নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ঢাকার বাসিন্দা- মানুষকে ভালবাসি আর ভালবাসি প্রকৃতিকে

ঢাকাবাসী

প্রকৃতিকে ভালবাসি।

ঢাকাবাসী › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্মরনীয় অধ্যায় -নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:১৮

:P



মিত্রবাহিনীর সুপ্রীম কমান্ডার জেনারেল আইসেনহাওয়ার



নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং (Normandy Landing), ২য় বিশ্বযুদ্ধের এক অবিস্মরনীয় অধ্যায় যা যুদ্ধের মোর অনেক খানিই পাল্টে দেয়। আজ সেটা সম্পর্কে দুএকটা তথ্য শুনুন।

২য় বিশ্বযুদ্ধ তখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। একদিকে হিটলারের জার্মানী,রাজা ভিত্তোরিও ইমানুয়েল-৩ এবং প্রধানমন্ত্রী পিয়েত্রো বাদোগলিও এর ইতালি আর সম্রাট হিরোহিতোর জাপান। এদের মিলিত নাম অক্ষশক্তি বা Axis Force । আর বিপরিত দিকে ছিল রুজভেল্ট থেকে ট্রুম্যানের আমেরিকা,স্যার উইনস্টন চার্চিলের বৃটেন, জেনারেল দ্যা'গলের ফ্রান্স, স্টালিনের রাশিয়া আর কানাডা সহ প্রায় সারা দুনিয়া।



স্যার উইনস্টন চার্চিল



আফ্রিকা, রাশিয়া বার্মা (মায়ানমার) এসব জায়গাতে অক্ষশক্তি বেশ মার খেয়ে কাবু হয়ে ছিল। তাদের রসদ সমরাস্ত্র শেষ হয়ে আসছিল।





ইতালির জেনারেল বাগদোলিও (পরে প্রধানমন্ত্রী)





হিটলার ও মুসোলিনী



সালটা ১৯৪৪। সেই সময় মিত্রবাহিনীর হাই কমান্ড সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স উপকুল দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে ফ্রান্স আক্রমন করে জার্মানীকে ধ্বংশ করে হারাতে হবে।

নরম্যান্ডি জায়গাটা ফ্রান্সের উপকুলে বৃটেনের উল্টোদিকে ইংলিশ চ্যানেলের অপর পারে অবস্হিত। সেই আমলে সমুদ্রপথে বিশাল একটা বহিনীকে নিয়ে আক্রমন করা খুব সহজ ছিলনা, মনে রাখতে হবে সেটা আজ থেকে প্রায় ৬৮ বছর আগের ঘটনা।





আক্রমনটার (ল্যান্ডিং) নাম দেয়া হয় অপারেশন নেপচুন (Operation Neptune) অবশ্য মূল অপারেশনের নাম ছিল অপারেশন ওভারলর্ড, নেপচুন ছিল ল্যান্ডিং অংশটার নাম।

এই অপারেশন ওভারলর্ড এর সুপ্রীম কমান্ডার ছিলেনন জেনারেল আইসেন হাওয়ার যিনি পরে আমেরিকার ৩৪তম প্রেসিডেন্ট হন।



এছাড়া ল্যান্ডিং করার জন্য ২১তম আর্মী গ্রুপের (কয়েকটা ডিভিশন মিলে একটা কোর আর কয়েকটা কোর মিলে একটা আর্মী গ্রুপ হয়) অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল মন্টগোমারি (১৮৮৭-১৯৭৬)। তার ছবি নীচে:





এতে আমেরিকা, বৃটেন, কানাডা আর ফ্রান্সের ২৪৫০০ আকাশে চলা সৈন্য (Airborne Troops) এবং ছত্রিসেনা অংশ নেয়।





এটা ছিল উভচর অপারেশন (Amphibious Operation) এর ইতিহাসে সবচাইতে বড় অপারেশন। পুরো অপারেশনের পরিকল্পনা করেন জেনারেল ফ্রেডারিক মরগান-- নীচে ছবি:





এতে প্রায় ১,৬০,০০০ সৈন্য অংশ নেয় যারা একধরনের ছোট বোটে করে সমুদ্রকুলে অবতরণ করে। পরে অবশ্য আরো সৈন্য এদের সাথে যোগ দেয়। সেইরকম বোট একটা নীচে:





