নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

½ Life

sleep has gone long while ago.

সৈয়দ মাহতাব হোসেন

বললে বিশ্বাস করবেন না। তারপরেও বলছিঃ আমি চরম টাইপের ভাল ছেলে।

সৈয়দ মাহতাব হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

হিমু'র এক রাত্রি

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:৩৪

"তুমি চেয়ে আছ তাই আমি পথে হেটে যাই

হেটে হেটে বহুদুর, বহুদুর হেটে যাই"



এই গানটা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়, একটু আগেই একটা কেসেটের দোকানে এই গানটার কিছু অংশ শুনে এসেছি। গানের এই দুই লাইন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তীব্র বেগে। ভাবতে ভাবতে হাটছি রাতের শূন্য রাস্তা ধরে অথচ বুঝতে পারছি না কে আমার দিকে চেয়ে আছে । কেউ তো একজন চেয়ে আছে যার জন্য এত হাটাহাটি করছি। পেছনে, ডানে, বামে, আসমান, পাতাল সবকিছু দেখে নিলাম কিন্তু কেউ আমার দিকে চেয়ে নেই। খুব হতাশ হয়ে গেলাম। হটাৎ দেখলাম একটা বিড়াল দেয়ালের উপর থেকে আমার দিকে সবুজ সবুজ চোখ করে চেয়ে আছে।





যে দেয়ালের উপর বিড়ালটা বসে আছে সেই দেয়ালে বড় বড় করে কালো রঙ দিয়ে লিখাঃ দয়াকরে, এখানে পেশাব করিবেন না।

ভাবলাম এখানে পেশাব করা একান্ত কর্তব্যঃ দয়া না হয় করলাম তো কি হয়েছে ?





বিড়ালটা দেয়ালের উপর থেকে আমার পেশাব করা দেখছে। বিড়াল লজ্জা পায় না, পাইলে মেআও বলে লেজ তুলে দৌড় দিত । নির্লজ্ব বিড়াল আমার পেশাব করা দেখছে খুব আগ্রহ নিয়ে ।





আমি পেশাব করে আবার হাটা শুরু করলাম। বিড়ালটাও আমার পিছু পিছু হাটছে।

এই শূন্য রাতে আমি প্রতিদিন একলাই হাটি আজ একটা বিড়াল আমার সাথে সাথে হাটছে বেপারটা খুব একটা মন্দ না। বিশেষ কোন কারন আছে অবশ্যই। এই বিশাল জগৎ চলে নির্দিষ্ট নিয়মের তালে তালে। জগৎ এর নিয়মের কোন হেরফের হয় না। আজ আমি জগতের কোন নিয়মের অন্তর্ভুক্ত তা বুঝতে পারছি না। বুঝারো বা কি দরকার কিছু হলে তখন সেটা বোঝা যাবে।





হাটতে হাটতে কঠিন ঘুম পেয়ে বসল। চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখতে লাগলাম। আস্তে আস্তে জগৎ গাড় ভিষন অন্ধকারে ছেয়ে গেল।





স্বপ্নে দেখছি আমি মিম্মিকে ওর জন্মদিনে বিড়ালটা গিফট করেছি, মিম্মি বিড়ালের সাথে এদিক সেদিক দৌড়া দৌড়ি করছে এবং বিলা বিলা বলে ডাকছে। বিড়ালটা পুং লিংঙ্গ কি স্ত্রী লিংঙ্গ তা আমি নিজেও জানি না। তবে বিলা নাম শুনে মনে হচ্ছে বিলা স্ত্রী লিঙ্গ। বিলা মিম্মির সাথে ঢং করছে। মিম্মির সাথে ছুয়াছুয়ি খেলছে। মিম্মি বিড়ালটাকে ধরতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে বসে আছে। বিলা আস্তে আস্তে মিম্মির কাছে এসে নিজেকে সমর্পন করেছে। তারপর মিম্মি ঘর থেকে দৌড়দিয়ে একবাটি দুধ এনে বিলা কে কোলে তুলে খাওয়াচ্ছে।





মিম্মি হচ্ছে আসাদুজ্জামান সাহেবের একমাত্র মেয়ে। আসাদুজ্জামান সাহেব প্রচন্ড ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যাক্তি উনার এলাকার। আসাদুজ্জামান সাহেব হচ্ছেন আমার মামা’র খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

আমার মামা পিশাচ টাইপের মানুষ হলেও এই মানুষটা খুব সাধারন টাইপের মানুষ। এই বলে তিনি যে এক্কেবারে রসগোল্লা তাও না তিনি নিমরা বিলাই টাইপের খারাপ লোক… তবে আমার মামা হইল পিশাচ, মানুষের গলা কেটে জবাই করলেও হাত একটুও কাঁপবে না। গলা কেটে জবাই করে এসে সেই হাত দিয়ে ভাত খাবেন এত নরমাল ভঙ্গিতে যেন কিছুই হয় নাই।





