নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

I am a former teacher, writer of poems and essays, idol talker on facebook and blogs. Sometimes I make websites and always listen to songs, songs mean only Rabindra Sangeet. My idea is that there is no need for sports in human life, because life itself is

আবদুল হক

https://www.facebook.com/HaqueIsOne

আবদুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলা একাডেমীর প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৮

তৎসম শব্দ



১.০১.

তৎসম অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অবিকৃত সংস্কৃত শব্দের বানান যথাযথ ও অপরিবর্তিত থাকবে। কারণ এইসব শব্দের বানান ও ব্যাকরণগত প্রকরণ ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট রয়েছে।



১.০২.

যে-সব তৎসম শব্দে ই, ঈ বা উ, ঊ উভয়ই শুদ্ধ, সেসব শব্দে কেবল ই বা উ এবং তার –কার চিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে। যেমন: কিংবদন্তি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, পদবি, ভঙ্গি, মঞ্জরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচিপত্র, ঊর্ণা, ঊষা।



১.০৩.

রেফ-এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: অর্চনা, অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্দম, কর্তন, কর্ম, কার্য, গর্জন, মূর্ছা, কার্তিক, বার্ধক্য, বার্তা, সূর্য।



১.০৪.

ক খ গ ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার ‘ং‌‌‌‌‍’ লেখা যাবে। যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন। বিকল্পে ঙ্ লেখা যাবে। ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ্‌ হবে। যেমন-আকাঙ্ক্ষা।



২.০১.

ই ঈ উ ঊ



সকল অ-তৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশী, বিদেশী, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের -কার চিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে ৷ এমনকি স্ত্রীবাচক ও জাতিবাচক ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ৷ যেমন: গাড়ি, চুরি, দাড়ি, বাড়ি, ভারি, শাড়ি, তরকারি, বোমাবাজি, দাবি, হাতি, বেশি, খুশি, হিজরি, আরবি, ফারসি, ফরাসি, বাঙালি, ইংরেজি, জাপানি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, সিন্ধি, ফিরিঙ্গি, সিঙ্গি, ছুরি, টুপি, সরকারি, মাস্টারি, মালি, পাগলামি, পাগলি, দিঘি, কেরামতি, রেশমি, পশমি, পাখি, ফরিয়াদি, আসামি, বে-আইনি, ছড়ি, কুমির, নানি, দাদি, বিবি, মমি, চাচি, মাসি, পিসি, দিদি, বুড়ি, ছুঁড়ি, নিচে, নিচু, ইমান, চুন, ভুব, বুখা, মুলা, পুজো, উনিশ, উনচল্লিশ।



অনুরূপভাবে, -আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে। যেমন: খেয়ালি, বর্ণালি, মিতালি, সোনালি, হেঁয়ালি।



তবে কোনো কোনো স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ-কার দেওয়া যেতে পারে৷ যেমন: রানী, পরী, গাভী।







সর্বনাম পদরূপে এবং বিশেষণ ও ক্রিয়া-বিশেষণ পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন- কী করছ? কী পড়ো? কী খেলে? কী আর বলবো? কী যে করি! এটা কী বই? কী করে যাব? কী বুদ্ধি নিয়ে এসেছিলে? কী আনন্দ! কী দুরাশা!



অন্য ক্ষেত্রে অব্যয় পদরূপে ই-কার দিয়ে কি শব্দটি লেখা হবে। যেমন- তুমিও কি যাবে? সে কি এসেছিল? কি বাংলা কি ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি পারদর্শী।



পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে। যেমন: ছেলেটি, লোকটি, বইটি।



২.০২.

ক্ষ



ক্ষীর, ক্ষুর ও ক্ষেত শব্দ খির, খুর ও খেত না লিখে সংস্কৃত মূল অনুসরণে ক্ষীর, ক্ষুর ও ক্ষেত-ই লেখা হবে। তবে অ-তৎসম শব্দ খুদ, খুদে, খুর, খেপা, খিধে ইত্যাদি লেখা হবে।



২.০৩.