এগুলি দিয়ে জীপ সহ সৈন্য কূলে অবতরন করতে পারত।



আবহাওয়া, বাতাস, চাদের অবস্হান, সমুদ্রের অবস্হা এইসব বিবেচনা করে প্রথমে ৫ ই জুন ১৯৪৪ এটা অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক প্রস্তুতি নেয়া হয়ে যায়। কিন্ত আবহাওয়া বিরূপ হয়ে পড়ল। ৪ঠা জুন ১৯৪৪--আবহাওয়া ভীষন খারাপ হয়ে গেল। অথচ এই প্রস্তুতি আবার নিতে আরো একমাস অপেক্ষা করতে হবে কারন চাদের অবস্হান, জোয়ার ভাটা সমুদ্রের অবস্হা এসব আবার সেই অবস্হায় অনুকুলে পাওয়া রীতিমত কঠিন ছিল। অথচ এই প্রস্তুত বাহিনীকে ফেরৎ নেয়া একটা বিশাল অপচয় আর বিপুল ক্ষতির ব্যাপার ছিল।

তখন জেনারেল আসেনহাওয়ারের আবহাওয়া উপদেষ্টা গ্রুপ ক্যাপ্টেন জেমস এম স্ট্যাগ (Group Capt J M Stagg : 1892- 1944) বললেন ৬ ই জুন আবহাওয়া ভাল হবে আর সেটা হবে আক্রমনের উপযুক্ত সময়। তার ছবি দেখুন:





তার কথার সাথে একমত পোষন করলেন মিত্রবাহিনীর বিমান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এয়ার চীফ মার্শাল লেই ম্যালরি (Air Chief Marshall Leigh Mallory: 1883- 1945) আর মিত্রবাহিনীর নৌবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এডমিরাল বারট্রাম রামসে(Admiral Bertram Ramsay: 1883-1945) প্রথমে আমতা আমতা করলেও পরে সম্মত হন।





মিত্র বাহিনীর বিমান সর্বাধিনায়ক এয়ার চীফ মার্শাল লেই ম্যালোরি





মিত্র বাহিনীর নৌ সর্বাধিনায়ক এডমিরাল বার্ট্রান্ড রামসে



অবশেষে সবদিক বিবেচনা করে এলাইড সুপ্রীম কমান্ডার জেনারেল আইসেনহাওয়ার ৬ ই জুন ১৯৪৪ ভোর ৬:৩০ টায় নরমান্ডির পুব পশ্চিমে ৫০ মাইল বিস্তৃত উপকূল ধরে আক্রমনের সিদ্ধান্ত নিলেন। উপকুলকে ৫টা ভাগে ভাগ করা হয় আর সেই সাথে দুটো নকল আক্রমন চালানো হয় জার্মান বাহিনীকে ধোকা দেয়ার জন্য। 'ডি' ডে তে আক্রমনের ধারা দেখুন নীচে:









ওদিকে ঐসময় ঐপথে মিত্রবাহিনী আক্রমন করতে পারে তা জার্মানরা ভাবতেই পারেনি। সাগর ছিল উত্তাল, ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল ইত্যাদি। এমনকি বিখ্যাত জার্মান ফিল্ড মার্শাল আরভিন রোমেল গেছিলেন তার স্ত্রীর জন্মদিন ছুটিতে, এছাড়া অন্যান্য অনেক জার্মান সমর নায়করাও ছুটিতে গেছিলেন। নীচে ফিল্ড মার্শাল আরভিন রোমেল (পরে আত্মহত্যা করেন):





মিত্রবাহিনীর সাত হাজারের মত জাহাজ ব্যাবহৃত হয়। এছাড়া বিমান এমনকি বেলুনও ব্যাবহৃত হয়। সকাল ৬-৩০ টায় শুরু হয়ে ৮:০০ টার মধ্যেই শেষ হয় কূলে নামা। যুদ্ধ চলে ২০শে জুন ১৯৪৪ পর্যন্ত। আগস্ট ১৯৪৪ এর মধ্যেই প‌্যারিস মুক্ত হয় আর ১৯৪৪ এর শীতকালের মধ্যে মিত্রবাহিনী জার্মানীর বার্লিনের দুয়ারে।

