যেমন আছে সেক্রেটারী, সেকশন অফিসার, অফিস কারনিক ইত্যাদিরা যারা একই দফতরের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত, তেমনি আপনার মগজের সেইসব এলাকাতেও আছে একই মন্ত্রনালয়ের আলাদা আলাদা কাজের জন্যে এক একটি করে টেবিল অর্থাৎ সক্রিয় এলাকা । যেমন এই লেখাটি পড়তে গিয়ে আপনাকে মাউসটিকে নাড়াতে হচ্ছে । খেয়াল করুন, আপনার হাতের কোন কোন আঙুল এই কাজে ব্যস্ত । জেনে রাখুন, আপনার প্রতিটি আঙুলের নড়াচড়া বা মুভমেন্টের জন্যে আলাদা আলাদা এলাকা বা “সেন্টার” রয়েছে । এখোন ধরা যাক, আপনার তর্জনীকে (ইনডেক্স ফিঙার) নাড়াতে পারছেন না । কি হয়েছে ? আপনার তর্জনীকে নাড়াতে যে সেন্টারটি দায়ী তাদের লোকজন (নিউরোনগুলি) হরতাল ডেকে বসেছে । অথবা সেখানে লোড-শেডিং হয়েছে যাতে কাজকর্ম সাময়িক ভাবে বন্ধ রয়েছে । আর যদি সেখানকার নিউরোনগুলিকে ক্রস-ফায়ারে ফেলে দেন (অর্থাৎ নিউরোনগুলি মরে যায়) তবে ইহজন্মে আপনি আর তর্জনী তুলে কাউকে শাসাতে পারবেন না । খুব সহজ ভাবে এটুকু মনে রাখুন । এবং ছবিতে দেখুন ।



হরতাল, লোড-শেডিং, ক্রস-ফায়ার ইত্যাদির পেছনে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু কারন আছে, তাইনা ? এইগুলি হলো প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম অর্থাৎ প্যাথোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার ।
তাহলে আসুন, মগজের লক্ষ লক্ষ কাজের পেছনে প্রচলিত নিয়মটি কি কিম্বা স্বাভাবিক কাজটি কি করে হচ্ছে জেনে নেয়া যাক –

আগেই জেনেছেন আপনার স্নায়ুতন্ত্রে Sensory fibre এবং Motor fibre নামের দুধরনের “তার” রয়েছে । এই তারগুলো আর কিছুই নয়, এক একটি নিউরোন বা স্নায়ুকোষ পরষ্পর জোড়া লেগে লেগে একটি তার/সুতো বা আঁশ (fibre) তৈরী করেছে । যেখানে একটি নিউরোন অপরটির সাথে সংযুক্ত হয়েছে সে স্থানটিকে বলা হয় “সিন্যাপস” (Synapse) বা নার্ভ জাংশান। নিউরোন বা স্নায়ুকোষ একটি আজব ধরনের কোষ । শরীরের অন্য সব কোষ থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা কিসিমের । কিম্ভুতকিমাকার । এদের রয়েছে শাখা প্রশাখা । দেখতে ঠিক যেন আঙুল সহ আপনার হাতটি । এই স্নায়ু কোষের প্রশাখাগুলো যা আপনার আঙুলের মতোই ছড়ানো তাকে বলা হয় “ডেনড্রাইট” (Dendrite)। এগুলো স্নায়ুকোষের সংকেত রিসিভার । হাতের তালুর মতো অংশটি হোল মূল ‘সেল বডি” । আর আপনার হাতটির মতো স্নায়ুকোষের অংশটুকু কে আমরা বলি “এ্যাক্সন” (Axon)। এই এ্যাক্সনটি হলো সেন্ডার যা পরবর্তী কোষে সংকেতটিকে প্রেরন করে থাকে । এই Axon গুলিই পরস্পর মিলেমিশে তৈরী করেছে সংকেত আদান প্রদানের Communication Systemটির যাকে আমরা মস্তিষ্কের White Matter বলি । আপনি অনেক সময় বুদ্ধিসুদ্ধিহীন কাউকে বলে থাকেন, “তোর মাথায় গোবর ভরা, মাল নাই ” । আসলে আপনি না জেনেই তার মগজে যে White Matter এর ঘাটতি আছে তাকেই বোঝান । প্রায় ৩০০ মিলিয়ন এ্যাক্সন মিলেমিশে কর্পাস ক্যালোসাম (Corpus callosum)নামের এই সাদা অঞ্চলটি গঠন করে মস্তিষ্কের ডান ও বাম অঞ্চল দুটোকে সংযুক্ত করেছে । গুচ্ছ গুচ্ছ White Matter মিলেমিশে আবার তৈরী করেছে এক একটি Nerve Tracts এর । এই Tractsগুলি আপনার মস্তিষ্কের সকল অঞ্চলগুলির পরস্পরের মধ্যে সংবাদ আদান প্রদানের একটি জটিল নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে যেমনটি আপনি দেখে থাকেন আমাদের প্রচলিত টেলিফোন সিস্টেমে ।

ছবি - ৯. নিউরোনের নেটওয়র্ক ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই নেটওয়ার্ক আপনার মস্তিষ্কে জন্ম থেকেই “ফিক্সড” নয় । আপনার প্রতিদিনকার নতুন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার আগে থেকেই থাকা নেটওয়ার্কে নতুন নতুন সংযোগ তৈরী হয়ে যাচ্ছে । ঠিক যেন নতুন নতুন সার্কিট ।
এই সংকেত আদতে একটি জৈব-রাসায়নিক সংকেত অর্থাৎ বায়োকেমিক্যাল মেসেজ ।

বিভিন্ন Synapse এলাকাতেই যে বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড ঘটে থাকে তা-ই আপনার জীবনের ছন্দ । এই বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ডের ফলাফলের নামই Life বা জীবন ।
কখোনও কখোনও এমোনটা হয়, আমরা জীবনের হিসাব মেলাতে বসি ।
অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে থাকেন “জীবনের খাতায় সব শূন্যই জমা হলো যোগ হয়নি কিছুই ” । আপনি যদি এরকমটা বলে থাকেন তবে আপনি Life বা জীবনের গূঢ় তত্ত্বটিই জেনে বা না বুঝেই বলে ফেলেছেন । কারন জীবনের সব বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড আর কিছুই নয়, যোগ-বিয়োগের খেলা । সাদামাটা কথায় আমরা যাকে বলি “প্লাস” আর “মাইনাস” । কিন্তু একজন বায়োকেমিষ্ট এগুলোকে বলবেন, “পজেটিভ আয়ন” আর “নেগেটিভ আয়ন” । আয়ন হলো বৈদ্যুতিক আবেশ যুক্ত একটি কনা । আপনি কেমেষ্ট্রির ছাত্র হলে বুঝেই ফেলেছেন এই “পজেটিভ আয়ন” আর “নেগেটিভ আয়ন” আর কিছুই নয়, আপনার দেহ কোষ গঠনের উপাদানগুলো যেমন সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ক্লোরিন, বাই-কার্বোনেট, পটাশিয়াম ইত্যাদি আয়ন । আপনার দেহকোষ তথা এই নিউরোনগুলির ভেতরে বাইরে এদেরই আদান প্রদান চলে । যোগ বিয়োগের খেলা ।
আপনি একটি ব্যাটারীতে দেখবেন একপ্রান্তে “+” অন্যপ্রান্তে “-” এইরকম চিহ্ন দেয়া আছে । আপনি এটা জানেন যে, এই ব্যাটারীর যোগ বিয়োগের কারনেই ব্যাটারী থেকে বিদ্যুত উৎপন্ন হয় আর গাড়ী চলে । আপনার জীবনটাও একটি গাড়ী বা যন্ত্র । একে চালাতে হয় । আর্ চালাতে গেলে ব্যাটারী ( শক্তি) লাগে । আপনার দৈনন্দিন জীবনটাও অর্থাৎ সমস্ত কর্মকান্ডই এই যোগ বিয়োগের কল্যানেই চলতে থাকে । এই প্রক্রিয়াটিই হলো মূল । জীববিজ্ঞানীরা বলেন “এ্যাকশান পটেনশিয়াল” ।
আপনার দেহের যে কোনও Synapse এলাকাতেই যে বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড ঘটে থাকে তার শুরুটাই “এ্যাকশান পটেনশিয়াল” দিয়ে । একটি লাইট জ্বালাতে গেলে যেমন আপনাকে সুইচ টিপতে হয় এই “এ্যাকশান পটেনশিয়াল” হলো তেমন একটি সুইচ । এই এ্যাকশান পটেনশিয়াল শুরু হলেই আপনার Synapse (দুটি নিউরোনের সংযোগ) এর প্রথম নিউরোনটির ডগা (নার্ভ এন্ডিং) থেকে একধরনের রাসায়নিক রস (Chemical substance) নিঃসৃত হবে । যাকে আমরা বলি “নিউরোট্রান্সমিটার” (Neurotransmitter)। প্রথম নিউরোনটির ডগা (নার্ভ এন্ডিং) থেকে যে নিউরোট্রান্সমিটারটি নিঃসৃত হবে সেটি Synapse গঠনকারী দ্বিতীয় নিউরোনে প্রবেশ করবে । এটি হলো একটি অনুভুতির বা Impulse এর যাত্রা শুরুর পদ্বতি যা একইভাবে তৃতীয় সেখান থেকে চতুর্থ এইভাবে একটি নার্ভ ফাইবারের পরবর্তী সবগুলি নিউরোন বেয়ে আপনার মস্তিষ্কের যেখানে যেখানে যাবার সেখানে হাজির হবে । আর আপনি একটি অনুভুতি পেয়ে যাবেন । আপনার শরীরে এই রকম অনেক নিউরোট্রান্সমিটার রয়েছে যাদের কাজ আবার ভিন্ন ভিন্ন । এক এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার আপনাকে এক এক ধরনের অনুভুতি বা Information দেবে আর তার বিপরীতে আপনার দেহযন্ত্র এক এক নির্দিষ্ট ধরনের সাড়া দেবে ।


ছবি - ১০. খালি চোখে দেখা যায়না এমন একটি সিন্যাপস এলাকায় জীবনের সব জটিল রসায়ন ঘটে চলেছে আপনার অজান্তেই !

মনে করা যাক, আপনি একটি বিছুটি পাতা ছুঁয়ে ফেলেছেন । আপনার স্পর্শ এলাকার নার্ভ এন্ডিং থেকে “হিস্টামিন” নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত বা Release হবে । এই নিঃসৃত নিউরোট্রান্সমিটারটি পরবর্তী নিউরোনের রেসেপ্টরের সাথে সংযুক্ত হবে । অর্থাৎ সংকেতটি বা Information টি গ্রহন করা হলো এবং তা এভাবেই আপনার মস্তিষ্কে পৌছে যাবে আর এই “হিস্টামিন” নিঃসরনের ফলে আপনি চুলকানীর অনুভুতি পাবেন । তখন আপনার বিছুটি পাতা ছোঁয়ার স্থানে আপনি চুলকোতে থাকবেন । আপনার শরীরে যদি হিষ্টামিনের ঘাটতি হয় তবে আপনার চুলকানী খুব কম হবে বা একবারেই হবেনা । এন্টি-হিস্টামিন জাতীয় ঔষধ খেয়ে আপনি এই কাজটিই করে থাকেন । আবার ধরুন, আপনার আঙুল আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে স্পর্শ করেছে । এবারে কিন্তু হিস্টামিন নয়, আপনার নার্ভ এন্ডিং থেকে বেরুবে “এ্যাড্রেনালিন”। আপনার শরীরে এই স্পর্শের কারনে যা যা ঘটবে তা এই “এ্যাড্রেনালিন” এর কাজ । আপনার হার্ট রেট বেড়ে যাবে, শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি । স্পোর্টসম্যানরা অনেক স্পোর্টস মেডিসিনের ভেতরে এই “এ্যাড্রেনালিন” ও নিয়ে থাকেন “ডোপ’ (Dope) হিসেবে যাতে তাদের রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তির যোগান দেয় ।
এখন কথা হলো আপনার শরীর বুঝবে কি করে এটা বিছুটি পাতা নাকি প্রিয়ার ঠোট !
এর জন্যে আপনার শরীরের সর্বত্র আছে বিভিন্ন রকমের রেসেপ্টর । যাদের কাজ হলো পরিবেশ থেকে অনুভূতি গ্রহন করা । এরকমের রেসেপ্টরগুলো হলো - মেকানোরেসেপ্টরস (Mechanoreceptors ) যাদের কাজ হলো স্পর্শ, চাপ, কম্পন ইত্যাদি যান্ত্রিক অনুভূতিতে সাড়া দেয়া ।
নসিসেপ্টরস (Nociceptors) গুলো আবার সাড়া দেয় গরম, ঠান্ডা, টিস্যু ড্যামেজ ইত্যাদি অনুভূতিগুলিতে ।
ফটোরেসেপ্টরসগুলো (Photoreceptors) আলোর ঝিলিকে নড়েচড়ে বসে । আপনার চোখের এই রেসেপ্টরগুলোর কারনেই আপনি আলোতে প্রতিক্রিয়া দেখান , বিশ্ব-জগতকে দেখতে পান ।
থার্মোরেসেপ্টরস (Thermoreceptors) আপনার শরীরের আভ্যন্তরীন ও পরিপার্শ্বের তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে ।
আর পঞ্চ ইন্দ্রিয় তো আছেই যাদের ভেতরে ঠাসা আছে এরকমের ভিন্ন ভিন্ন রেসেপ্টর ।
আসলে পরিবেশ থেকে অনুভূতি গ্রহন আর তার সাপেক্ষে আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন ব্যাপারটির ব্যাখ্যা অনেক অনেক জটিল । “বিছুটি পাতা নাকি প্রিয়ার ঠোট” , এর ব্যাখ্যাটি খুব সহজ করে দিই -আপনার মেকানোরেসেপ্টরস আর ফটোরেসেপ্টরসগুলোর মিলিত কাজের ফল এগুলো । আপনার মগজ এদের পাঠানো তথ্য ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে তবেই আপনার অঙ্গ-প্রতঙ্গে প্রতিক্রিয়া জাগিয়ে তুলবে নিউরোট্রান্সমিটারের মাধ্যমে।

আর এভাবেই আপনার শরীর বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটারের কারনে বিভিন্ন অনুভুতি লাভ করবে আর সাড়া দেবে । অর্থাৎ আপনার রাগ-অনুরাগ, মায়া-মমতা, ঘৃনা-ভালোবাসা, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ইত্যাদি কেবল এই নিউরোট্রান্সমিটারগুলির খেলা । অর্থাৎ নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে যদি আপনি স্নায়ুর শব্দ (Neural Words) হিসেবে ধরে নেন তবে নিউরোনগুলি বিভিন্ন ভাষাতে কথা বলে ।
বেঁচে থেকে ঠিকঠাক কাজ করতে হলে আপনার মস্তিষ্ককে অবশ্যই এই রকম জটিল একটি মিডিয়া-নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে করে যে কোনও অনুভুতি যেমন তাপ, চাপ, স্পর্শ, ব্যথা ইত্যাদির জন্যে আপনি সঠিক রেসপন্স করতে পারেন । এই নেটওয়ার্কের তারগুলি স্পাইনাল কর্ড থেকে ব্রেইন এবং ব্রেইন থেকে স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে সংযোগ দিয়ে থাকে । আর মস্তিষ্কে এভাবেই Information এর পাহাড় জমা হতে থাকে । মজার ব্যাপার হলো, আপনার মস্তিষ্ক এইসব ইনফর্মেশানের অধিকাংশরই সরাসরি কোনও জবাব দেবার বা রেসপন্স করার প্রয়োজন বোধ করেনা । আপনার মাথা পরিবেশ থেকে পাওয়া সব ধরনের সংবেদনশীলতার ( ইম্পালস ) ৯৫% কে নিয়ে মাথা ঘামায় না । সব কিছু নিয়ে মাথা ঘামালে তার চলেও না । কারন, আপনার মাথা হলো শরীর রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার । যেমন , জব্বারের গরু যদি আব্দুলের গাছ খেয়ে ফেলে তবে এর বিচার আচারের জন্যে কি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবার দরকার আছে ? নেই । এই বিচার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যই করে দিতে পারেন । আমাদের শরীরও ৯৫ ভাগ সংবেদন নিয়ে তেমনটা করে থাকে অর্থাৎ লোয়ার কোর্টের কাজটি করে থাকে। মস্তিষ্ক কেবল মাত্র সুপ্রিম কোর্টের কাজটি করবে যেখানে চুলচেরা বিশ্লেষনের প্রয়োজন হয় ।
উদাহরণ --- আপনি একটি জুতো পায়ে দিয়েছেন যা আপনাকে আরাম দিচ্ছে । এইরকম একটি Sensory Input এর জন্যে আপনার মগজটি মোটেও মাথা ঘামাবেনা । এটাকে সম্পূর্ণ ইগনোর করবে । আবার যদি দেখা যায় একটি পেরেক জুতোর নীচে ঢুকে আপনাকে ব্যথা দিচ্ছে তখনও কিন্তু আপনার মগজটি মাথা ঘামাবে না । এসব ব্যাপারে যা যা করার তা স্থানীয় সরকার অর্থাৎ স্পাইনাল কর্ডের নির্দেশে হবে । এর ফলে আপনি হয় জুতোটিকে খুলে ফেলার জন্যে যা যা করার তাই করবেন অথবা “ ওমমমমা...” বলে চেচিয়ে উঠবেন ।
এখন যদি এই ঘটনাটি রোকেয়া হলের সামনে ঘটে আর আপনার আশেপাশে মেয়েরা থাকে তবে আপনাকে অনেক কিছু ভাবতে হবে , অর্থাৎ চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে । এই সময়ই আপনার মগজটি মাথা ঘামাতে শুরু করবে । পরিবেশ , পরিস্থিতি বুঝে সে আপনাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশটি দেবে -“ওই ব্যাটা ওমমমমা করে চিল্লিয়ে উঠিস না । দাঁতমুখ খিচে ব্যথাটা হজম করে যা !” এই রকম কিছু একটা আর কি !
এই Sensory Input এর জন্যে আপনার মগজটি Motor Output অর্থাৎ কার্যকরী নির্দেশ প্রদান করবে যথাযথ অঙ্গপ্রতঙ্গকে । স্পাইনাল কর্ড এর মধ্যে দিয়ে প্রান্তীয় এলাকা পর্য্যন্ত বিস্তৃত এই যে Sensory আর Motor Fibre এর নেটওয়ার্ক তাকে আমরা বলি Spinal Nerves । আপনার শরীরে এইরকম ৩১ জোড়া Spinal Nerves আছে । এরাই হলো আপনার শরীর-রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থানীয় সরকার বা Local Government বা প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্র ।