মূর্ধন্য ণ, দন্ত্য ন



তৎসম শব্দের বানানে ণ, ন-য়ের নিয়ম ও শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। এ-ছাড়া তদ্ভব, দেশী, বিদেশী, মিশ্র কোনো শব্দের বানানে ণত্ব বিধি মানা হবে না। যেমন- অঘ্রান, ইরান, কান, কুরআন, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, সোনা, হর্ন।







তৎসম শব্দে ট ঠ ড ঢ-য়ের পূর্বে ‘ণ’ হয়। যেমন- কণ্টক, লুণ্ঠন, প্রচণ্ড। কিন্তু তত্সম ছাড়া অন্যান্য সকল শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগেও কেবল ন হবে। অ-তৎসম শব্দে যুক্তাক্ষরের বানানের জন্য ৪.০১ দ্রষ্টব্য।



২.০৪.

শ, ষ, স



তৎসম শব্দে শ, ষ, স-য়ের নিয়ম মানতে হবে। এ-ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কৃতের ষত্ব-বিধি প্রযোজ্য হবে না।







বিদেশী মূল শব্দে শ, স-য়ের যে প্রতিষঙ্গী বর্ণ বা ধ্বনি রয়েছে বাংলা বানানে তাই ব্যবহার করতে হবে। যেমন- সাল (=বত্সর), সন, হিসাব, শহর, শরবত, শামিয়ানা, শখ, শৌখিন, মসলা, জিনিস, আপস, সাদা, পোশাক, বেহেশ্‌ত, নাশতা, কিশমিশ, শরম, শয়তান, শার্ট, স্মার্ট। তবে, পুলিশ শব্দটি ব্যতিক্রমরূপে শ দিয়ে লেখা হবে। তৎসম শব্দে ট, ঠ বর্ণের পূর্বে ষ হয়। যেমন- বৃষ্টি, দুষ্ট, নিষ্ঠা, পৃষ্ঠা। কিন্তু বিদেশী শব্দে এই ক্ষেত্রে স হবে। যেমন: স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর, স্ট্রিট৷। কিন্তু খ্রিষ্ট যেহেতু বাংলায় আত্তীকৃত শব্দ এবং এর উচ্চারণও হয় তত্সম কৃষ্টি, তুষ্ট, ইত্যাদি শব্দের মতো, তাই ষ্ট দিয়ে খ্রিষ্ট শব্দটি লেখা হবে।



২.০৫.

আরবি-ফারসি শব্দে ‘সে’ﺙ, ‘সিন্’ﺱ ‘সোয়াদ’ﺹ বর্ণগুলির প্রতিবর্ণরূপে স, এবং ‘শিন্’ﺵ -এর প্রতিবর্ণরূপে শ ব্যবহৃত হবে। যেমন- সালাম, তসলিম, ইসলাম, মুসলিম, মুসলমান, সালাত, এশা, শাবান (হিজরি মাস), শাওয়াল (হিজরি মাস), বেহেশ্‌ত।



এই ক্ষেত্রে স-এর পরিবর্তে ছ লেখার কিছু কিছু প্রবণতা দেখা যায়, তা ঠিক নয়। তবে যেখানে বাংলায় বিদেশী শব্দের বানান সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে স ছ-য়ের রূপ লাভ করেছে সেখানে ছ ব্যবহার করতে হবে। যেমন: পছন্দ, মিছিল, মিছরি, তছনছ।



২.০৬.

ইংরেজি ও ইংরেজির মাধ্যমে আগত বিদেশী s বর্ণ বা ধ্বনির জন্য স এবং sh, -sion, -ssion, -tion প্রভৃতি বর্ণগুচ্ছ বা ধ্বনির জন্য শ ব্যবহৃত হবে। তবে question ইত্যাদি শব্দের বানান অন্যরূপ, যেমন-কোএস্‌চ্‌ন হতে পারে।



২.০৭.