হিটলার তখন ফুয়েরার'স বাংকারে বসে হুংকার দিচ্ছেন।



জার্মান ফিল্ড মার্শাল গার্ড ফন রানস্টেড



যুদ্ধ চলাকালিন মিত্রবাহিনীর সমরনায়কদের মধ্যে মাঝে মাঝে কিন্চিত মত পার্থক্য থাকলেও সবদিক থেকে তারা একতাবদ্ধই ছিলেন। অন্যদিকে হিটলার অনেক দুরে বসেও যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক গুলি মারাত্নক ভুল করেন। এমনকি ফিল্ড মার্শাল রানস্টেড একবার হিটলারের ভুল সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষন করে তাদের সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল কাইটেলকে গালাগালি করে যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পরেই পদচ্যুত হন।

ফিল্ড মার্শাল রোমেল নিজেও এটাকে 'পরাজয় নিশ্চিত যুদ্ধ' হিসেবে পরে বর্ণনা করেছেন।





ফিল্ড মার্শাল কাইটেল



কেন হারল জার্মানরা?

অনেক লম্বা সে কাহিনী-- তবে সংক্ষেপে বলা যায়

গোয়েন্দাদের ব্যার্থতা, প্রস্তুতির অভাব, শত্রুকে অবমূল্যায়ন, রনকৌশলে ভুল, হিটলারের অহেতুক মাতবরি, রসদের অভাব, জনবলের অভাব তো ছিলই।

এছাড়া অনেক বেশী ফ্রন্টে নিজেদের মোতায়েন এবং নিয়োজিত রাখা, রাশিয়াতে নিয়োজিত সৈন্যরা পরিস্হিতি না বুঝে নরমান্ডিতে রিইনফোর্সমেন্টে না আসার সিদ্ধান্ত নেয়া, মিত্র বাহিনীর দুর্বার জয় করার ইচ্ছা আর সেই সাথে উচু মনোবল, যুক্তরাস্ট্রের সীমাহীন রণসম্ভার ইত্যাদি কারনে জার্মানরা এখানে পরাজয় বরণ করে

যা অবশেষে কয়েক মাস পর তাদের চুড়ান্ত পরাজয় নিয়ে আসে।



তবে সুপ্রিয় পাঠক মনে রাখবেন হিটলারের দেশপ্রেমের কোন ঘাটতি কখনোই ছিলনা।









বি:দ্র:: খুব সংক্ষেপিত



সুত্র: নেট ও অন্যান্য









মন্তব্য ৪৭ টি রেটিং +১৩/-০

মন্তব্য (৪৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:২৮

chai বলেছেন: ভাল লাগলো।++++

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৩১

ঢাকাবাসী বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

২| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৩২

দ্যা ডার্ক নাইট বলেছেন: পোস্টে পিলাচ। যুদ্ধ নিয়া কাহিনি সব সময় ই ভালা পাই। :) :) :) :)

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৪৮

ঢাকাবাসী বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।

৩| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৪৪

বড় ভাই ৯৫ বলেছেন: প্লাস। প্রিয়তে

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৪৮

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৪| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৫০

দিকশূন্য বলেছেন: দারুন পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৫৩

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৫| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৫৮

এ যুগের শ্রীকান্ত বলেছেন: প্রিয়ত।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০০

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন শ্রীকান্ত।

৬| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০০

অ্যামাটার বলেছেন: প্রিয়তে।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০৩

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ অ্যামাটার।

৭| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০৪

~মাইনাচ~ বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০৮

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ---মাইনাচ ।

৮| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:১৭

অস্থির পোলাপাইন বলেছেন: অস্হির একটা পোষ্ট দিছেন। বহুতদিন পর সামুতে এইরকম ইন্টারেস্টিং পোষ্ট পাইলাম :)
ধইন্যাপাতা লন।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪৫

ঢাকাবাসী বলেছেন: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

৯| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:২৫

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ভালই লেখছেন।
কিন্তু শেষে একটা ফাউল কথা বইলা পচাইয়া ফেলছেন।
হিটলারের দেশপ্রেমের কোন ঘাটতি কখনোই ছিলনা।

নিজ দেশের সংখালঘু নিরিহ দোকানদার শ্রেনী ইহুদিদের অকারনে নির্মুল করা শুরু করেন। এই ফালতু আকাম টা না করলে ইসরাইল রাষ্ট্রটা র জন্ম হয় না।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪৭

ঢাকাবাসী বলেছেন: এটা দৃস্টি ভঙ্গির ব্যাপার। হয়ত আপনিও সঠিক। অনেক ধন্যবাদ।

১০| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৫৫

সেতু আশরাফুল হক বলেছেন: ++++++++++++++++

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪৭

ঢাকাবাসী বলেছেন: আরিব্বাপ অতগুলো প্লাস? অনেক ধন্যবাদ।

১১| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:২৫

রিফাত হোসেন বলেছেন: hum austrian ar germanyr desh prem!!!!

jamon kolkatar indian ar bangladesh prem!
l;-)

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪৮

ঢাকাবাসী বলেছেন: আপনিও ঠিক। আন্তরিক ধন্যবাদ।

১২| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৪:১৩

রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন: :-B :-B :-B

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৫:১১

ঢাকাবাসী বলেছেন: ধন্যবাদ ইউর এক্সেলেন্সী।

১৩| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৫:১২

সবখানে সবাই আছে বলেছেন: এটা একটা মহা ভুল ধারনা যে মিত্র বাহিনীর এই অপারেশনের কারনে জার্মানির পরাজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। রাশিয়াকে আটকানোর জন্য জার্মানির ১৩৯ ডিভিশন সৈন্য সেই সময় নিয়োজিত। এদের থেকে সৈন্য ওই ফ্রন্টে নিয়ে আসলে রাশিয়া অনেক আগেই জার্মানিকে ধরাশয়ী করে ফেলত। বস্তুত জার্মানি সেই সময় এক অনন্য রাজনৈতিক পলিসি ধারন করে। তারা জানত মিত্র বাহিনীর জেনারেলরা ফ্যাসিস্টদের থেকেও বেশি ঘৃনা করে কম্যুনিস্টদের। আহ হোক কাল হোক রাশিয়া আমেরিকার বন্ধুত্ব শত্রুতায় পর্যবাসিত হবে। সেটা পরে কত যে একটা সঠিক ধারনা ছিল তার প্রমান ইতিহাস। একারনে জার্মানি যেখানে তাদের ব্যাভারিয়া প্রদেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে মিত্রবাহিনীকে পথ করে দিয়েছিল , সেখানে চেকোস্লোভাকিয়ার এক অখ্যাত গ্রামের প্রতিরক্ষার জন্য হাজার হাজার জার্মান সৈন্য রাশিয়ার হাতে কচুকাটা হয়। আর একটা বছর যুদ্ধ প্রলম্বিত করতে পারলেই ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হত। একটু খেয়াল করে দেখবেন বার্লিনের উত্তরে মিত্রবাহিনীর হাতে জার্মান রা বিনা যুদ্ধেই আত্মসমর্পন করে, কিন্তু পুর্ব আর দক্ষিন বার্লিনে মাথা খারাপের মত যুদ্ধ করে এরপর রাশিয়ার বশ মানে, যেখানে মিত্র বাহিনী বার্লিন আক্রমনের জন্য মাত্র ১ লক্ষ সোইন্য সমাবেশ করেও নিষ্ক্রিয় থাকে আর রাশিয়া নিয়ে আসে সাড়ে বার লক্ষ সৈন্য।
কিন্তু আজকের ইতিহাসকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এই বলে যে আমেরিকার সৈন্য দের নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং এর কারনে জার্মানির পরাজয় নিশ্চিত হয়। কিন্তু ইতিহাস মোতাবেক আইসেনহাওয়ার নিজেই বলেছেন যখন ইউরোপ যুদ্ধ করেছে , আমাদের ছেলেরা খেলেছে বেস বল। আর চার্চিল তো বলেই বসেছিল, জার্মানি হচ্ছে একটা স্প্রিং। রাশিয়ানরা যদি একটা চুক্তি করে ফেলে, তাহলে কালকেই জার্মানরা লন্ডনে বসে চা খাবে। রাশানরা স্প্রিং এর সবচেয়ে ধারাল অংশ নিজ হাতে ধরে রেখেছিল পুরো সাড়ে চার বছর। তাই যুদ্ধ শেষে পরাজিত জার্মানরা যেখানে হারাউ ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষ, রাশানদের ক্ষতির পরিমান ছিল আড়াই কোটি।