সেন্সরি ফাইবার তো আপনার মগজে তথ্য (Information) পাঠিয়েই ক্ষান্ত । সংবাদ মিডিয়ার মতো কাজ করছে এরা । কিন্তু Intelligence Report পাঠানো তো তাদের কাজ নয় । তাই মানুষের তৈরী সরকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের জন্যে তার নিজস্ব বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বা অন্যান্য সংস্থার কাছে একটি ঘটনার পেছনের Intelligence Information চেয়ে থাকে তেমনি আপনার মগজেরও রয়েছে Intelligence Services যারা আপনার মগজকে তথ্যসমূহের ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকে । এরা হলো “ক্রানিয়াল নার্ভস” (Cranial Nerves)যারা আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অধীন । আপনার রয়েছে এরকম ১২ জোড়া Cranial Nerves যাদের কাজ হলো বিশেষ সংবাদ প্রদান । যেমন, Optic Nerve টি আপনার দৃষ্টিকে ধারন করবে; Olfectory Nerve কোনও কিছুর গন্ধকে ধারন করবে আবার Cochlear Nerve আপনার শ্রুত শব্দাবলীকে ধরে রাখবে । এদের পাঠানো তথ্যের বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করেই আপনার শরীর পরবর্তী পদক্ষেপটি নেবে ।
মনে করা যাক, একটি খাদ্যবস্তু হাতে নিলেন, আপনার চোখ বললো এটি তেতুল । এই তথ্যটি চলে গেল আপনার লালা গ্রন্থিতে । অমনি আপনার মুখে লালা ঝড়তে লাগলো । গন্ধ নিয়ে দেখলেন গন্ধটা কেমন কেমন । এই তথ্যটিও চলে গেল আপনার মগজ হয়ে লালা গ্রন্থিতে । আপনার লালা ঝড়া বন্ধ হয়েও যেতে পারে । এই সময় আপনার বন্ধুটি বললো , এটা মুখে দিস না- কারন এটা অনেক পুরোনো , নষ্ট হয়ে গেছে । আপনি তা শুনলেন । এখন কি করবেন ? আপনি এখোন যা করবেন তা কিন্তু করবেন প্রাপ্ত সব তথ্যের বিচার বিশ্লেষন করেই । অর্থাৎ আপনার কেন্দ্রীয় এবং প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্র এখানে এক যোগে কাজ করে যে সিদ্ধান্তে আসবে আপনার এ্যাকশানটি হবে তা-ই ।
ব্যক্তি আপনি এখানে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের ক্রীড়ানক । আপনার স্নায়ুতন্ত্র ব্যক্তি-আপনাকে দিয়ে শুধু কাজগুলো করিয়ে নেবে ।

ছবি - ১১. ব্যক্তি আপনি শুধু আপনার স্নায়ুতন্ত্রের ক্রীড়ানক ।

এবারে আসুন আমরা জীবনের চমকপ্রদ অংশে প্রবেশ করি । আবেগপ্রবনতা আর অনুভুতি ছাড়া জীবনের কোনও রং নেই, এটা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু জানিনা যে এগুলো হলো কতকগুলি জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল । এগুলো হলো আপনার মগজের প্যাসনেট সার্কিট (Passionate Circuits) এর কাজ । এই সার্কিটের প্রধান অংশই হলো লিম্বিক সিস্টেম (Limbic System) যার কিছু অংশ Corpus callosum, Frontal এবং Temporal Lobe এ অবস্থান করে এবং অংশ বিশেষ Hypothalamus নামক এলাকায় প্রবেশ করে । এই সিষ্টেমের মধ্যে আরো আছে Cerebral Cortex এর অংশ বিশেষ এবং Amygdala নামের এলাকাগুলি । আপনার মগজের এই লিম্বিক সিষ্টেমের বিভিন্ন অংশকে উত্তেজিত করা গেলে আপনি ভয়ঙ্কর রেগে যেতে পারেন, ভয় পেতে পারেন, আক্রমনাত্মক আচরন করতে পারেন এবং যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত অনুভুতিগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারেন । আপনার এই মানসিক পরিবর্তনগুলো লিম্বিক সিষ্টেমের নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে মগজের হাইপোথ্যালামাসে পৌছুবে । আর এখান থেকেই আপনার শরীরের মহামূল্যবান ও অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যে সিগনাল যাবে তাতে ঐ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নাটকীয় ঘটনাবলী ঘটতে থাকবে । মনে রাখতে হবে মানুষ এ পর্য্যন্ত এই কৌতুহলোদ্দীপক লিম্বিক সিষ্টেমের কনামাত্র জানতে পেরেছে । যেমন আপনি “স্বপ্ন” কেন দেখেন তার রহস্য এখনও মানুষ ভেদ করতে পারেনি । গবেষনা চলছে । চলবে !

ছবি - ১২. আপনি মানুষটি কেমন তা নির্ভর করবে এই লিম্বিক সিস্টেমের ( রঙিন অংশ ) আচরনের উপর ।

এই লিম্বিক সিষ্টেমের মধ্যেই আছে আপনার শিক্ষার এলাকা । Hippocampus হলো আপনার শিক্ষামন্ত্রনালয় । মগজের এই এলাকাটি আপনাকে শিখতে সাহায্য করবে । যেমন আপনি এই লেখাটি থেকে যদি কিছু শিখতে চান তবে এই এলাকাটিই আপনার মগজকে সাহায্য করবে কতোটুকু তথ্য আপনি আপনার মগজে জমা রাখবেন “মেমরী” হিসাবে তা ঠিক করতে । অর্থাৎ Hippocampus এলাকাটি যার যতো বেশী সক্রিয় তিনি ততো বেশী মেমরীতে রাখতে ও বেশী শিখতে পারবেন । এই লেখাটি পড়তে পড়তে আপনি এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আপনার Hippocampus কতোটুকু সক্রিয় ?
আপনার Amygdala এলাকাটি আপনার মগজের Cortical Area থেকে পাঠানো শ্রবন ও দৃষ্টির বিশদ তথ্য গ্রহন করবে আর তা থেকে আপনার রাগ-ক্রোধ বা ভীতি জন্ম নেবে । এবং এই এলাকাটিই আপনার মগজকে সাহায্য করবে ঐ পরিস্থিতিতে আপনার ব্যবহার ঠিক কি ধরনের হওয়া উচিৎ তা নির্ণয় করতে । অর্থাৎ আপনি যদি আপনার প্রেমিকাকে আসতে দেখেন তখন আপনার এই Amygdala এলাকাটিই আপনাকে পরিস্থিতি বুঝে নির্দেশ দেবে আপনি পালিয়ে যাবেন (যদি পকেটে পয়সা না থাকে ) নাকি তাকে নিয়ে চাইনিজ খেতে (যদি পকেট ভারী থাকে) যাবেন ।
আপনার মগজে যে উঁচু উঁচু পাহাড় আছে তাদের একটির নাম Cingulate gyrus (সিঙ্গুলেট জাইরাস /গাইরাস)যা তার অবস্থানগত কারনেই গুরুত্বপূর্ণ । এই অংশটি আপনার মগজের মূল অংশের (Cerebral Cortex) Sensory এবং Motor এলাকার সাথে লিম্বিক সিষ্টেমের যোগাযোগ ঘটিয়ে থাকে । এবং সম্ভবত এটিই মগজের উচ্চ Neural regions বা বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ স্নায়ুকোষ এলাকা ও মগজের সবচেয়ে মৌলিক অংশ আবেগ এলাকার (Passionate core) মধ্যে দালালীর (mediator) ভুমিকায় নেমে পড়ে । এই Cingulate gyrus এর কর্মক্ষমতার কারনেই কেউ আপনাকে আবেগপ্রবন, আবার এর কারনেই কেউ আপনাকে আবেগহীন বলে ভাবতে পারেন । এখানেই - "সখি ভালোবাসা কারে কয়" গল্পটি লেখা হয় ।

আর শেষমেশ আপনার Hypothalamus । মস্তিষ্কের এই এলাকাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । আপনার সকল কাজের নিয়ন্ত্রন করবে এই এলাকাটিই, ঠিক প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের মতো । এই Hypothalamus নামের অংশটি লিম্বিক সিষ্টেমের সকল অংশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পেয়ে থাকে আর সেই তথ্যের বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করেই আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিশেষ করে ভাইটাল অর্গান সমুহকে যথাযথ কাজের নির্দেশ প্রদান করে । আপনার শরীরের অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন “হরমোন”ও এই এলাকা থেকেই নির্গত হয় । যেমন আগের উদাহরনটিতে আপনার প্রেমিকার কথা বলা হয়েছে তাকে দেখলেই আপনার Hypothalamus আপনার হার্টকে বলবে বেশী করে লাফাতে ।এই নির্দেশগুলো বা সংকেত যাবে নিউরোট্রান্সমিটার আর হরমোনের বেশ ধরে , ইলেক্ট্রিক্যাল এবং কেমিক্যাল সংকেত হিসেবে । খেয়াল করে দেখুন, প্রেমিক বা প্রেমিকাকে দেখতে পেলে কার না বুক লাফাতে থাকে ? এসবই কিন্তু জ্বীন-পরীতে পাওয়া নয়, আপনার নার্ভ এন্ডিং থেকে বিশেষ বিশেষ নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরনজনিত ইলেক্ট্রিক্যাল ও তার কারনে হরমোন গ্রন্থি ( এন্ডোক্রাইন গ্লান্ড ) থেকে নিঃসৃত হরমোনের বায়োকেমিক্যাল রি-এ্যাকশান যা আগেই আপনি জেনেছেন ।
আসলে আপনার মগজটি একটি জটিল অধ্যায় আর এতে যে নিউরোন জগৎ রয়েছে তা খুবই শান্তিপূর্ণ এবং সার্বক্ষনিক ব্যস্ত । আর এগুলো খুব সুক্ষভাবে ব্যালান্সড । তারপরেও এখানে মাঝে মাঝে ঝড় উঠতে পারে । এই ঝড় হতে পারে বাইরের পরিবেশগত কারনে অথবা ভিতরের রাজনৈতিক কোন্দলের কারনে । আর এই কারনেই সাইকিয়াট্রিক সমস্যাগুলোর জন্ম । এই সমস্যাগুলো ঘটে থাকে মূলত নিউরোনগুলির কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডগোলের কারনে । সার্কিটের গন্ডোগোল আপনার আচার আচরনে অস্বাভাবিকতা এনে দেবে যার কারনে লোকে বলবে আপনাকে শয়তানে আছর করেছে, জ্বীনে-ভুতে ধরেছে । আপনি তো জানলেন , এ অস্বাভাবিকতা মোটেও ভুতের ভয়, শয়তানের আছর অথবা অপদেবতাদের রোষের ফল নয় । সবই আপনার মগজের এবং স্নায়ুতন্ত্রের জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া । বিজ্ঞান এগুলোকে জানছে প্রতিদিন একটু একটু করে ।

এই সাইকোলজিক্যাল সমস্যা, নিওরোসিস বা সাইকিয়াট্রিক অসুস্থতা যাই বলুন না কেন এগুলো আর দশটা রোগ যেমন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এর মতোই একটি শারীরিক রোগ । আপনার আমার মতো ৪৮ শতাংশ লোকদের ভিতরেই জীবনে তা একবার না একবার জন্ম হতে পারে আর তা দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ফর্মে । কিন্তু মানসিক রোগের এই লক্ষনগুলি যতোই বিরক্তিকর আর অস্বস্তির হোক না কেন তারা আসলেই কোনও না কোনও ভাবে আপনার চিন্তা অথবা কাজের গন্ডোগোলের ফল । আর যেহেতু আপনার সব কাজের পেছনেই রয়েছে নিউরোন, তাই মানসিক অসুস্থতা মানেই নিউরোনের অসুস্থতা (Neuropsychiatric illness)।
এই অসুস্থতার আসল কারন এখনও অজানা । যে ডিজিজ প্রসেস এদের পেছনে কাজ করছে তা এতোই সুক্ষ যে আপনি যদি একটি শক্তিশালী অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে তাকে দেখতেও চান, খুঁজে পাবেন না । তবে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করছেন যে, মানসিক এই রোগগুলি আপনার মগজের বিশেষ বিশেষ অংশে নিউরোট্রান্সমিটারগুলির পরিবর্তিত কর্মের (Altered Activity) ফল । সোজা কথায় - আকামের ফল ।
মানসিক অসুস্থতার, অস্বাভাবিক চিন্তার অথবা উল্টোপাল্টা কাজের লক্ষনগুলি আর কিছুই নয় আপনার মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির অস্বাভাবিক বা পরিবর্তিত কার্য্যকলাপ। তাহলে আপনাদের জানা উচিৎ মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির কার কি আসল কাজ । সবগুলি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ এখানে নেই তাই বেছে বেছে প্রধান কয়েকটি নিয়ে আমি আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই ।

প্রথমেই Serotonin (সেরোটোনিন)এর কথা দিয়ে শুরু করি । এটা হলো আপনার সুখের চাবি । এটা আপনাকে সবকিছু পজিটিভলি নিতে শেখাবে ।


ছবি - ১৩ সুখের চাবি দিয়ে সুখরাজ্যের তালা খোলা ...................

আপনার শরীরে ৫ থেকে ১০ মিলিগ্রাম Serotonin আছে যার ৯০% ই থাকে আপনার অন্ত্রে আর বাকী অংশ থাকে অনুচক্রিকা আর মগজে । এটি আপনার শিক্ষা (Learning), আপনার ঘুম (Sleep) এবং মানসিক ভাব (Mood)এর নিয়ন্ত্রক । আপনার মগজে বা শরীরে এর ঘাটতির বা উল্টোপাল্টা কাজের কারনে আপনাকে বিষন্নতা রোগে (Depression) পেয়ে বসবে । এমোনকি আপনি কখনও খানিক উত্তেজিত আবার পরক্ষনেই ম্রিয়মান হয়ে পরবেন । ঘন ঘন কোনও একটা কিছু করার বাতিক চেপে বসবে । আপনার এমোনটি হলে , আপনাকে ভুতে বা পরীতে পেয়েছে এটা ভেবে বসলে দোষ কার ? আবার এই Serotonin ঠিকঠাক থাকলেও, হতে পারে এটি সিন্যাপসে (Synapse)বেশীক্ষন স্থায়ী হচ্ছেনা । অর্থাৎ তার কাজের স্যিগনাল মগজে পাঠাতে পারছেনা ঠিকমতো সঠিক সময় ধরে। কি হবে ? আপনার বিনিদ্র রাত কাটবে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে অথবা ঘুম আসছেনা বলে রাত দু’টোর সময়ে উঠে ঘরে পায়চারী শুরু করে দেবেন । আপনার মেজাজ-মর্জির কোনও ঠিক-ঠিকানা থাকবেনা । শেখার আগ্রহ কমে যাবে । কেউ বোঝাতে আসলেও আপনি বুঝতে চাইবেন না । এখোন লোকে যদি ভেবে বসে, আপনাকে শয়তানে আছর করেছে তবে তাদের খুব একটা দোষ দেয়া যাবে কি ?

এবারে Dopamine (ডোপামিন) এর কথা । মগজের একটি প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার যা আপনাকে জীবনের সকল লক্ষ্যে পৌঁছুতে সাহায্য করবে ।


ছবি - ১৪ দু'য়ে দু'য়ে চার মিলে যায় এর কারনে ....

আপনার মগজের Frontal Lobe এলাকায় Dopamine এর উপস্থিতি অন্যএলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহকে নিয়ন্ত্রন করবে । যার ফলে আপনার স্মৃতি, একাগ্রতা, সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা জাতীয় বুদ্ধিদীপ্ত কাজগুলি নিয়ন্ত্রিত হবে । আর যদি Dopamine এর ঘাটতি কিম্বা এদের কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডোগোল হয় তবে কি হবে ? আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হবে, একাগ্রতা হারিয়ে যাবে, বুদ্ধি যাবে ঘোলাটে হয়ে । সহজ অংক, দু’য়ে দু’য়ে যে চার হয় তাও আপনি সহজে বুঝে উঠতে পারবেন না । শিলা বৃষ্টিকে আপনার মনে হবে , ঢিল ছুঁড়ছে ভুতে ।
আপনার মগজের “Pleasure System” বা আনন্দ উৎপাদনকারী এলাকা সমূহ যা আপনাকে কোনও কিছুর আনন্দ উপভোগ করতে অনুভুতির যোগান দিচ্ছে, অথবা আপনাকে কোনও কিছু করার অনুপ্রেরনা যোগাচ্ছে তার পেছনেও রয়েছে এই Dopamine এর ভূমিকা । তাই Dopamine System এর ছন্দপতন হলে আপনার ফিলিংসগুলোর ও ছন্দপতন ঘটবে । আপনার ভেতর Psychosis বা মনোরোগ অথবা Schizophrenia বা আতঙ্করোগ জন্ম নেবে । আর এ জাতীয় রোগ হলে আপনাকে যে জ্বীন-ভুতে ধরেনি একথা কি সাধারন মানুষকে বোঝাতে পারবেন ? এটি আবার মগজের বিশেষ একটি এলাকায় (Basal Ganglia) কাজ করে আপনার নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিয়ন্ত্রন করে । হয় Dopamine বা Dopamine Neurones এর স্বল্পতা আপনার নিয়ন্ত্রিত এবং সাবলীল চলাফেরাকে বিঘ্নিত করবে । হাত-পা কাঁপতে পারে এবং শেষমেষ আপনাকে Parkinson’s disease এ পেয়ে বসতে পারে । এর লক্ষন হলো থেকে থেকে শরীর ঝাঁকুনী দিয়ে ওঠা । লোকে ভাববে আপনার শরীরে অপদেবতাদের ভর হয়েছে ।

গামা এ্যামিনো বিউটারিক এসিড বা গাবা (GABA ) হলো প্রকৃতির ঘুম পাড়ানীয়া গান । কিছু কিছু সময় এমন হয় আপনাকে মানসিক ভাবে খানিকটা বিশ্রাম নিতেই হয় । প্রকৃতিই এটা ঠিক করে দেয় । ২৪ ঘন্টাই আপনি শুধু টেনশান আর টেনশানের ভেতর দিয়ে যেতে পারেন না কিছুতেই। গাবার ঘাটতি আপনার এই টেনশান সুইচটিকে “অন” করে রাখবে সারাক্ষন। কিছুতেই আপনি শান্ত হয়ে দু’দন্ড বসে থাকতে পারবেন না । যখন তখন উত্তেজিত হয়ে থাকবেন । আতঙ্ক পেয়ে বসবে । হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসতে চাইবে, বুকের ধরফড়ানি বেড়ে যাবে । আপনাকে অস্বাভাবিক লাগবে । ভুতে ধরেছে ?