জ, য



বাংলায় প্রচলিত বিদেশী শব্দ সাধারণভাবে বাংলা ভাষার ধ্বনিপদ্ধতি অনুযায়ী লিখতে হবে। যেমন: কাগজ, জাহাজ, হুকুম, হাসপাতাল, টেবিল, পুলিশ, ফিরিস্তি, হাজার, বাজার, জুলুম, জেব্রা।



কিন্তু ইসলাম ধর্ম-সংক্রান্ত কয়েকটি বিশেষ শব্দে ‘যে’ ﺯ, ‘যাল’ﺫ, ‘যোয়াদ’ﺽ, ‘যোয়া’ﻅ রয়েছে, যার ধ্বনি ইংরেজি z-এর মতো। সেক্ষেত্রে উক্ত আরবি বর্ণগুলির জন্য য ব্যবহার হওয়া সঙ্গত। যেমন- আযান, এযিন, ওযু, কাযা, নামায, মুয়ায্‌যিন, যোহর, রমযান। তবে কেউ ইচ্ছা করলে এই ক্ষেত্রে য-এর পরিবর্তে জ ব্যবহার করতে পারেন। জাদু, জোয়াল, জো, ইত্যাদি শব্দ জ দিয়ে লেখা বাঞ্ছনীয়।



২.০৮.

এ, অ্যা



বাংলায় এ বা ে-কার দ্বারা অবিকৃত এ এবং বিকৃত বা ব্যাঁকা অ্যা এই উভয় উচ্চারণ বা ধ্বনি নিষ্পন্ন হয়৷ তত্সম বা সংস্কৃত ব্যাস, ব্যায়াম, ব্যাহত, ব্যাপ্ত, জ্যামিতি, ইত্যাদি শব্দের বানান অনুরূপভাবে লেখার নিয়ম আছে।



অনুরূপ তৎসম এবং বিদেশী শব্দ ছাড়া অন্য সকল বানানে অবিকৃত-বিকৃত নির্বিশেষে এ বা ে-কার হবে৷ যেমন- দেখে, দেখি, যেনো, কেন, কেনো (ক্রয় করো), গেল, গেলে, গেছে।



বানানরীতি

১২







বিদেশী শব্দে অবিকৃত উচ্চারণের ক্ষেত্রে এ বা ে-কার ব্যবহৃত হবে৷ যেমন- এন্ড (end) , নেট, বেড, শেড।



বিদেশী শব্দে বিকৃত বা ব্যাঁকা উচ্চারণে অ্যা বা (য-ফলা+আ-কার) ব্যবহৃত হবে৷ যেমন- অ্যান্ড, অ্যাবসার্ড, অ্যাসিড, ক্যাসেট, ব্যাক, ম্যানেজার, হ্যাট।



তবে কিছু তদ্ভব এবং বিশেষভাবে দেশী শব্দ রয়েছে যার (য-ফলা+আ-কার)-যুক্ত রূপ বহুল-পরিচিত। যেমন- ব্যাঙ, চ্যাঙ, ল্যাঙ, ল্যাঠা। এ-সব শব্দে (য-ফলা+আ-কার) অপরিবর্তিত থাকবে।



২.০৯.





বাংলা অ-কারের উচ্চারণ বহুক্ষেত্রে ও-কার হয়৷ এই উচ্চারণকে লিখিত রূপ দেওয়ার জন্য ক্রিয়াপদের বেশ কয়েকটি রূপের এবং কিছু বিশেষণ ও অব্যয় পদের শেষে, কখনো আদিতে অনেকে যথেচ্ছভাবে ো-কার ব্যবহার করছেন৷ যেমন: ছিলো, করলো, বলতো, কোরছ, হোলে, যেনো, কেনো (কীজন্য), ইত্যাদি ও-কারযুক্ত বানান লেখা হচ্ছে৷ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অনুরূপ ো-কার ব্যবহার করা হবে না৷







বিশেষ ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে এমন অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ এবং বিশেষণ ও অব্যয় পদ বা অন্য শব্দ যার শেষে ো-কার যুক্ত না করলে অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব ঘটতে পারে৷ যেমন: ধরো, চড়ো, বলো, বোলো, জেনো, কেনো (ক্রয় করো), করানো, খাওয়ানো, শেখানো, করাতো, মতো, ভালো, আলো, কালো, হলো৷



২.১০.