একি কথা জাপানের ক্ষেত্রে। আমাদের সবার একটা ভুল ধারনা জাপানের উপর পারমানবিক বোমার কারনে জাপান আত্মসমর্পন করে। এটা হল আমেরিকানদের লাদেনের পরে সবচেয়ে বড় প্রপাগন্ডা। জাপানের উপর আনবিক বোমা ফেলা হয় ৬-৮ অগাস্ট। কিন্তু জাপান আত্মসমর্পন করে ২রা সেপ্টেম্বর। কেন??? কারন আর কিছুই না। আনবিক বোমা দিয়ে জাপানের সাধারন মানুষ মারা গেলেও সৈন্য বাহিনীর ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল সামান্যই। আর জার্মান ফ্রন্টে মিত্র বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্য বসে থাকায় জাপানে সৈন্য নামানোর মত সাহস তাদের ছিল না, কারন মিত্র বাহিনী ভাল করে জানত জার্মান রা তাও জীবনের মায়া চিন্তা করে আত্মসমর্পন করেছে কিন্তু জাপানিরা না মরার আগ পর্যন্ত লড়ে যাবে। দরকার হলে বুকে বোমা নিয়ে সন্ত্রসী হবে কিন্তু আত্মসমর্পন করবে না। জাপানের স্থল বাহিনী ছিল খুবই ছোট। মাত্র ১২-১৪ লক্ষ সৈন্য। এদেরকে শায়েস্তা করতে এবারও আগিয়ে আসে রাশিয়া। তাদের কাছে ২৪ শে অগাস্ট জাপানি স্থল বাহিনী আত্মসমর্পন করার পরই ২রা সেপ্টেম্বর জেনারেল ডগলাস ম্যাকার্থারের সামনে মাথা নিচু করে জাপানিরা।
ধন্যবাদ।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৫৪

ঢাকাবাসী বলেছেন: এতটুকু পরিসরে ২য় বিশ্বযুদ্ধ বিষ্লেষন করা মনে হয় সম্ভব নয়। আপনার সুন্দর আলোচনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৪| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৬:৩৭

অ্যামাটার বলেছেন: @সবখানে সবাই আছে, ধন্যনাদ। আসলে মীত্র বাহিনীর আড়ালে যুদ্ধটা করেছে মূলত রাশিয়াই। রাশিয়া ফ্রন্টে ছোট ছোট যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি অন্যান্য ফ্রন্তের চেয়ে অনেক বেশী ছিল। যেমন বলা যেতে পারে এক পাপলভ'স হাউস ঘিরেই যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হতাহত... এরকম অসংখ্য।
অথচ মীত্র বাহিনীর কৃতিত্বটা কখনোই বাকি পশ্চচিমারা রাশিয়াকে সেভাবে দিতে চায়নি পরে! অপ্রতিরোধ্য হিটলারকে ঠেকানো সম্ভব হয়েছি স্তালিনের মত লৌহমানবের কারনেই। নচেত চার্চিলরা খড়-কুটোর মত উরে যেত।
আর অক্ষ শক্তি হেরেছে যে সব কারণে, তারমধ্যে আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় কারণ হল হিটলারের বেকুবি আর গোঁয়ার্তুমি। যে সময় বিশাল সোভিয়েৎ আক্রমন করে, তখন চাইলেই টালমাটাল ব্রিটিশ আক্রমন করে তা দখল করে ফেলতে পারত।
আবার যুদ্ধের আগে সম্ভবত জার্মান আর সোভিয়েতের মধ্যে কি যেন একতা অনাক্রমন চুক্তি ছিল।
বেকুব হিটলার সোভিয়েৎ শক্তি সম্বন্ধে কোনও ধারণাই করতে আরেনি। আবার এদিকে রুশদের সাথে জাপানের সম্পর্কও সুবিধার ছিলনা। তার আগে জাপানের কাছে ১৯০৪ এ পরাজয়। সাথে হিটলারের বাঘের লেজ খোঁচা দেওয়া।
নাহলে হয়ত আজকে সত্যিই ইতিহাস অন্যভাবে লেখা থাকত!