এবারে Epinephrin বা Norepinephrin এর কথা । আমেরিকার বাইরে এদের যথাক্রমে Adrenaline এবং Noradrenaline নামে ডাকা হয় । আপনার শরীরের জরুরী অবস্থায় যেমন শীতে, অবসাদে, শক (Shock) এ এরাই আপনাকে সামাল দেয় ।
Noradrenaline আপনার মগজের সেই অংশকে নিয়ন্ত্রন করে যেখান থেকে আবেগময়তা (Impulsivity)সৃষ্টি হয় । তরুন পাঠক এদের উপস্থিতি হাড়েহাড়ে টের পান যদিও জানেননা না আসল কেমিষ্ট্রি কি ঘটছে তার শরীরে । তার প্রিয়লোকটির সান্নিধ্যে তার শারীরবৃত্তীয় যে অনুরণন উনি টের পান বা যে ঝংকার ওঠে তার শরীরে তা আর কিছু নয় এই Adrenaline এবং Noradrenaline এর দোলাচল । আপনি মানুন আর না-ই মানুন, আপনি স্বাভাবিক মানুষ হলে এই কেমেষ্ট্রির হাত থেকে আপনার রেহাই নেই । আপনার শরীরের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে " আই লভ য়্যু" সঙ্গীত বাজবে ।
আর এদের ঘাটতি বা কাজের অসংলগ্নতা (Imbalance) আপনার ভেতরে জন্ম দেবে কোনও কিছুতেই মনোসংযোগ করতে না পারার , অপরাধবোধের, নিজেকে অপদার্থ ভাবার, অবসাদের, অস্থিরতার, উৎসাহ হারিয়ে ফেলার, মৃত্যুভয়ের এমোনকি আত্মহত্যার চিন্তারও ।

তবে হ্যাঁ, আপনি এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন । আর এখানেই রয়েছে আপনার “কারিশমা” ।
আপনি কি জানেন, আপনার শরীর প্রকারান্তরে একটি “বায়োলজিক্যাল ওয়াচ” বা “Circadian watch” এটাকে আপনি যে ভাবে টিউন করবেন বা এ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন আপনার শরীর স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঠিক সেভাবেই কাজ করে যাবে । আপনার নিত্য নৈমত্তিক কাজগুলো আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরেই করে থাকেন । যেমন খাওয়া , ঘুম ইত্যাদি । এতে আপনার মগজেও ঐ সব কাজের ধরন আর সময়ের একটি প্যাটার্ণ তৈরী হয়ে গেছে । আপনি চান বা না চান আপনার মগজ ঠিক ঠিক সময়ে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নির্দেশ পাঠিয়ে দেবে কাজটি করার জন্যে । এই কারনেই সকালে ব্রেকফাষ্টের সময়েই ( মনে করা যাক সকাল ৭ টা ) আপনার ক্ষুধা লাগে । তখন খাবার আসুক আর না-ই আসুক মগজের নির্দেশ মতো আপনার মুখ থেকে লালা নিসৃত হবে , পাকান্ত্র সংকোচন প্রসারন শুরু করে দেবে , পাকস্থলীতে এসিড ও অন্যান্য জারক রস নিসৃত হতে থাকবে । এটাকেই ক্ষুধা বা হাঙার পেইন বলে থাকি আমরা । খাবার গ্রহন এবং হজমের কাজটি সেরে নিদৃষ্ট সময় পরে (ধরুন এই সময়টা ১ থেকে ১.৫ ঘন্টা ) আপনার শরীরের সব নিউরোট্রান্সমিটার , হরমোন পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যাবে কারন তাদের ওয়ার্কিঙ আওয়ার বা ডিউটি শেষ । আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন , সকাল ৭টায় আপনি ব্রেকফাষ্ট না করলেও ৮ টার দিকেই আপনার ক্ষিধে মরে যাবে । কারন ৮টার পরে খাবার হজম করার লোকজন ডিউটি শেষে ঘুমাতে গেছে । এতে আপনার লালা নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যাবে , পাকান্ত্র সংকোচন প্রসারন বন্ধ হবে , পাকস্থলীতে এসিড ও অন্যান্য জারক রস নিঃসরণ হবে না । এই জন্যেই আপনি আর ক্ষুধা অনুভব করবেন না ।


ছবি - ১৫ মাথায় ঢুকছে যতো নির্দেশ .....

এই যে রোজা গেল, আপনার খাদ্যাভাসের সময় উল্টেপাল্টে গেছে প্রথম ক’দিন । প্রথম প্রথম ক্ষুধার কষ্ট হয়েছে, পরে আর কষ্ট হয়নি । অর্থাৎ আপনার শরীরের নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে তথা আপনার মগজকে আপনি নির্দেশ দিয়েছেন (আপনার অজান্তেই ) সকালবেলা নো ব্রেকফাষ্ট, দুপুরে নো লাঞ্চ, সন্ধ্যায় ইফতার খাওয়া মানে ব্রেকফাষ্ট । আবার রাত তিনটেয় সেহরী অর্থাৎ ডিনার । অর্থাৎ আপনি আগের দৈনন্দিনের খাওয়ার রুটিন পাল্টে দিয়েছেন । প্রথম দুয়েক দিন আপনার মগজ বুঝে উঠতে পারবেনা ঠিক কখন কাজটি করতে হবে তাই প্রথম দুয়েক দিন আপনার সকালে বেলাতেই ক্ষুধা লাগবে । অবশ্য আপনার শরীর ক’দিন পরে এই নতুন সিডিউলেই অভ্যস্ত হয়ে পড়বে । য়্যু হ্যাভ রি-টিউনড ইয়োর বডি টাইমিং সিষ্টেম । খেয়াল করেছেন হয়তো, ঈদের দিন সকালে আপনার ক্ষিধে লাগেনি । আপনার শরীর রোজার মাসটিতে জেনেছে সকালে তার “Hunger Center”কে কাজ করতে হবেনা । তাই ঈদের দিন সকালে আপনার ক্ষিধে পায়নি । ঠিক ইফতারের সময়টাতেই ক্ষিধে পেয়েছে । ঈদের ক’দিন পরেই আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কারন আপনি আবার মগজটিকে নির্দেশ দিয়েছেন- সকালে ব্রেকফাষ্ট, দুপুরে লাঞ্চ ইত্যাদি ইত্যাদি ।

তেমনি আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি প্রাকটিস করতে পারেন নিয়মিত । মেডিটেশানের ধারনা সম্ভবত এখান থেকেই সৃষ্টি । আপনি নিজেই নিজের সব কাজের নিয়ন্তা । কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এখানে ।

শুধু লাগবে আপনার সদিচ্ছা, একাগ্রতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসা ।

ছবি - ইন্টারনেট এর সৌজন্যে

মন্তব্য ১৩১ টি রেটিং +৩৩/-০

মন্তব্য (১৩১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:১৮

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:

ডোপামিন আর সেরেটোনিনের ক্যাচালে জীবনে কত কি যে হল। মস্তিষ্ক সব বোঝে আমিই শুধু মস্তিষ্ক বুঝি না। অবাধ্য ঘোড়ার মত দাবড়ানি দেয়। সমাধান কি জীএস ভাই?

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:২৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ভ্রমরের ডানা ,





হা...হা...হা... মাথাটা কেটে ফেলুন । নতুন আর একটি লাগিয়ে নিন ............ :P

প্রথম মন্তব্যকারীর জন্যে রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা ।

২| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৫৩

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: ভাইজান,আমার শরীরে মাঝে মাঝে অতিমাত্রায় ডাইনির বাতাস লাগে; তখন শুধু বিষন্ন, বিষন্ন লাগে । আমার এমন কথা শুনে ধাক্কা খেলেন? হা, হা ,হা আমিও এ সকল কিছু বিশ্বাস করি না, এই ডাইনীর ব্যপারটা । তবে, আমাদের শরীরে সেরেটোমিন নামক হরমোনের স্বাভাবিক প্রতিক্রয়ায় মানুষের শরীরে প্রশান্তি আনে কিন্তু এর মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণে তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া হয়। আবার এর মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণে ফলে একটু মেজাজ খিটখিটে লাগে, হালকা মাথাব্যথা ভাব আর ঘুম কম,কম ভাব হয়।আমাকেও মাঝে মাঝে এই সমস্যা খুব হারে জ্বালাতন করে । হুমম, মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। নিজের আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বৃদ্ধি করা পদ্ধতি । আমিও মাঝে মাঝে মেডিটেশন করি কিন্তু নিয়মিত করা হয় না। আর অনেক চেষ্টা করেও কেন জানি , এই হুট করে রেগে যাওয়ার স্বভাব বদলাতে পারিনা। যদিও তা বেশিক্ষণ থাকে না, আবার স্বভাবিক হয়ে যায়।। এখন এই স্বভাবকে একটু বদ করার উপায়, বা তাবিজ লিখে দেন, আরো সহজ ও বিস্তারিত..। ;)

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহরিয়ার কবীর ,




হুমমমমমমম রোগটা গুরুতর ! শুধু তাবিজে হবেনা , পানি পড়াও লাগবে ।
পানি পড়া তো এখন দিতে পারবোনা, গ্লাসটা এই মাত্তর ভেঙে গেলো পানিতে ফঁ দিতে গিয়ে । আপাততঃ তাবিজ দেই ---
"অল ইজ ওয়েল.. অল ইজ ওয়েল.. অল ইজ ওয়েল.. " পড়তে থাকুন আর নিজের বুকে ফুঁ দিন । ;)
বিনে পয়সায় এর চে' বেশি প্রেসক্রিপশান দেয়া গেলো না । B-))

৩| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:০৩

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: অনেক বড় পোষ্ট দেখে ভাবলাম পরে পড়ি। কিন্তু অনেক দিন পরে প্রিয় ভাইয়ার লেখা কি করে সামনে পেয়ে না পড়ে চলে যায়। তবে পড়তে গিয়ে মাথায় সব ঢোকেনি। তাই প্রিয়তে রাখলাম পরে নিরিবিলি আবার পড়ার জন্য।
আচ্ছা ভাইয়া মাথা থেকে আবেগ তাড়ানোর কোন ঔষধ নাই?
চেষ্টা করেও আমি আমার আবেগকে দুর করতে পারিনি।
নিজের মাথাটাকে সত্যি যদি নিয়ন্ত্রন করতে পারতাম তা হলে এ জন্মে বেচে যেতাম।

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোস্তফা সোহেল ,




পোস্টটি বড় হওয়াতে দুঃখিত । কিন্তু উপায় ছিলোনা । ভাগ ভাগ করে দিলে পাঠক ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারতেন না । অথচ একজন মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার জন্যে এগুলো মানুষকে জানতেই হয় । কারন , আপনি নিজের শরীরবৃত্তিয় কাজগুলোকে পজেটিভ নির্দেশ দেয়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারলে আপনার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মায় মগজটুকুও তাতে পজেটিভলিই সারা দেবে । এতে যা উপকার হবে তাতে আপনি নির্ভার হতে পারবেন মানসিক ভাবে, ব্যালান্সড হতে পারবেন এমনকি আপনার শরীরটাও সুস্থ্য থাকবে । তাই একবারে এতোখানি লেখা দিতে হলো যাতে পাঠকের মনের একাগ্রতায় ছন্দপতন না ঘটে ।

আবেগ তো থাকবেই । আবেগহীন মানুষ খুব একটা নেই । কিন্তু তার সাথে যদি আবেগ উৎপত্তির যৌক্তিকতা যুক্তি ও বুদ্ধি সহযোগে বিচার করেন তবে আবেগকে সামলানো কষ্টকর কিছুই নয় ।

ধীরে ধীরে পড়ুন আর বুঝতে চেষ্টা করুন আপনার যাবতীয় কাজগুলো কি ভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে । অনেক উদাহরণ দিয়েছি । ওখান থেকে যোগ বিয়োগ করে প্রয়োজনীয় করণীয়টুকু করার অভ্যেস করুন । অল উইল বি ওয়েল.....।

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ । শুভেচ্ছান্তে ।

৪| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:২০

উম্মে সায়মা বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই,
আপনার জ্বীন পরীর গল্প পড়তে নিয়ে অর্ধেক পড়ে আপাতত প্রিয়তে রাখলাম। আগে এটুকু হজম করি। পরে এসে বাকিটা পড়ব।
খুব শিক্ষনীয় একটি পোস্ট। আমরা আম ব্লগাররাও কিছু বিজ্ঞান শিখতে পারব। পরবর্তীতে এমন আরো পোস্ট পাবার আশা রাখি।

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: উম্মে সায়মা ,




ভালো লাগলো মন্তব্য । সময় নিয়ে পড়ুন ।
সাধারন পাঠকদের জন্যে খুব সহজ করে এই জটিল বিষয়টি লেখার চেষ্টা করেছি । ধীরে ধীরে পড়ুন আর বুঝতে চেষ্টা করুন আপনার শরীরবৃত্তিয় যাবতীয় কাজগুলো কি ভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ।

ভবিষ্যতে এমন পোস্ট লেখার চেষ্টা করবো । তবে সময় হয়ে ওঠেনা তেমন একটা ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

৫| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:৩২

জুন বলেছেন: তাহলে জম্পেশ করে বসুন, কেন ভুত-শয়তান-জ্বীন-পরী আপনাদের সবাইকেই তেতুল গাছের মগডালে ওঠায় না, গল্পে গল্পে তা শুনি…………..

বসলাম জম্পেশ করে খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ার জন্ঃ)আহমেদ জী এস। শেষ হলে জানাবো কি বুঝেছি আর না বুঝেছি :)
+

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:২৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন ,




হা........হা..........হা ......... বসে গেলেন ? কি দিয়ে আপ্যায়ন করি এখন ? :( আপনার পোস্টে দেখলুম খিচুড়ি রেধেছেন । ওখান থেকে কিছু নিয়ে আসবো ? :P

পড়ুন , সময় করে । আপনার মতো বিদুষী ব্লগার এই লেখা বুঝবেন না এটা বিশ্বাস করতে বলেন ?
জানিয়ে যাবেন কিন্তু অপেক্ষায় রইলুম ।

শুভেচ্ছান্তে ।


৬| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:০৭

কানিজ ফাতেমা বলেছেন: পোষ্টটি প্রিয়তে নিলাম । একবার পড়লে মাথায় ঠিকমত ঢুকবে না ।

অশেষ কল্যান কামনা ।

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:১১

আহমেদ জী এস বলেছেন: কানিজ ফাতেমা ,



প্রিয়তে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ । কিন্তু পড়ে দেখবেন । ধীরে ধীরে পড়ুন তা হলেই বুঝবেন আপনার যাবতীয় কাজগুলো কি ভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৭| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:৩২

আলভী রহমান শোভন বলেছেন: উফফ ! ম্যালা বড় পোস্ট ভাইয়ু। তারপরও পড়লাম সময় নিয়ে। অনেক কিছু যদিও মাথায় ঢোকেনি।

যাই হোক, শুভ কামনা। :)

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: আলভী রহমান শোভন ,




পড়ার জন্যে ধন্যবাদ ।
পোস্টটি বড় হয়ে গেছি ঠিকই কিন্তু উপায় ছিলোনা । ভাগ ভাগ করে দিলে পাঠক ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারতেন না । অথচ একজন মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার জন্যে এগুলো মানুষকে জানতেই হয় । কারন , আপনি নিজের শরীরবৃত্তিয় কাজগুলোকে পজেটিভ নির্দেশ দেয়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারলে আপনার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মায় মগজটুকুও তাতে পজেটিভলিই সারা দেবে । এতে যা উপকার হবে তাতে আপনি নির্ভার হতে পারবেন মানসিক ভাবে, ব্যালান্সড হতে পারবেন এমনকি আপনার শরীরটাও সুস্থ্য থাকবে । তাই একবারে এতোখানি লেখা দিতে হলো যাতে পাঠকের মনের একাগ্রতায় ছন্দপতন না ঘটে ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৮| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৪৩

নীলপরি বলেছেন: তথ্যপূর্ণ পোষ্ট ভালো লাগলো ।

শুভকামনা ।

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৩২

আহমেদ জী এস বলেছেন: নীলপরি ,




এমন মন্তব্যে ভালোলাগা ।

শুভকামনা রইলো আপনার প্রতিও ।

৯| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:৩১

বাবুরাম সাপুড়ে১ বলেছেন: কখনও কি আপনাকে ভুত বা শয়তানে আছর করেছে ? কিম্বা জ্বীন-পরীতে পেয়েছে কখনও ? পায়নি ..? গুড ! পাওয়ার অবশ্য কোনও কারনও নেই--------------
তাই আপনার মগজে কি ঘটছে আর কি করেই বা ঘটছে তা জেনে রাখা ভালো যাতে ভুত-শয়তান-জ্বীন-পরী আপনার ত্রি-সীমানায় ঘেসতে না পারে .........


জ্বীন ইবাদত করে ..শয়তান মানুষকে ভুল পথে চালিত করে... দুনিয়াশুদ্দু লোক এসব বিশ্বাস করে। ..আপনি করেন না ? এই সব মগজে ঘটতে থাকা জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়াকান্ডের উল্টোপাল্টা ফল ???? মুনাফেকী কথাবার্তা বলেছেন জনাব ! আমার মতো আপনারও বোধহয় জান্নাত ক্যান্সেল !!

যাইহোক ,জোকস এপার্ট ---- আপনার পোস্টের সাথে সঙ্গতি পূর্ণ কতক গুলো বিজ্ঞানময় কথা লিখি :

বাস্তবতা এবং ফান্টাসীর মধ্যে পার্থক্য নিরুপন ..............prefrontal cortex এবং posterior superior parietal lobe এর ভূমিকা :

বিখ্যাত নিউরো -সাইন্টিস্ট Andrew Newberg কিছু অবিশ্বাসী বা প্রশ্নকারীর ব্রেন স্ক্যান করেন । একই সাথে তিনি ব্রেন স্ক্যান করেন গভীর বিশ্বাসী কিছু বৌদ্ধ মংক এবং খ্রীষ্টান নানের । তিনি দেখলেন অবিশ্বাসী বা প্রশ্নকারীর ব্রেনের সামনের অংশ বা prefrontal cortex যেটা মানুষের এনালিটিক্যাল থিংকিং নিয়ন্ত্রণ করে সেটি বেশি এক্টিভ। অন্যদিকে বিশ্বাসী মংক এবং নানদের ব্রেনের posterior superior parietal lobe ,সেটা বাস্তবতা এবং ফান্টাসীর মধ্যে পার্থক্য নিরুপন করতে পারে না, সেটি খুব বেশি এক্টিভ। এগুলোকে ম্যানিপুলেট করে মানুষের বাস্তবতা এবং ফান্টাসীর-- মানে বিশ্বাস -অবিশ্বাসের কমা-বাড়া করা সম্ভব।

কোন কিছুতে তীব্র বিশ্বাস ব্রেনের posterior superior parietal lobe কে বেশি এক্টিভ করে ----ব্রেইনের এই অত্যধিক এক্টিভ অংশ মানুষের এনালিটিক্যাল থিংকিং এবং লজিকাল রিসনিং কে নিরুৎসাহিত করে।
পোস্ট টি বড়ই পছন্দ হইছে মহোদয় !