ং, ঙ



তৎসম শব্দে ং এবং ঙ যেখানে যেভাবে ব্যবহার্য ও ব্যাকরণসম্মত সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে। এ-সম্পর্কে পূর্বে ১.০৪. অনুচ্ছেদে কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। তদ্ভব, দেশী, বিদেশী, মিশ্র শব্দের বানানের ক্ষেত্রে ওই নিয়মের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এই ক্ষেত্রে প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে। যেমন: রং, সং, পালং, ঢং, রাং, গাং। তবে শব্দে অব্যয় বা বিভক্তি যুক্ত হলে কিংবা পদের মধ্যে বা শেষে স্বরচিহ্ন থাকলে ঙ হবে৷ যেমন- বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের। বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দ-দু'টি ং দিয়ে লিখতে হবে৷ বাংলাদেশের সংবিধানে তাই করা হয়েছে।



২.১১.

রেফ ও দ্বিত্ব



তৎসম শব্দের অনুরূপ বানানের ক্ষেত্রে যেমন পূর্বে বলা হয়েছে, অ-তৎসম সকল শব্দেও রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: কর্জ, কোর্তা, মর্দ, সর্দার।



২.১২.

বিসর্গ (ঃ)



শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না। যেমন- কার্যত, মূলত, প্রধানত, প্রয়াত, বস্তুত, ক্রমশ, প্রায়শ। পদমধ্যস্থ বিসর্গ (ঃ) থাকবে। তবে অভিধানসিদ্ধ হলে পদমধ্যস্থ বিসর্গ বর্জনীয়। যেমন: দুস্থ, নিস্পৃহ।



২.১৩.

-আনো প্রত্যয়ান্ত শব্দ



আনো প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ো-কার যুক্ত করা হবে। যেমন- করানো, বলানো, খাওয়ানো, পাঠানো, নামানো, শোয়ানো।



২.১৪.

বিদেশী শব্দ ও যুক্তবর্ণ



বাংলায় বিদেশী শব্দের বানানে যুক্তবর্ণকে বিশ্লিষ্ট করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তবর্ণের সুবিধা হচ্ছে তা উচ্চারণের দ্বিধা দূর করে। তাই ব্যাপকভাবে বিদেশী শব্দের বানানে যুক্তবর্ণ বিশ্লিষ্ট করা অর্থাৎ ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। শব্দের আদিতে তো অনুরূপ বিশ্লেষ সম্ভবই নয়। যেমন: স্টেশন, স্ট্রিট, স্প্রিং। তবে কিছু কিছু বিশ্লেষ করা যায়। সেপ্‌টেম্‌বর, অক্‌টোবর, মার্ক্‌স, শেক্‌সপিয়ার, ইস্‌রাফিল।



২.১৫.

হস্-চিহ্ন



হস্-চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করা হবে। যেমন- কাত, মদ, চট, ফটফট, কলকল, ঝরঝর, তছনছ, জজ, টন, হুক, চেক, ডিশ, করলেন, বললেন, শখ, টাক, টক।



তবে যদি ভুল উচ্চারণের আশঙ্কা থাকে তাহলে হস্-চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে৷ যেমন: উহ্, যাহ্, ওয়াক্‌ফ।



যদি অর্থের বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে তাহলেও তুচ্ছ অনুজ্ঞায় হস্-চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন: কর্, ধর্, মর্, বল্।



২.১৬.

ঊর্ধ্ব-কমা



ঊর্ধ্ব-কমা যথাসম্ভব বর্জন করা হবে। যেমন- করল (=করিল), ধরত, বলে (=বলিয়া), হয়ে, দু জন, চার শ, চাল (=চাউল), আল (=আইল)।







বিবিধ



৩.০১.

যুক্ত-ব্যঞ্জনবর্ণগুলো যতদূর সম্ভব স্বচ্ছ করতে হবে অর্থাৎ পুরাতন রূপ বাদ দিয়ে এগুলোর স্পষ্ট রূপ দিতে হবে। সেজন্য কতকগুলো স্বরচিহ্নকে বর্ণের নিচে বসাতে হবে। যেমন- (ইউনিকোড বাংলায় মাইক্রোসফটে দেখানো সম্ভব হলো না)। তবে ক্ষ-এর পরিচিত যুক্তরূপ অপরিবর্তিত থাকবে।



বানানরীতি

১৩









৩.০২.