মামা’র সাথে একদিন আসাদুজ্জামান সাহেবের বাসায় গেলাম। আমার ব্যাপারে যতটুকু জানা দরকার তার প্রয়োজনীয় সবকিছুই মামা উনার বন্ধুকে বলে দিয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বললেনঃ তুমার যদি আসলেই কোন সুপার-নেচারেল পাওয়ার থেকে থাকে তাহলে আমার সম্বন্ধে কিছু একটা বল দেখি।

-আপনার সম্বন্ধে খুব বাজে একটা ধারনা হচ্ছে সেইটা বলাটা এখানে ঠিক হবে না।

আসাদুজ্জামান সাহেব কিছুটা ভড়কে গেলেন। ডানে বামে তাকিয়ে বললেনঃ বলে ফেল সমস্যা না।

- আপনার দ্বিতীয় একটি স্ত্রী আছে এবং সেই সংসারে একটি মেয়ে আর একটি ছেলে আছে। মেয়ের নাম হচ্ছে সম্পা এবং ছেলের নাম হচ্ছে বদরুজ্জামান।

আসাদুজ্জামান বিক্রিত এক হাসি দিয়ে বললেন। হা হা হা হা… তুমি তো বেশ মজার মানুষ। ভলই ঢং তামাশা করতে পার দেখছি। কিন্তু তোমার এই ধারনা সম্পুর্ন ভুল।

- জ্বি, ভুল হওয়াটাও স্বাভাবিক। আমার ধারনা মাঝে মাঝে সত্য হয়। সবসময় হয় না।





সেদিন মিম্মির জন্মদিন ছিল। সে আমাকে জিজ্ঞেশ করল, আংকেল তুমি আমার জন্ম দিনে আমাকে কি গিফ্ট দিবে ?

- তোমার জন্মদিনে আমি কোন গিফ্ট দিব না। তবে পরের জন্মদিনে তোমাকে গিফ্ট দিব । এখন তুমিই বল তোমার কি গিফ্ট দরকার ?

আমার একটা কেট (Cat) চাই। আমি কেট খুব লাইক(like) করি।





সকালের আলোতে যখন চোখ খুললো তখন দেখি আমার চারিপাশে বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে। এতক্ষন এই মানুষগুলা হয়তো ভেবেছে আমি মৃত। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডেড বডি দেখছিল। রাস্তায় পড়ে থাকা ডেড বডি দেখার সৌভাগ্য সবার হয় না কিন্তু তাদের হয়েছিল। যখন আমি চোখ খুলে উঠে বসলাম তখন সবার মুখে একটা দুঃক্ষ দূঃক্ষ ভাব চলে এল। মনে হচ্ছে আমি জীবিত না হয়ে মৃত হলেই তারা খুসি হত।





আমি বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিয়ে আসাদ সাহেবের বাসায় এসেছি।

আমি আর বিলা বসে আছি আসাদুজ্জামান সাহেবের বাড়ির বাহিরের বাগানের একটা চেয়ারে।

আসাদ সাহেব এসে বসে বললেনঃ তুমি খালেদের ভাগ্না না ?

- জ্বি ।

খালেদ ভাল আছে ?

- জ্বি ।

কোন কাজে এসেছ ?

- জ্বি।

বল ...

- আমি মিম্মিকে বলেছিলাম ওর জন্মদিনে আমি ওকে একটা বিড়াল উপহার দিব। কিন্তু আমি ভুলে গেছি ওর জন্মতারিখ কবে। জন্মতারিখটা জানতে এসেছি।



আমার কথায় এত দুঃক্ষ ছিল আমি নিজেও টের পাই নাই। আমার কোথা শুনে আসাদুজ্জাম বাচ্চা ছেলের মত কাঁদতে লাগলেন।

- স্যার, আমার কি কোন ভুল হয়ে গেছে ?

না বাবা। আজ মিম্মি’র জন্মদিন।

- জন্মদিন কি এতই খারাপ কিছু যে কাঁদছেন ?

আসাদ সাহেব ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললেনঃ মিম্মি গত এক মাস আগে মারা গেছে।







আমি আর কিচ্ছু জিজ্ঞেশ করলাম না। মিম্মি কি ভাবে মারা গেল তাও জিজ্ঞেশ করলাম না। আমি চেয়ার থেকে উঠে সোজা হাটতে থাকলাম। বিড়ালটাকে আমি মাটিতে নামিয়ে দিলাম। বিড়ালটা আমার পেছনে পেছনে আর আসছে না। সে ঠিক সেই জায়গায় বসে আছে যেখানে মিম্মি আমার স্বপ্নে তাকে কোলে করে দুধ খাইয়েছে।







আমি ব্যাস্ত শহরের ব্যাস্ত মানুষদের সাথে হাটছি... মহাপুরুষরদের চোখ থাকবে অশ্রু শূন্য অথচ আমি আমার চোখের অশ্রু যেন ঠেকিয়ে রাখতে পারছি না। কিন্তু মহাপুরুষদের চোখে অশ্রুর জন্য কোন জায়গা নেই, আমি কাঁদতে চাইলেও কাঁদতে পারছি না...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.