| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জ্যাক স্মিথ
লিখতে না পড়তে ভালো লাগে, বলতে না শুনতে ভালোবাসি, সেমি-ইন্ট্রোভার্ট।
একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা সহজেই ভুলভাল মানুষের প্রতি বা বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন একজন ব্যক্তি কখনোই বাহ্যিক আচার-আচরণ, পোষাক-আশাক, জনপ্রিয়তা, গাড়ি-বাড়ি দেখে একজন মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয় না, তারা মূলত তাদের তীক্ষ্ণ অন্তদৃষ্টির মাধ্যমে একজন মানুষের ভেতরের মানুষটিকে যাচাই-বাচাই করে তারপর তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়। চটকদার কথাবার্তা- আর সুন্দর পোষাকের ভিতরে যে মানুষটি থাকে সেই মানুষের ভেতরের মানুষটিকে স্ক্যান করাই হচ্ছে অন্তদৃষ্টি সম্পন একজন ব্যক্তির প্রধান কাজ।
অন্তর্জ্ঞান, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু যাই বলি না কেন একজন মানুষের অন্তর্দৃষ্টি থাকা খুবই প্রয়োজন- আর ইহা কখনোই জন্ম থেকে পাওয়া কোন বিষয় নয়, দীর্ঘ পরিশ্রম লব্দ প্রয়াসের মাধ্যমেই কেবল তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করা যেতে পারে। বিষয়টি সহজ করে বলাও সহজ কম্য নয় এটা আসলেই জটিল এক বিষয় যে কারণে ইংরেজীতে এই জ্ঞানকে বলা হয় insight, এটা কিন্তু outsight নয়, outsight হয়তো সবারই থাকে কিন্তু insight খুব কম মানুষেরই থাকে, আর ইহা থাকারও বিষয় নয়, ইহা অর্জন করে নিতে হয়।
ধান ভানতে শীবের গীতের মত অবস্থা আমার, এত কাসুন্দি পাঁকিয়েও আমি লেখার মূল বিষয়ে প্রবেশ করতে পারছি না এইবার বিষয়টাকে একদম জলবৎ তরলং এর মত সহজ করে দিচ্ছি আপনাদের কাছে- যেহেতু আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি পাগল মানুষ, আর এই রাজনীতি পাগলদের অধিকাংশই হচ্ছে টং দোকানের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ, এই টং দোকানের বিশেষজ্ঞদের থাকে রাজনীতি বিষয়ে outsight বুদ্ধি, এই বুদ্ধি নিয়ে তারা যেখানে যা দেখে যা শুনে তা নিয়েই লাফায়, এর ফলাফল কি হতে পারে এর দীর্ঘ মেয়াদী পরিণতিই বা কি হবে সে বিষয়ে তাদের জ্ঞান শুন্য, এরা যা শুনে এবং যা দেখে সে দিকেই দৌঁড় দেয় কারণ তাদের রয়েছে outsight বুদ্ধি, insight জ্ঞান বলতে তাদের কিছু থাকে না। এখন থেকে outsight বলতে আমরা বুঝবো টং দোকানের বোদ্ধাদের।
টং দোকানের এই outsight বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ কেন এত লাফায়, কেন এত গলাবজি করে? এর কারণ হচ্ছে এদের ক্ষণস্থায়ী outsight বুদ্ধি তাদের মস্তিকে প্রচুর পরিমানে ডোপামিন রিলিজ করে স্বল্প সময়ের জন্য; যে কারণে এরা এতটা লাফায়- ঠিক যেন নেশাগ্রস্থের মতো। স্বল্প সময়ের মধ্যে এদের প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন চাই, কারণ একটি বিষয় ভালো করে বুঝতে, চর্চা করতে বা ভাবতে তাদের হাতে সময় খুব বেশী থাকে না। এর মূল কারণ হচ্ছে- এদের অধিকাংশই ৯ টু ৫ চাকুরী করে- একজন মানুষ যদি সারাদিন কর্মক্ষেত্রে বসের ঝাড়ি শুনে, রাতে বাসায় বউ এর বকুনি খায় তো এদের জন্য তো রাস্তার পাশের চায়ের টং দোকানই উত্তম জায়গা স্বল্প সময়ে ডোপামিন রিলিজ করার জন্য; যে কারণে এরা টং দোকানে বসে ফেসবুকের একটি ফটো কার্ড দেখে দেয় একটা লাফ, ফেসবুকের আরেকটি ফেক রিল দেখে দেয় আরেকটি লাফ আবার ইউটিউবের একটি শর্ট দেখে খায় আরেকটা ডিগবাজি, এভাবেই টং দোকানে বসে