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৪৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: বাবুরাম সাপুড়ে১ ,




বাহ.. চমৎকার সুরে সাপের বাঁশি বাজিয়ে গেলেন ! বাস্তবতা এবং ফান্টাসীর পার্থক্য নিরুপনে যা বলেছেন তা ঠিকই আছে ।এগুলোকে ম্যানিপুলেট করে মানুষের বাস্তবতা এবং ফান্টাসীর-- মানে বিশ্বাস -অবিশ্বাসের কমানো-বাড়ানোর কথা বলেছেন । আমিও তাই বলেছি আপনার মগজকে টিউন করুন । যেভাবে টিউন করবেন শরীর সে ভাবেই সাড়া দেবে ।

আর একটু বলি ----- বাস্তবতা এবং ফান্টাসীর পার্থক্য নিরুপনে মানুষের মস্তিষ্কের যে এলাকাগুলোর কথা বললেন , চিন্তা কি তারা করে ? নাকি তারা নিউরোট্রান্সমিটারের ভাষাতে কথা বলে ? মস্তিষ্কের সব এলাকাগুলিই পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত সকল সংবেদন ( ষ্টিম্যুলাই )কে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করেই তবে এ্যাক্টিভ বা ইনএ্যাক্টিভ হবে । তাদের এ্যাক্টিভ বা ইনএ্যাক্টিভ হওয়াটার নির্দেশ আসবে ইলেকট্রিক্যাল এবং কোমিক্যাল সংকেত হিসাবে যথাযথ জায়গা থেকে । লিম্বিক সিষ্টেম তারই প্রধান একটি সাংগঠনিক চরিত্র বা সংগঠক।
সে জন্যেই বলেছি ---
" সেন্সরি ফাইবার তো আপনার মগজে তথ্য (Information) পাঠিয়েই ক্ষান্ত । সংবাদ মিডিয়ার মতো কাজ করছে এরা । কিন্তু Intelligence Report পাঠানো তো তাদের কাজ নয় । তাই মানুষের তৈরী সরকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের জন্যে তার নিজস্ব বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বা অন্যান্য সংস্থার কাছে একটি ঘটনার পেছনের Intelligence Information চেয়ে থাকে তেমনি আপনার মগজেরও রয়েছে Intelligence Services যারা আপনার মগজকে তথ্যসমূহের ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকে । এরা হলো “ক্রানিয়াল নার্ভস” (Cranial Nerves)যারা আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অধীন । আপনার রয়েছে এরকম ১২ জোড়া Cranial Nerves যাদের কাজ হলো বিশেষ সংবাদ প্রদান । যেমন, Optic Nerve টি আপনার দৃষ্টিকে ধারন করবে; Olfectory Nerve কোনও কিছুর গন্ধকে ধারন করবে আবার Cochlear Nerve আপনার শ্রুত শব্দাবলীকে ধরে রাখবে । এদের পাঠানো তথ্যের বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করেই আপনার শরীর পরবর্তী পদক্ষেপটি নেব...............
...................................................................................অর্থাৎ আপনার কেন্দ্রীয় এবং প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্র এখানে এক যোগে কাজ করে যে সিদ্ধান্তে আসবে আপনার এ্যাকশানটি হবে তা-ই ।
ব্যক্তি আপনি এখানে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের ক্রীড়ানক । আপনার স্নায়ুতন্ত্র ব্যক্তি-আপনাকে দিয়ে শুধু কাজগুলো করিয়ে নেবে । "

এখন কোনও একটি জিনিষ কে আপনার চোখে দেখে , স্পর্শ করে , ঘ্রান নিয়ে বিশ্লেষনের পরে যা মনে হবে ( এটা নির্ভর করবে বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষমতার উপরে ) মস্তিষ্ক সে তথ্যই জমা রাখবে । ঐ জিনিসটি সম্পর্কে এখন এটাই আপনার বিশ্বাস । মগজের কগনিটিভ সেন্টার এর কাজই এমন সব বিশ্বাসের ধারনা দেয়া । যার এই সেন্টারটি বেশি শক্তিশালী তিনি ততো বেশি বাস্তববাদী ।
আপনার সাথে এটুকু শেয়ার করতেও ভালো লাগলো । আসলে নন-মেডিক্যাল পার্সনদের জন্যে ( আপনি কি তা আমার জানা নেই ) এই সব মেডিক্যাল বিষয়-আশয় এর চে' সহজ করে বোঝানো আমার ক্ষমতার বাইরে ।

লেখাটি পছন্দ হয়েছে জেনে ভালো লাগলো ।
শুভেচ্ছান্তে ।

১০| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অসাধারণ তথ্য সমৃদ্ধ সচিত্র পোষ্ট । প্রথম দেখাতেই প্রিয়তে চলে গেল ।
সে্ই ছোটকালে দুপুরে একবার ভুতে ধরেছিল খালের পারে নদীর ঘাটের কাছে ।
ভুতে ধরার পরে ঝমে মানুষে টানাটানি করে একমাস ভুগে তাবিজ , দোয়ায় ,
চিকিৎসায় শিন্নী আর মানতে কোন মতে জীবনে বেঁচে গিয়েছিলাম ।
পোষ্ট টি ঘরে বসে ভাল মতে পাঠ করব , অনেক কিছু জানার ও শিখার আছে ।

ধন্যবাদ মুল্যবন পোস্টটির জন্য ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




লেখাটি প্রিয়তে নেয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি ।

তাহলে অমুককে ভুতে ধরেছে এমন কথা আপনাকে শুনতে হয়নি , নিজেই ভুতের খপ্পরে, তা ও আবার দুপুরে ? :(
আমার লেখার শিরোনামটি সার্থক হোল ।

অনেক অনেক ভালো লাগলো আপনাকে দেখে ।
ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

১১| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:১১

ওমেরা বলেছেন:
এসব জ্ঞানী গুনীদেরজন্য পোষ্ট,আমি মূর্খ মানুষ এসব আমি কি বুঝব !! তবে মনোযোগের সাথে পড়েছি কারন চেষ্টা করছি আপনাদের মত জ্ঞানী হতে ।

অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া ।

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:০৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ওমেরা ,




ধন্যবাদ, সম্ভবত জটিল এই লেখাটি পড়ার জন্যে ।

তবে ঠিক বলেন নি । মূর্খ কেন হবেন ? আপনার জ্ঞানী হবার এখনই তো সময় । ৩৫/৪০ বছরের পর থেকেই আমাদের মগজের আয়তন কমতে শুরু করে আর তাতে ডোপামিনের ঘাটতি হতে পারে । সম্ভবত আপনার সে স্তরে পৌঁছুতে এখনও অনেক বাকী । আপনার মস্তিষ্ককে খাটান , যতো খাটাবেন আপনার মস্তিস্কের নিউরোনাল সার্কিট ততোই নতুন করে গড়ে উঠবে আর সমৃদ্ধ হবে ।
আমি এ কথাই বলতে চেয়েছি এই লেখায় -----" আপনি নিজেই নিজের সব কাজের নিয়ন্তা । কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এখানে । শুধু লাগবে আপনার সদিচ্ছা, একাগ্রতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসা । "

শুভেচ্ছান্তে ।


১২| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:১২

ধ্রুবক আলো বলেছেন: মানব শরীর একটা রহস্যময় সৃষ্টি, সবসময়ের জন্য!!

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: ধ্রুবক আলো ,





শুধু মানব শরীরই নয় প্রকৃতির সব কিছুই রহস্যময় । তাকে চোখ মেলে দেখতে হয়, বুঝতে হয়, অনুভবে রাখতে হয় তবেই না তার রহস্যের জট একটু একটু করে খোলে ।

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ ।

১৩| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৩

কানিজ রিনা বলেছেন: যদিও বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলাম না। তবুও
এতবড় বিশ্লেশন ৯. নিউরোন নেটওর্য়াক
পর্যন্ত পড়ে রেখে দিলাম পরে পড়বক্ষন।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন এই নেটওর্য়াক আপনার
মস্তিস্কে জম্ম থেকেই ফিক্সড নয়। আপনার
প্রতিদিনের নতুন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে
আপনার আগে থেকেই থাকা নেটওর্য়াকে নতুন
সংযোগ তৈরি হয়ে যাচ্ছে ঠিক যেন একটি
সার্কিট।
কোন একটি জায়গায় পড়েছিলাম মানুষের
মস্তিস্কে যে পরিমান ওজন আছে তার তিন
ভাগের এক ভাগ ব্যবহৃত হয়। আর অল্পকিছু
মানুষ দুইভাগ নিয়ন্ত্রনে সক্ষম হন তারা
অসাধারন মানুষ।

আমি ভূতে বিশ্বাসী না। তবুও ভূতে গল্প শুনে
অনেক চেষ্টা করেছি একটা ভূত যদি ধরতে
পারতাম বা দেখতাম। তবে আলৌকিক কিনা
জানিনা আমার জীবনে কিছু ঘটে যাওয়া
ঘটনা চিন্তা করে কূল পাইনা।
তবে মানুষের মস্তিস্কের দুইভাগের নিচের ছোট
গোল অংশ আছে এই অংশ যদি চিন্তা মনে
পৌছুতে পারে তাহলে সৃষ্টির রহশ্যের সন্ধান
পেতে পারে বা দেখতে পারে।
কম বুঝেও এটুকু বলতে পারলাম। পরবর্তী
লেখাটুকু পড়ে নাহয় আর কিছু বলব।
আপনার এই কষ্ট সাধ্য অসাধারন পোষ্টের
জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:৫৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: কানিজ রিনা ,




ধন্যবাদ, কিছুটা পড়েও সুন্দর মন্তব্য করাতে ।
আপনার মন্তব্যের ২য় প্যারার সূত্র ধরে বলি ----- আমাদের মাথার ওজন নয় আমাদের ক্ষমতা যাচাই হয় মস্তিষ্কের ক্ষমতা থেকে । যিনি যতো বেশি তার মস্তিষ্ককের এই ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি ততো বেশি বুদ্ধিমান । বা ততো বেশি প্রতিভাময় । বলা হয়ে থাকে আইনেষ্টাইন তার মস্তিষ্ককের এই ক্ষমতার ৮% ( মতান্তর আছে যদিও তা ৬% থেকে ১০% এর মধ্যে ) মাত্র কাজে লাগাতে পেরেছেন ।
সোজা কথায় বললে, মস্তিষ্কের বিশাল জমির মাত্র ৮% এলাকায় জ্ঞানের চাষাবাদ করেই আইনেষ্টাইন "আইনেষ্টাইন" হতে পেরেছেন । তাঁর মস্তিষ্কের ৯২% ই অনুর্বর থেকে গেছে । এবার বুঝুন, আমাদের মস্তিষ্কের কতোটুকু জমি আবাদী ?
৯৯ দশমিক ৯৫ % ই তো মনে হয় অনাবাদী পড়ে আছে আমাদের । অথচ কি সম্ভাবনাময় আমরা একেক জন ।

আর মস্তিস্কের দুইভাগের নিচের ছোট যে গোল অংশের কথা বলেছেন তাতে সম্ভবত " হাইপোথ্যালামাস" অথবা " পিটুইটারী গ্লান্ড" এর কথাই বলতে চেয়েছেন । জ্বী, ঐ হাইপোথ্যালামাস এলাকাটিই আপনার সকল কাজকেই নিয়ন্ত্রন করে থাকে এমনকি আপনার বুদ্ধিমত্তাকেও । তাই ঐ এলাকাটি যথেষ্ট শক্তিশালী হলে আপনিও আইনেষ্টাইন হয়ে যেতে পারেন ।

খুব ভালো লাগলো আপনার অনুসদ্ধিৎসা ।
শুভেচ্ছান্তে ।

১৪| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


" এই বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ডের ফলাফলের নামই Life বা জীবন । "

-এটাই প্রাণ?

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী ,



ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।

জ্বী, প্রান বলতে আমরা সাধারনত যা বুঝি এটা তা-ই ।

তবে "আত্মা" অন্য জিনিষ । এই আত্মা সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত । বিষয়টি মীমাংসিত নয় ।

১৫| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫১

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া!!!!

আমার মনে হয়েছে এই লেখাটা ! আমাদের ব্লগের সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেস্ঠ লেখা!

যদিও খুব তাড়াতাড়ি পড়ে গেছি তবে এই লেখাটিই আমাদের সবার রোজ রোজ এক প্যারা করে পড়ে পড়ে আত্মস্ত করা উচিৎ! বিশেষ করে আমাদের এই ব্লগের কিছু সেরোটিন ডোপামাইন ঘাটতির মানুষদের জন্য ইহা এক জরুরী প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করতে পারে।

শুধু তাইনা তোমার এ লেখা কোনো মনোবিজ্ঞান বইতেই এত সহজ প্রাঞ্জল করে কেউ কখনও বুঝাতে পেরেছে কিনা আমার সন্দেহ আছে! অসাধারণ বললেও কম হবে ভাইয়া! অনেক অনেক অনেক ভালোবাসা আর মন থেকে শুভকামনা তোমার জন্য!

আমার কথা শেষ হয়নি ভাইয়া আমি এক এক করে আসছি আবারও!

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:০৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা ,




অনেক অতিরঞ্জন করে লেখাটি সম্পর্কে বলেছেন । স্বাভাবিক ভাবেই খুশি হওয়ারই কথা । হয়েছিও হয়তো কিন্তু আপনার অমন ধারনা ( এটা সহ পরবর্তী মন্তব্যগুলোর আলোকে ) লেখার বিষয়বস্তুর কিছু কিছু উপযোগীতার কারণেই সম্ভবত । তাই এমন মন্তব্য একটি আপেক্ষিক বিষয় । আপনার কাছে লেখাটি হয়তো সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখা মনে হয়েছে আবার অনেকের কাছেই লেখাটি অন্যরকম মনে হবে । বিরক্তিকর, অবোধ্য , বেশি লম্বা ইত্যাকার মনে হবে ।
খুব সহজ করে লিখতে চেয়েছি তাতে কোনও সন্দেহ নেই । সেকথা বলেছিও এখানে --- শরীর বিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা নেই ..... । তাই সবাই যাতে বুঝতে পারেন কি থেকে কি হয় , কেন হয় তা আমাদের জীবনের প্রায়শঃই ঘটে থাকা ঘটনাগুলোর উদাহরণ টেনে বোঝাতে চেয়েছি ।
লিখি মনের গরজে , সময় কাটানোর ছলে । আপনার এমন উচ্ছসিত প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছিনে বরং ভয় লাগছে , সামনের দিনে আপনাদের এই আস্থার জায়গাটি আমি ধরে রাখতে পারবো কিনা !

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ ।
আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা ।

১৬| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৩

শায়মা বলেছেন: ঠিক দুক্কুরবেলা ভূতে মারে ঢেলা...
এমনই শুনেছিলাম আমি ...... যাইহোক

এবারে আসুন আমরা জীবনের চমকপ্রদ অংশে প্রবেশ করি । আবেগপ্রবনতা আর অনুভুতি ছাড়া জীবনের কোনও রং নেই, এটা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু জানিনা যে এগুলো হলো কতকগুলি জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল । এগুলো হলো আপনার মগজের প্যাসনেট সার্কিট (Passionate Circuits) এর কাজ । এই সার্কিটের প্রধান অংশই হলো লিম্বিক সিস্টেম (Limbic System) যার কিছু অংশ Corpus callosum, Frontal এবং Temporal Lobe এ অবস্থান করে এবং অংশ বিশেষ Hypothalamus নামক এলাকায় প্রবেশ করে । এই সিষ্টেমের মধ্যে আরো আছে Cerebral Cortex এর অংশ বিশেষ এবং Amygdala নামের এলাকাগুলি । আপনার মগজের এই লিম্বিক সিষ্টেমের বিভিন্ন অংশকে উত্তেজিত করা গেলে আপনি ভয়ঙ্কর রেগে যেতে পারেন, ভয় পেতে পারেন, আক্রমনাত্মক আচরন করতে পারেন এবং যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত অনুভুতিগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারেন । আপনার এই মানসিক পরিবর্তনগুলো লিম্বিক সিষ্টেমের নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে মগজের হাইপোথ্যালামাসে পৌছুবে । আর এখান থেকেই আপনার শরীরের মহামূল্যবান ও অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যে সিগনাল যাবে তাতে ঐ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নাটকীয় ঘটনাবলী ঘটতে থাকবে । মনে রাখতে হবে মানুষ এ পর্য্যন্ত এই কৌতুহলোদ্দীপক লিম্বিক সিষ্টেমের কনামাত্র জানতে পেরেছে ।


তার মানে এই লিম্বিক সিস্টেমের সিগনাল উল্টা পাল্টা হয় বলেই আমরা কিছু পাগলের পাগলামী দেখি অথচ তারা নিজেদেরকে পাগল বলে মনে করেনা। তুমি লিখেছো (আপনার মগজের এই লিম্বিক সিষ্টেমের বিভিন্ন অংশকে উত্তেজিত করা গেলে আপনি ভয়ঙ্কর রেগে যেতে পারেন, ভয় পেতে পারেন, আক্রমনাত্মক আচরন করতে পারেন ) কিন্তু কিছু কিছু মানুষ দেখেছি অযথা অন্যের দিকে চোখ মেলে থাকে, কে কি করছে, কেমনে চলছে, কার কি কি লাভ হচ্ছে, সে কোথায় বেশি পাচ্ছে , কি খাচ্ছে এসব নিয়েও উত্তেজিত হয়ে ওঠে নানা রকম উল্টা পাল্টা আচরণ করে। ভয়ঙ্কর রাগে খেপে ওঠে, কোথাও সেটা প্রকাশের সুযোগ না পেয়ে অনলাইন, ফেসবুক, ব্লগে ছড়িয়ে দেয় সেই অসুস্থত মানষিকতা। সকলের মধ্যে বিদ্বেষ, বিরক্তির সৃষ্টি করে। অযথা অসভ্য আচরণে, গালাগালিতে নিজের ও অপরের পরিবেশ নষ্ট করে। সেসবের কারণও কি এই লিম্বিক সিস্টেমের গড়বড়? :(


০৬ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:০৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা ,




মানুষের শারীরবৃত্তিয় আর মানসিক কার্যকলাপ সবই নিয়ন্ত্রিত হয় হরমোন আর নিউরোট্রান্সমিটার এর সংকেতের উপর ভিত্তি করে , সে কথা আমি বলেছি ।
মস্তিষ্কের বিভিন্ন এলাকা সক্রিয় বা নিস্ক্রিয় হলেই তবে ঐসব হরমোন আর নিউরোট্রান্সমিটার কাজে নেমে পড়বে । এবং লিম্বিক সিস্টেমের কাজটি হলো মানবিক গুনাবলীকে পরিমার্জিত, পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত করা । যতো সহজে বললুম ব্যাপারটি কিন্তু ততো সহজে ঘটেনা । এগুলো সব এক একটি জটিল জৈব প্রক্রিয়া । এই লিম্বিক সিস্টেমের কারনেই আমাকে লিখতে হয়েছে এই কথাগুলো --------ইতিহাসের সমস্ত কালটা জুড়েই এই মস্তিষ্ক মানুষের মানবতা এবং মানবিক গুনাবলী প্রকাশে সক্রিয় থেকেছে । আর এ কারনেই পাখা না থাকতেও মানুষ পাখীর মতো উড়ছে আকাশে, লেজ না থাকতেও মানুষ ডুব দিচ্ছে সাগরের গহীন তলে । মস্তিষ্কের কারনেই মানব ইতিহাসের দূর্যোগময় সময়গুলো কাটিয়ে মানুষ আশার আলো জ্বেলেছে । আর ধ্বংশকে রূপান্তর করেছে সৃষ্টিতে..............
এখন কেউ কেউ যদি এই লিম্বিক সিস্টেমটাকে অপব্যবহার করেন ( যার ভেতরে "কগনিশান" রয়েছে ) তবে মন্তব্যে আপনি যা যা বলেছেন তা ঘটতেই পারে ।
এখন তবে আমাদের কী করনীয় ? আমরা কি তাদের মগজটাকে নিয়ন্ত্রনে নিতে পারবো ? সম্ভব নয় । তাই এ রকম সংঘাত এড়াতে বুদ্ধিমানের কাজটি হবে নিজের নিজের মগজটাকে নিয়ন্ত্রনে রাখা যাতে সে বেগড়বাই না করতে পারে । যুদ্ধ হতে কমপক্ষে দুটো পক্ষ থাকতে হয় । আর পক্ষ যদি একটিই হয় তবে যুদ্ধ কে কার সাথে করবে ?
ব্লগের হালচালের বিবেচনা থেকেই সম্ভবত আপনার এই মন্তব্যটি । যারা যারা তাদের লিম্বিক সিস্টেমটাকে উত্তেজিত করে রাখেন তাদের সেখানে আর একটি ঢিল ছুঁড়ে উস্কে দেয়া ঠিক হবে কি ? তাই ব্লগীয় পরিবেশটাকে শান্ত-সুন্দর রাখতে, আমার মনে হয় বুদ্ধিমান / বুদ্ধিমতী ব্লগাররা নিজের নিজের লিম্বিক সিস্টেমটাকে আয়ত্বে রেখে বিজ্ঞতার পরিচয় দেবেন । ধ্বংশকে রূপান্তর করবেন সৃষ্টিতে ।

জানিনে এগুলো বলা আপনার আপনার মন্তব্যের সঠিক জবাব হলো কিনা ! তবুও আশা করতে দোষ কি ?