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৫৭

ঢাকাবাসী বলেছেন: এতটুকু পরিসরে ২য় বিশ্বযুদ্ধ বিষ্লেষন করা মনে হয় সম্ভব নয়। আপনার সুন্দর আলোচনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৫| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৭:৫৩

আজমান আন্দালিব বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। অনেক অজানা তথ্য জানলাম।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৫৭

ঢাকাবাসী বলেছেন: ধন্যবাদ আর ভাল থাকুন।

১৬| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৮:১৬

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: অনেক সুন্দর পোষ্ট, মন্তব্যগুলোও ভালো লাগল।
তবে, শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কি সমর পরিকল্পনা ছিল বা কোন জেনারেল অধিক চতুর ছিলেন টা বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই :(
একটা জাতি কতটা কর্মঠ আর সুশৃঙ্খল হতে পারে তা গত দুই বছর ধরেই জার্মানদের দেখে আসছি। এখনো যেখানে তাদের ফুটবলের কৌশল আমাদের মাঝে বিস্ময়ের জন্ম দেয় আর সেখানে জীবন-মরণের এই যুদ্ধে তাদের ভুল খুঁজতে যাওয়া বাতুলতা। হয়তো নরম্যান্ডিতে রোমেলে'র উপস্থিতি সেইদিন পাল্টে দিতে পারত ইতিহাসের গতিপথ। এইভাবে উপস্থাপনের জন্যই আপনার লেখা ভালো লেগেছে।

পরিশেষে, সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্লগার নামে পরিচিত উপরে এক আবাল; যার মতে আপনার এক লাইনে পোষ্টটি পচে গেছে, তার পশ্চাৎদেশে গদামপূর্বক বিদায় নিচ্ছি। X(( X((
শুভকামনা রইল :)

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৫৯

ঢাকাবাসী বলেছেন: আপনার সুন্দর কথার মাঝে একটা সুন্দর মন আছে মনে হয়। ধন্যবাদ, ভাল থাকুন।

১৭| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:১৪

ওবায়েদুল আকবর বলেছেন: সবখানে সবাই আছে আর এমাটার ভাই, আপনাদের কথা শুনলে সেই সত্তর আশির দশকের পান্জাবী(পোশাক ফাকিরা না) বাহিনীর কথা মনে পড়তেছে।সব খালি রাশিয়ার কৃতিত্বই দেখলেন। কিন্তু রাশিয়ারে যে অনবরত অস্ত্র, রসদ আর টেকনোলজি সরবরাহ করে গেছে মিত্র বাহিনী তার উল্লেখ করলেননা। মিত্র বাহিনী যদি লিবিয়ায় জার্মানিরে ঐভাবে মাইর না দিত এবং সিসিলি ইনভেশন যদি সফল না হত হিটলার পূর্ব সীমান্তে সেইভাবে মাইর খাইতনা। আর চাইনিজদের কথা আসলে সেইভাবে কেউ বলেনা। চাইনিজরা কিন্তু জাপানিদের কাছে পরাজিত হয়নাই। হয়ত জিততে পারেনাই কিন্তু কিন্তু ঠেকাইয়া রাখছে। আর ঐ কৃতিত্ব যায় স্টালিনের ঘরে। সত্যিই সেলুকাস। পূর্ব ফ্রন্টে তো মার্কিন ব্রিটিশরা যুদ্ধই করেনাই তাইনা? আমি আপনারে একটা আসল কথা বলি স্টালিন হইল এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় কালপ্রিট, একটা ম্যানিয়াক। জাপান যদি রাশিয়ারে পূর্ব সীমান্ত দিয়ে স্রেফ ৫০ টা বিমান আর দশ হাজার সৈন্য দিয়ে প্রতিকী একটা শো ডাউনও দিত। তাইলেই আর স্টালিনগ্রাদ আর মস্কো বীরত্ব দেখানো লাগতনা। এই গোয়েন্দা তথ্যটাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত। আর জার্মানী কেন ব্রিটেন হামলা করেনাই সেটার জন্য আপনারে ইংলিশ চ্যানেলের মর্ম বুঝতে হবে। এই চ্যানেল অতিক্রম করতে গেলে যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হত তা নেপোলিয়ন জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছে। আর ভিটু র আবিষ্কার আর একটু আগে হলে কি হত এইসব ছাইপাশেরও কোন ভ্যালু আমি দেখিনা। কারণ আণবিক বোমাটা তখন আমেরিকার হাতেই। সে এটা জাপানে ব্যাভার করছে কিন্তু এটা সে জার্মানিতেই প্রথম ব্যাবহার করতে পারত। আর বার লক্ষ্য সৈন্য নিয়ে জার্মানী দখল করার মানসিকতায় মহট্ব বা প্রতিশোধপরায়ণতার কোন স্থানই নাই। হিটলারের পারমাণবিক বোমার প্রযুক্তি অর্জনই ছিল স্টালিন নামক দানবের সর্বগ্রাসী হামলার প্রধান কারণ। এক জনের হাতে সামান্য কিছু গুলি আর আর একজনের হাতে বন্দুক ধরিয়ে দিয়ে যুদ্ধে পাঠানো দানবটাই তো জার্মানির ২০ লক্ষ নারীর ইজ্জত নেওয়ার প্রধান কারিগর। ওরে কখনোই হিরো সাজাতে যাইয়েননা। ও ওর ক্রেডিটের চেয়ে বেশীই ক্রেডিট ভোগ করে। পশ্চিমা ইতিহাসবেত্তারা ওর মত নির্লজ্জ না বলেই ইতিহাসে ওর অবদান জানতে পারতেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযু্দ্ধে যদি আমেরিকার হাতে পারমাণবিক বোমা না থেকে স্টালিনের হাতে থাকত তাহলে আমেরিকা, ব্রটেন সহ অনেক দেশেই ও পারমাণবিক বোমা ফেলত যাতে এরা কোমড় সোজা না করে উঠতে পারে। ওর কাছ মানুষ, বাঘ, গাছ-পালা, নদী এমনকি আস্ত হৃদ পর্যন্ত রেহাই পায়নাই। এমন ম্যানিয়াকরে জাতে তোলার আমি কোন কারণই দেখিনা।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৪:০২