তারা শতশত ফটো কার্ড বা মিম, রিলস এবং শর্টস দেখে বিশাল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বনে যায়। কখনো নুরা পাগলার চটকদার রাজনৈতিক ব্যক্তব্য শুনে বাহবা দেয় আর তালিয়া বাজিয়ে বলে এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ পরধানমন্ত্রী, আবার কখনো হিরো আলমের জনপ্রীয়তা দেখে টাসকি খেয়ে বলে এই লোককেই বানাতে হবে আমাদের পরধানমন্ত্রী- এই হচ্ছে আমাদের টং দোকানের তথাকথিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিশেষ অজ্ঞতা। চটকদার বক্তব্য আর জনপ্রিয়তা থাকলেই কেবল একজন ব্যক্তি কখনো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবার যোগ্যতা রাখে না ইহা বুঝার মত অন্তর্দৃষ্টি (insight) তাদের নেই, কারণ তাদের মস্তিষ্ক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের outsight বুদ্ধিতে ভরপুর।
আর যারা সত্যিকার অর্থেই সময় ব্যয় করে রাজনীতি নিয়ে পড়াশুনা করে, চর্চা করে বা গবেষণা করে তারা এত সহজেই দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় বা কারো জনপ্রিয়তায় প্রভাবিত হয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় না বা এত দ্রুত কোন সিদ্ধান্তও পাল্টায় না কারণ তাদের অন্তর্দৃষ্টি insight এতে বাধা প্রদাণ করে, শর্ট টার্মের ডোপামিনের outsight বুদ্ধি তাদের কাছে মূল্যহীন, তাই কোন রাজনৈতিবীদের outsight কর্মকান্ড দেখে তার এতটা উত্তেজিত হয় না।
উৎসর্গ: নুরা পাগলার যখন তুমুল জনপ্রিয়তা (শাহবাগে আলু পিয়াজের দাম নিয়ে চিল্লা চিল্লী করার কারণে), হিরো আলমের যখন ব্যপক জনপ্রিয়তা তখন এক শ্রেণীর হাবাগোবা জনগোষ্ঠী এদের প্রধানমন্ত্রী করা যায় কি না তা নিয়ে টং দোকানে আলোচনার ঝড় তুলতো- পোস্ট'টি মুলত তাদের উদ্দ্যেশ্যেই, অবশ্য এই ব্লগে এমন হাবাগোবা মানুষের সংখ্যা খুবই কম বা নেই বলেই চলে।
হাবাগোবা জনগোষ্ঠীর এক সময়ের ভাবী প্ররধানমন্ত্রী নুরা পাগলার আমলনামা দেখুন- যা আমি চৌদ্দশত বছর আগেই জানতাম, নুরা পাগলা সবসময়'ই আমার চোখে একজন চোর, ছ্যাচড়া ছিলো এবং থাকবে, ইলিয়াসের ভিডিও দেখে তার সম্পর্কে আমার নতুন করে জানার কিছু নেই।
হিরো আলম....... সরি, এই ইডিয়টটাকে নিয়ে কিছু লিখে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না।
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: সবাই নিজকে রাইট মনে করে কিন্তু যুক্তি উপস্থাপন করার প্রক্রিয়াটি সবার এক হয় না। সাধারণত যুক্তি যত দূর্বল প্রতিক্রিয়া তত লাউড হয়ে থাকে।
আজকাল রাজনীতিকে মানুষ ধর্মের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, রাজনীতি নিয়ে যতটা চর্চা হয় ধর্ম নিয়ে তার সিকিভাগও আলোচনা হয় না আজকাল। ধর্মে যেমন নতুন নতুন গুরুদের আবির্ভাব হয় রাজনীতিতেও তেমন নতুন নতুন নেতারদের আবির্ভাব হয় আর কিছুদিন পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়।
প্রথম মন্তব্যের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি পাগল মানুষ, আর এই রাজনীতি পাগলদের
অধিকাংশই হচ্ছে টং দোকানের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ,
..........................................................................................................
আমরা সবাই মনে করি আমাদের মতো রাজনীতির বোদ্ধা আর কোথাও নাই ।
নিজেদের মধ্যে হানাহানি করি তাও লজ্জা করেনা ।
নিজেরা প্রতিদিন অধপতনের দিকে যাচ্ছি , বুঝতে চাইনা ।