১৭| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৩

শায়মা বলেছেন:

প্রথমেই Serotonin (সেরোটোনিন)এর কথা দিয়ে শুরু করি । এটা হলো আপনার সুখের চাবি । এটা আপনাকে সবকিছু পজিটিভলি নিতে শেখাবে ।

আপনার শরীরে ৫ থেকে ১০ মিলিগ্রাম Serotonin আছে যার ৯০% ই থাকে আপনার অন্ত্রে আর বাকী অংশ থাকে অনুচক্রিকা আর মগজে । এটি আপনার শিক্ষা (Learning), আপনার ঘুম (Sleep) এবং মানসিক ভাব (Mood)এর নিয়ন্ত্রক । আপনার মগজে বা শরীরে এর ঘাটতির বা উল্টোপাল্টা কাজের কারনে আপনাকে বিষন্নতা রোগে (Depression) পেয়ে বসবে । এমোনকি আপনি কখনও খানিক উত্তেজিত আবার পরক্ষনেই ম্রিয়মান হয়ে পরবেন । ঘন ঘন কোনও একটা কিছু করার বাতিক চেপে বসবে । আপনার এমোনটি হলে , আপনাকে ভুতে বা পরীতে পেয়েছে এটা ভেবে বসলে দোষ কার ? আবার এই Serotonin ঠিকঠাক থাকলেও, হতে পারে এটি সিন্যাপসে (Synapse)বেশীক্ষন স্থায়ী হচ্ছেনা । অর্থাৎ তার কাজের স্যিগনাল মগজে পাঠাতে পারছেনা ঠিকমতো সঠিক সময় ধরে। কি হবে ? আপনার বিনিদ্র রাত কাটবে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে অথবা ঘুম আসছেনা বলে রাত দু’টোর সময়ে উঠে ঘরে পায়চারী শুরু করে দেবেন । আপনার মেজাজ-মর্জির কোনও ঠিক-ঠিকানা থাকবেনা । শেখার আগ্রহ কমে যাবে । কেউ বোঝাতে আসলেও আপনি বুঝতে চাইবেন না । এখোন লোকে যদি ভেবে বসে, আপনাকে শয়তানে আছর করেছে তবে তাদের খুব একটা দোষ দেয়া যাবে কি ?


কেউ বুঝাতে আসলেও বুঝতে চায়না এই সেরোটোনিনের ঘাটতিতে! B:-)
তারমানে এই সেরেটোনিনই সেই ভুত বা শয়তানের আছর!!!!!!! তাই তো বলি.....


যাইহোক শেষে এই অংশটুকু পড়ে সস্তি পেলাম-
তেমনি আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি প্রাকটিস করতে পারেন নিয়মিত । মেডিটেশানের ধারনা সম্ভবত এখান থেকেই সৃষ্টি । আপনি নিজেই নিজের সব কাজের নিয়ন্তা । কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এখানে ।

শুধু লাগবে আপনার সদিচ্ছা, একাগ্রতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসা । <<<<<<<<<<

এখন কথা হলো মানষিক অসুস্থ অবস্থায় রোগী কি আর নিজে থেকে বুঝে কেনো সে এই সব করছে! আশে পাশের মানুষগুলোর সহায়তা বিশেষ প্রয়োজন! :(

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:০০

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা ,





আসলে ভুত বা শয়তানের আছর কেবলমাত্র সেরোটোনিনের কারনেই হয় না , হয় আমাদের মগজের বায়োকেমিক্যাল আর ইলেট্রিক্যাল গন্ডগোলের কারনে । সেরোটোনিন একটি অনুঘটক মাত্র ।
আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি চান । কিছুই করতে হবেনা , বেশি বেশি করে কুসুম সহ ডিম, পনির ( বিশেষ করে সিডার চীজ ), টফু, বাদাম খেতে পারেন যেখানে প্রচুর ট্রিপ্টোফ্যান থাকে ।ট্রিপ্টোফ্যান হলো সেরোটোনিনের প্রিকারসর । এর সাথে যদি খানিকটা ব্যায়াম, রোদে ভেজা আর পজিটিভ চিন্তার অভ্যেস করে নিতে পারেন তো সোনায় সোহাগা ।

জানতে চেয়েছেন - মানষিক অসুস্থ অবস্থায় রোগী কি আর নিজে থেকে বোঝে কেনো সে এই সব করছে ?
উত্তরটি হলো - না ।
তবে আপনি কিন্তু এধরনের রোগীকে সামাল দিয়ে সারিয়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি যে জিনিষটা কার্য্যকর , সে কথাটি বলেছেন - আশে পাশের মানুষগুলোর সহায়তা ।
আমরা নিশ্চয়ই এমন অসুস্থ্য ব্লগারদের পাশে থেকে আদরে - যত্নে বোঝানো দ্বারা এই সহায়তাটুকু দিতে পারি । পারিনা ????

ভালো থাকুন । ঝড়-ঝাপটা থেকে মগজটাকে নিরাপদে শান্তিতে রাখুন । শুভেচ্ছান্তে ।

১৮| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:০৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: এত্ত বড় পোস্ট !!! প্রায় এক ঘন্টা লেগেছে পড়তে।
নাস্তা পানি নাই, এক গ্লাস পানি হইলেও দেন। =p~

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:২৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: গিয়াস উদ্দিন লিটন ,



ছি...ছি...ছি.. শুধু পানি চাইলেন ?
"শরবতে ছহি" দিচ্ছি । খেলে যদি ছহি গেয়ান-টোয়ান কিছু হয় ! তাহলে এক ঘন্টা পড়ার পোস্ট পাঁচ মিনিটেই ঝেঁড়ে দিতে পারবেন !!!!!!! :)

১৯| ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:১৮

সোহানী বলেছেন: হায় আল্লাহ, এ লিখা পড়ে বোঝার থেইকা ভুতের আছড় আরো সহজ ;) ;) ;) ;)

ট্রাই করলাম পড়ে বুঝতে বাট মস্তিস্কের উপর দিয়া গেছে। ফ্যামিলির মোটামুটি সবাই ডাক্তার, আমার কাছে এ বিদ্যা সবচেয়ে দূরুহ বলে আগেই ওই পথে পা দেই নাই বাবার শত দাবড়ানি খেয়ে ও.........

অতো বোঝার দরকার কি... দু'একটা ভুতের আছড় থাকলো বা তার মজার মজার গল্প থাকলো জীবনে... সেটাইতো অনেক ভালো, বিশেষ করে আমাবশ্যার রাতে সব লাইট অফ করে প্লানচ্যাট করে ভুতদের ইনভাইট মন্দ না............। কি দরকার ভুতদের টেনে এনে তুলোধুনো করার........... এর কোন মানে হয়......বেচারা ভুতরা জীভাইয়ের পাল্লায় পড়েছে, একটু শান্তিতে যে আমাদের জ্বালাবে তার ও উপায় নাই....... B:-/

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৫৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী ,




হায় আল্লাহ, এ লিখা পড়ে বোঝার থেইকা ভুতের আছড় আরো সহজ । হুমমমমমমমমমমমম বুঝতে পারছি " আউলা কেশে পাগল বেশে.." থাকতেই পছন্দ আপনার । :-P

ভুতদের টেনে এনে তুলোধুনো করিনি তো কোথাও ! বরং মগজের মগজ ধোলাই করেছি যাতে সার্কিট ব্রেক না হয় । #:-S
এখন দেখছি আপনি সার্কিটেই গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলেছেন । এই গন্ডগোল পাকানোর কারনেই সাধের এই লেখাটি আপনার মস্তিস্কের উপর দিয়ে গেছে বলেই ভুতদের ইনভাইট করতে চান । !:#P তা খাওয়াবেন কি ? পানি পড়া ??

ভুতদের টেনে এনে তুলোধুনো করার মানে আছে । নইলে রাত দশটা্য় ভুতে পাওয়া মেয়েদের একা একা জন্মদিনের দাওয়াৎ খাওয়া থেকে ফেরানো যাবেনা । :`<

যাক আপনি ভুতের সাথেই থাকুন , আমি ওঝা ডাকতে যাচ্ছি ........................।

২০| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১২:২৯

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: ভুত-প্রেতে বিশ্বাস নেই, সেই ছোট থেকেই।। আর এখন ভাবছি কতই না অন্ধকারে আছি আমরা, শুধুই জানার অভাবে!!
Dopamine Systemয়ের গোলমালে আমিও মাঝেমাঝে পড়ে গেলেও প্রানান্ত চেষ্টায় আবার নিজেকে ফিরে পাই।।
কলা বিভাগের ছাত্র বলে, বিজ্ঞ্যানের কথা কমই জানতাম।। ব্লগে আপনাদের সান্নিধ্য পেয়ে.....।

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: সচেতনহ্যাপী ,



যতো দোষ ঐ ডোপামিনের ! ওটাকে কন্ট্রোল করলেই অনেক ঝামেলা চুকে যায় । অংক সব মিলে যায় ।
কিন্তু আপনার সেরোটোনিনকে সব সময় বুষ্টআপ করতে হবে নইলে " হ্যাপী" থাকতে পারবেন না যতো সচেতনই হোন না কেন !!!
:P

২১| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:২০

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: অনেক দেরিতে হলেও প্রিয় ভাইয়ের প্রিয় পোষ্টটি পড়ে ধন্য মনে করছি নিজেকে। কৃতজ্ঞতা রইল এই বিশাল মানসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট পরামর্শে। এখানে রেখে যাওয়া পরামর্শ গুলো যদি ঠিকঠাক মেনে চলতে পারি তো নিজের জীবন অনেক সুন্দর সুস্থভাবে পার করা যাবে এতে কোন ভুল নেই।

প্রিয়তে না রাখার মতো বোকামি করতে পারলাম না আমি। অনেক অনেক শ্রদ্ধায় থাকুন প্রিয় হয়ে।

শুভকামনা জানবেন ভাই, ভালোবাসা সবসময়।

শুভ সকাল

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:০৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন ,




প্রিয়তে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ । শেখার শুধু এটুকই , মানুষ ইচ্ছে করলে নিজের রাগ-ক্রোধ-প্রতিহিংসা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে যদি তার সদিচ্ছা, একাগ্রতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসা থাকে ।

জীবন সুন্দর হোক । সুন্দর মানুষ হয়ে বাঁচুন ।
শুভেচ্ছান্তে ।

২২| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:২৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ওয়াও..
রাজনীতি অর্থনীতি, প্রশাসন, সব দিয়ে কি দারুন করেই না বোঝালেন!

পড়তে পড়তে মাঝে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ভর করেছিল। আবার ঝেটিয়ে বিদায় করে শেষ করলাম।


অাবারও পড়তে হবে। প্রিয়তে রেখে দিলাম।

অনন্য অসাধঅরন পোষ্টে +++++

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু ,





প্রিয়তে শুধু রাখলেই চলবেনা , তন্দ্রাচ্ছন্নতা কাটিয়ে একটু চোখও বুলিয়ে যেতে হবে ।
তবেই পেলেও পাইতে পারেন পরশ পাথর ...........

অনন্য শুভেচ্ছা আপনাকে ।



২৩| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:৩৭

সারাফাত রাজ বলেছেন: বিস্তর আলোচনা। অনেক কষ্ট করে অনেক সময় নিয়ে লিখেছেন। বেশিরভাগ বিষয়গুলো বোধগম্য হয়নি, আরো কয়েকবার পড়তে হবে।

এতোকিছু নিয়ে আলোচনা করেছেন, অনেক ধন্যবাদ ভাই।

:)

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:০৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: সারাফাত রাজ ,




ধন্যবাদ আপনাকেও লেখাটি পড়ার জন্যে । বিস্তৃত লিখতে হয়েছে এ কারনে যে , পাঠকেরা যেন এমন একটি জটিল বিষয় সহজ ভাবেই বুঝতে পারেন ।

শুভেচ্ছান্তে ।

২৪| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:১৫

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: আমার মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে বেশি সচল থাকে আবার কখনো কম।
বাদ দেই এসব কথা, রাতে ভাত না খেলে আমার ঘুম আসে না!

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৪৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) ,




রাতে ভাত না খেলে আপনার ঘুম আসে না ? এতো সাংঘাতিক রোগ । নিশ্চয়ই কোনও তার ছিঁড়ে গেছে কোথাও । একটা কাজ করতে পারেন, পোলাও / বিরিয়ানীর স্কচ টেপ দিয়ে ( মানে খেয়ে ) ঐ ছেঁড়া তারখানা জোড়া দিয়ে দেখতে পারেন নতুন ষ্টাইলে ঘুম আর ঘুমের সাথে স্বপ্নরাও আসে কিনা ! :P

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ ।

২৫| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:৪৪

পুলক ঢালী বলেছেন: অনেককক জটিল এবং কঠিন বিষয়কে কি সুন্দর দক্ষতায় রম্য করে সহজ পাঠে রূপান্তর করেছেন সত্যি অতুলনীয়। ডোপামিন সেরোটেনিন এগুলো ঔষধ মনে করতাম। হায় একদম শেষে গিয়ে সোডিয়াম আর ক্যালসিয়াম আয়নের গল্প? এই যৌগগুলি ছিলো আর আকাশ থেকে বজ্রপাত হয়ে কি প্রানের বিকাশ হলো??? (হা হা হা সাইন্স ফিকশন মজা করলাম!! আপনার অনেক পরিশ্রমের ফসল এই পোষ্ট সংশ্লিস্টদের অনেক কাজে লাগবে) জ্যান্ত মস্তিস্ক নিয়ে গবেষনা পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছে কিনা জানিনা মৃত মস্তিস্কের ষ্টাডি থেকে জ্যান্ত মস্তিস্কের কার্যকলাপ কতটুকু বের করা সম্ভব ধারনা নেই।
সুন্দর পোষ্ট উপহার দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। :)

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: পুলক ঢালী ,




ভালো লাগলো সুন্দর এই মন্তব্যটি ।
মস্তিস্ক সম্পর্কে সব গবেষণাই জীবন্ত মস্তিস্ক নিয়ে হয় । মৃত মস্তিস্কের তো সাড়া দেয়ার ক্ষমতা থাকেনা । তার সব নিউরোনই তো মৃত । সাড়া দেবে কে ?
মস্তিস্কের ষ্টাডি থেকে জ্যান্ত মস্তিস্কের কার্যকলাপ কতটুকু বের করা সম্ভব ধারনা নেই।
আপনার এমন কথার জবাব এখানে দিয়েছি আমি ---- শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে গেছে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা (Scientific Exploration) আর ধারনার (Speculation) গবেষনায় তার পরেও মানুষের মস্তিষ্ক রয়ে গেছে এখোনও মানুষের নিজের কাছেই রহস্যময় । এমনকি এটি ফিজিওলজী ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের কাছেও রয়ে গেছে প্রায় অচেনা ।

আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ এই জটিল বিষয়টি নিয়ে লেখাটি পড়ার জন্যে ।
সতত শুভেচ্ছা ।

২৬| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:০৭

সামিয়া বলেছেন: বিশাল হুলস্থুল আর্টিকেল ।।

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৫৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: ইতি সামিয়া ,




হুমমমমমম... হুলস্থুল তো বটেই । যে মগজটার সম্পর্কে পড়বেন সে মগজটাই তো তখন হুলস্থুল বাঁধিয়ে দেবে ! B-)

২৭| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৩৮

নায়না নাসরিন বলেছেন: জি এস ভাইয়া ঠিক সক্কাল বেলাই আপনার লেখাটা আলোচিত পাতায় দেখলাম। কাজের ঝামেলা থাকা বিধায় কমেন্টস করতে পারি নি । আমার প্রিয় শায়মা আপু সঠীক বলেছে। এটা হল আমাদের ব্লগের সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেস্ঠ লেখা এমন জ্ঞ্যেনী আর সুন্দর লেখা সামহোয়ার ব্লগে নজরে আসে নি ।
ভালোলাগা সহ প্রিয়তে নিয়ে শোকেসে রাখলাম । ভালো থাকবেন ভাইয়া আর সকল সময় আমাদের জন্য এমন লেখা দিবেন :)

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: নায়না নাসরিন ,




আমারও ভালো লাগলো আপনার এমন করে বলাতে আর লেখাটিকে প্রিয়তে নেয়াতে ।
গুরু একটা দায়িত্ব দিলেন - এমন লেখা লিখতে হবে বলে । দেখি , কি হয় !
ভালো থাকুন আর আনন্দে ।

২৮| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: লেখাটি অাদ্যপান্ত আবার পড়লাম । একটি কথাই মনে হয়েছে সেটা হলো শায়মাপু সঠিক কথাটি্‌ই বলেছেন আমার মনে হয়েছে এই লেখাটা আমাদের ব্লগের সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেস্ঠ লেখা! আমিউ তাঁর এ কথার সাথে সম্পুর্ণ একমত ।