সমাসবদ্ধ পদ



সমাসবদ্ধ পদগুলি একসঙ্গে লিখতে হবে, মাঝখানে ফাঁক রাখা চলবে না। যেমন- সংবাদপত্র, অনাস্বাদিতপূর্ব, পূর্বপরিচিত, রবিবার, মঙ্গলবার, স্বভাবগতভাবে, লক্ষ্যভ্রষ্ট, বারবার, বিষাদমণ্ডিত, সমস্যাপূর্ণ, অদৃষ্টপূর্ব, দৃঢ়সঙ্কল্প, সংযতবাক, নেশাগ্রস্ত, পিতাপুত্র।



বিশেষ প্রয়োজনে সমাসবদ্ধ পদটিকে একটি, কখনো একটির বেশি হাইফেন (-) দিয়ে যুক্ত করা যায়। যেমন- মা-মেয়ে, মা-ছেলে, বেটা-বেটি, বাপ-বেটা, ভবিষ্যৎ-তহবিল, সর্ব-অঙ্গ, বে-সামরিক, স্থল-জল-আকাশ-যুদ্ধ, কিছু-না-কিছু।



৩.০৩.

বিশেষণ পদ



বিশেষণ পদ সাধারণভাবে পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত হবে না। যেমন- সুনীল আকাশ, স্তব্ধ মধ্যাহ্ন, সুগন্ধি ফুল, লাল গোলাপ, ভালো দিন, সুন্দরী মেয়ে। কিন্তু যদি সমাসবদ্ধ পদ অন্য বিশেষ্য বা ক্রিয়াপদের গণ বর্ণনা করে তাহলে স্বভাবতই সেই যুক্তপদ একসঙ্গে লিখতে হবে। যেমন- কতদূর যাবে, একজন অতিথি, তিনহাজার টাকা, বেশিরভাগ ছেলে, শ্যামলা-বরন মেয়ে। তবে কোথাও কোথাও সংখ্যাবাচক শব্দ একসঙ্গে লেখা যাবে। যেমন-দুজনা।



৩.০৪.

নাই, নেই, না, নি, এই নঞর্থক অব্যয়পদগুলো শব্দের শেষে যুক্ত না হয়ে পৃথক থাকবে। যেমন- বলে নাই, যাই নি, পাব না, তার মা নেই, আমার ভয় নাই।



তবে শব্দের পূর্বে নঞর্থক উপসর্গরূপে না উত্তরপদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যেমন-নারাজ, নাবালক, নাহক।



অর্থ পরিস্ফুট করার জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভূত হলে ‘না’-এর পরে হাইফেন ব্যবহার করা যায়। যেমন- না-বলা বাণী, না-শোনা কথা, না-গোণা পাখি।



৩.০৫.

উদ্ধৃতি মূলে যেমন আছে ঠিক তেমনি লিখতে হবে। কোনো পুরাতন রচনায় যদি বানান বর্তমান নিয়মের অনূরূপ না হয়, উক্ত রচনার বানানই যথাযথভাবে উদ্ধৃত করতে হবে। যদি উদ্ধৃত রচনায় বানানের ভুল বা মুদ্রণের ত্রুটি থাকে, ভুলই উদ্ধৃত হবে। তবে উদ্ধৃত অংশকে যদি ইনসেট করা হয় তাহলে ঊর্ধ্ব-কমার চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে না। তাছাড়া কবিতা যদি মূলচরণ-বিন্যাস অনুযায়ী উদ্ধৃত হয় এবং কবির নামের উল্লেখ থাকে সে-ক্ষেত্রেও উদ্ধৃত-চিহ্ন দেয়ার দরকার নেই। ইনসেট না হলে গদ্যের উদ্ধৃতিতে প্রথমে ও শেষে উদ্ধৃতি-চিহ্ন দেয়া ছাড়াও প্রত্যেক অনুচ্ছেদের প্রারম্ভে উদ্ধৃতি-চিহ্ন দিতে হবে। প্রথমে, মধ্যে বা শেষে উদ্ধৃত রচনায় কোনো অংশ যদি বাদ দেয়া হয় অর্থাৎ উদ্ধৃত করা না হয়, বাদ দেয়ার স্থানগুলোকে তিনটি বিন্দু বা ডট্ (অবলোপ-চিহ্ন) দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। গোটা অনুচ্ছেদ, স্তবক বা একাধিক ছত্রের কোনো বৃহৎ অংশ বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনটি তারকার দ্বারা একটা ছত্র রচনা করে ফাঁকগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে।