ঢাকাবাসী বলেছেন: প্রচুর বিশ্লেষন আর সেই সাথে একটা ভাল উপসংহার, বেশ ভাল লাগল। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১৮| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৪৮

রাক্ষস বলেছেন: দারুন পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।প্রিয়তে।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৫:১৩

ঢাকাবাসী বলেছেন: ইটস বেটার টু বি লেট দ্যান নেভার, তাই ধন্যবাদ।

১৯| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৫১

ইকরাম উল্যাহ বলেছেন: এইটা যদি অনুবাদ কৈরা থাকেন তাইলে, উইকিতে উঠাইয়া দিয়েন

২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৫:১৭

ঢাকাবাসী বলেছেন: আজ্ঞে হ্যা এটাতো অনুবাদ বটেই। তবে এর মাঝে কিছু নিজ মনের মাধুরি তো রয়েছেই। ধন্যবাদ ভাই তবে আপনার কথাটি আমার পুরোপুরি বোধগম্য হয়নি, আমার অত বুদ্ধি নেই তো। আবারো ধন্যবাদ।

২০| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫২

ইকরাম উল্যাহ বলেছেন: মানে উইকিপিডিয়াতে ভুক্তি করার জন্য বলছি

৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:১৩

ঢাকাবাসী বলেছেন: আমার এই পোস্ট এর আংশিক স্বত্ব তো উইকিপিডিয়ারই, সেক্ষেত্রে সেটা মনে হয় ঠিক হবেনা। তবে আপনার এই শুভ কামনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

২১| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:০৩

মাহমুদা সোনিয়া বলেছেন: চমৎকার কিছু জানলাম!! অগুনিত প্লাস।

৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:১৩

ঢাকাবাসী বলেছেন: অগুনতি অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২২| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:৪০

নীরব দর্শক বলেছেন: হিটলারকে ভালা পাই।

২৩| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:১৬

কল্পবিলাসী স্বপ্ন বলেছেন: ফিল্ড মার্শাল আরভিন রোমেল (পরে আত্মহত্যা করেন)

এই তথ্যটা ভুল , তাকে হত্যা করা হয়

৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:২২

ঢাকাবাসী বলেছেন: এ নিয়ে অনেক গল্প আছে। তিনি আহত হন, তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয় ইত্যাদি। তার ছেলেই এসব বলে। আপনার তথ্যটা আমি অস্বীকার করছিনা। নীচেরটা একটু পড়ুন। সবশেষে কস্ট করে পড়ে তারপর তথ্যটা দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

http://www.eyewitnesstohistory.com/rommel.htm

২৪| ০১ লা আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫২

ইয়ার শরীফ বলেছেন: আপানার এই পোস্ট টা অনেক কিছু জানতে সাহায্য করেছে।

সেইফ হয়ে তাই আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে আসলাম।

ভালো থাকবেন
ধন্যবাদ ভাই

৩০ শে আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৫৯

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ । আর সর্বদা সেফ থাকুন, ভাল থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.