মস্তিস্কের গঠন , এর ক্ষমতা এবং কার্যাবলী নিয়ে অতি সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলায় এত সুন্দর প্রবন্ধ এখনো চোখে পড়েনি । চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানের ছাত্র না হলেও যে কেও অতি সহজেই এমন একটি জটিল বিষয় হতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করতে পারবেন । লেখাটি আমাদের দেশের মাধ্যমিক , উচ্চ মাধ্যমিক এবং মেডিকেল ছাত্র ও প্রফেশনালদের কাছেও মুল্যবান একটি পাঠ্য বিষয় হিসাবে গন্য হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । আমার ধারণা লেখাটি একটি পরিপুর্ণ পুস্তক আকারে প্রকাশ হতে পারে ( যদিনা ইতিমধ্যে এটা আপনার কোন পুস্তক আকারে প্রকাশিত না হয়ে থাকে )। লেখাটিতে আমাকে আবারো কয়েকবার ফিরে অাসতে হবে বলে প্রতিতি হচ্ছে । কথা হবে তখন ।

শুভ কামনা রইল ।

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




ভালোবাসেন বলেই এমন প্রশংসা করেছেন । যদিও এই ব্লগে এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ অনেক অনেক লেখাই আছে ।
তবে , এরকম একটা জটিল বিষয় প্রাঞ্জল বাংলায় লিখে সহজবোধ্য করতে চেষ্টার ত্রুটি করিনি । না , আমি হলুম সখের লিখিয়ে । বই বেরুবে কোত্থেকে ?
আবার আসুন কথা হোক । যতো কথা ততোই জানা ।
ততোক্শন ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন ।

২৯| ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৫:২০

নিশাত১২৩ বলেছেন: আহমেদ জী এস ,
অনেকদিন দেশের বাইরে ছাড়াও রোজা ঈদ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ব্লগে আসা হয়ে উঠেনি। আশা করছি ভালোই কাটছে আপনার সময়। আজ ব্লগে অনুসারিত তালিকা ধরে এসে দেখলাম অসাধারন এক লেখা লিখে বসে আছেন ।
ব্লগার শায়মার মত আমার ও মনে হয়েছে এই লেখাটা আমাদের ব্লগের সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেস্ঠ লেখা! আমি তাঁর এ কথার সাথে সম্পুর্ণ একমত ।
মনে পরলো ছোটবেলায় পড়া বিশিস্ট বিজ্ঞানী ডঃ আব্দুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দিন সাহেবের ছোটদের জন্য লেখা বিজ্ঞানের বইগুলোর কথা ? উনিও গল্পের ছলে কি অনায়াসে কঠিন কঠিন বিজ্ঞান বিষয়গুলোকে আমাদের ছোটদের চোখের সামনে ্তুলে ধরতেন ভাবলে আজও অবাক হই ।
হ্যাটস অফ টু ইউ এমন একজন কো ব্লগারকে সাথী হিসেবে পেয়ে ।
প্লাস দিয়ে গেলুম :)

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৪০

আহমেদ জী এস বলেছেন: নিশাত১২৩ ,




অসাধারণ লিখেছি কিনা জানিনে । কোনও লেখা অসাধারণ হয় পাঠকের পড়ার চোখেই । আপনার যা যা মনে হয়েছে তা লেখকের প্রতি আস্থা থেকে সম্ভবত । কারন বলেছেন -- "হ্যাটস অফ টু ইউ এমন একজন কো ব্লগারকে সাথী হিসেবে পেয়ে ।"
জানিনে আপনার এমন প্রতিক্রিয়ার সম্মান আমি ধরে রাখতে পারবো কিনা । চেষ্টা থাকবে আপনাদেরও সাথী হয়ে থাকার ।

আশা করি, এখন স্থিত হয়েছেন । মগজের সেরোটোনিনে টান ধরেনি মনে হয় !
ভালো থাকুন আর আনন্দে ..................

৩০| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১:২৬

ধ্রুবক আলো বলেছেন: নেটওয়ার্ক খারাপ, সামুতে লগইন করাও কষ্ট, পুরো লেখাটা এখনো সম্পূর্ণ পড়া হয়নি, নেটওয়ার্ক ভালো হোক, তারপর সময় নিয়ে পুরোটা খুব মনোযোগ সহকারে পড়বো।

আমার প্রথম কমেন্ট টা ছিলো কিছু অংশে পড়ে দেয়া, যে বিষয় নিয়ে লিখেছেন তা আমার খুব পছন্দের।

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: ধ্রুবক আলো ,




খুব ভালো লাগলো আপনাকে আবার দেখে এবং আপনার পছন্দের লেখা লিখতে পেরেছি বলে ।
সবটুকু পড়ুন সময় পেলে আর নেটওয়ার্ক ভালো হলে ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৩১| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১:৫৬

শায়মা বলেছেন: আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি চান । কিছুই করতে হবেনা , বেশি বেশি করে কুসুম সহ ডিম, পনির ( বিশেষ করে সিডার চীজ ), টফু, বাদাম খেতে পারেন যেখানে প্রচুর ট্রিপ্টোফ্যান থাকে ।
ট্রিপ্টোফ্যান হলো সেরোটোনিনের প্রিকারসর ।

আরে এসব তো আমি অনেক খাই! রোজ রোজ খাই আর তাই তো আমার মনে এত আনন্দ! নিরানন্দরা আসলেই এক ঘায়ে কুপোকাত করে দেই ! :) আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি চান । কিছুই করতে হবেনা , বেশি বেশি করে কুসুম সহ ডিম, পনির ( বিশেষ করে সিডার চীজ ), টফু, বাদাম খেতে পারেন যেখানে প্রচুর ট্রিপ্টোফ্যান থাকে । ট্রিপ্টোফ্যান হলো সেরোটোনিনের প্রিকারসর ।

আরে এসব তো আমি অনেক খাই! রোজ রোজ খাই দেখো....



আর তাই তো আমার মনে এত আনন্দ! নিরানন্দরা আসলেই এক ঘায়ে কুপোকাত করে দেই ! :)

এর সাথে যদি খানিকটা ব্যায়াম, রোদে ভেজা আর পজিটিভ চিন্তার অভ্যেস করে নিতে পারেন তো সোনায় সোহাগা ।

আর এসব তো আছেই! যাক বাবা নো চিন্তা ! :)

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:১২

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা ,





হুমমমমমমমমমমমমম... এ কারনেই আপনার মাথা অনেক ঠান্ডা । যারা আনন্দে থাকে তাদের মাথা ঠান্ডাই থাকে । কিন্তু নিরানন্দরা আসলেই এক ঘায়ে কুপোকাত করে দেয়াটা কি আনন্দময় কাজ ? :-<
"অন্ধজনে দেহ আলো" র মতো এটা হলে ভালো হয়না -- "নিরানন্দে দাও হে আনন্দ" ? এমন সম্প্রদানেই তো দাতার আনন্দ । তাইনা ?

ভালো লাগলো ছবির সবকিছু খান দেখে । কিন্তু সাবধান, হৃদয়ে আটকে গেলে "ওয়ান ওয়ে টিকিট টু দ্য ব্লু " না হয়ে যায় । :P
তবে খানিকটা ব্যায়াম, রোদে ভেজা আর পজিটিভ চিন্তার অভ্যেস করেন বলে "নো চিন্তা" করার চান্স নেই । এমন খুশিতে আর আনন্দে হাত থেকে ডাম্বেল-বার খসে মাথায় পড়তে পারে , রোদে ত্বকের বারোটা বাজতে পারে আর বেশি পজিটিভ চিন্তায়...... ......... কি হতে পারে ??????????????????????????? দাঁড়ান, ডোপামিনটাকে বুষ্ট-আপ করে আসি তখন দু'য়ে দু'য়ে চার মেলাতে পারবো !!!!!! B-)

ভালো থাকুন আর আনন্দে .............

৩২| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:৫৯

আখেনাটেন বলেছেন: এক নিশ্বাসে পড়ে ফেললুম। বিষয়গুলো কিছুটা আগে থেকেই জানা ছিল বলে পড়েও মজা লাগল।

এত চমৎকার করে উপস্থাপন করেছেন বলে হিমালয়সম ধন্যবাদ। সোজা প্রিয়তে।

২০ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: আখেনাটেন ,




অনিবার্য কারনে বেশ ক'দিন ব্লগে আসিনি । তাই মন্তব্যের উত্তর দিতে দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে দুঃখিত ।
প্রিয়তে নেয়ার জন্যে অশেষ ধন্যবাদ । আর বিষয়বস্তু তো আমাদের প্রতিদিনকার সকল ক্রিয়াকর্মের কার্যকরন-ই । মজা না লেগে যাবে কই ?
ভালো থাকুন ।

৩৩| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:০১

মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: সোজা প্রিয়তে.......

২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৩১

আহমেদ জী এস বলেছেন: মেঘনা পাড়ের ছেলে ,




প্রিয়তে নিয়েছেন জেনে বুকের মাঝে যেন মেঘনার ঢেউ দোলা দিয়ে গেলো ।

অনিবার্য কারনবশতঃ বেশ ক'দিন ব্লগে আসিনি । তাই মন্তব্যের উত্তর দিতে দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে দুঃখিত ।

৩৪| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:০০

মোঃ মঈনুদ্দিন বলেছেন: এত জাইগান্টিক আর বিষয়বহুল লেখা তাৎক্ষনিক পড়া সহজ হচ্ছে না। তাই পছন্দ করেই প্রিয়তে নিলাম। যতটুকু পড়েছি এক কথায় অসাম! ধন্যবাদ এত বিশাল তথ্যবহুল লিখার জন্য।

২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৪৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোঃ মঈনুদ্দিন ,





প্রিয়তে নিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো ।
এমন মন্তব্যে একজন লিখিয়ে উৎসাহিতই হবেন নিঃসন্দেহে ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে । আর.... প্রতি মন্তব্য করতে দেরী করে ফেলেছি বলে দুঃখিত ।

৩৫| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:২৫

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: প্রতিউত্তরে অনেক সুন্দর পরামর্শ পেয়েছি ভাই, বুঝতে পেরেছি কিছুটা। দোআ করবেন ভাই।
আপনার এই পরামর্শ আমার চোখের সামনে ভেসে থাকবে, চেষ্টা করবো।
অজান্তেই কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন, প্লীজ প্লীজ।

শুভকামনা জানবেন সবসময়।

২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:০৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন ,




আবারও ফিরে এসে মন্তব্য করেছেন দেখে কৃতজ্ঞ ।

অনিবার্য কারনবশতঃ বেশ ক'দিন ব্লগে আসিনি । তাই মন্তব্যের উত্তর দিতে দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে দুঃখিত ।

শুভকামনা আপনার জন্যেও । ভালো থাকুন ।

৩৬| ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: মনের বিভিন্ন অবস্থা আর মনের নানা রোগের কারণ জানার জন্য আমি কিছুদিন ধরে আগ্রহবোধ করছিলাম। পোস্টটা পড়ে অনেক কিছু বেশ সহজবোধ্য হল - বিশেষ করে ডিপ্রেশন আর সিজোফ্রেনিয়ার কারণসমূহ। ধন্যবাদ তাই, এমন উপকারী পোস্ট দেবার জন্যে।

মস্তিষ্কর কার্যকরন বুঝতে পারলেও গঠন বুঝতে আরো পড়তে হবে। তাই পোস্টটি আপাতত বুকমার্ক করে রাখলাম।

২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা ,




ভালো লাগলো এটা জেনে যে, আপনার আগ্রহের জায়গাটি কিছুটা হলেও ছুঁয়ে যেতে পেরেছি ।
পোস্টটি বুকমার্ক করে রাখাতে ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৩৭| ০৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ২:৫৩

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: তাই তো বরাবরই নিজেকে রিফ্র্রেস আর ফর্মেট করে চলেছি :-P

২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: সচেতনহ্যাপী ,




ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
তবে, অনিবার্য কারনে বেশ ক'দিন ব্লগে আসিনি । তাই মন্তব্যের উত্তর দিতে দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে দুঃখিত ।

৩৮| ০৯ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ২:১২

উম্মে সায়মা বলেছেন: আজ পড়ে ফেললাম অসাধারণ পোস্টটি আহমেদ জী এস ভাই। একটুকরো বিজ্ঞানের জ্ঞান দেবার জন্য ধন্যবাদ জানবেন। এটা পড়ে 'ইনসাইড আউট' নামে একটা এ্যানিমেশান মুভির কথা মনে হল। সেখানে মানুষের বিভিন্ন অনুভূতিকে পার্সোনিফাই করা হয়েছে......। মেডিকেল সায়েন্সের বইগুলো যদি আপনার মত এমন সুন্দর বাস্তব উদাহরণ আর মজা করে লেখা হত তবে তা সাহিত্যের মতই মজার বিষয় হয়ে যেত!
অনেক অনেক শুভকামনা.....

২১ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:১৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: উম্মে সায়মা,



অনেক ভালো লাগার মতো আপনার মন্তব্যটি । জটিল একটি বিষয়কে সহজবোধ্য করতে গিয়ে মজা করেই লিখতে হয়েছে । নইলে পাঠক বুঝবেন কি করে !

অপ্রত্যাশিত কারনে বেশ কদিন ব্লগে আসিনি তাই আপনাকে এই যে অপেক্ষা করিয়ে রাখলুম, সেজন্যে ক্ষমাপ্রার্থী ।
শুভকামনা আপনার জন্যেও ।

৩৯| ০৯ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৩৪

শামছুল ইসলাম বলেছেন: মস্তিষ্ক নিয়ে এমন একটা চমৎকার লেখা এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পড়লাম । ছবি গুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়, মন জুড়িয়ে যায় - মস্তিষ্ক ঠান্ডা করে ভাবি - কত পরিশ্রমের ফসল এই লেখা।
সেখানে একটু গড়বড় হয়ে গেলে ভুত দেখার মত কত কিছুই না দেখা হয়ে যায় ।

"শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে গেছে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা (Scientific Exploration) আর ধারনার (Speculation) গবেষনায় তার পরেও মানুষের মস্তিষ্ক রয়ে গেছে এখোনও মানুষের নিজের কাছেই রহস্যময় । এমনকি এটি ফিজিওলজী ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের কাছেও রয়ে গেছে প্রায় অচেনা । কারন কি ?
কারনটি তাহলে খুলেই বলি – "
.... কারণটা খুলে বলতে গিয়েই মাথার খুলির ভিতরের রহস্যময় জগতের ভিতরের কথা সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন । কোথাও মস্তিষ্ক সাড়া দিয়েছে - বুঝেছি, কোথাও মস্তিষ্ক সাড়া দেয়নি - বুঝতে পারিনি । হয়তো আরো বার দু'য়েক পড়লে মস্তিষ্কের কাছে সবই পরিষ্কার হয়ে যাবে ।

প্রিয়তে নিলাম - এত ছোট্ট একটা মাথায় এত জটিল জিনিসটাকে মাঝে মাঝে দেখতে বড় ইচ্ছে করবে ।

আহমেদ জী এস ভাইকে সশ্রদ্ধ সালাম এমন সুন্দর-বিশদ একটা পোস্টের জন্য ।

২১ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৫০

আহমেদ জী এস বলেছেন: শামছুল ইসলাম ,




এমন মন্তব্যে প্রচন্ডরকম আপ্লুত । আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
তবে ক্ষমা চাইছি এমন মন্তব্যের জবাব দিতে অনেক দেরী করে ফেলেছি বলে ।

ভালো থাকুন আর আনন্দে ............

৪০| ০৯ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:১১

শামছুল ইসলাম বলেছেন: Serotonin (সেরোটোনিন) , Dopamine (ডোপামিন) , গাবা (GABA ) , Epinephrin বা Norepinephrin -- কী চমৎকার ভাবে মস্তিষ্ক কাজ করে চলেছে কিংবা অকাজে জড়িয়ে পড়ছে একটু এদিক-সেদিক হলে।

রোজার উদাহরণটা দারুণ হয়েছে - আমার জটিল মস্তিষ্ককে আমিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি জেনে খুব ভালো লাগছে । আমি আমার নিয়ন্ত্রা - তাই এর বিশৃংখলার জন্য আমিই দায়ী ।

জ্ঞানের কথা অনেক সময়ই বিরক্ত লাগে । তবে আজ কোন যেন খুব ভালো লাগছে ।

২১ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:১৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: শামছুল ইসলাম ,





আবার এসে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন , আপনার সেরোটোনিন লেভেল ঠিকঠাকই আছে ।
হ্যাঁ... চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো একটা জটিল বিষয়কে সহজবোধ্য করতে । আর তখন আমার ইপিনেফ্রিন দারুন ভাবে কাজ করছিলো সম্ভবত। সহজে যাতে পাঠকেরা বুঝতে পারেন তাই সাধ্যমতো পাঠকের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসতে হয়েছে ।
হুম , মানুষ নিজের মস্তিষ্ককে নিজেই নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে । তবে সবাই সেটা পারেন না সবসময়েই ।

এই যে জ্ঞানের ( আসলে আজাইররা কিছু ) কথায় বিরক্তি না লেগে আপনার ভালো লাগছে তাতেই প্রমানিত হচ্ছে আপনার ডোপামিন বেশ সফলতার সাথেই তার কাজটি করে যাচ্ছে ।

ভালো থাকুন । অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।

৪১| ১০ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৬

জুন বলেছেন: আবার আসবো বলেছিলাম পড়া শেষ করে । মস্তিকের জটিলতম বিষয়টিকে অত্যন্ত সহজ সরল এবং রম্যের ঢং এ লিখেছেন সতি অসাধারনই বলতে হয় আপনার লেখনীকে । তবে সত্যি বলতে কি আমি যেন সেই সুকুমার রায়ের নাচের বাতিক ছড়ার বুড়োরই অবস্থা ।
বয়স হল অষ্টআশি, চিমসে গায়ে ঠুন্‌কো হাড়,
নাচছে বুড়ো উল্টোমাথায়- ভাঙলে বুঝি মুন্ডু ঘাড়!
হেঁইয়ো ব'লে হাত পা ছেড়ে পড়ছে তেড়ে চিৎপটাং,
উঠছে আবার ঝট্পটিয়ে এক্কেবারে পিঠ সটান্।
বুঝিয়ে বলি, "বৃদ্ধ তুমি এই বয়েসে কর্‌ছ কি?
খাও না খানিক মশলা গুলে হুঁকোর জল আর হরতকী।
ঠান্ডা হবে মাথায় আগুন, শান্ত হবে ছটফ্‌টি-"
বৃদ্ধ বলে, "থাম্ না বাপু সব তাতে তোর পট্‌পটি!
ঢের খেয়েছি মশ্‌লা পাঁচন, ঢের মেখেছি চর্বি তেল,
তুই ভেবেছিস আমায় এখন চাল্ মেরে তুই করবি ফেল?"
এই না ব'লে ডাইনে বাঁয়ে লম্ফ দিয়ে হুশ ক'রে
হঠাৎ খেয়ে উল্টোবাজি ফেললে আমায় 'পুশ' করে।
"নাচলে অমন উল্টো রকম, আবার বলি বুঝিয়ে তায়,
রক্তগুলো হুড়হুড়িয়ে মগজ পানে উজিয়ে যায়।"
বললে বুড়ো, "কিন্তু বাবা, আসল কথা সহজ এই-
ঢের দেখেছি পরখ্ করে কোথাও আমার মগজ নেই"।