কোনো পুরাতন রচনার অভিযোজিত বা সংক্ষেপিত পাঠে অবশ্য পুরাতন বানানকে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তিত করা যেতে পারে।



৪.০১

ণত্ব-বিধি



অ-তৎসম শব্দের যুক্তাক্ষরের বানানের ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যগণ একমত হতে পারে নি। একটি মতে বলা হয়েছে যে, এসব শব্দে যুক্তক্ষরে ণ্ট ণ্ঠ ণ্ড হবে। যথা-ঘণ্টা, লণ্ঠন, গুণ্ডা। অন্যমতে, বলা হয়েছে যে, এসব শব্দের যুক্তাক্ষরে ন্ট, ন্ঠ, ন্ড ব্যবহৃত হবে। যথা-ঘন্টা, প্যান্ট, প্রেসিডেন্ট, লন্ঠন, পান্ডা, লন্ডভন্ড।





সূত্র: http://www.onushilon.org/a/bananbidhi.htm

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৭

শরিফুর রহমান সৌরভ বলেছেন: ধন্যবাদ

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩

আবদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও!

২| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৪

রোদেলা খাতুন বলেছেন: ইরানী বা আরবী যদি ইরানি বা আরবি হলো চীন কেন চিন হলো না?

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৬

আবদুল হক বলেছেন: চিনতে পারবেন তো, এক পলকেই? নাকি না-চিনে গোল বাঁধাবেন?

কলকাতায় "চিন"ই চলিত।

৩| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৭

এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: ভালো প্রয়াস। প্রিয়তে রাখলাম।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৭

আবদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ!

৪| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৭

মোজাম্মেল বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটির জন্য।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৮

আবদুল হক বলেছেন: আপনাকেও।

৫| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৫

অনুমান বলেছেন: ধন্যবাদ।
এই লেখাটার একটা প্রিন্ট-কপি বের করে নিলাম । রোজ পড়ে পড়ে মুখস্ত করে পেলতে হবে।
ঢাকা বাংলা একাডেমি , কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত বাংলা বানান বিধি ও পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বাংলা বানান বিধির বই আমার সংগ্রহে আছে। আছে বাংলাভাষার সাত সতেরো।রবীন্দ্রনাথ তো আছেনই। যুক্ত হলেন আপনি।
বাংলা ভাষার / বানানের শুদ্ধতা রক্ষার জন্য আপনার প্রয়াসের প্রশংসা করে আপনাকে ধন্যবাদ।

৬| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩

আবদুল হক বলেছেন: অনুমান করছি, আপনার লেখার হাত আছে। ধন্যবাদ!

"বাংলাভাষার সাত সতেরো" খুব ছোট্ট কিন্তু চমৎকার গোছানো একটা বই। হাত মেলান, আমিও রবীন্দ্রভক্ত!

৭| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৩

ও.জামান বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৮| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৪

দ্বীপবালক বলেছেন: কতগুলো শব্দ অবশ্যই শেষে দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে লিখতে হবে। আরবী অবশ্যই আরবী হবে আরবি নয়। বাংলা একাডেমী জোর করে চাপিয়ে দিলেই হবে নাকি। হ্রস্ব ই-কার ও দীর্ঘ ঈ-কারের যথাযথ ব্যবহার ও উচ্চারণ না শেখানোর জন্য বাঙালীরা অন্য ভাষায় কথা বললে ঠিকমত উচ্চারণ করতে পারেনা। ফলে হাসির পাত্র হয়। যেমন ধরুণ শিপ [ship] এবং শীপ [sheep]. একটা জাহাজ আর আরেকটা ভেড়া। বাঙালী হয়তো দুইটাকেই শিপ উচ্চারণ করছে। অথবা শিপকে শীপ উচ্চারণ করছে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.