আমারও মনে হয় তাই
তাইতে আমরা হয় না কিছু- মাথায় যে সব ফক্কিফাঁক-
যতটা নাচি উল্টো নাচন, যতই না খাই চর্কিপাক।


ভালোলাগা আগেই দিয়ে গিয়েছিলাম ভালোলাগার মতই লেখাটিতে আহমেদ জীএস।
শুভকামনা ----

২২ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন ,





ওয়াও ... কোথা থেকে কোথায় যে নিয়ে ফেললেন মগজটাকে ! আপনিও কি বুঝিয়ে বলতে চাচ্ছেন, "বৃদ্ধ তুমি এই বয়েসে কর্‌ছ কি? :(
হা......হা......হা...... করছিটা কি ? করছি " ঢের খেয়েছি মশ্‌লা পাঁচন, ঢের মেখেছি চর্বি তেল..:D
তাতে কি হয়েছে ? মনে হয় আমার ডোপামিন আর সরোটোনিনে গন্ডগোল লেগে গেছে । :((
একারনেই আমার হয় না কিছু- মাথায় যে সব ফক্কিফাঁক-
যতটা নাচি উল্টো নাচন, যতই না খাই চর্কিপাক।
B-))
তাই আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হলো, এই পোস্টটি দিয়ে উল্টো নাচন নাচলুম কিনা !!!!!!!!! এরপর থেকে আপনার কবিতার কথামতো "খানিক মশলা গুলে হুঁকোর জল আর হরতকী।" খেয়ে দেখবো মগজের জট ছাড়ে কিনা !!!!!! :P

আপনাকেও আমার মগজের যতো ভালোলাগা সবটা ভান্ড উল্টো করে ঢেলে দিয়ে গেলুম .. B:-/

৪২| ১৫ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:১১

কল্লোল পথিক বলেছেন:


বেশ তথ্যবহুল ও পরিশ্রমী পোস্ট।
ধন্যবাদ ভাই।

২২ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৫৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: কল্লোল পথিক ,




অনেকদিন পরে আপনার দেখা মিললো । মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ তবে দুঃখ প্রকাশ করছি তার জবাবটি দিতে দেরী হলো বলে ।
ভালো থাকুন , সাথেই থাকুন ।

৪৩| ১৬ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:২৫

দীপান্বিতা বলেছেন: মস্তিষ্ক বড়ই জটিল বিষয়! B:-)

২৩ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:১৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: দীপান্বিতা ,




আসলেই মস্তিষ্ক একটি জটিল বিষয় । সেজন্যেই বলেছি --
শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে গেছে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা (Scientific Exploration) আর ধারনার (Speculation) গবেষনায় তার পরেও মানুষের মস্তিষ্ক রয়ে গেছে এখোনও মানুষের নিজের কাছেই রহস্যময় । এমনকি এটি ফিজিওলজী ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের কাছেও রয়ে গেছে প্রায় অচেনা ।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।

৪৪| ১৭ ই জুলাই, ২০১৭ ভোর ৬:৫১

সোহানী বলেছেন: কোথায় জী ভাই আপনি... ভুত ধরতে গেলেন নাকি প্লান চ্যাট................. !!!!!!!!

২৩ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৫৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী ,




আগেই তো বলেছি আমি ওঝা ডাকতে যাচ্ছি ! তখন কান্ডটা কি হয়েছে জানেন ? ওঝা ডাকতে গিয়ে ভুতের পাল্লায় পড়েছিলুম । সে বেটা ..... ( বেটি না কিন্তু .. ;) ) আমাকে তুলে নিয়ে তালগাছের মাথায় চড়িয়ে দিয়েছিলো । তালগাছ থেকে নামতে তাই একটু দেরী হয়ে গেলো আর কি !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

৪৫| ২১ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১২:১৯

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন: পনার এই বিস্তর গবেষণামূলক লেখা দেখেই বোঝা গেল আপনার লিম্বিক সিস্টেম বেষ স্ট্রোং, একদম পিউর জাপানিজ !!
মস্তিষ্ক বিজ্ঞান পরে তো আসল মাথাই যেন আউলাজাউলা হয়ে গেলো !! ডায়াপ্রাগমাটিক ব্রেথ নিয়ে রিলাক্স হওয়ার চেষ্টা করলাম !!

আমি এই বিষয়ে বেশ অজ্ঞ তাই আপনার সাথে আলোচনায় আঘাতে পারছিনা । তবে আপনাকে মন থেকে স্যালুট এই সব কমপ্লেক্স বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য উদাহরণ দিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বলে ।

২৪ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৩১

আহমেদ জী এস বলেছেন: কথাকথিকেথিকথন ,




বেশ আন্তরিক এই মন্তব্যে যারপরনাই আপ্লুত ।
যে যতো বেশি ডলাই-মলাই করবে তার মগজটাকে, ততো বেশিই তার লিম্বিক সিষ্টেম জাপানীজ হবে ।

হ্যাঁ .. চেষ্টা করেছি পাঠক যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন তেমন করে লিখতে । তেমনটা হয়েছে জেনে ভালো লাগলো ।
ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

৪৬| ২১ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:০২

প্লাবন২০০৩ বলেছেন: উরিবাস্‌ আহমেদ ভাই। করেছেন কি? আপনার লেখা আদ্যপান্ত পড়তে গিয়ে লেখার পাশাপাশি আরেকটা শব্দ কানে বাজছিল "উরিব্বাস্‌"।

"উরিব্বাস" শব্দটার ভুল ব্যখ্যা নিয়েন না। উরি বাব্বা+সাব্বাস=উরিব্বাস। এক কথায় অসাধারণ!!!

২৪ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৫০

আহমেদ জী এস বলেছেন: প্লাবন২০০৩ ,




একটা উরিব্বাসের ধাক্কা দিয়ে গেলেন ।

মন্তব্যে ধন্যবাদ । ভালো থাকুন আর সাথেই থাকুন ।

৪৭| ২২ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১২:০৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখক বলেছেন, " তবে "আত্মা" অন্য জিনিষ । এই আত্মা সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত । বিষয়টি মীমাংসিত নয় । "

-প্রাণ, এনাটোমি ও ফিজিওলোজিক্যাল ফাংশানেলিটির কমপ্লেক্স সিস্টেম; প্রাণের "ভাবনাশক্তি"ই হয়তো আত্মা

২৪ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী ,




হতে পারে আপনি যেমনটি বলেছেন , তেমন ! আবার না ও হতে পারে তা ।
জানতে হলে আরও অনেক অনেকটা সময় পাড়ি দিতে হবে মানুষকে । ততোদিন বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যাবে ।

ফিরে এসে আবারও মন্তব্য করার জন্যে ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৪৮| ২২ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১:২৫

উম্মে সায়মা বলেছেন: অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্যে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই আহমেদ জী এস ভাই। ব্যস্ততা সবারই থাকে। আশা করি সুস্থ ছিলেন। আমিও কয়দিন অনিয়মিত ছিলাম তাই কুশলাদি জানতে পারিনি.... ভালো থাকুন।

২৫ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: উম্মে সায়মা ,




ফিরতি মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ । সুস্থ্যই ছিলুম কিন্তু অন্য ব্যস্ততা ছিলো।

ভালো থাকুন আপনিও ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৪৯| ২৩ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩৬

জুন বলেছেন: আআপনাকেও ভুভুত বেটা তাআল গাআছের মাআথায় ববসিয়ে রেখেছিলো বুঝি :-&

২৫ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৫৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন ,





সেঁ রঁকমই তোঁ মঁনে হঁইতাছে আঁমার । নঁইলে নাঁমতে এঁতো দেঁরী হঁইলো ক্যাঁ ?
আঁপনে এঁতো ডঁরাইয়েন নাঁ । ভুঁতে আঁপনারে কিঁছু কঁরতে পাঁরবোনা । তোঁতলানোর দঁরকার নাঁই । ওঁঝা আঁইতাছে । B-)

৫০| ২৪ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আমি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র নই । তার পরেও বিষয়টির গুরুত্ব দেখে সময় পেলেই আমার প্রিয়তে থাকা তালিকা হতে লেখাটি একটু একটু করে পাঠ করি । আজকে গভীর মনোযোগ দিয়ে আপনার লেখার Limbic Systemটি পড়লাম । জানা গেল কত সহজে এই সিসটেমটি ফাংশনালী ও এনাটমিকেলী মস্তিস্কের বিভিন্ন লোকেসনে থাকা nuclei and cortical structures এর সাথে কত সুন্দরভাবে ইন্টার কানেকটেড । Limbic System টি autonomic and endocrine ফাংসনকে বিশেষভাবে ইমোশনাল স্টিমোলিকে কিভাবে রেগুলেট করে তা আপনার দেয়া চিত্র হতে সুন্দর করে বুঝা গেল । লেখাটি হতে বুঝা গেল যদি প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুরুহ বিষয়গুলিকে প্রচার মাধ্যমে নিয়ে আসা যায় তাহলে তা আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকার হয় । মানুষ যদি সঠিক অবস্থাটা সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে মানসিক কোন ব্যধির জন্য হাতুরে ডাক্তার , কবিরাজ কিংবা ঝারফুকের পিছনে না দৌঁড়িয়ে লোকজন প্রথমেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হবে । অল্পতেই বেচে যাবে অনেক কঠিন অবস্থার মধ্যে পতিত হওয়ার হাত হতে ।

অনেক ধন্যবাদ রইল , সময় সুযোগ মতে আবারো কথা হবে মুল্যবান এই প্রবন্ধের বিষয় নিয়ে ।

ততক্ষনে ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন এ কামনা রইল ।

২৮ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:০১

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




লিখেছেন ---লেখাটি হতে বুঝা গেল যদি প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুরুহ বিষয়গুলিকে প্রচার মাধ্যমে নিয়ে আসা যায় তাহলে তা আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকার হয় ।
হ্যা অনেকেই হয়তো পারেন । যাদের পারার কথা তারা কেন যে লেখেন না বা বই আকারে বের করেন না , আমি বলতে পারবোনা ! হয়তো অনীহা কিম্বা প্রকাশনীর অভাব !

আপনার মন্তব্য সবসময়েই অনুপ্রেরণার । এটাও তার ব্যতিক্রম নয় ।
ভালো থাকুন আপনিও সারাদিনমান ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।

৫১| ২৫ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:০০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অতি প্রয়োজনীয় বিজ্ঞানভিত্তিক পোস্ট। পুরাটা পড়া হয় নি, আর যে-কোনো সময়ে কাজ লাগবে রেফারেন্স হিসাবে। বুকমার্ক করে রাখাই উত্তম কাজ। ফ্যাভারিটেড।

২৮ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ,




হুমমমমমমম .. বুকমার্ক করে রাখাই উত্তম কাজ।
শুধু মার্ক করলেই হবেনা সময় বুঝে মনখানাকে ওখানে পার্ক করিয়ে দেয়াও সর্বোত্তম ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৫২| ২৫ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:০৬

প্রামানিক বলেছেন: সোজা প্রিয়তে নিলাম। সময় নিয়ে পড়তে হবে।

২৮ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: প্রামানিক ,




প্রিয়তে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ । সময় নিয়ে পড়লে খুশি হবো ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৫৩| ২৮ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:২২

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: আপনি কেমন আছেন?

২৮ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৩৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোহাম্মাদ আব্দুলহাক ,



ভালোলাগলো , শুধিয়েছেন কেমন আছি ।
আছি একপ্রকার , চলে যাচ্ছে দিন ।

আপনিও ভালো তো ?
ভালো থাকুন আর সহি-সালামতে থাকুন ।

৫৪| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৭:৩২

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্ট পাঠান্তে প্রথম প্রতিক্রিয়াঃ স্রষ্টার এমন নিপুণ কর্মশৈলীর কথা জানতে পেরে বিস্ময়ে, চমকে, শ্রদ্ধায় মাথাটা নুয়ে এলো!
দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়াঃ 'লাইক' এবং 'প্রিয়' বাটনে ক্লিক।
তার পরের প্রতিক্রিয়াঃ আসছি একটু পরেই...

৫৫| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৭:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমাদের মস্তিষ্ক এবং এর কার্যপ্রণালীর এতটা কাব্যিক ধারা বর্ণনা এর আগে আমি কোথাও পড়িনি, আর কেউ আপনার মত এতটা সুনিপুণভাবে তা বর্ণনা করতে পারবেন, সে কথাও আমার বিশ্বাস হয় না। স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন একটা প্রবন্ধ পড়তে আমার খুবই ভাল লাগতো, প্রবন্ধটির নাম ছিল "কবিতা ও বিজ্ঞান"। সম্ভবতঃ সাহিত্যিক, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী কাজী মোতাহার হোসেন এর লেখা ছিল সেটা। আপনার এ লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে, বিজ্ঞানী না হয়েও হয়তো কবি হওয়া যায়, কিন্তু কবি না হয়ে বোধকরি বিজ্ঞানী হওয়া যায় না।

৫৬| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৮:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমাদের শরীরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা বুঝিয়ে দেয়া ৬ নং ছবিটা অত্যন্ত চমৎকার! আর ৯ নং ছবি দিয়ে বোঝানো "নিউরোনের নেটওয়ার্ক" অত্যন্ত বিস্ময়কর। আর বিস্ময়ের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এসব জেনে, যেমনঃ
বিজ্ঞানীরা বলছেন এই নেটওয়ার্ক আপনার মস্তিষ্কে জন্ম থেকেই “ফিক্সড” নয় । আপনার প্রতিদিনকার নতুন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার আগে থেকেই থাকা নেটওয়ার্কে নতুন নতুন সংযোগ তৈরী হয়ে যাচ্ছে । ঠিক যেন নতুন নতুন সার্কিট । এই সংকেত আদতে একটি জৈব-রাসায়নিক সংকেত অর্থাৎ বায়োকেমিক্যাল মেসেজ
আপনার তর্জনীকে নাড়াতে যে সেন্টারটি দায়ী তাদের লোকজন (নিউরোনগুলি) হরতাল ডেকে বসেছে । অথবা সেখানে লোড-শেডিং হয়েছে যাতে কাজকর্ম সাময়িক ভাবে বন্ধ রয়েছে । আর যদি সেখানকার নিউরোনগুলিকে ক্রস-ফায়ারে ফেলে দেন (অর্থাৎ নিউরোনগুলি মরে যায়) তবে ইহজন্মে আপনি আর তর্জনী তুলে কাউকে শাসাতে পারবেন না । খুব সহজ ভাবে এটুকু মনে রাখুন - এর চেয়ে সহজ করে এ কথাটা আর কেউ বোঝাতে পারবেনা, ভাই।

৫৭| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৮:৪৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: বিভিন্ন Synapse এলাকাতেই যে বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড ঘটে থাকে তা-ই আপনার জীবনের ছন্দ । এই বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ডের ফলাফলের নামই Life বা জীবন - আহা! কি কাব্য করেই না বললেন কথাটা!
ছবি - ১০. খালি চোখে দেখা যায়না এমন একটি সিন্যাপস এলাকায় জীবনের সব জটিল রসায়ন ঘটে চলেছে আপনার অজান্তেই! - আরও একটা বিস্ময়!
এখন কথা হলো আপনার শরীর বুঝবে কি করে এটা বিছুটি পাতা নাকি প্রিয়ার ঠোট! -- হা হা হা, এভাবেও ভাবতে পারেন? :) :)
আর পঞ্চ ইন্দ্রিয় তো আছেই যাদের ভেতরে ঠাসা আছে এরকমের ভিন্ন ভিন্ন রেসেপ্টর! - বিস্ময়, বিস্ময়!
নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে যদি আপনি স্নায়ুর শব্দ (Neural Words) হিসেবে ধরে নেন তবে নিউরোনগুলি বিভিন্ন ভাষাতে কথা বলে - চমৎকার!

৫৮| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৯:১৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: জব্বারের গরু যদি আব্দুলের গাছ খেয়ে ফেলে তবে এর বিচার আচারের জন্যে কি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবার দরকার আছে ? নেই । এই বিচার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যই করে দিতে পারেন । আমাদের শরীরও ৯৫ ভাগ সংবেদন নিয়ে তেমনটা করে থাকে অর্থাৎ লোয়ার কোর্টের কাজটি করে থাকে। মস্তিষ্ক কেবল মাত্র সুপ্রিম কোর্টের কাজটি করবে যেখানে চুলচেরা বিশ্লেষনের প্রয়োজন হয়[/si -- হা হা হা, এর চেয়ে সহজ করে কথাটা আর কিভাবে বুঝানো যাবে?
এখন যদি এই ঘটনাটি রোকেয়া হলের সামনে ঘটে আর আপনার আশেপাশে মেয়েরা থাকে তবে আপনাকে অনেক কিছু ভাবতে হবে , অর্থাৎ চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে । এই সময়ই আপনার মগজটি মাথা ঘামাতে শুরু করবে । পরিবেশ , পরিস্থিতি বুঝে সে আপনাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশটি দেবে -- :) বুঝলাম!
আবেগপ্রবনতা আর অনুভুতি ছাড়া জীবনের কোনও রং নেই, এটা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু জানিনা যে এগুলো হলো কতকগুলি জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল। - এখন অবশ্য আপনার সৌজন্যে তা জানতে পারলাম।
আমরা মানুষটি কেমন তা নির্ভর করবে লিম্বিক সিস্টেমের আচরণের উপর -- অতীব বিস্ময়কর!
আপনি যদি আপনার প্রেমিকাকে আসতে দেখেন তখন আপনার এই Amygdala এলাকাটিই আপনাকে পরিস্থিতি বুঝে নির্দেশ দেবে আপনি পালিয়ে যাবেন (যদি পকেটে পয়সা না থাকে ) নাকি তাকে নিয়ে চাইনিজ খেতে (যদি পকেট ভারী থাকে) যাবেন -- এমন অসালো ব্যাখ্যা সত্যিই তুলনাহীন!

৫৯| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৯:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: এখানেই - "সখি ভালোবাসা কারে কয়" গল্পটি লেখা হয় - কবিদের এ এলাকাটা অনেক উর্বর থাকে মনে হয়।
আপনি মানুন আর না-ই মানুন, আপনি স্বাভাবিক মানুষ হলে এই কেমেষ্ট্রির হাত থেকে আপনার রেহাই নেই । আপনার শরীরের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে " আই লভ য়্যু" সঙ্গীত বাজবে -- বাহ! কি চমৎকার!
তেমনি আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি প্রাকটিস করতে পারেন নিয়মিত । মেডিটেশানের ধারনা সম্ভবত এখান থেকেই সৃষ্টি । আপনি নিজেই নিজের সব কাজের নিয়ন্তা । কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এখানে । শুধু লাগবে আপনার সদিচ্ছা, একাগ্রতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসা - একেবারে শেষের এই কথাগুলো বডডো reassuring ভাই, যারা এসব জটিলতায় ভুগছে, তাদের জন্য আশার আলোকবর্তিকা।
পরিশেষে, এমন একটি চমৎকার, পরিশ্রমসাধ্য, বিশ্লেষণাত্মক এবং জনহিতকর পোস্টের জন্য আপনাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানাচ্ছি, ডক্টর আহমেদ জী এস!
হ্যাটস অফ্!

৬০| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:০০

খায়রুল আহসান বলেছেন: এই পোস্ট পড়ে লাভ করা অজানা কিছু তথ্য এখন আমি অন্যদেরকে জিজ্ঞাসা করে তাদের জ্ঞানের মাত্রাটাও পরখ করে নিতে পারবো, আবার বন্ধু মহলে কুইজ আকারে জিজ্ঞাসা করে নিজেও বিদ্যেটাও জাহির করতে পারবো :) । আমার Hippocampus এলাকাটিতে আপাততঃ নিম্নলিখিত তথ্যগুলো “মেমোরী” হিসেবে সংরক্ষণ করার অনুমতি পাওয়া গেছেঃ
১। আমাদের মগজের ওজন মাত্র ৩ পাউন্ড । অল্প জায়গা জুড়ে থাকা এই মগজে আছে ১৬ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ বা নিউরোন।
২। আরো আছে ১৫০ বিলিয়ন নিউরোগ্লিয়া বা সংক্ষেপে শুধু “গ্লিয়া”, যাদের কাজ সর্বক্ষন নিউরোনকে পরিচর্যা আর সংস্কার করা।
৩। আমাদের মাথার খুলি ২০টি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত।
৪। মগজের সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িড (CSF) আমাদের মগজে পুষ্টির যোগান দেয় আর বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
৫। মগজের সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার (Cerebral Hemisphere) –এ আমাদের কল্পিত “ভুত-প্রেত-পরীরা” বাস করে। ডান হেমস্ফিয়ারটি আমাদের শরীরের বামদিকের সকল কাজ আর বাম হেমস্ফিয়ারটি ডানদিকের সকল কাজ নিয়ন্ত্রন করে (এই পরের কথাটুকু অবশ্য আগেও জানতাম)।
৬। আমাদের মস্তিষ্কের Frontal Lobe আমাদের মাংশপেশীর কার্য্যক্রমকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে । Parietal Lobe আমাদের যাবতীয় অনুভুতিগুলোকে সংগ্রহ করে থাকে । দৃষ্টিকে শাসন করে থাকে Occipital Lobe আর Temporal Lobe আমাদের কথা বলাকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে । এছাড়াও আরো শতশত রহস্যজনক কাজকর্ম যেমন সচেতনতা, রাগ-অনুরাগ, আবেগ, অনুভুতি, সৃজনশীলতা, মোহ-মায়া ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রন করে থাকে এই এলাকাগুলিই।
৭। আমাদের মস্তিষ্কের সেরেব্লাম (Cerebellum) এলাকাটি মস্তিষ্ক এমনকি আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষার কেন্দ্র । এখানেই আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়াকে পরিমার্জিত (Refined) ও সমন্বিত (Co-ordinated) করা হয় । আমাদের চলাচলে যখন একটি কাব্যিক ভাব এসে যায় তখন আমাদের মুভমেন্টের ছন্দময় কবিতাটি এই এলাকাতেই লেখা হয় । ভালো একটা উদাহরন হলো র্যারম্পে মডেলদের ক্যাট-ওয়াক । যার Cerebellum যতো ছন্দময়তা সৃষ্টি করতে পারে র্যা ম্পে সে ততো দৃষ্টি নন্দন তার চলাফেরায়। (এরপরে যখনই বেড়াল হাঁটার কোন আসরে কারো ছন্দময় হাঁটা দেখবো, তখনই নিশ্চয় “সেরেব্লাম” কথাটা মনে পড়বে :) ।)
৮। আমাদের মেরুদন্ড বা স্পাইনাল কর্ডটি যেখানে মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত হয়েছে সে এলাকাটির অর্থাৎ Medulla এলাকাটির নিউরোনগুলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কেন্দ্র যেমন হার্ট-রেট নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র (Heart rate control centre), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র (Centre for Breathing) কব্জা করে রেখেছে। তাই এদের ঘুমানোর কোন অবকাশ নেই । এদের ঘুম মানে আমাদের দেহের চিরনিদ্রা।
৯। আমাদের গৃহকর্মে ব্যবহৃত প্রচলিত ইলেকট্রিক তারে যেমন দু’রঙের তার আমরা দেখতে পাই, তেমনি আমাদের স্পাইনাল কর্ড এর ভেতর দিয়েও দুটো তার বিছানো রয়েছে, যার একটিকে আমরা বলি – Sensory fibre যা অনুভুতিগুলোকে মগজে নিয়ে আসে আর অন্যটি হলো Motor fibre যা মগজের নির্দেশকে পৌছে দেয় প্রান্তীয় অঞ্চল পর্য্যন্ত ।
১০। আমাদের মগজটির ওজন আমাদের শরীরের ওজনের মাত্র ২% হলেও নিজের জন্যে মগজটি শরীরের রক্ত-সঞ্চালনের এক তৃতীয়াংশই বরাদ্দ দিয়ে রাখে। একনায়ক বটে!
১১। বিভিন্ন Synapse এলাকাতে যে বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড ঘটে থাকে তা-ই আমাদের জীবনের ছন্দ। এই বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ডের ফলাফলের নামই Life বা জীবন!
১২। আমাদের শরীরে ৩১ জোড়া Spinal Nerves আছে । এরাই হলো আমাদের শরীর-রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থানীয় সরকার বা Local Government বা প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্র।
১৩। ব্যক্তি আমরা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের ক্রীড়নক । আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ব্যক্তি-আমাদেরকে দিয়ে শুধু কাজগুলো করিয়ে নেয়।
১৪। আবেগপ্রবনতা আর অনুভুতি ছাড়া জীবনের কোনও রং নেই, এটা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু জানিনা যে এগুলো হলো কতকগুলি জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল।
১৫। আমরা মানুষটি কেমন তা নির্ভর করবে লিম্বিক সিস্টেমের আচরণের উপর।
১৬। Hippocampus হলো আমাদের মস্তিষ্কের শিক্ষামন্ত্রনালয় । মগজের এই এলাকাটি আমাদেরকে শিখতে সাহায্য করে, কতটুকু তথ্য আমরা আমাদের মগজে জমা রাখতে পারবো “মেমোরী” হিসাবে, তা ঠিক করে দেয়। অর্থাৎ Hippocampus এলাকাটি যার যতো বেশী সক্রিয় তিনি ততো বেশী মেমরীতে রাখতে ও বেশী শিখতে পারবেন।
১৭। যেহেতু আমাদের সব কাজের পেছনেই রয়েছে নিউরোন, তাই মানসিক অসুস্থতা মানেই নিউরোনের অসুস্থতা (Neuropsychiatric illness)।
১৮। Serotonin (সেরোটোনিন) হলো আমাদের সুখের চাবি । এটা আমাদেরকে সবকিছু পজিটিভলি নিতে শেখায়। এটি আমাদের শিক্ষা (Learning), আমাদের ঘুম (Sleep) এবং মানসিক ভাব (Mood)এর নিয়ন্ত্রক । আমাদের মগজে বা শরীরে এর ঘাটতির বা উল্টোপাল্টা কাজের কারণে আমাদেরকে বিষন্নতা রোগে (Depression) পেয়ে বসবে । এমনকি আমরা কখনও খানিক উত্তেজিত, আবার পরক্ষনেই ম্রিয়মান হয়ে পরবো । ঘন ঘন কোনও একটা কিছু করার বাতিক চেপে বসবে।
১৯। Dopamine (ডোপামিন) মগজের একটি প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার যা আমাদেরকে জীবনের সকল লক্ষ্যে পৌঁছুতে সাহায্য করে। Dopamine এর ঘাটতি কিম্বা এদের কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডোগোল হলে আমাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হবে, একাগ্রতা হারিয়ে যাবে, বুদ্ধি যাবে ঘোলাটে হয়ে । সহজ অংক, দু’য়ে দু’য়ে যে চার হয় তাও আমরা সহজে বুঝে উঠতে পারবো না । শিলা বৃষ্টিকে আমাদের মনে হবে ঢিল ছুঁড়ছে ভুতে!
২০। গামা এ্যামিনো বিউটারিক এসিড বা গাবা (GABA ) হলো প্রকৃতির ঘুম পাড়ানীয়া গান। গাবার ঘাটতি আমাদের মগজের টেনশান সুইচটিকে “অন” করে রাখবে সারাক্ষন। কিছুতেই আমরা শান্ত হয়ে দু’দন্ড বসে থাকতে পারবো না । যখন তখন উত্তেজিত হয়ে উঠবো, আতঙ্ক পেয়ে বসবে । হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসতে চাইবে, বুকের ধরফড়ানি বেড়ে যাবে । আমাদেরকে তখন খুবই অস্বাভাবিক লাগবে।

৬১| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: একজন মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার জন্যে এগুলো মানুষকে জানতেই হয় - কি চমৎকার করেই না কথাটা বললেন ৩ নং প্রতিমন্তব্যে, আর তারপরে ঠিক একজন বড়ভাই এর মত বুঝিয়ে দিলেন মোস্তফা সোহেল কে।
আপনার মগজকে টিউন করুন । যেভাবে টিউন করবেন শরীর সে ভাবেই সাড়া দেবে (৯ নং প্রতিমন্তব্য)- চমৎকার পরামর্শ!
৯ নং প্রতিমন্তব্যে প্রদত্ত ব্যাখ্যা ভাল লেগেছে।
শুধু মানব শরীরই নয় প্রকৃতির সব কিছুই রহস্যময় । তাকে চোখ মেলে দেখতে হয়, বুঝতে হয়, অনুভবে রাখতে হয় তবেই না তার রহস্যের জট একটু একটু করে খোলে (১২ নং প্রতিমন্তব্য)- খুব সুন্দর বলেছেন!
শুধু তাইনা তোমার এ লেখা কোনো মনোবিজ্ঞান বইতেই এত সহজ প্রাঞ্জল করে কেউ কখনও বুঝাতে পেরেছে কিনা আমার সন্দেহ আছে! -- শায়মা'র ১৫ নং মন্তব্যের এ অংশটুকুর কথাই আমি আগেও একবার বলেছি, এখানেও একমত পোষণ করে গেলাম।
যুদ্ধ হতে কমপক্ষে দুটো পক্ষ থাকতে হয় । আর পক্ষ যদি একটিই হয় তবে যুদ্ধ কে কার সাথে করবে? ... আমার মনে হয় বুদ্ধিমান / বুদ্ধিমতী ব্লগাররা নিজের নিজের লিম্বিক সিস্টেমটাকে আয়ত্বে রেখে বিজ্ঞতার পরিচয় দেবেন । ধ্বংশকে রূপান্তর করবেন সৃষ্টিতে(১৬ নং প্রতিমন্তব্য) --বাহ, এটাও একটা অত্যন্ত সুপরামর্শ।
১৭ নং প্রতিমন্তব্যও ভাল লেগেছে।

৬২| ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:১৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: ভুতদের টেনে এনে তুলোধুনো করিনি তো কোথাও ! বরং মগজের মগজ ধোলাই করেছি যাতে সার্কিট ব্রেক না হয় (১৯ নং প্রতিমন্তব্য) -- হা হা :) ঠিক তাই!
বিশাল হুলস্থুল আর্টিকেল (২৬ নং প্রতিমন্তব্য) -- :) দারুণ বলেছেন ইতি সামিয়া!
৩৬ নং রতিমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৩৯ থেকে ৪২ নং মন্তব্যগুলো ভাল লেগেছে।
এই লেখাটি কি আপনি কোথাও প্রেজেন্ট করেছিলেন? করে থাকলে শ্রোতা বা পাঠকদের মিথষ্ক্রিয়া কেমন ছিল?
পুনরায় অন্তরের গভীর থেকে আপনাকে সাধুবাদ জানিয়ে গেলাম, অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় এমন একটা জটিল বিষয়কে উপস্থাপন করার জন্য।
তামাম শোধ, ইতি।

০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১২:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,





ভাবছি আর ভাবছি! এতোগুলো সুবিবেচনা প্রসূত মন্তব্যের জবাব কি ভাবে দেবো । একটি একটি করে না কি আলাদা আলাদা করে ! মগজের লোয়ার কোর্ট (মুন্সেফ কোর্ট ) এতো জটিল কাজগুলো সম্পর্কে সময় মতো রায় দিতে পারবে তো ? ভয় হয়. মামলার জট পাকিয়ে ফেলতে পারে । এতো সময় ধরে রায়ের কপি পড়ে আমাকে আমলে নিতে হলে আমার মগজের ডোপামিন আর সেরোটোনিনে টান পড়বে যে ! তখন এসব কেমিক্যালস কোথায় পাবো ? জিঞ্জিরা, মিটফোর্ড বা ধোলাই খালে ওসব মোটেও পাওয়া যায়না । সব মেইড-ইন-হেভেন ।
তাই ডোপামিন আর সেরোটোনিনের ঘাটতি এড়াতে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি তুলে দিলুম । এখন শুনানীর পালা ।

ঝটপট একটা রায় হয়তো পাওয়া যাবে । খসড়া রায় ....................

এই দুক্কুর বেলা একটা বিশাল ঢিল ছুঁড়লেন । ভুতের ঢিল নয় , একজন খুব ঋদ্ধ মানুষের ছোঁড়া ঢিল । মগজের সমুদ্রে তার তোলা ঢেউ আছড়ে পড়লো আমার ভালোলাগার সৈকতে । সেখানে যতো ঝিনুক ছিলো , তারা আনন্দে হেসে উঠলো খিলখিল করে । বাতাসে বাজলো তার ধ্বনি । আমার মগজের লিম্বিক সিষ্টেমে তাই উঠলো সিম্ফনী । নতুন নতুন সার্কিট তৈরী হয়ে গেলো অন্য এক সঙ্গীতের । দেড় কেজি ওজনের মগজখানি এমন আন্তরিকতার দেখা পেয়ে মনে হয় সবটুকুই নিজের বরাদ্দে নিয়ে হয়ে গেলো বুঝি পঞ্চাশ কেজি ! একনায়ক আর কি ! এমন একনায়কতন্ত্রেও আছে আলাদা মজা । সকল আন্তরিকতাটুকু সে তুলে রাখলো মগজের লৌহে – মাহফুজে ।

এটুকু হলো সুপ্রিম কোর্টের খসড়া রায় ......

৬৩| ০৬ ই আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:৫১

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: ভাইয়া কেমন আছেন? নিশ্চয় আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন।
আজ বন্ধু দিবস।
আজকের এই দিনে আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
হ্যাপি ফ্রেন্ডশীপ ডে। ( যদিও দিবস পালন করি না তবুও বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা জানালাম।)

০৬ ই আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫২

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোস্তফা সোহেল ,



দিবস পালন না করেও বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা জানানো, অকৃত্রিমতারই পরিচায়ক । শুভেচ্ছা আপনাকেও ....


৬৪| ০৮ ই আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯

জেন রসি বলেছেন: মগজের ভেতর বসে বসে লেখাটা আরো পড়েই ফেলেছি। :)

০৮ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: জেন রসি ,



বেশ করেছেন , লেখাটি পড়ে ! তা মগজের লিম্বিক সিষ্টেমে কিছু কি ঝনঝন করে বাজলো ?

ভালো লাগলো অনেকদিন পরে আপনার মন্তব্য পেয়ে ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৬৫| ০৮ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৫৬

জেন রসি বলেছেন: "মগজের ভেতর বসে বসে লেখাটা আরো আগেই পড়ে ফেলেছি।" হবে।

হ্যাঁ, যখন পড়েছিলাম তখন কোন বেলা ছিল মনে নেই, তবে দুএকটা ঢিল মাথার উপর দিয়ে গিয়েছিল মনে হয়! :P

মিচিও কাকুর ফিউচার অব মাইন্ড বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। আগ্রহ পাচ্ছিলাম। বাট শেষ করিনি। আবার পড়তে হবে। এ বিষয়ে কিছু বই সাজেস্ট করতে পারেন।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: জেন রসি ,




অনিচ্ছাকৃত কারনে উত্তর দেয়াতে দেরী হলো বলে দুঃখিত ।
আসলে ভুতে তো ঢিল মারেনা তাই সবকটা ঢিল মাথার উপর দিয়ে গেছে ।
বই পড়ে এটা আমি লিখিনি , লিখেছি আমার পেশার শিক্ষা থেকে । তাই এ বিষয়ে কিছু বই সাজেস্ট করা আমার ক্ষমতার বাইরে ।

৬৬| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪৯

জলপাতা বলেছেন: দারূন একটি কাজ হয়েছে। চমৎকার পোস্ট।প্রিয়তে রাখলাম

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: জলপাতা ,



আমার ঘরে এই প্রথম আপনাকে দেখে মনে হলো আমার ঘরে জল পড়ে , পাতা নড়ে !
মন্তব্যে " চমৎকার " শব্দটি লিখে আর প্রিয়তে নিয়ে আমাকে ঋণী করে রাখলেন ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৬৭| ২১ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:৩৫

রসায়ন বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট । সময় নিয়ে পড়লাম । বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে দ্রুতই পড়তে পারলাম তবে যেভাবে লিখেছেন সবার কাছেই এই জটিল বিষয়গুলো সহজবোধ্য হবে ।

মস্তিষ্ক যে কত জটিল একটা মেশিন সেটা আমরা ভেবেও দেখি না কোনকালে । প্লাস।

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: রসায়ন ,




ভালো লাগলো আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র জেনে ।
অশেষ ধন্যবাদ লেখাটিকে অসাধারণ বলে প্লাস দেয়াতে ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

৬৮| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:৩৭

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:১২

আহমেদ জী এস বলেছেন: উদাসী স্বপ্ন,





অনেক পুরোনো এই পোষ্টটিতে এসেছেন দেখে ভালো লাগলো । আর প্রিয়তে নিয়েছেন জেনে , কৃতজ্ঞ ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৬৯| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:০৬

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: পড়লাম, প্রিয়তে রাখলাম।

২৭ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: বিপ্লব০০৭ ,



ধন্যবাদ এক বছর আগের এই পোস্টটিতে আসার জন্যে ।
প্রিয়তে রেখেছেন , সে আপনার বলিষ্ঠ পাঠক মনের পরিচয়। কৃতজ্ঞ ।

শুভেচ্ছান্তে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.